Showing posts with label বিশেষ ব্যক্তিবর্গ. Show all posts
Showing posts with label বিশেষ ব্যক্তিবর্গ. Show all posts

Wednesday, September 25, 2019

বিশ্বনবী মোহাম্মদ সাঃ এর ছাত্র জেনারেশন

বিশ্বনবী মোহাম্মদ সাঃ এর ছাত্র জেনারেশন

১.হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ
উনার ছাত্র।
২.হজরত আনাছ ইবনে মালেক রাঃ,
উনার ছাত্র
৩.ইমামে আযম আবু হানিফা রাহঃ
উনার ছাত্র।
৪.হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রাহঃ
উনার ছাত্র।
৫.শায়েখে হাম্মাদ রাহঃ উনার ছাত্র।
৬.ইমাম বোখারী রাহঃ উনার ছাত্র।
৭.আবু আব্দুল্লাহ মোঃ আল ফেরওয়ারি রহঃ।
উনার ছাত্র।
৮.আবু মোঃ আব্দুল্লাহ সুরাখসি রহঃ, উনার ছাত্র।
৯.শায়েখ আব্দুর রাহমান দাওদী রহঃ উনার ছাত্র।

১০.শায়েখে আব্দুল আওয়াল হারবী রহঃ, উনার ছাত্র।
১১.শায়েখ সিরাজ উদ্দীন হাম্বলি জুবাইদী রহঃ, উনার ছাত্র।
১২.শায়েখ আঃ আব্বাস আহাম্মদ হাজ্জার রহঃ,উনার ছাত্র।
১৩.শায়েখ জয়নুদ্দীন তানুখী রহঃ উনার ছাত্র।
১৪.শায়খ আঃ ওয়াহহাব সালাফি রহঃ উনার ছাত্র।
১৫.শায়েখ আহাম্মদ জাকারিয়া আনছারী রহঃ, উনার ছাত্র
১৬.শায়েখ শামসুদ্দীন মোঃ রমলি রহঃ উনার ছাত্র।
১৭.শায়েখ আঃ ওহাব সানাফি রহঃ,উনার ছাত্র।
১৮.শায়েখ আহাম্মদ কেসাসী রহঃ, উনার ছাত্র।
১৯.শায়েখ ইব্রাহিম কুর্দি রহঃ উনার ছাত্র।

২০.শায়েখ আবু তাহের মাদানী রহঃ উনার ছাত্র।
২১ হজরত শাহ অলিউল্লাহ মোহাদ্দেসে দেহলভী রহঃ
উনার ছাত্র।
২২.শাহ আঃ আজিজ মোহাদ্দেসে দেহলভী রহঃ উনার ছাত্র।
২৩.শায়েখ ইসহাক রহঃ উনার ছাত্র।
২৪.শায়েকে আঃগনী রহঃ উনার ছাত্র।
২৫.হজরত কাসেম নানুতবী রহঃ উনার ছাত্র।
২৬.শায়েখ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহঃ উনার ছাত্র।
২৭.শায়েখ হোসাইন আহাম্মদ মাদনী রহঃ উনার ছাত্র।
২৮.আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী দাঃবাঃ, উনার ছাত্র।
বাংলাদেশের সকল কওমীর আলেম।

আজ একদল মুনাফিক মার্কা ভন্ড, আল্লামা শাহ আহমদ শফী দাঃবাঃ এর বিরুদীতা করছে।

করে লাভ কি? ??

একটু ভেবে দেখো , তোমাদের হাজারো বিরুদীতায় হুজুরের কিচ্ছু আসে যায়না,কিন্তু তোমার বিরাট ক্ষতি আছে ।

Tuesday, June 4, 2019

আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী হাফিঃ এর রমজান।

আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী হাফিঃ এর রমজান।


জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহতামীম ও শায়খুল হাদীস আকাবের ও আসলাফের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি আল্লামা কাসেমী হাফিঃ  শায়েখ জাকারিয়্যা ( রহঃ) এর জা-নশীন  মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী ( রহঃ) এর অন্যতম খলিফা।

আল্লামা কাসেমী হাফিঃ  পুরো রমজানটাই ইতিকাফে কাটান।জাতীয় কোনো সংকট কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে  মসজিদ থেকে বের হলেও দ্রুত মসজিদে ফিরে আসেন।রমজানে সাধারণত সাক্ষাত প্রদান করেন না এবং কথাও বলেন না।

পুরো মসজিদে  ইতিকাফকারীদের পদভারে মুখরিত তবে আলেম উলামার সমাগম বেশী থাকে। সাধারণ লোক থাকে কম। বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহাদ্দিস,  মুহতামিম,শায়খুল হাদীস, মুদাররিস, সদ্য ফারেগ তরুণ আলেমগণ সব চেয়ে বেশী ভীড় জমান।

রমজানের শুরু থেকে মসজিদে তারাবীহ এর নামাজের জন্য দুই জন অবিজ্ঞ হাফেজ নিযুক্ত আছেন যারা খুবই ধীরে ধীরে তারতিলের সাথে তারাবীহ আদায় করেন।
প্রায় দেড়/দুই  ঘন্টা লেগে যায় এই তারাবীতে।নামাজের পর সুরা ইয়াসিনের আমল, দরুদ ও সালাতও সালাম পাঠের আমল।

 বার্ধেক্যজনিত অসুস্থতার  কারণে একেবারে দুর্বল।লান্সের সমস্যার কারনে প্রচন্ড কাশি আবার পায়েও তাঁর বড় সমস্যা  ঠিকমত দাড়াতে পারেন না।তবুও কখনও বসে নামাজ পড়েন না এই দুর্বল বৃদ্ধ মানুষটি, ইবাদতে কখনো দুর্বল হননি। এই পরিণত বয়সেও যেন যুবককেও হার মানান।

এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার শুরু হয় গভীর রাত পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত এরপর আরেকটু বিশ্রাম নিয়ে তাহাজ্জুদ এর নামাজ শুরু করেন। তাহাজ্জুদ নামাজে লম্বা ক্বেরাত, লস্বা রুকু ও সেজদা।কখনো কখনো পা গুলো ফুলে যায় আর তখনই খুশীতে আত্মহারা কারণ  আজ আরেকটি সুন্নাত আদায় হয়েছে।

তাহাজ্জুদ শেষ করে সেহেরী করেন যৎ সামান্য। শুধু সুন্নাত পালনের জন্যই সেহেরীতে শরীক হন।সেহেরী শেষ করে ফজরের নামাজের সময় হলে, জামাতে নামাজ আদায় করে ঘুমোতে যান। তবে সবাই নয়। কিছু সংখ্যক ইশরাক পড়ে ঘুমাতে যান।

সকাল ৯ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন সবাই। মুলত এটাই বিশ্রামের সময়। আর বাকী অন্য সময়  ইবাদতে মশগুল তাকেন।সকালে ঘুম থেকে উঠে তালীম শুরু হয়। বিভিন্ন কিতাবাদী তালীম করা হয়। একজন পড়েন, আর বাকী সাথীরা শুনেন। মাঝে মাঝে শায়েখ নিজে কথা রাখেন।

এক দেড় ঘন্টা তালীমের পর কোরআন তেলাওয়াতে লেগে যান সবাই। জোহর পর্যন্ত কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াত হয়। অনেকে বিভিন্ন কিতাবাদী মুতাআলা করেন।

বাদ জোহর জিকিরের আমল। সম্মিলিত ভাবে বসে নিজ নিজ আসনে জিকির করেন তবে সমশ্বরে নয়।

জিকির শেষ করে আবার তেলাওয়াত। আসর পর্যন্ত চলে।  আসরের পর আবার তালিমের মজলিস। বয়ান শেষ হলে আবার তেলাওয়াতে, ব্যক্তিগত আমল ও দোয়ায় মশগুল হয়ে যান সকলে ইফতার পর্যন্ত।

ইফতারের সময় অনেকে লম্বা দুআ করেন। দুআয় অনেক পরিবর্তন হয়ে যায় মজলিস।

মাগরীবের পরে আওয়াবীনের আমল। সেখানেও কুরআন শুনতেন।  ইতিকাফের সাথীরা দুই তিন জন করে আওয়াবীন এ কুরআন শুনেন। আওয়াবীন শেষ হলে তারাবীর জন্য সবাই তৈরী হোন।

রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে গনীমত মনে কদর করেন যেন অযথা সময় নস্ট না হয়ে।শায়েখ জাকারিয়্যা রহঃ এবং মুফতি মাহমুদ হাসান গঙ্গুহী রহঃ এর মজলিসের সৃতিচারণ করে নিজেকে আকাবের ও আসলাফের রঙে রাঙাতে কোন কসুর করেন না।

আল্লাহ আমাদের কেও তাওফিক দিন। আমিন।

Wednesday, May 29, 2019

সৌদি আরবে বাংলাদেশি ৪ শীর্ষ আলেমের প্রামান্য চিত্র তৈরি

সৌদি আরবে বাংলাদেশি ৪ শীর্ষ আলেমের প্রামান্য চিত্র তৈরি

সৌদি আরবের কিংসাউদ ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক মেলায় এবার স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি ৪ শীর্ষ আলেমের প্রামান্যচিত্র। শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, হযরত মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই রহ.), শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী ও মুফতি আমীনি রহ.-এর উপর এ প্রামান্যচিত্র তৈরি করা হয়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি ৪ শীর্ষ আলেমের প্রামান্য চিত্র তৈরি


সৌদি আরবের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় কিংসাউদের উদ্যোগে প্রতি দুই বছর পরপর এ মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। ইউনিভার্সিটির ৭৫টি দেশের মধ্যে এ মেলায় অংশগ্রহণ করে প্রায় ২৬টির মতো দেশ। প্রতিটি দেশই তার নিজ দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি তোলে ধরে। এই ধারাবাহিকতায় এবারের মেলার বিডি স্টলে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি ৪ শীর্ষ আলেমের উপর করা প্রামান্যচিত্র।

সোমবার (১৬ মার্চ’১৫) থেকে শুরু হওয়া ৪ দিন ব্যাপী মেলার শেষ দিন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)।

উল্লেখ্য এবারের মেলায় সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সকলের মুখেই আলোচ্য বিষয় ছিল কিংসাউদ ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি ছাত্রদের বানানো রিকশা। সৌদি টিভি রিপোর্টার কে রিক্সায় চড়েই রিপোর্ট করতে দেখা যায়।

Thursday, January 10, 2019

আমাদের হযরতুল আল্লাম ওলীপুরী দামাত বারাকাতুহুম।

আমাদের হযরতুল আল্লাম ওলীপুরী দামাত বারাকাতুহুম।

একটি নাম। একটি আর্দশ। একটি চেতনা। একটি বিপ্লব। একটি ঐতিহ্য। একটি বাতিঘর। একটি আলোর মিনার। একটি ছায়াবীথি।  একটি মহিরুহ।  একটি প্রতিষ্ঠান। চলন্ত একটি বিশ্বকোষ। একটি জ্ঞানভাণ্ডার। একটি এলেমের জাহাজ। তিনি আজ কেবল একজন ব্যক্তি নন বরং একজন অনন্য যুগ নির্মাতা।

যার জীবনের প্রতিটি কথা হয় মুদ্রিত।  প্রতিটি বয়ান হয় সংরক্ষিত। প্রতিটি লেকচার একেকটি জনপ্রিয় গ্রন্থ। যার পুরো জীবনটাই একটি মুদ্রিত রচনা সমগ্র। প্রতিটি বানী হয় উম্মাহর প্রেরণার উৎস। আমি প্রচার বিমূখ মনীষা আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী দাঃবাঃ এর কথা বলছি।

তিনি মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেন। আধুনিক ডিজেটাল যুগে এসেও ভিডিও ও সরাসরি ছবি তুলার মতো বিষয়ে তার চরম আপত্তি জানান। অনেকে বলে থাকেন, হযরত আপনি টিভি প্রোগ্রাম করলে জাকের নায়েক কেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেকচারার হিসাবে নন্দিত হয়ে উঠতেন।  কিন্তু তিনি বলেন, 'আমিতো কাজ করি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। জনপ্রিয়তা মানুষের এখলাস ও তাকওয়াকে বিনষ্ট করে দেয়"। এই হলেন তিনি।

একেবারে সাদামাটা হবিগন্জের আঞ্চলিক ভাষা বাচন ভঙ্গিমা যার অবয়বজুড়ে । বাঙ্গালির চিরচায়িত পোষাক লুঙ্গি , সেন্ডেল , কাটা বেটে পান্জাবী আর কিস্তি টুপি পড়া একজন সহজ সরল.নিরহংকার মানুষ । দেখতে একেবারে সাদামাটা এক মৌলভী । মুখে পানের খিলি আর সহজ সরল চলন বলনে এক সুফি দরবেশ । এতোটা সাদামাটা আমার চোঁখে আর কোন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে দেখিনি । এই সাদামাট সহজ সরল মুখলেছ মানুষটিকে আল্লাহ তায়ালা এক খাছ নেয়ামত দান করেছেন । তা হলো তার অপূর্ব বয়ান। যুগের তর্কবাগীশ।

মফস্বলে বেড়ে ওঠা এবং আজীবন গ্রামে থাকা এই বরেন্য আলেমের এলেমের রৌশনীতে আজ আলোকিত পুরো বাংলাদেশে । যারা তার বয়ান বক্তৃতা একবার শুনেছেন তাদের কাছে ওলীপুরীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই । রাজধানী ঢাকা শহর সহ দেশের প্রতিটি জেলাতের  তাফসির মাহফিলের তিনি মধ্যমনি। এমনকি দেশের সীসানা পেরিয়ে পাচ্য -পাশ্চাত্য তার বয়ান সমানভাবে সমাদৃত।

হবিগন্জের এক প্রত্যান্ত গ্রাম তার জন্মস্হান ওলীপুর আজ তার নাম নুরুল ইসলামকে ছাপিয়ে ঐতিহ্যের স্বারকে পরিণত হয়েছে। স্পষ্টভাষী এই মুফাসসিরে কোরআনের প্রোগাম ছাড়া যেন এদেশের কোরআনের মাহফিলগুলোই জ্যোতিময় হয়ে ওঠে না । অসুস্ততার ভিতর দিয়েও থাকে এতো প্রোগাম করতে হয় যে ওলীপুরীকে কোন মাহফিলে দাওয়াত করতে গেলে কমপক্ষে দেড় দুই বছর আগে নাম ডায়রিভূক্ত করতে হয়। এতে তার জনপ্রিয়তা সহজেই অনুমান করা যায় । আমার কাছে মনে হয় আল্লামা ওলীপুরীই এই মুহুর্তে বাংলাদেশের ইসলামি অঙ্গনে দলমতের
উর্ধ্বে সমালোচনা ও কোন প্রকার বির্তকমুক্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় আলেম ।

যা বিশ্বাস করেন তা অপকটে বলেন । কে কি বলল বা ভাবলো তিনি এসবের পরোয়া করেন না । যা সত্য তা বলে ফেলেন নিদ্ধিধায় নিসংকোচ ভাবে। আদর্শ নীতি নৈতিকতায় অবিচল এক সিংহ
পুরুষ । প্রচলিত সংকীর্ণ রাজনীতি আর সকল দলাদলী ও বির্তকের উর্ধ্বে তিনি এক বিশাল মহীরুহ । তিনি সকলের আর তার জন্য সবার দরজা উম্মোক্ত । আকাবিরদের এক মহান আমানতের মশাল তিনি ।

পথহারা মুসলিম উম্মাহর এক নির্লোভ
সিপাহসালার তিনি। আমাদের আলোর সুউচ্চ মিনার তিনি । যেন কুতুব মিনার । যার আগেও কেউ নেই পরেও কেউ নেই । মুজাহিদে জামান মাওলানা মুখলেছুর রহমান রায়ধরের চেয়ারম্যেন রহ এর হাতে গড়া এই ছাত্র  তার প্রিয় উস্তাদ ও শায়খের মতোই সাহসের এক  সুউচ্চ প্রাচীর।

হাফেজ্জি হুজুর আর শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের এই শাগরেদ তাদের মতোই উম্মাহর এক দরদী রাহবার। বাতিলের বিরোদ্ধে আপোসহীন সিপাহসালার।  এখনো এদেশে মওদুদী মতবাদ ও তাগুতের বিরোদ্ধে যে কজন আলেম বজ্রকন্ঠে কথা বলেন তিনি তাদের অন্যতম।

তার নাম ব্যাবহার করে কোন কোন রাজনৈতিক দল টানাটানি করলেও তিনি কখনো রাজনীতির সাথে জড়ান নি। হকপন্থি ধারার যেকেউ তাকে সিরাত মাহফিল বা কোন সভা সেমিনারে ডাক দিলে তিনি  হাজির  হন নিদাদ্ধায়।  দেওবন্দি সকলের তিনি সকল তাঁর। ফলে তিনি যেমন চরমোনাই মাহফিলে যান প্রতিবছর, তেমনি হাটহাজারীর সম্মেলন আলোকিত করেন, আবার মজলিসের সীরাত মাহফিলে বক্তৃতা করেন নিয়মিত, জমিয়তের যে কোন সভায় হাজির হন  নিসংকোচে । এই হলেনন আমাদের ওলীপুরী। আমাদের আর্দশ।

যুগ সচেনতায় তিনি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। সময়ের সকল ফেৎনা সম্পর্কে তিনি সজাগ, সচেতন এবং আপন কওমকে সর্বদা সর্তক করতে এদেশে তার জুড়ি নেই। তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরোদ্ধে কথা বলেন অপকটে। এমনিভাবে জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়াতে সাক্ষর করেন নির্ভয়ে।  যুগ সময়কে তিনি গভীর অন্তদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষন করেন। তারপরঃ কোরআনের আলোকে যুগ সমস্যার সমাধানের পথ ও পাথেয় বলে দেন।

বাগ্মিতার পাশাপাশি তিনি একজন সুলেখক। তেজস্বী তার কলম।  মাসিক মদীনার এক সময়ের জনপ্রিয় লেখক এই আলেমেদ্বীন লেখালেখির সুবাধে আমার পিতার ঘনিষ্ট বন্ধু । ফলে ওলীপুরীকে চিনি ও জানি সেই
শৈশব থেকেই। বাড়ির কাছের এই মনীষা সাড়া দেশের ও বিশেষ করে আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। কাছে থেকে জীবনে বহুবার দেখেছি এই বাহরুল উলুমকে। একজন বিদগ্ধ  লেকখ হিসাবে তার অসংখ্য গ্রন্হাবলী এখন পাঠক প্রিয়তার শীর্ষে। কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড হবিগন্জ ও মাদরাসায়ে নুরে মদীনা সায়েস্তাগন্জ, তাঁর জীবনের অমর আরো দুটি কৃর্তি। একটির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান অপরটির মুহতামিম।

খতীবে আজম,তরজুমানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, দেওবন্দি চেতনার অন্যতম প্রধান ভাষ্যকার আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী হাফিজাললাহু  জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করছে আল্লাহর দরবারে।
হে আল্লাহ, এই মহান বুযুর্গ আলেমকে নেক হায়াত দান করুন । আমাদের মাথার উপর তার সুবিশাল ছায়াকে দীর্ঘ করুন। আমিন।

Friday, July 28, 2017

বর্তমানে বাতিলের আতংক হলেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী সাহেব।

বর্তমানে বাতিলের আতংক হলেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী সাহেব।

কুরআন হাদিসের বিপক্ষে যত বাতিল শক্তি আছে সবাইকে দাঁতভাংগা জবাব দিয়ে নিস্তেনাবুত করেছেন ওলিপুরী দা:বা:
:
যেখানেই মিলাদ ক্বিয়াম পার্টিরা মাথাচারা দিয়েছে সেখানেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন।
:
যেখানে (আদাতি) তথা কথিত আহলে হাদিসরা মাথাচারা দিয়েছে সেখানেই প্রতিবাদ করেছেন শক্ত হাতে।
হাদিস কুরআন সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে।
:
আদাতি ও বেদআতিদের চোখে ওলীপুরী এজন্য খারাপ।
ওলিপুরী সাহেব কেনো হাদিস কুরআন এর যুক্তি দিয়ে তাদেরকে গুড়িয়ে দিলেন?
:
তথা কথিত আহলে হাদিসদের জন্য ওলিপুরী দা:বা: এক বিশাল আতংকের নাম।
:
ওলিপুরী দা:বা: এর নাম শুনলে ওদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
:
আজ পর্যন্ত ওলিপুরী সাহেবের সামনে দাড়াতে পারেনি আহলে হাদিসদের নামধারী ছায়েখেরা।
:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা।
আপনারা যারা হাদিস কুরআন শিক্ষার ময়দানে আছেন।
ভালো করে পড়ালিখা করুন।
আপনাদের কলমের শক্তি আপনাদের কথার শক্তি পরবর্তিদের জন্য খুবই প্রয়োজন হয়ে দাড়াবে।
আমাদের বড় বড় হক্কানী ওলামাগন চলে যাচ্ছে।
তাই এখন থেকে বাতিল প্রতিরোধ ও হাদিস কুরআন এর সঠিক প্রচারের জন্য আপনার আমার ভুমিকা রাখতে হবে।
:
আমরা হাদিস কুরআন শিখে আমাদের বড়দের মত বাতিলের বিপক্ষে লড়ে যাব ইনশাআল্লাহ

Wednesday, July 26, 2017

"হজ্জের সফরের সময়ে, তিন প্রান্তের তিন ব্যাক্তিত্ব"

"হজ্জের সফরের সময়ে, তিন প্রান্তের তিন ব্যাক্তিত্ব"

১) ডানকোনে মরহুম শিল্পী ও দায়ী "জুনায়েদ জামশেদ" (রহঃ) যিনি মাসখানিক আগে এক বিমান দুর্ঘটনায় আল্লাহর রাস্তায় ক্রিকেটার "সাঈদ আনোয়ার" এর জামাত থেকে ফিরার সময় স্ত্রী সহ শাহাদাত বরণ করেন।।
.
২) মাঝখানে পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের এক সময়ের বিখ্যাত বোলার "শোয়েব আখতার"। যিনি সারা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী বোলার ছিলেন। এখন আল্লাহর রহমতে তাবলীগে সময় লাগান।
.
৩) এবং বামকোনে মাওলানা "তারিক জামিল" সাহেব বসে রয়েছেন। যার মেহনতে আল্লাহর ইচ্ছায় পাকিস্তানের ও বিশ্বের বহু পথহারা মানুষ আল্লাহর দিশা পেয়েছেন। যার মাঝে, "সাঈদ আনোয়ার, মুহাম্মদ ইউসুফ, জুনায়েদ জামশেদ, বীনা মালিক" ইত্যাদি বহু তারকা বিদ্যমান।
.
আল্লাহ সবাইকে কবুল করেন ও জুনায়েদ জামশেদ ভাইকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করেন। আমিন।।

Wednesday, June 28, 2017

উলামায়ে দেওবন্দের ইলমী ছিলসিলা রাসুলুল্লাহ সাঃ পর্যন্তঃ

উলামায়ে দেওবন্দের ইলমী ছিলসিলা রাসুলুল্লাহ সাঃ পর্যন্তঃ

হুজ্জাতুল ইসলাম আল্লামা ক্বাসিম নানুতুবি
শাহ ইসহাক রাহঃ থেকে।
শাহ ইসহাক রাহঃ,
শাহ আব্দুল গনী থেকে।
শাহ আব্দুল গনী রাহঃ,
শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস থেকে।
শাহ আব্দুল আজিজ রাহঃ,
শাহ ওলি উল্লাহ মুহাদ্দিস থেকে।
শাহ ওলি উল্লাহ রাহঃ,
শায়েখ আবু তাহের মাদানী থেকে।
শায়েখ আবু তাহের মাদানী রাহঃ,
মুহাম্মদ বিন আহমদ থেকে।
মুহাম্মদ বিন আহমদ রাহঃ,
শায়েখ রাবী ইবনে সাবী থেকে।
শায়েখ রাবী ইবনে সাবী রাহঃ,
শায়েখ হিসাম উদ্দিন থেকে।
শায়েখ হিসাম উদ্দিন রাহঃ,
মুহাম্মদ বিন আরীফ থেকে।
মুহাম্মদ বিন আরিফ রাহঃ,
ইমাম তিরমিযী থেকে।
ইমাম তিরমিযী রাহঃ,
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহঃ,
ইমাম আবু হানিফা থেকে।
ইমাম আবু হানিফা রাহঃ,
শায়েখ হাম্মাদ থেকে।
শায়েখ হাম্মাদ রাহঃ,
আনাস বিন মালেক থেকে।
আনাস বিন মালেক রাঃ,
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ,
হুজুরে আকদাস হযরত রাসুলুল্লাহ সাঃ থেকে।

Tuesday, June 27, 2017

"আল্লামা শাহ আহমদ শফী"এই নামের মধ্যে প্রত্যেকটি অক্ষরের ব্যাখ্যা

"আল্লামা শাহ আহমদ শফী"এই নামের মধ্যে প্রত্যেকটি অক্ষরের ব্যাখ্যা

আ :- আলেমকূলের শিরোমনি,আধ্যাত্মিক রাহবার,

ল :- লক্ষ প্রাণের স্পন্দন,শ্রদ্বা ভাজন সবার ৷

লা :- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর বুলন্দ ঝান্ডাবাহী,

মা :- মাদানী কাননের পুস্প তিনি,মৃত্যু পরোয়া নাহি

শা :- শার্দূলের মত যখন গর্জে ওঠলেন এই মুজাহিদ,

হ :- হল কম্পমান থরথরে নাস্তিক্যবাদের ভীত

আ :- আল্লাহর সৈনিক দৃঢ় ঈমানের প্রতীক,

হ :- হক্বের পথে সংগ্রামে তিনি সদা অগ্রপথিক ৷

ম :- মসনদ যাঁর হাদীসে নববীর,নয় কোনো ক্ষমতার,

দ :- দরকার আজ সব মানুষের এই মহান নেতার ৷

শ :- শমসীরে খোদা তিনি বিপ্লবী মহাবীর,

ফী :- ফী সাবীলিল্লাহ দিতে রাজি আপন শির ৷
.
"ইয়া আল্লাহ তায়ালা উনাকে হায়াতে তায়্যেবা নসীব
করুন"
"""""- আমীন ছুম্মা আমীন -""""
সংগ্রহিত

Tuesday, May 30, 2017

তারাই ছিলেন আমাদের পূর্বসুরি 
যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করি:

তারাই ছিলেন আমাদের পূর্বসুরি যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করি:

এমন মানুষ মিলবে কি আর?
গৌরবময় ইতিহাসে তাঁর মতো
কয়জন আছে??
==================

👉১) যার জীবদ্দশাতেই ২৫টি থিসিস
বা পি.এইচ.ডি হয়েছে তাঁর জীবন ও
কর্মের উপর।
.
👉২) তিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের
অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা।
.
👉৩) তাঁর জীবদ্দশায়ই রাসুলে
আরাবীর শহর মদীনায় তাঁর নামে
সড়কের নামকরণ করা হয়।
.
👉৪) তাঁর লিখিত দুই শতাধিক গ্রন্থ
প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যে পৃথিবীর প্রধান
প্রধান সকল ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
.
👉৫) কাবা শরীফের চাবী তাঁর হাতে
তুলে দিয়ে বিরল সম্মান জানানো
হয়েছিল তাঁকে, নিজ হাতে দরজা খুলে
এর ভিতরে প্রবেশ করে তিনি মহান
রবের শোকর আদায় করেছেন।
.
👉৬) একজন বিরল প্রজন্মের
শিক্ষাবিদ হিসাবে সারা পৃথিবীব্যাপী
তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।
তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর চেয়ে বড় কোনো
পণ্ডিতের নাম শুনা যায়নি
পৃথিবীজুড়ে।
.
👉৭) ইউরোপের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইসলামিক
স্টাডিজ সেন্টারের তিনি প্রতিষ্ঠাতা
চেয়ারম্যান।
.
👉৮) ইসলামিক সেন্টার জেনেভা,
ইউ এস এ আরবী একাডেমি, লন্ডনের
ইসলামিক সেন্টার সহ ইউরোপ,
আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও
দক্ষিণ পূর্বএশিয়ার অসংখ্য
প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রাণপুরুষ ছিলেন।
.
👉৯) ছিলেন ভিজিটিং প্রফেসার,
রাবেতা আলমে ইসলামীর পুরোধা,
রাবেতা আল আদব আর ইসলামী
বিশ্ব সাহিত্য পরিষদের সভাপতি।
.
👉১০) একেবারে মামুলী বিছানায়
ভারতের প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখর থেকে
বাজপেয়ী পর্যন্ত বড় বড় প্রধানমন্ত্রী
আর রাজনীতি বিদ তাঁর পাশে বসে
পরামর্শ নিতেন।
.
👉১১) ভারত সরকারের সম্মান সুচক
সবকটি পদক তিনি পেয়েছেন।
.
👉১২) ১৯৯৮ সালে শতাব্দীর এই
শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বকে আরব আমিরাত
সরকার রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান
করে, তিনি যেতে অস্বীকার করলে
তাঁকে জানানো হয় আরব প্রজন্মের
বুদ্বিজীবী ছাত্র ও তরুণরা আপনাকে
দেখতে চায়।
.
👉১৩) ঐদিন হিন্দুস্তান টাইমস লিড
নিউজ করে একজন ভারতীয় মনীষীর
জন্য বিমানের সিডিউল পরির্বতন,
আকাশে নিরাপত্তা ব্যবস্হা
পুনঃবিন্যাস।
.
👉১৪) সেদিন এই মনীষাকে বহন
করার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে দামি
বিমান পাঠানো হয় সরাসরি উত্তর
ভারতের লখনৌতে, সাথে আরো বহু
ছোট বড় বিমান, সাজ সাজ রব পড়ে
গোটা উপমহাদেশে।
.
👉১৫) দারুল উলুম দেওবন্দের
আজীবন সভাপতি ছিলেন।
.
👉১৬) নদওয়াতুল উলামার প্রধান
পরিচালক।
.
👉১৭) দাওয়াতে তাবলীগের অন্যতম
মুরুব্বী ছিলেন।

ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত পৃথিবীর সকল আলেমরা যাকে ভালোবাসেন। তিনি আর কেউ নন,
তিনি হলেন আকাবীরে দেওবন্দের গত শতাব্দীর শেষ "সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ওরফে আলী মিয়া নদভী রহ.।

নিচের ছবিতে তাকিয়ে দেখুন, এমন একজন মনীষী নিজের সাদাসিধা কুঠরি থেকে বেরিয়ে আসছেন। তার একটি বইয়ের রয়্যালিটি গ্রহণ
করলে মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু নয় দুবাইয়েও আলীশান প্রাসাদ নির্মাণ করা যেতো। আর আমরা সামান্য কিছু টাকা ও সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজের ঈমান ও
আদর্শ পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে কুণ্ঠিত হই না!

(মুফতি মুহিউদ্দিন কাসেমি দাঃবাঃ এর কলামে)

Sunday, May 28, 2017

মাত্র ৩০ দিনে হাফেজ হন আল্লামা আতহার আলী রহ.

মাত্র ৩০ দিনে হাফেজ হন আল্লামা আতহার আলী রহ.

আল্লামা আতহার আলী রহ. দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম কৃতিসন্তান। জন্ম ১৮৯১ সালে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারের ঘুঙ্গাদিয়ায়। বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন এবং আত্মশুদ্ধির জন্য হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে তার সান্নিধ্যে থেকে কঠোর মুজাহাদার মাধ্যমে অল্প সময়েই খেলাফত লাভ করেন।নিজ মুর্শিদের নির্দেশে তিনি দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কিশোরগঞ্জ চলে আসেন। এখানেই তার কর্মবহুল জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

অবিভক্ত পাকিস্তানে ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. ও শিব্বির আহমাদ উসমানী রহ.-এর এ শিষ্য যখন কিশোরগঞ্জ শহরে জামিয়া ইমদাদিয়া ও শহিদী মসজিদ কেন্দ্রিক ধর্মীয় ও সমাজসংস্কারের কাজে ব্যস্ত তখনই তিনি স্বীয় উস্তাদের নির্দেশে এ মসজিদ কেন্দ্রিকই আলেমদের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈকিত প্লাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হন।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের কৃষকপ্রজা পার্টি ও মাওলানা আতহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের এমএনএ ও এমপি নির্বাচিত হন।

জাতীয় এ্যসেম্বলিতে ৪টি এবং প্রাদেশিক এ্যসেম্বলিতে ৩৬টি আসন লাভ করেছিল এবং কেন্দ্রীয় এ্যসেম্বলির স্পিকার ও ১জন মন্ত্রী এবং প্রাদেশিক এ্যসেম্বলির ৩জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিল নেজামে ইসলাম থেকে। কিশোরগঞ্জ শহরের বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও পাকা রাস্তা-ঘাটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয় তারই হাত ধরে।

বাল্যকালেই তিনি তার পিতার কাছে কোরআবনুল কারিম শিক্ষা করেন। কোরআনে দখল ছিল তার অসামান্য। প্রতি রমজানেই তিনি থানাভবন যেতেন। থানবী রহ. নিজেই খতমে তারাবিতে ইমামতি করতেন এবং অনেরক দক্ষ হাফেজদের লোকমাও (সংশোধনী) গ্রহণ করতেন না অথচ একদিন আতহার আলী রহ. লোকমা দিলে তিনি গ্রহণ করেন এবং নামাজ সমাপনান্তে কে লোকমা দিল তা জানতে চান। উত্তরে উপস্থিত লোকেরা বললেন ‘আতহার আলী সিলেটি’। থানবী রহ. দুআ করে বলেন, ‘আল্লাহ তাকে খুব শিঘ্রই হাফেজে কোরআন বানিয়ে দেবেন।’

ঘটনাক্রমে ১৯২১ সালে আতহার আলী রহ. থানাভবন যেতে পারেননি। নিজ গ্রামের মাতুব্বর শায়েস্তা মিয়া তাদের মসজিদে খতমে তারাবীর জন্য হাফেজ আনার জন্য অনুরোধ করেন। হজরত রহ. মুচকি হেসে বলেন, ‘এতই যখন ইচ্ছা তাহলে মসজিদে আসবেন। ইনশা আল্লাহ খতমে তারাবির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

রমজানের প্রথমদিন ইশার নামাজে এসে হাফেজ না পেয়ে এলাকাবাসী হতাশ। হাফেজ নেই, তাহলে আতহার আলী যে বলল ‘ব্যবস্থা হবে!’ মাওলানা আতহার আলী রহ. তাদেরকে জানালেন যে হাফেজ না পেয়ে তিনি নিজেই খতমে তারাবি পড়ানোর নিয়ত করেছেন এবং আজই তা শুরু হবে।

লোকেরা বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে হাফেজ না হয়ে একজন লোক কী করে খতমে তারাবি পড়াবে! সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নামাজে দাড়িয়ে প্রথম পারা তিলাওয়াত করেন। এভাবেই তিনি প্রতিদিন এক পারা করে মুখস্থ করে খতমে তারাবি পড়িয়ে রমজানের এক মাসেই হাফেজ হয়ে যান।

তথ্যসূত্র : হায়াতে আতাহার

Saturday, May 27, 2017

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সাহেবের আম্মা কি বলে ছিলেন হুজুর যখন জেল খানায় বন্ধী ছিলেন

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সাহেবের আম্মা কি বলে ছিলেন হুজুর যখন জেল খানায় বন্ধী ছিলেন

প্রত্যেক মা এমন হওয়া চাই।
বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের নায়েবে
আমীর আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী হুজুর যখন
কারাগারে এবং রিমান্ডে । তখন উনার আম্মা উনাকে
দেখতে গেলেন এবং যাওয়ার পর জিগ্যাসা
করলেন জুনাইদ কেমন আছো? মায়ের কথার
জবাবে বাবুনগরী বললেন আম্মা আমাকে রিমান্ড
দেওয়া হয়েছে । এই কথা বলার সাথে সাথে
আম্মা বললেন এমন কথা শুনার জন্য আমি আসিনি ।
এসেছি আমার ছেলের ঈমান দেখার জন্য । তুমি
দুঃখ করছো কেনো তোমার উপর তো
বেলালের মতো অত্যাচার করা হয়নি । খুবাইবের
মতো নির্যাতন করা হয়নি । তাদের উপর এমন
অত্যাচার হওয়া সত্যেও তারা দ্বীনের উপর অটল
রয়েছে আর তুমি এটুকুই ধর্যহারা হয়ে যাচ্ছো।
ঈমানের উপর অটল থেকো যত বাধাই আসেনা
কেনো মোকাবেলা করে যাও। আল্লাহ
তোমার সাথে আছেন।
এমন মা প্রত্যেক সন্তানের জিবনে হওয়া দরকার ।
কি বলেন? কপি করা হয়েছে।

Sunday, May 21, 2017

হজরতজী মাওলানা ইউসুফ কান্ধলবী রহঃ এর জীবনী

হজরতজী মাওলানা ইউসুফ কান্ধলবী রহঃ এর জীবনী

যুগে যুগে আল্লাহ পাক মানুষের কল্যাণের জন্য দীনের বুলন্দির জন্য সর্বোপরি উভয় জাহানে মানবজাতির আলোকবর্তিকারূপে যাঁদের পাঠিয়েছেন যারা পৃথিবীতে কায়েম

করেছেন ‘মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী’ র উজ্জল দৃষ্টান্ত মানুষকে দিয়েছেন সেই অনুপম আদর্শের দীক্ষা তাদেরই অন্যতম ছিলেন হজরত মাওলানা ইউসুফ কান্ধলবী রহঃ ।

জন্ম ও বংশ : তিনি ২৫ জুমাদাল-উলা ১৩৩৫ হিজরী মোতাবেক ২০ মার্চ ১৯১৭ ইং রোজ বুধবার ভারতবর্ষের উত্তর প্রদেশের মুযাফফর নগর জেলার কান্ধলা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বিশ্ব তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহঃ। দাদা হজরত মাওলানা ইসমাঈল রহঃ, শায়েখ যাকারিয়া রহঃ এর চাচাত ভাই।

শৈশব ও বাল্যকাল : ছোটকাল থেকেই তিনি একটি দ্বীনি ও ইলমী পরিবেশে লালিত পালিত হন। তাঁর পরিবারের শুধু পুরুষ নয় বরং মহিলারাও তাকওয়া- পরহেযগারীতে মশহুর ছিলেন। পরিবারের সকলেই ছিলেন হাফেজে কুরআন।

হিফজুল কুরআন : মাত্র ১০ বছর বছরেই হজরতজী পুরো কুরআন মজীদ মুখস্থ করে ফেলেন। মেওয়াত শহরে হজরত মাদানী রহঃ এর বড় ভাই হযরত মাওলানা সায়্যেদ আহমদ মাদানী রহঃ মদীনা থেকে হযরতজীর জন্য কুরআন হিফজের সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রতি বিশিষ্ট বুজুর্গদের নেক দৃষ্টি ও স্নেহ মুহাব্বত ছিল। বিশেষ করে হজরত মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহঃ তাঁকে নিজ পুত্রের মত আদর করতেন। হজরতজীও তাঁকে আব্বা আব্বা বলেই ডাকতেন।

প্রাথমিক শিক্ষা : হিফজ শেষ করার পর হযরতজী ১১ বছর বয়সে নিজ পিতার কাছে আরবী পড়া শুরু করেন। সর্বপ্রথম মীযান মুনশাইব পড়েন এবং মাত্র ১৫-২০ দিনেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আয়ত্ব করে ফেলেন। এরপর সরফেমীর, পাঞ্জেগাঞ্জ অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে পড়েন। এরপর পিতাজান স্বীয় আবিষ্কৃত পদ্ধতিতে তাকে নাহবেমীর পড়ান। এরপর কাসিদায়ে বুরদা, চেহেল হাদীস ইত্যাদি কিতাব পড়ান। শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহঃ এর নিকট সুনানে আবূ দাউদ পড়েন। মাজাহেরুল উলূম মাদ্রাসায় মাওলানা আব্দুল লতীফ সাহেবের নিকট সহীহ বুখারী পাঠ করেন।

শিক্ষার প্রতি আগ্রহ : মাতা-পিতার উন্নত শিক্ষার ফলে হযরতজী অন্যান্য ছেলেদের মত খেলাধুলার পিছনে অনর্থক সময় নষ্ট করতেন না। অযথা কোন কথা বা কাজের সাথে তাঁর কোন সম্পর্কই ছিল না। হযরতজীর বাল্যসাথী মাওলানা ইদরীস আনসারী বলেন যে ‘আমি তিন বছর তাঁর অত্যন্ত

ঘনিষ্ঠ সাথীদের মধ্যে একজন ছিলাম, কিন্তু কখনোও তাঁকে বাজারে ঘুরতে দেখিনি’। আল্লাহ পাক তাঁকে পরবর্তী জীবনে মহান ব্যক্তি বানাবেন, সেজন্য বাল্যকালে

তাঁকে ভালো কাজেই শুধু মশগুল করে রেখেছিলেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী বিষয়ক কিতাবাদীদের প্রতি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন।

তিনি নিজেই বলেন – আমি পয়সা জমা করার জন্য একটি ডিব্বা বানিয়েছিলাম। যা কিছু পয়সা হাতে আসতো তা এ ডিব্বায় রেখে দিতাম। উদ্দেশ্য ছিল এ জমাকৃত অর্থ দিয়ে সীরাতের কিতাব ক্রয় করবো। সীরাতের প্রতি এমনই ছিল তাঁর ভালোবাসা।

অপরের উপর ভরসার ঘৃণা : বাল্যবেলা থেকেই তিনি মানুষের কাছে কিছু চাইতে লজ্জাবোধ ও ঘৃনাবোধ করতেন, অন্যদেরকেও তা করতে নিষেধ করতেন। মিহরাব খান মেওয়াতী রহঃ এ প্রসঙ্গে নিজ ঘটনা বর্ণনা করেন যে, যখন হযরতজীর বয়স প্রায় ১০ বছর একদিন তিনি রুটি খাচ্ছিলেন, আমি বললাম যে ভাই আমার জন্য আরেকটা রুটি নিয়ে এস। তখন তিনি নিষ্পাপ কণ্ঠে বললেন, ভাই কারো কাছে চাইতে হয় না।

মেহমান নাওয়াজী : দিল্লীর নিজামুদ্দীনে সব সময় মেহমান আসতেই থাকতো। হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহঃ সর্বদা মেহমানদের সঙ্গেই খানা থেতেন। হযরতজীর বয়স যখন ১২/১৩ বছর তখন থেকেই হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহঃ স্থীয় পুত্রের হাতে মেহমানদের সেবার দায়িত্ব অর্পণ করেন। হযরতজী প্রত্যহ বাসা থেকে খাবার নিয়ে

আসতেন এবং সবার খাওয়া শেষ হলে প্লেট-বর্তন নিয়ে যেতেন। নিজামুদ্দীনে কাশিফুল উলূম মাদ্রাসায় ছাত্রদের খাবার রান্না করার নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা ছিল না। ধারাবাহিকভাবে সব ছাত্রই খাবার পাকাতো। হযরতজী রহঃ নিজেও এ কাজে শরীক হতেন। ছাত্রদের সাথে আটা পিষতেন, মসলা বাটতেন এবং জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে আনতেন।

কর্মজীবন : শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হওয়ার পর তিনি পাঠদানে মনোনিবেশ করেন। আবূ দাউদ শরীফের দরস দেয়া আরম্ভ করেন এবং বহু বছর পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখেন। পিতা তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হওয়া সত্ত্বেও তাবলীগের চাইতে দরস-তাদরীসের প্রতিই তাঁর ঝোঁক ছিল বেশি। বিভিন্ন জামাতের সাথে অল্পকিছু সময় দিলেও পিতা যেমনটা তাঁর কাছে চাইতেন অতটা প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারেন নি। পিতার ইন্তেকালের পর তাবলীগের মুরুব্বীরা তাঁর মাথায় আমীরের পাগড়ী পড়িয়ে দেন। তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তাবলীগ ও দাওয়াতের মেহনতের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বলা হয় তিনি দিনে ১৮ ঘণ্টা নিজামুদ্দিনে বয়ান করতেন।

একবার ডাক্তার তাঁকে বললেন, হযরত আপনি আরেকটু কম সময় বয়ান করেন। নইলে আপনার কণ্ঠের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তিনি বললেন, কণ্ঠ ভালো রাখার জন্য যদি আমাকে আল্লাহর কথা বলা থামিয়ে দিতে হয়, সেই কণ্ঠ দিয়ে আমি কী করবো ? মাওলানা ইলিয়াস রহঃ এর সময় তাবলীগের কাজ শুরু হলেও সেটা তখনো বৈশ্বিক রূপ ধারণ করেনি। অল্পকিছু হলেও সেটা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। হযরতজীর সময়ে তাবলীগের ও দাওয়াতের মেহনত বিশ্বব্যাপী জোরালোভাবে শুরু হয়। দিনব্যাপী তাবলীগের কাজে এত সময় দেয়ার পরও ফাঁকে ফাঁকে তিনি তাসনীফাত তথা লেখালেখির কাজও করতেন। তাঁর যে তিনটি রচনা বিশ্বজুড়ে মাকবুল ও সমাদৃত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে –

#আমানিল আহবার – বিখ্যাত হাদীসের কিতাব শরহু মা’আনিল আছারের ভাষ্যগ্রন্থ।

#হায়াতুস সাহাবা – সাহাবায়ে কেরামের জীবনালেখ্য।

#মুন্তাখাব হাদীস – তাবলীগ জামাতের ছয় নম্বর সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীসসমূহ, তার তরজমা ও ব্যাখ্যা।

তাঁর সম্পর্কে শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী রহঃ বলেন – তিনি এক বছরের কাজ করেন এক মাসে, এক মাসের কাজ করেন এক সপ্তাহে, আর এক সপ্তাহের কাজ করেন এক দিনে।

ওফাত: জীবনের বেশিরভাগ চিল্লা তিনি পাকিস্তানে কাটিয়েছেন। সেই পাকিস্তানেই সফর করাকালীন অবস্থায় ২৯ জিলকদ ১৩৮৪ হিজরী মোতাবেক ২ এপ্রিল ১৯৬৫ ইং এই মহামনীষী অল্প বয়সেই ইহধর্ম ত্যাগ করেন। তাঁর জীবন ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত অনুসরণের যথার্থ দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাঁকে শায়ানে শান জাযা দান করুন। আমিন।