অনেকদিন হয়ে গেল ছেলে তার পিতাকে 'আব্বু' বলেডাকে না! এ নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে কথোপকথন!!
.
পিতাঃ বাবা, তুমি অনেকদিন পর্যন্ত আমাকে 'আব্বু' ডাক না। এর কারণ কী?
.
পুত্রঃ টিভি শায়েখের বয়ান শুনে আমি এখন কারো তাকলীদ করি না! কুরআন ও সহিহ হাদিসের বাইরে কোনো কথা বলি না। নিজের ইজতেহাদ ও তাহকীক ছাড়া কোনো আমল করি না।
.
পিতাঃ কিন্তু তুমি তো কেবল অষ্টম শ্রেণিতে পড়। জীবনে কোনো দিন মাদ্রাসার বারান্দায়ও পা দাও নি। কোনো আলেমের কাছেও পড়নি। তুমি কুরআন-হাদিস বুঝবে কীভাবে? কীভাবে ইজতিহাদ করবে?
.
পুত্রঃ কুরআন -হাদিস বোঝার জন্য মাদ্রাসায় বা আলেমের কাছে পড়তে হয় না। আল্লাহ বলেছেন, বোঝার জন্য আমি কুরআন সহজ করে দিয়েছি।
.
পিতাঃ তুমি তো আরবী পড়তে পারনা! তো বুঝবে কি করে? আর ইজতিহাদ করবে কি করে?
.
পুত্রঃ 'কুরআন হাদীস' বুঝতে ও ইজতিহাদ করতে আরবী জানার প্রয়োজন নাই। তাওহীদ পাবলিকেশন্স এর বাংলায় অনুদিত কিতাব পড়লে যথেষ্ট!
.
পিতাঃ আচ্ছা তুমি মুজতািহদ মানুষ কারো তাকলিদ করবে না, না করো কিন্তু আমাকে আব্বু' ডাক না কেন?
.
পুত্রঃ সহিহ দলিল ছাড়া শুধু অন্ধের মতো কারও কথায় কোনো কিছু মানা শিরক। তাই আপনাকে 'আব্বু' বলে সেদিন ডাকব, যেদিন আমি তাহকীক করে শিওর হব যে, আপনি আমার সত্যিকারের জন্মদাতা পিতা।
.
পিতাঃ বেটা, তাহলে এ ব্যাপারে আমাদের কী করতে হবে?
.
পুত্রঃ আপনার স্ত্রীর সংগে আপনার বিবাহ হয়েছে বলে প্রমান করতে হবে।
.
পিতাঃ বেটা, প্রমাণ স্বরূপ তোমার দাদা সাক্ষী। তিনি এখনও বেঁচে আছেন। তাকে জিজ্ঞেস কর। প্রমাণ পেয়ে যাবে!
.
পুত্রঃ (গরম হয়ে) শুনুন, বাপ দাদার কথায় ধর্ম চলে না! বাপ দাদার দোহায় দিয়ে আপনারা ইসলামকে বিকৃত করেছেন। অথচ বাপ দাদার কথা বা প্রথা মানা সম্পূর্ণ শিরক!
.
পিতাঃ আমাদের কাছে কাগজে লিখা ছাড়া আর কোনো প্রমান নাই। এমনকি বিবাহের অন্য সাক্ষীরাও মারা গেছেন!
.
পুত্রঃ মিস্টার আমি আগেই বলেছি কুরআন ও সহিহ হাদিস ছাড়া অমুক আর তমুকের লিখা ও মুখের কথা গ্রহন যোগ্য নয়! কারণ কুরআন হাদীস ছাড়া অন্য কোন কিছুই দলিল হতে পারে না। তবে হ্যাঁ, ইউটিউব থেকে আপনাদের বিবাহের কোনো ভিডিও দেখালে বিশ্বাস করব! কারণ শায়খদের বয়ান ইউটিউবে থাকে তো, তাই আমি ইউটিউবের ভিডিও খুব বিশ্বাস করি।
.
পিতাঃ তোর মত কুলাঙ্গার সন্তান আমার দরকার নাই। আমি তোকে তাজ্য করলাম।
.
পুত্রঃ তা তো করবেনই। তবে জেনে রাখুন, আপনার বিয়ের দলিল পেশ করতে না পেরে আপনে প্রমাণ করলেন, আপনে মুশরিক, বিদআতিদের একজন, যারা কোন দলিল পেশ না পেরে বাপ দাদার দোহায় দেয়!
Saturday, July 1, 2017
Thursday, June 29, 2017
নবী একজন কিন্তু মাযহাব চারটি কেন?
অনুবাদ–মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দাঃবাঃ
.
একদা মুহাম্মদ আমীন সফদর রহঃ এর কাছে কয়েকজন কথিত আহলে হাদীসের লোক এল। এসে হযরতের কাছে বসল। বসেই বলতে লাগল-“আমরা অনেক পেরেশানীতে আছি। বহুত পেরেশানীতে আছি”।
.
সফদর রহঃ-“যারাই বড়দের ছেড়ে দেয়, তারা সারা জীবনই পেরেশানীতে থাকে। মওদুদী এই পেরেশানীতেই ছিল। কাদিয়ানীও এই পেরেশানীতেই ছিল। আপনারাও মনে হয় বড়দের ছেড়ে নিজেরাই সব বুঝতে চাচ্ছেন। এজন্যই পেরেশানীতে আছেন”।
.
কথিত আহলে হাদীস-চারজন ইমাম। চার, চার, চার। কি করবো আমরা?
.
সফদর রহঃ-আপনি এখানে চারজন পেলেন কোথায়? এখানেতো কোন হাম্বলী নেই। শাফেয়ীও নেই। মালেকীও নেই।
.
কথিত আহলে হাদীস-যদি চারজন হয়ে যায়!
.
সফদর রহঃ-হলে ভিন্ন কথা। সেই পেরেশানী এখনই কেন টেনে আনছেন?
.
কথিত আহলে হাদীস-এটা কেমন কথা যে, আল্লাহ এক আর ইমাম হল চারজন?
.
সফদর রহঃ-এটা কেমন কথা যে, আল্লাহ এক আর নবী এক লাখ চব্বিশ হাজার? ওখানে যেমন বল যে, এক নবীকে মান, আর বাকিদের ছেড়ে দাও। এখানেওতো ব্যাপার তাই। এক ইমামকে মান। বাকিদের ছেড়ে দাও। কোথাও কি আছে নাকি যে, ইমাম বেশি হতে পারবে না? যদি থাকে বলেন আমি মেনে নিব। আমি দেখি ইমাম বেশি হতে পারবে কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺁﺗَﻴْﻨَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻓَﻼ ﺗَﻜُﻦْ ﻓِﻲ ﻣِﺮْﻳَﺔٍ ﻣِﻦْ ﻟِﻘَﺎﺋِﻪِ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻫُﺪﻯً ﻟِﺒَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮﺍﺋﻴﻞَ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺃَﺋِﻤَّﺔً ﻳَﻬْﺪُﻭﻥَ ﺑِﺄَﻣْﺮِﻧَﺎ
.
অর্থাৎ বাস্তব কথা হল আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছি, সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তার সাক্ষাত সম্পর্কে কোন সন্দেহে থেকো না। আমি সে কিতাবকে বনী ইসরাঈলের জন্য বানিয়েছিলাম পথ-নির্দেশ।
.
আর আমি তাদের মধ্যে কিছু লোককে, এমন ইমাম বানিয়ে দিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথ প্রদর্শন করত। {সূরা সাজদা-২৩,২৪}
.
এক রাসূলের উম্মতের মাঝে কয়েকজন ইমাম হতে পারে। এটাতো কুরআন বলছে। কুরআনের শব্দ ইমামের বহুবচন আইয়িম্মাহ ব্যবহৃত হয়েছে।
.
কথিত আহলে হাদীস- চার ইমামই কি সঠিক?
.
সফদর রহঃ-হ্যাঁ, চার ইমামই সঠিক।
.
কথিত আহলে হাদীস-তাহলে চার ইমামের অনুসরণ করেন না কেন? শুধু নিজের ইমামের অনুসরণ করেন কেন?
.
সফদর রহঃ-যেমন সবাই এক লাখ চব্বিশ হাজার নবীকে সঠিক মানি, কিন্তু অনুসরণ করি আমাদের নবীর। তেমনি সঠিক মানি চার ইমামকেই। কিন্তু অনুসরণ করি নিজের ইমামকে।
.
কথিত আহলে হাদীস-কোন হাদীসে আছে নাকি এক ইমামের অনুসরণ কর?
.
সফদর রহঃ-আপনি কুরআন পড়েন?
.
কথিত আহলে হাদীস-হ্যাঁ পড়ি।
.
সফদর রহঃ-এক কেরাতে? না সাত কেরাতে?
.
কথিত আহলে হাদীস-এক কেরাতে?
.
সফদর রহঃ-সারা জীবন এক কেরাতে কুরআন পড়া আর বাকি কেরাতকে ছেড়ে দেবার কথা কুরআন বা হাদিসের কোথাও আছে?
.
কথিত আহলে হাদীস-আমাদের কাছে আছেই এটা। তাই পড়ি। কিন্তু এক ইমামের অনুসরণ করলেতো চতুর্থাংশ দ্বীন মানা হয়।
.
সফদর রহঃ-এক কেরাতে কুরআন পড়লে কি সাত ভাগের একভাগ সওয়াব পাওয়া যায়?
.
কথিত আহলে হাদীস-না, না, এক কিরাতে পড়লে পূর্ণ কুরআন পড়ার সওয়াবই পাওয়া যায়।
.
সফদর রহঃ-তেমনি এক ইমামকে মানলে পূর্ণ শরীয়তেরই অনুসরণ হয়।
.
কথিত আহলে হাদীস-আপনাদের আকল কখনো হবে না? ইমামদের মাঝেতো হারাম-হালালের মতভেদ। একজন যেটাকে হালাল বলেন, অন্যজন সেটাকে হারাম বলেন। তাহলে যিনি হারাম বলেন তিনিও সঠিক। আর হালাল যিনি বলেন তিনিও সঠিক! এটা কি করে সম্ভব?
.
সফদর রহঃ-আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা আকল দিয়েছেন। নবীগণ সবাই সঠিক।
.
আদম আঃ এর সময়ে আপন বোনকে বিবাহ করা জায়েজ। আমাদের দ্বীনে হারাম। কিন্তু উভয় নবীই সঠিক।
.
ইয়াকুব আঃ এর দুইজন স্ত্রী আপন বোন ছিল। এটা সে সময় জায়েজ ছিল। কিন্তু আমাদের নবীর দ্বীনে তা হারাম। উভয়ই সঠিক। সবার আল্লাহ একই। অথচ হুকুম ভিন্ন। তেমনি চার ইমামই সঠিক। কিন্তু তাদের হুকুম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
.
কথিত আহলে হাদীস-আরে এখানেতো নাসেখ মানসুখের বিষয়। একটি হুকুম এসে অন্যটাকে রহিত করে দিয়েছে।
.
সফদর রহঃ-আর ইমামদের ইখতিলাফের মাঝে রাজেহ-মারজুহ এর মাসআলা। তথা একটি হুকুমের উপর অন্যটিকে প্রাধান্য দেবার মাসআলা। যেমন রহিত হওয়া বিষয়ের উপর আমল জায়েজ নয়, তেমনি প্রাধান্য পাওয়া হুকুম রেখে অপ্রাধান্য পাওয়া বিষয়ের উপর আমল করাও জায়েজ নয়।
.
কথিত আহলে হাদীস-আপনারা যেহেতু অন্য ইমামদের মানেন না, তাহলে তাদের বাতিল বলেন না কেন? সঠিক বলেন কেন?
.
সফদর রহঃ-আদম আঃ সঠিক নবী হলে কেন বোনকে বিবাহ করা যায় না? ইয়াকুব আঃ সঠিক নবী হলে দুইবোনকে এক সাথে বিবাহ করা কেন করা যাবে না?
.
কথিত আহলে হাদীস-আমরা শুধু আমাদের নবীকে মানি। বাকিরাও হক একথা ঠিক আছে।
.
সফদর রহঃ-আমরাও বলি-অন্য ইমাম ঠিক আছে, কিন্তু আমরা মানি আমাদের ইমামকে।
.
কথিত আহলে হাদীস-সেখানেতো সময় আলাদা আলাদা।
.
সফদর রহঃ-এখানে এলাকা আলাদা আলাদা। শাফেয়ী শ্রীলংকায় আর হানাফী পাকিস্তানে [বাংলাদেশে]। সেখানে সময় আলাদা আলাদা, আর এখানে এলাকা আলাদা আলাদা।
.
কথিত আহলে হাদীস-যদি কোন মাসআলায় তিন ইমাম একদিকে হয় আর এক ইমাম একদিকে হয় তাহলে কী করবেন?
.
সফদর রহঃ-তিন জন নয়, তিন হাজার হলেও আমাদের ইমামকেই মানবো।
.
কথিত আহলে হাদীস-এটা কোন ইনসাফ হল?
.
সফদর রহঃ-অবশ্যই এটা ইনসাফ।
.
কথিত আহলে হাদীস-আরে অপরদিকে তিন ইমাম।
.
সফদর রহঃ-তাতে কি? আমরাতো আমাদের ইমামের অনুসরণ করবো। তিন হাজার হলেও কি?
.
কথিত আহলে হাদীস-আপনি কি জিদ করছেন নাকি?
.
সফদর রহঃ-নাহ, জিদ করবো কেন? ইউসুফ আঃ তার পিতা ইয়াকুব আঃ কে সিজদা করেছিলেন এটা কুরআনে আছে কি?
.
কথিত আহলে হাদীস-হ্যাঁ আছে।
.
সফদর রহঃ-সে আয়াতের তাফসীরে মুফাসসিরীনরা বলেন-হুজুর সাঃ এর নবুওয়াতের আগে সকল নবীর যুগে সম্মান করে সেজদা দেয়া জায়েজ ছিল। তো একদিকে এক লাখ তেইশ হাজার নয় শত নিরান্নবই নবীর কাছে সম্মানসূচক সেজদা জায়েজ। আর একজন হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন জায়েজ নয়। আপনি বলছেন তিন জনের কথা। এখানে লাখের বিষয়। কাকে মানবেন? বিশাল জামাতকে? না একজনকে?
.
মুফাসসিরীনরা বলেন-প্রথম সকল নবীর শরীয়তে দেহযুক্ত ছবি আঁকা জায়েজ ছিল। কেবল আমাদের নবীর শরীয়তে না জায়েজ। তাহলে এক লাখ তেইশ হাজার নয় শত নিরান্নব্বই নবীর শরীয়ত মানবেন না আমাদের এক নবীর শরীয়ত মানবেন? বেশি কে না একজনকে?
.
কুরবানীর গোস্ত খাওয়া আমাদের নবীর আগে কারো শরীয়তে জায়েজ ছিল না। তাহলে কাকে মানবেন? লাখ নবীকে না আমাদের এক নবীকে?
.
কথিত আহলে হাদীস-[কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে] দ্বীন মক্কা-মদীনায় এসেছে? না কুফায়?
.
সফদর রহঃ-মক্কা-মদিনায়।
.
কথিত আহলে হাদীস-তাহলে মক্কা-মদিনার ইমামকে মানা উচিত না কুফার ইমামের?
.
সফদর রহঃ-আপনার মন কি বলে?
.
কথিত আহলে হাদীস-মক্কা-মদিনার ইমামদের মানা উচিত।
.
সফদর রহঃ-বড় একটি মিথ্যা কথা বলেছেন আপনি। কখনো এটা মাফ হবে না।
.
কথিত আহলে হাদীস-ভুল হইছে?
.
সফদর রহঃ-হ্যাঁ, বহুত বড়।
.
কথিত আহলে হাদীস-কিভাবে?
.
সফদর রহঃ-কুরআন মক্কা-মদিনায় নাজিল হয়েছে না?
.
কথিত আহলে হাদীস-হ্যাঁ।
.
সফদর রহঃ-সাত জন ক্বারী ছিল। এর মাঝে মক্কা-মদীনার ক্বারীও ছিল। বসরার ক্বারীও ছিল। কিন্তু সবাই ক্বারী আসেম কুফীর কিরাতে কুরআন কেন পড়েন? কুফী ক্বারীর কেরাতে কুরআন পড়লে আপনাদের থেকে বড় কুফী আর কে আছে? কুরআন নাজিল হয়েছে মক্কা-মদিনায় আর কেরাত পড় কুফীর! এটা কেমন কথা?
.
কথিত আহলে হাদীস-কুফার লোকেরাতো আর কুরআন নিজেরা বানায়নি। কুফাতে যে সাহাবারা এসেছেন তারা কুরআন সাথে নিয়ে এসেছিলেন।
.
সফদর রহঃ-মক্কা-মদিনা থেকে সাহাবারা গিয়ে কুরআন যদি কুফায় নিয়ে নতুন না বানিয়ে থাকেন, তাহলে নামায কি মক্কা-মদিনা থেকে সাহাবারা কুফায় নিয়ে গিয়ে নতুন নামায বানিয়ে ফেলেছেন?
.
খামোশ হয়ে গেল কথিত আহলে হাদীসের লম্বা গলা।
Saturday, June 24, 2017
একজন মাযহাবী আলেম ও একজন আহলে হাদিছের শায়েখের মাঝে মুক্তাদিদের সুরা ফাতেহা পড়া নিয়া তর্ক
একজন মাযহাবী আলেম ও একজন আহলে হাদিছের শায়েখের মাঝে মুক্তাদিদের সুরা ফাতেহা পড়া নিয়া তর্ক করতে করতে মাগরিবের নামাজের আজান হয়ে গেল।এবার দুজনেই তারাতারি নামাজের জন্য মসজিদে যাইয়া দেখে ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতের রুকুতে চলে গেল।তারা দুজনেই নিয়ত করে রুকুতে শামিল হয়ে গেল। ইমাম সাহেবের ছালাম ফিরানোর সাথে সাথে তারা দুজনেও ছালাম ফিরাল।
এবার মাযহাবী আলেম লা মাযহাবী শায়েখকে বললেন,, আপনার নামাজ হয় নাই।পূনরায় পড়ে নিন।কারন আপনি এতক্ষন আমার সাথে তর্কই করেছেন যে,, মুক্তাদিকে অবশ্যই সুরা ফাতেহা পড়তে হবে,, না পড়লে নামাজ হবে না।আর আপনি প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়েন নাই। কাজেই আপনার নামাজ হয় নাই। আর যদি আপনার নামাজ হয়ে থাকে তাহলে তাহলে আজ থেকে আর এ ধরনের ফতুয়া দিতে পারবেন না। এবার শায়েখ বেচারা লা জওয়াব হয়ে গেল।
এই হল আমাদের দেশের আহলে হাদিছদের অবস্থা।
একবার ইমাম আবু হানিফা কাবার তাওয়াফ রত অবস্থায় এক দল লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল যে, আপনি নাকি বলেন, মুক্তাদিদেরকে সুরা ফাতেহা পড়তে হবে না ?
জি হ্যা বলেছি।
তাহলে এর কারন বর্ননা না করে তাওয়াফ করতে পারবেন না।
ইমাম সাহেব বললেন, তাহলে তাওয়াফ রত অবস্থায়ই আলোচনা চলুক।তবে আপনারা সংখায় অনেকজন আর আমি হলাম একা।আমি একা যদি সবার সাথে কথা বলি তাহলে বিশৃংখলার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই আপনাদের তরফ থেকে একজন নেতা নির্বাচন করুন।এবং নেতার জয়ই আপনাদের সকলের বিজয় ও নেতার পরাজয়ই সকলের পরাজয়।
তাহারা এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল।এবার ইমাম সাহেব বললেন, আমার বাহাস শেষ। যেখানে বাহাসের মত একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে একজন নেতার জয় পরাজয়কে সকলের জয় পরাজয় হিসাবে মেনে নিতে পারলেন তাহলে আমরা কেন নামাজের সময় ইমামের সুরা ফাতেহা পড়াকে সকলের পড়া হিসাবে মানতে পারব না ?
তাহারা লা জওয়াব হয়ে হয়ে গেল।
আল্লাহপাকই সঠিক বুঝ দেবার মালিক।
Wednesday, May 31, 2017
আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি রাহ. এর নামে মিথ্যাচার
এখন কারো নাম নিচ্ছি না, শুধু বলছি আপনাদের মিথ্যাচারগুলো মাত্রাকে অতিক্রম করে গিয়েছে। শুনেই অবাক লাগে আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরি রাহঃ নাকি বলেছেন যে রমযানের তারাবীহ এর সালাত ৮ রাকায়াত। একদম ডাহা মিথ্যা কথা। এ যেন আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরি রাহ এর নামে বেদায়াতকে মাসনুন বানানোর অপবাদ।
মূলত আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরি রাহ্ তারাবীহ এর সালাতের রাকায়াত সংখ্যার ব্যাপারে বলেছেন -
“চার ইমামের কেউই ২০ রাকাআত তারাবীহ এর কম বলেননি। অধিকাংশ সাহাবীদের (রদ্বিঃ) আমল এবং বিশ্বাসও ছিল এটি। ইমাম মালিক (রহঃ) এর মতে তারাবীহ ৩৬ রাকাআত। মদীনাবাসীরা প্রত্যেক ৪ রাকাআত অন্তর অন্তর অতিরিক্ত ৪ রাকাআত পড়ত। আর মক্কাবাসী প্রত্যেক ৪ রাকাআত অন্তর অন্তর কাবা তাওয়াফ করত।”
(আল আরফুশ শাযী শরহ সুনানে তিরমিযী ১/২০৮
আত-তাওহীদ পাবলিকেশন্স" থেকে বুখারী শরীফের বাংলা অনুবাদ
"আত-তাওহীদ পাবলিকেশন্স" থেকে বুখারী শরীফের বাংলা অনুবাদ করেছে। সেটির ভূমিকায়
তারা বলছে, যদিও পূর্বে বুখারী শরীফের বাংলা হয়েছে, কিন্তু মাযহাবের লোকেরা লিখেছে তো! তাই সেখানে তারা অনেক জালিয়াতি করেছে! তাই আমরা শুদ্ধভাবে এটি বাংলা করেছি।
প্রিয় পাঠক
তাহলে আমরা দেখবো কী আছে তাদের লিখিত বুখারীর অনুবাদে।
আত-তাওহিদ পাবলিকেশন্সের সহিহুল বুখারী খণ্ড নং২, পৃ. নং ৩৪৩।
সায়েদ বিন ইয়াজিদ বলেন, আমরা ওমর বিন খাত্তাব(রা.) -সময় বিশ রাকাত তারাবি এবং বিতর পড়তাম।
এখন এ হাদীস তাদেরই প্রকাশনীতে ২০ রাকাতের পক্ষে। আর তাদের মতবাদ টিকিয়ে রাখার জন্য নিচে টীকা টেনে স্পষ্ট বলছে এ হাদীস জয়িফ অথাৎ (দুর্বল)। কেন দুর্বল? বলছে সে হাদীসের সনদে (ধারাবাহিকতায়) খালেদ বিন মাখলাদ রয়েছে। তার দোষ কি? বলছে তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, তদুপরি সে শিয়া ও মিথ্যাবাদী ছিল।
প্রিয় পাঠক মহোদয়!
দেখুন! বিশ রাখাতের হাদীস জাল
বানানোর জন্য খালিদ বিন মাখলাদকে জাল বানিয়েছে!
আসুন!
তাদের বুখারির ১ম নাম্বার খণ্ড, ৪৩
নাম্বার, ১১৩ নাম্বার পৃ. ইমাম বুখারী
বলছেন, "হাদ্দাসানা খালিদুবনু মাখলাদিন"
অর্থাৎ, আমি খালিদ বিন মাখলাদ থেকে শুনেছি।
প্রশ্ন হলো এ হাদীসদ্বয়কে তারা জয়িফ বলে নাই কেন? একজন ব্যাক্তিকে মিথ্যার তাকমা দিয়ে বর্জন করলে সব ক্ষেত্রে সে মিথ্যুক তাই না? তাহলে, তাদের বঙ্গানুবাদে একজন রাবিকে একটা হাদীসের জন্য মিথ্যুক বলবে; আবার অন্য জায়গায় তার হাদীস গ্রহণ করবে এটা কি ধোঁকাবাজী নয়?
Tuesday, May 30, 2017
৩য় পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * লা মাজহাবীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত?
❖ উল্লেখ্য যে, বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার মাঝে চলে আসছে অনেক যয়ীফ হাদীস (যা ফাযায়েলেল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর আসার আর আমাদের আহলে হাদীস ভাইগণ দুটিকেই নিজ সুবিধে ব্যতীত মানতে আগ্রহী নন। তাই এই পর্বে আলোচনা হবে দুইটি বিষয় নিয়ে এক. সাহবাগণ আমাদের অনুসরণীয় কেন? দুই. যয়ীফ হাদীস নিয়ে আলোচনা।
░▒▓█►০১.সাহবাগণ আমাদের অনুসরণীয় কেন?◄█▓▒░
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর অনুসৃত আদর্শ এবং তাদের উক্তি ও আমল ইলমে হাদীসের কিছু নিয়মনীতি ও শর্তসাপেক্ষে সমস্ত জমহুরে উম্মত, চার মাযহাবের ইমাম ও বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ ইমামগণের নিকট অনুসরণীয়, শরীয়তের যাবতীয় ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য। মু‘জামু মুসতালাহুল হাদীস, ড. মুহাম্মদ জিয়া আযমী-৫০৭। যফরুল আমানী-৩৩২। আল আজবীব-২২৫।
এ ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্ত হলো, সাহাবাগণের উক্তি ও আমলগুলো পবিত্র কুরআন ও রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়া। সাহাবাগণের এমন উক্তি ও আমলগুলো শরীয়তের দলীল হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে পবিত্র কুরআন ও রাসূল (সা.) এর হাদীসে অসংখ্য দলীল প্রমাণ রয়েছে।
░▒▓█►নিন্মে অতি সংক্ষেপে মাত্র কয়েকটি উপস্থাপন করা হলো :
✏আল্লাহ পাক কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন :
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
‘‘আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনসারদের মাঝে পুরাতন, এবং তাদের যারা অনুসরণ করবে আল্লাহ পাক সে সব লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। এবং তারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন বেহেশত, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরদিন। এটাই হলো মহান সফলতা। সূরা তাওবা-১০০।
(ক) সাহাবগণের প্রতি আল্লাহপাক সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই তাদের ব্যাপারে যারা নাক গলায় তাদের শিক্ষা দেয়া উচিত।
(খ) যারা সাহাবাগণকে অনুসরণ করছে তাদের প্রতিও আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন।
তাই স্বভাবিকভাবেই বুঝা যায় যে, সাহাবাগণকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ বৈধ। এমনকি তা হবে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টিযোগ্য নেক আমল।
এ ধরনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে। পরিসর সংকীর্ণ হওয়ার কারণে একটিমাত্র আয়াত উদাহরণ স্বরূপ পেশ করা হলো।
✏ এ ভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন :
عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ
‘‘তোমাদের উপর আমার সুন্নাত (তরীকা-হাদীস) এবং সত্যের আলোকবর্তিকা হিদায়াতপ্রাপ্ত আমার সাহাবীগণের সুন্নাত আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব। তিরমিযী শরীফ, কিতাবুল ইলম-৫/৪৩, হাদীস-২৬৭৬।
✏ অপর হাদীসে তিনি বলেন :
وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً»، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي»
‘‘আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে, কেবল একটি দল ব্যতীত অপরাপর সবাই দোযখী হবে। (এতদ শ্রবণে) সাহাবাগণ আরজ করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! মুক্তি প্রাপ্ত এই দলটির পরিচয় কি? তদুত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন : যারা আমার এবং আমার সাহাবাদের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তিরমিযী-৫/৪৩, হাদীস-২৬৪১।
❏ উল্লেখ্য যে, প্রথমোক্ত হাদীসটিতে নবীজী (সা.) তার তরীক্বা বা আদর্শের সাথে সাথে সাহাবাদের তরীক্বাকেও আঁকাড়ে ধরতে নির্দেশ করেছেন। এ ভাবে দ্বিতীয় হাদীসে তিনি তার তরীক্বায় প্রতিষ্ঠিতদেরকে যেভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত দলে গণ্য করেছেন, সাহাবাদের তরীকা বা আদর্শে প্রতিষ্ঠিতদেরকেও মুক্তিপ্রাপ্ত দল হিসেবে গণ্য করেছেন।
তাই উল্লেখিত হাদীস দু’টি এবং এ ধরণের আরো অসংখ্য হাদীসের আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, সাহাবাগণের তরীকা বা আদর্শ তথা তাদরে উক্তি ও আমল আমাদের জন্য অবশ্যই অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।
▒▓█►এখন দেখুন সাহবায়ে কিরাম (রা.) সম্বন্ধে কথিত আহলে হাদীসদের আক্বীদা◄█▓
উপরোল্লিখিত সংক্ষিপ্ত আলোচনার আলোকে প্রতীয়মান হয়েছে যে, রাসূল (সা.) এর সম্মানিত সাহাবীগণের মূল্যবান বাণী ও তাদের অনুসৃত আদর্শ আমাদের জন্য পাথেয় এবং অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। আর এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত আক্বীদা। পক্ষান্তরে লা-মাযহাবী বা সালাফীদের আক্বীদা হলো যে, সাহাবাদের কোনো বাণী তাদের অনুসৃত আদর্শ অনুসরণযোগ্য এবং অনুকরণ করা ধর্মহীনতা ও অন্ধ বিশ্বাসের নামান্তর।
❏তাদের উক্ত আক্বীদার প্রমাণ স্বরূপ ভারতবর্ষে লা-মাযহাবীদের প্রধান মুখপাত্র নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খানের নিজ গ্রন্থ থেকে কয়েকটি উক্তি নিন্মে প্রদত্ত হল-
قول الصحابى لاتقوم به حجة وفهم الصحابى ليس بحجة ـ
‘‘সাহাবাগণের (রা.) কথা দলীল স্বরূপ পেশ করা যাবে না এবং তাদের বুঝ নির্ভরযোগ্য নয়।’’ আর রওজাতুন নাদীয়াহ-১/১৪১, ১/১৫৪।
❏অন্য গ্রন্থে আরও লিখেন-
وفعل الصحابى لايصلح حجة ـ
এবং সাহাবাগণের আমল দলীল হওয়ার উপযোগী নয়। আততাজ আল-মুক্বাল্লিদ-১৯২।
❏ লা-মাযহাবীদের সর্বাধিনায়ক সাইয়্যেদ নযীর হুসাইন বলেন-
زیر کہ قول صحابی حجت نیست ۔
সাহাবীদের কথা প্রমাণযোগ্য নয়। ফাতাওয়ায়ে নজীরিয়া-১/১৪০।
❏ লা-মাযহাবীদের আক্বীদা সাহাবায়ে কেরামের (রা.) আদর্শ অনুসরণের ব্যাপারে অনীহার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের কতিপয় আলেম ভ্রষ্ট শিয়াদের পদাষ্ক অনুসরণ করে সাহাবাদেরকে ফাসেক্বও বলেছে। লা-মাযহাবীদের বিশেষ মুখপাত্র নবাব ওয়াহিদুযযামান তার রচিত গ্রন্থে লিখেন-
إن من الصحابة من هو فاسق كالوليد ومثله يقال فى حق معاوية وعمر ومغيرة وسمرة ـ
সাহাবাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক ফাসেক্বও ছিল, যেমন-ওয়ালিদ, তেমনি ভাবে মুয়াবিয়া, উমর, মুগীরা ও সামুরা (রা.) প্রমুখ সম্বন্ধেও অনুরূপ বলা যেতে পারে। (!)। নুযুলুল আবরার-২/৯৪।
প্রিয় পাঠক : এখন আপনি নিজেই তাদের বিষয়ে ভেবে দেখুন যে তারা কেমন সহীহ হাদীসের অনুস্বারী ও ঈমান ওয়ালা।
░▒▓█►০২. যয়ীফ হাদীস নিয়ে আলোচনা◄█▓▒░
❁❀ দুর্বল হাদীসের উপর আমল
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা অন্ততঃ এতটুকু বুঝতে পারলাম যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বর্ণিত অনেক হাদীসগুলো দুর্বল মাত্র। মাওযূ ও জাল হাদীস নয়। এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, এ ধরনের য’ঈফ বা দুর্বল হাদীসের উপর আমল করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কিরুপ? এ সকল হাদীস দ্বারা ইস্তেহবাব তথা কোন আমল মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হয় কি না?
বিষয়টি নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্য মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়। কারো নিকট দুর্বল হাদীস দ্বারা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয় আর কারো নিকট হয় না।
তাই যাদের মতে এ সব দুর্বল হাদীস দ্বারা কোন আমল মুস্তাহাব বলে পরিগণিত হতে পারে না। তাদের মতে শুধু এই হাদীসটির আলোকে শবে বরাতে বিনিদ্র থেকে নফল নামায পড়া, তওবা ইস্তেগফার করা, দুআ করা ও পরবর্তী দিনে রোযা রাখা ইত্যাদি আমলসমুহ মুস্তাহাব হওয়াও প্রমাণিত হয় না। তবে ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোন থেকে এ দিনের রোজা তাদের নিকটও সুন্নত বা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হবে।
কেননা প্রথমত: শাবান মাসের স্বতন্ত্র ফযীলত একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত: প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার বিশেষ ফযীলতের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। দিন তিনটিকে পরিভাষায় আইয়্যামে বীয বলা হয়। তাই এই দৃষ্টিকোন থেকে রোযাটি তাদের নিকটেও সুন্নত এবং মুস্তাহাব বলে গন্য হবে। যদিও তা ১৫ই শাবানের বিশেষ বৈশিষ্ট্যর কারণে নয়। তাই তাদের মতে রোযাটি এই নির্দিষ্ট নিয়ত ছাড়াই রেখে দেয়া চাই।
পক্ষান্তরে যে সকল আলেম দুর্বল হাদীসকেও কোন আমল মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ হিসেবে কার্যকর মনে করেন তাদের মধ্য মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম নববী রহ. মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম রহ. আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী আল-হাইতামী রহ., ইমাম আব্দুল হাই লক্ষোনভী রহ. ও শামছুদ্দিন আসসাখাভী রহ. অন্যতম। তাছাড়া উম্মতে মুসলিমাও অদ্যবধি এর উপর আমল করে আসছে।
সুতরাং তাদের মতে শবে বরাতের উল্লেখিত সকল আমলই সুন্নত কিংবা মুস্তাহাব। পরবর্তী দিনের রোযাটিকে আইয়্যামে বীযের পাশাপাশি ১৫ ই শাবানের রোযা হিসেবেও সুন্নত বলা হবে।
❖ ইমাম নববী রহ. এর ভাষ্য :
বিজ্ঞ মুহাদ্দীসিন ও ফকীহগণের অভিমত হল, ফাযায়েল ও উৎসাহব্যঞ্জক কিংবা ভীতি প্রদর্শনমুলক কার্যাবলীর ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীসের উপর আমল করা জায়েয বরং মুস্তাহাব। তবে শর্ত হলো হাদীসটি যেন মওযু না হয়। (কিতাবুল আযকার লিন্নববী, পৃ:৭)
❖ মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম রহ. বলেন :
য’ঈফ বা দুর্বল হাদীস দ্বারা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়, মওযু হাদীসের দ্বারা হয় না। (ফাতহুল ক্বাদীর, খন্ড : ১, পৃ:৪৬৭)
❖ আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী আল হাইতামী রহ. বলেন
উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, ফাযায়েলে আমালের ক্ষেত্রে দুর্বল বা য’ঈফ হাদীসের উপর আমল করা জায়েয। কারণ, যদি বাস্তবেই হাদীসটি সহীহ হয়ে থাকে তবে তো এর উপর আমল করত: হাদীসটির পরিপুর্ন হক্ব আদায় করা হলো। পক্ষান্তরে যদি ধরে নেয়া হয় যে, হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়, তবে তো এর উপর আমল করার ফলে না কোন হারামকে হালাল করা হল, না হালালকে হারাম করা হল, না অন্যের কোন হক্ব নষ্ট করা হল। (ফাতহুল মুবীন লি ইবনে হাজার আল মাক্কী আল হাইতামী, পৃ:৩২)
❖ ইমাম আব্দুল হাই লক্ষোবী রহ. লিখেন :
যখন কোন আমলের ফযীলত সম্পর্কে কোন হাদীস পাওয়া যায় এবং তাতে হারাম কিংবা মাকরুহের সম্ভাবনা না থাকে তবে ঐ হাদীসের উপর আমল করা জায়েয ও মুস্তাহাব। কারণ আমলটির ব্যাপারে এতটুকু নিশ্চয়তা আছে যে, তা নিষিদ্ধ নয়। বরং তাতে সওয়াবের আশা করব। কেননা এ ধরনের হাদীস জায়েয ও মুস্তাহাব আমলের গন্ডিতে বেষ্টিত। (অর্থাৎ উভয়টির যে কোন একটি অবিশ্যাম্ভাবী)। তাই সওয়াবের আশায় তার উপর আমল করাই বুদ্ধিমানের কাজ। (আল আজভিবাতুল ফাযিলাহ লিল আসইলাতিল আশারাতিলকামিলাহ : ৫৭)
❖ মুস্তাহাব প্রমাণে য’ঈফ হাদীসের গ্রহণযোগ্যতার উদাহরণ
প্রথম উদাহরণ : ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থে পরিলক্ষিত হয় যে, আযান ধীরে ধীরে এবং ইক্বামত অপেক্ষাকৃত একটু তাড়াতাড়ি বলা মুস্তাহাব। এই মাসআলার উপর দলীল হিসেবে পেশ করা হয় হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) এর হাদীস, যা তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হয়েছে। অথচ হাদীসটি দুর্বল ও য’ঈফ।
❖ ইমাম তিরমিযী রহ. স্বয়ং বলেছেন :
আমরা এক মাত্র আব্দুল মুন’ইম নামক রাভীর (বর্ণনাকারী) মাধ্যমেই হাদীসটি পেয়েছি। আর তিনি ছিলেন একজন মাজহুল (অজ্ঞাত) হাদীস বর্ণনাকারী। এ ছাড়া ইমাম দারাকুত্বনী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসও আব্দুল মুন’ইমকে য’ঈফ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
দ্বিতীয় উদাহরণ : বিভিন্ন ফিকহ গ্রন্থে অযুতে ঘাড় মাসাহ করা মুস্তাহাব লিখা হয়েছে। এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে ত্বালহা ইবনে মাসরাফ রহ. এর বর্ণিত একখানা হাদীস, যা ইমাম আবু দাউদ রহ. সহ আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি ত্বালহা তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেনে। ইমাম আবু দাউদ রহ. সহ আরো অনেকেই এই হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন।
ত্বালহা ইবনে মাসরাফ এবং তার পিতা ও দাদা সম্পর্কে ইবনে কাত্বান রহ. বলেন :
ত্বালহা তার পিতা ও দাদা অপ্রসিদ্ধ ও অপরিচিত। (আল আজভিবাতুল ফাযিলাহ এর প্রান্ত টিকা, পৃ:৪৪-৪৬)
ইমাম আবু হানীফা, তার অনুসারীগণ ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল রহ. এর মতামত এর ব্যাপারে খুবই স্পষ্ট। আহকাম তথা শরীয়তের কোন বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে তারা দুর্বল হাদীসকেও দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। এবং এ ধরনের হাদীসকে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তবে শর্ত হলো কোন সহীহ হাদীসের সাথে এ হাদীসটি সংঘর্ষপুর্ন না হতে হবে। (তাওযীহুল আফকার, খন্ড:১, পৃ:১৯৭-২১৪)
বিষয়টি অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত যে, কিয়াস দ্বারা যদি কোন আমলের মুস্তাহাব হওয়া প্রমাণিত হতে পারে তবে দুর্বল হাদীস দ্বারাতো আরো উত্তম রুপেই তা হওয়া উচিত। ফিকহ শাস্ত্রের প্রায় প্রতিটি গ্রন্থেই নামাযের সুন্নত অধ্যায়ে ইশার নামাযের পূর্বে চার রাকাত নামায সুন্নত বা মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। অথচ এর স্বপক্ষে কোন দুর্বল হাদীসের সন্ধানও পাওয়া যায় না। প্রকৃত অর্থে যোহরের চার রাকাত সুন্নাতের উপর কিয়াস করেই এ চার রাকাতকে মুস্তাহাব বলা হয়ে থাকে। (আল মাসসৃত লিল ইমাম আসসারাখাসী, খন্ড : ১, পৃ:১৫৭)
সুতরাং যদি কিয়াস দ্বারা কোন আমলের মুস্তাহাব হওয়া প্রমাণিত হতে পারে তবে য’ঈফ হাদীস দ্বারা তো উত্তমরুপে হওয়া উচিত। উপরন্ত হানাফি ও মালেকি মাযহাবে দুর্বল হাদীস কিয়াসের উপর অগ্রগণ্য।
✔এ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক দ্বীন বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন
✍ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ