Saturday, February 25, 2017

হে ফ্যাশন প্রিয় বোনেরা!  তোমরা বাঁচো।  আমাদেরকেও বাঁচাও!

আজকালকার আধুনিক মেয়েরা যেসমস্ত কাপড়চোপড় পরিধান করে তা নিজের গোপন অঙ্গগুলোক ঢেকে রাখার জন্য নয়। মূলত নিজেকে পরপুরুষের সামনে আকর্ষণীয় রূপে উপস্থাপন করার জন্যই। ফলে পরপুরুষ তাদের উপর মারাত্মকভাবে আকর্ষিত হয়ে পথেঘাটে,শিক্ষাঙ্গন আর মার্কেটের চিপাগলিতে সুযোগ বুঝে তৃষ্ণার্ত কুকুর আর ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় হামলে পড়ে। তাদের ইজ্জৎ আব্রু লুণ্ঠন করে। অপারগ হয়ে প্রাণ বাঁচাতে তারাও নিজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ইজ্জৎ আব্রু পরপুরুষকে বিলিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

অবশেষে তারা সব হারিয়ে তিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে নিজের ইজ্জৎ আব্রু ফিরে পাওয়া আর ধর্ষকের বিচার চেয়ে আন্দোলন করে! ফলে তাদেরকে ধর্ষণের উপর ধর্ষিত হতে হয়। কারণ যাদের কাছে বিচার চাইতে যায় অনেক সময় তাদের হাতেই ধর্ষণের শিকার হয়! এসব কথা কিন্তু মনগড়া নয়। তাদের ব্যাপারটা অনেকটা শিয়ালের কাছে মুর্গি বর্গা দেওয়ার মতই। অথচ এসব তাদের হাতেরই কামাই। এজাতীয় সত্য কথাগুলো আধুনিক মেয়েদের কাছে বলতে গেলে তারা বলে মৌলবীদের খেয়েদেয়ে বুঝি কোনো কাজ নেই!

আধুনিক মেয়েদের কথা না হয় বাধই দিলাম। আসা যাক ধার্মিক মেয়েদের ব্যাপারে। আজকালকার ধার্মিক মেয়েরাও অনেকটা নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার। তারা আধুনিক মেয়েদের মত উলঙ্গপ্রায় ভিনদেশী পোশাক না পরলেও পর্দার নামে টাইট ফিট যে বোরকা-হিজাব পরিধান করে সেগুলো অনেকাংশে আধুনিক ললনাদের উলঙ্গপ্রায় ভিনদেশী পোশাককেও হার মানাই। উলঙ্গরা উলঙ্গ হলে তাদের নিয়ে মানুষের তেমন একটা আগ্রহ থাকেনা। কিন্তু পর্দানশীনদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ একটু বেশিই। ফলে তাদের কারণে প্রকৃত পর্দানশীনদেরও বদনাম হচ্ছে।

সত্যি বলছি তাদের পোশাকপরিচ্ছদ আর বোরকা-হিজাব পরিধানের উদ্দেশ্য নিজের ইজ্জৎ আব্রুকে পরপুরুষের কুদৃষ্টি থেকে হেফাজত রাখা বলে আমার মনে হয় না। পরপুরুষকে তাদের দিকে আকর্ষিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে হয়! না হয় পর্দাকে ফ্যাশনে পরিণত করে কীভাবে? আজকালকার পর্দাকে পর্দা বলে মেনে নেওয়া মুশকিল। (এসব অভিযোগ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না) তাদের এসব আপত্তিকর পোশাকপরিচ্ছদ আর আবেদনময়ী চলাফেরা আমাদের জন্য রাস্তাঘাটে বের হওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে!

অথচ আগেকার মেয়েরাও পোশাক পরিধান করতো। পর্দা করতো। তবে তাদের আর এখনকার মেয়েদের মধ্যে আকাশসম তফাৎ। তাদের সেই পোশাকপরিচ্ছদ আর পর্দা পরিধানের উদ্দেশ্য ছিলো পরপুরুষের কুদৃষ্টি থেকে নিজের ইজ্জতকে হেফাজত করা। তাই তখনকার মেয়েরা রাস্তাঘাটে আর শিক্ষাঙ্গন,মার্কেটের চিপাগলিতে ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের শিকার হতো না। একালায় এতোটা বেহায়াপনা ছিলো না। মেয়েরা নির্ভয়ে দূর থেকে দূরান্তে একা গিয়েও নিরাপদে ফিরে আসতো। মেয়েরা ভালো ছিলো বলে ছেলেরাও লম্পটগিরী করার সুযোগ পেতো না।

আজ দেশে-সমাজে লম্পটগিরী বৃদ্ধি পাওয়ার পিছনে মেয়েদের আপত্তিকর অতি আকর্ষণীয় পোশাক আর ভিনদেশী কালচারই দায়ী। শুধুশুধু পুরুষ সমাজকে দোষারোপ করে লাভ নেই। মিষ্টি দ্রব্যের পাত্রের মুখ খোলা থাকলে পিপড়া আসবেই। তাই আগে নিজেদেরকে সামলাও প্রিয় বোনেরা। [FB: Forhad Wasi]


শেয়ার করুন

0 Comments:

একটা ভাল মন্তব্য আমাদের আরও ভাল কিছু লিখার অনুপেরনা যাগাই!