Showing posts with label বাহাস ও কথোপকথন. Show all posts
Showing posts with label বাহাস ও কথোপকথন. Show all posts

Monday, July 3, 2017

লা মাজহাবী দুই বন্ধুর মাঝে কথোপকথন

লা মাজহাবী দুই বন্ধুর মাঝে কথোপকথন

১ম বন্ধুঃ দোস্ত তোর সাথে অতি পার্সনালী কথা আছে ।
.
২য় বন্ধুঃ হে বল দোস্ত ।
.
১ম বন্ধুঃ ইদানিং মাজহাবীদের বাটে ফেলতে গিয়ে নিজে বাটে পড়ে যাচ্ছি ।

২য় বন্ধুঃ কস কি ? আমাদের ইজতেহাদের লালবাতি জ্বালাবি নাকি ?তা কিভাবে বাটে পড়লি ? টের পাই নাই তো ? একটু খুলে বল কি হইছে ।।
.
১ম বন্ধুঃ আমরা ৪ইমামের তাকলিদ হারাম বলি ।কিন্তু আমরা ইজতেহাদের ক্ষেত্রে যে শায়েখ আলবানী ,শায়েখ মতিউর রহমান ,শায়েখ আব্দুল্লাহ আল কাফী ,ইমাম তাইম্যিয়া ,শায়েখ বিন বাজ ,উসাইমিন এদের তাকলিদ করি এটা মাজহাবীরা টের পেয়ে যাচ্ছে ।
.
২য় বন্ধুঃ আরে কস কি ?
মাজহাবীদের কাছে সব ফাঁস হয়ে গেছে নাকি?
.
১ম বন্ধুঃ আরে না।গতকাল এক মাজহাবীর সাথে বিতর্ক বেধেছিলো ।ওমা ,সে দেখি আমাদের শায়েখ আলবানী ,বিন বাজ ,উসাইমিন , ইবনে তাইমিয়া এদের চরম মতভেদের কথা খুলে খুলে আলোচনা করলো ।এক শায়েখ বলে হারাম আরেক জনে বলে জায়েয । আমি তাকে বলেছি ,আমরা কোনো শায়েখ বা ইমামের মত মানি না ।আমরা ডাইরেক্ট কোরআন হাদিস মানি ।এই কথা বলে কোনো রকম পালিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম ।
.
২য় বন্ধুঃ হাই হাই কি কস এগুলি ?পালাইতে পারলি না ? আমি হইলে তো নিজের একটা মতের উপর ফতুয়া দিয়ে পালাইতাম ।আচ্ছা তারপর কি হইছে ???
.
১ম বন্ধুঃ তারপর ঐ হানাফী আমারে বলে ,আপনি যেহেতু ইমামের মতও মানেন না ।তাহলে সহিহ ,জয়ীফ ,রহিত ,মানসুখের নির্ধারনের হ্মেত্রে ইমাম বুখারী ,ইমাম মুসলিম ,ইমাম তিরমীজি আরো ইত্যাদি মুহাদ্দিস ইমামকে তাকলিদ করে তাদের মতকে কেনো গ্রহন করেন ?
.
২য় বন্ধুঃ তুই কি উত্তর দিলি ?
(ভয়ে ভয়ে )
.
১ম বন্ধুঃ আমি ওকে দালাল ফতুয়া দিয়েছি ।আর কোনো ব্যক্তিকে তাকলিদ না করার উপদেশ দিয়ে পালিয়ে চলে এসেছি ।দোস্ত আমি এভাবে বাটে পড়বো ভাবতে পারি নাইরে দোস্ত।
.
২য় বন্ধুঃ যাক পালায় চলে এসেছিস এটা আল্লাহর রহমত ।
.
আসলে ওদের চুল পরিমান জ্ঞান নাই । বাদ দে ওদের কথা ।
.
১ম বন্ধুঃ আরে বাদ দিলে তো হবে না । সামনে যদি বিতর্ক বাধে ? আবার যদি বাটে পড়ি তখন ?
.
২য় বন্ধুঃ হুম । কথাটা মন্দ বলিস নাই । এক কাজ কর ।গোপনে আমাগো শায়েখদের কাছে ফোন করে পরামর্শ করিস ।
.
১ম বন্ধুঃ একেবারে ভেজালহীন কথা বলেছিস দোস্ত । আমি আজকেই ফোন করবো শায়েখের কাছে ।
.
২য় বন্ধুঃ শায়েখের পরামর্শটা আমারেও দিবি ।আমি যদি কখনো বাটে পড়ি কাজে লাগবে ।
.
১ম বন্ধুঃ আচ্ছা দোস্ত ।আজ আসি তাহলে ।
.
২য় বন্ধুঃ আচ্ছা ।

কেমন লাগলো জানাবেন?

Saturday, June 24, 2017

বাহাসের জন্য যাত্রাবাড়ীতে আসেনি আব্বাসী গ্রুপ উভয়পক্ষের ফেসবুক লাইভ

বাহাসের জন্য যাত্রাবাড়ীতে আসেনি আব্বাসী গ্রুপ উভয়পক্ষের ফেসবুক লাইভ

মিলাদ কিয়াম নিয়ে আলোচিত ২৫ মে’র বাহাস শেষ পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাপ্তি টেনেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষই দুটি স্থানে আলাদা আলাদা কনফারেন্স করেছে। ফলে দুই পক্ষ এক স্থানে না হওয়ায় বিষয়টি অমিমাসংসিত রেখেই শেষ করতে হলো।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মিলাদ কিয়ামের প্রথম পক্ষ মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর প্রস্তাবিত স্থান যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় জড়ো হন মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী ও তার লোকজন। কিন্তু এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও তার লোকজন এখানে না এসে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনে জড়ো হয়। সেখানে একটি গাছের নিচে বসে তারা ভিডিওর কনফারেন্স করেন।

সূত্র জানায়, পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় বাহাস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৩ মে রাতের বেলা মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী তার নারায়ণগঞ্জ অবস্থিত আব্বাসী মঞ্জিল থেকে ফেইসবুক লাইভে ঘোষণা দেন বাহাস হবে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের। হঠাৎ করে এই ঘোষণায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ২৪ মে বিকাল ৩.৪০ মিনিটে পাল্টা লাইভ প্রোগ্রাম করে মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী যাত্রাবাড়ীতেই বহস অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন এবং চুক্তি অনুযায়ী তাদের যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় আসতে বলেন। কিন্তু সেটা না শুনেই তারা তাদের ঘোষণা একতরফাভাবে বহাল রাখে।

যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় সরে জমিনে ঘুরে মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী, মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী ও আবদুস সবুর সুমনসহ বিভিন্ন মাদরাসা থেকে আসা উলামায়ে কেরাম ও অসংখ্য ছাত্র-উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ করা গেছে। আলেমগণ ফতোয়ার বিভিন্ন কিতাব নিয়ে উপস্থিত হন বাহাসের স্থানে। কিন্তু দুপুর ১২ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও তার অনুসারীদের কেউ এখানে আসেনি।

দিকে সকাল ৯ টায় আব্বাসী মঞ্জিল নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ করা হয়। সেখানে দেখা যায় এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীসহ অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনে একটি গাছের নিচে বসে আছেন। লাইভে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমরা কথা অনুযায়ী বাহাসের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে এসেছি। আশা করছি প্রতিপক্ষও এখানে আসবে এবং আমরা বিজয় অর্জন করবো।

তবে ওই ভিডিওর কমেন্টে অনেক মন্তব্যকারী যাত্রাবড়ীতে না গিয়ে এখানে কেন জিজ্ঞেস করলেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

পরে ১০ টার দিকে মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে সেখান থেকে চলে যান।

এদিকে সকাল ৯.৫৭ মিনিটে ফেইসবুক লাইভে মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী ও মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, আপনারা বলছেন যাত্রাবাড়ী শায়েখ বাহাসের জন্য অনুমতি দেননি তাহলে আমরা যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় এলাম কি করে? আমাদের উপস্থিতিই বড় প্রমাণ তিনি অনুমতি দিয়েছেন।

Friday, June 2, 2017

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বাহাসের নির্ধারিত স্থানে না আসায় চুক্তিনামা অনুযায়ী পরাজিত হয়েছেন

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বাহাসের নির্ধারিত স্থানে না আসায় চুক্তিনামা অনুযায়ী পরাজিত হয়েছেন

আজ দুপুর ২টায় ঢাকার রিপোটার্স ইউনিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহলে হক্ব ওলামায়ে কেরামের মুখপত্র শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতী, মারকাযুশ শায়েখ জাকারিয়া ঢাকার আল্লামা মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ ও মিরপুর আকবর কমপ্লেক্স মিরপুর ঢাকার মহাপরিচালক মুফতি দেলাওয়ার হোসেন।

সম্প্রতি এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর সাথে আহলে হক্ব ওলামায়ে কেরাম ঘোষিত বহসে আব্বাসী সাহেবের প্রতারণা ও নির্ধারিত স্থানে না এসে জাতির কাছে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে তারা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, আব্বাসী নামের এক ব্যক্তি যিনি জৌনপুরী পীর হওয়ার দাবি করেন- তিনি এদেশের আনাচে কানাচে এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজের মাঝে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে। যার প্রমাণ তার ফেইসবুকের বহু বক্তব্য ও বয়ান দেশের শীর্ষ আলেম ওলামাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করা, কথায় কথায় মানুষকে কাফির ফতোয়া দেয়াসহ বহু উদ্ভট বক্তবের মাধ্যমে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিগ্নিত করে জাতিকে অস্থির করে রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, এই আব্বাসী গংরা বিগত ২ মাস আগে ওলামায়ে হক্কানীর এক প্রতিনিধিকে প্রচলিত মিলাদ কিয়াম বিষয়ের উপরে বহস করার চেলেঞ্জ করেন। তখন উলামায়ে হক্বের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করে এই ফেৎনা নিরসন করার লক্ষে এগিয়ে আসা হয়।

আজ ২৫ মে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় ১ম পক্ষ বাহাসের আমন্ত্রনকারী এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর প্রস্তাবিত জায়গা যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় বহুল আলোচিত প্রচলিত মিলাদ কিয়াম বিষয়ক বাহাস অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। বাহাসের চ্যালেঞ্জগ্রহণকারী উলামায়ে হকের মুনাজিরগণ নির্দিষ্ট সময়েই যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় পৌঁছে যান। স্যোসাল মিডিয়ায় লাইভের মাধ্যমে তা সারা বিশ্ব প্রত্যক্ষ্য করেন। কিন্তু বাহাসের চ্যালেঞ্জকারী এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত না হওয়ায় বাহাসের চুক্তিনামা অনুপাতে পরাজিত ও পলায়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর আকবর কমপ্লেক্স এর প্রধান মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, এক তরফাভাবে বাহাসের চুক্তিনামা লংঘন করে দ্বিতীয় পক্ষকে অবগত না করে আব্বাসী তার ঘোষিত বাহাস স্থল রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনষ্টিটিউশন বাংলাদেশের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় তলার অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা তাদের একতরফা ঘোষিত স্থানে উপস্থিত না হয়ে তিনি ডাবল পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।

আরো জানা গেছে আব্বাসী ২৩ তারিখ রাত্রে অপর পক্ষের সাথে কোন আলোচনা ব্যতীত এক তরফাভাবে যে স্থান ঘোষণা করেছেন সে স্থানের অনুমতি না নিয়ে রাস্তায় তার সাঙ্গ-পাঙ্গ ও ভক্তদের নিয়ে কিছুক্ষন লাইভ বক্তব্য দিয়ে বাহাস আরম্ভের শুরুতেই পলায়ন করেছেন। তার এইসব ধোকা, মিথ্যাচার ও ডিগবাজীর নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। পুরো জাতির উদ্দেশ্যে তার ভন্ডামী, মিথ্যাচার ও ফিৎনা থেকে বেচে থাকার দেশবাসীকে বেচে থাকার জন্য আহবান করছি। এবং তার এই পলায়নের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে পুরো জাতিকে জানিয়ে দিচ্ছি।

সুতরাং ভবিষ্যতে এ ফিতনাবাজ কথিত জৈনপুরের পীর দাবিদার মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বাহাসের নামে চ্যালেঞ্জবাজী করলে তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সকল তৌহিদী জনতাকে আহবান করা হচ্ছে। সেই সাথে ধর্মের নামে তার সকল প্রোগ্রাম বয়কট করার জন্য দেশবাসীকে আহবান জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাহাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী মুফতি লুতফুর রহমান ফরায়েজী, পরিচালক, তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা, বগুড়া জামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী শফী কাসেমী, বাউনিবাদ মাদরাসা মিরপুর ঢাকার মুহতামিম মুফতী সামসুদ্দোহা আশরাফী, শরিয়া কাউন্সিলের প্রধান মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, আলহাজ আবদুর রহমান প্রমুখ।

Wednesday, May 24, 2017

বাহাস বাহাস বাহাস কৌশলে তুমি পালাবে না প্লিজ,পালাবে কেনো ভাই?

বাহাস বাহাস বাহাস কৌশলে তুমি পালাবে না প্লিজ,পালাবে কেনো ভাই?

বাহাস বাহাস বাহাস
কৌশলে তুমি পালাবে না প্লিজ,পালাবে কেনো ভাই?

ভাব তো দেখাতে এশকে নবীর নিয়েছ লিজ!

গলাবাজি গালাগালি
চ্যালেঞ্জে মাইক ফাটাও,
যুবারা গ্রহণ করলো চ্যালেঞ্জ
এবার কেনো পালাতে চাও!

হা হা হা, কী ভেবেছিলে
বলো তো সত্য করে?
তোমার ছলচাতুরিতে
ভক্তরা আজ লজ্জায় যায় মরে!

ভেবেছিলে কেউ আসবে না,
আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা?
উদারতায় আমরাই সেরা
তবে কাটতে পারি শত্রুরও মাথা।

অবশেষে পেয়েছ টের
সেজেছো বাইম মাছ?
এদিক ওদিক পালাতে চাও
নাই কি তোমার একটুও লাজ!

বাইতুল মোকাররম হয়ে যাত্রাবাড়ী
আর চলবে না কোন ছলচাতুরী
হুঙ্কার নয় সমাধান চাই
এসো ঐক্যের ঝাণ্ডা তুলি।

ঘরের কোণে প্রেস কনফারেন্স
দেখালে আজব খেলা
হা হা হা সুস্থ আছো কি?
এ তো দেখছি সব পাগলের মেলা!

প্রয়োজনে বসবো আব্বাসী মঞ্জিলে
রাজি আছো ওহে কিয়ামী বন্ধু?
এরপরেও করলে গড়িমসি
ভাববো-সুন্নি নও, তুমি ভণ্ড চান্দু।

শায়েখ হাসান জামীল (হাফিঃ)

Saturday, April 29, 2017

লা মাজহাবিদের বাহাসে পরাজয়-----!!

লা মাজহাবিদের বাহাসে পরাজয়-----!!

স্থান --
বরগুনা জেলার আমতলী থানা সদরের হোসাইনিয়া ফাজেল মাদরাসার হলরুম।

গতকাল রাতেই উলামায়ে দেওবন্দের পক্ষ থেকে ২৫ জন মুহাদ্দিস ও মুফতি আমতলী এসে পৌঁছেছেন। সাথে ছিল প্রায় পাঁচশত তাফসীর ও হাদীসের কিতাব।
সকাল দশটার মধ্যে আমরা বহসের স্থানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছি। বিপক্ষের লা-মাজহাবীরাও এসে হাজির হয়েছে।
বহসের বিচারক জনাব মুফতি গোলাম মাওলা কাসেমী সাহেবও যথাসময়ে এসে পৌঁছেছেন। সময়মত সভাপতি হিসেবে সম্মানিত মেয়র মহোদয় এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় সভাস্থলে আসলেন।

চুক্তিনায় শর্ত ছিল আমরা থাকব ২৫ জন, আর লা-মাজহাবীরাও থাকবে ২৫ জন। কিন্তু সভাপতি ও প্রধান অতিথি ঘোষণা করলেন উভয় পক্ষ থেকে থাকবে দশ দশ বিশজন। আমরা উভয় পক্ষ মেনে নিলাম।
আমাদের পক্ষের দশজন হলেনঃ
১। মুফতি আবদুল মান্নান সাহেব,
২। মুহাদ্দিস মোস্তফা মাহমুদ সাহেব,
৩। মুফতি সালাহুদ্দীন সাহেব,
৪। মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেব,
৫। মুফতি মুযযাম্মিল হুসাইন সাহেব,
৬। মুফতি মীযানুর রহমান সাহেব,
৭। মুফতি মুহিব্বুল্লাহ সাহেব,
৮। মাওলানা উমর ফারুক্ব সাহেব,
৯। মাওলানা শফিউল আলম সাহেব,
১০। মুফতি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

বেলা এগারটার পর বহস শুরু হয়। বহসের পাঁচটি আলোচ্য বিষয়ের প্রথমটি ছিল "শরীরের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পরলে অজু যাবে কিনা"। সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে প্রথমেই আমরা হানাফীদের দাবী অনুযায়ী অজু নষ্ট হওয়ার পক্ষে দলীল পেশ করি। পরে ওরাও দলীল দেয়। এক সময় সভাপতি মহোদয় এ বিষয়ে মুলতবি ঘোষণা করেন। পরবর্তী "তাকলীদে শখছী (মাজহাব মানা)" বিষয়ে প্রথমে উনারা কথা বলেন। এ বিষয়টা সমাপ্ত হবে হবে সময়ে জুহুর সালাতের আজান হয়ে যায়।
আমাদের পেশকৃত দলীলের সম্মুখে টিকতে না পেরে বিপক্ষের প্রধান ব্যক্তি তাকলীদে শখছী মেনে নেন। মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কিছু কথা বলেন। শেষে সভাপতি পৌর মেয়র সাহেব বিচারক মহোদয়ের রায় অনুযায়ী এক ও দুই নং বিষয়ে আমাদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
বাকী (১) নামাযে ইমামের পিছনে মুসুল্লীর সূরা ফাতিহা/ ক্বিরাত পড়া যাবে কি যাবেনা, (৩) ইল্লাল্লাহ জিকির জায়েয কিনা, (৫) মসজিদের সশব্দে জিকির করা জায়েয কিনা এই তিন বিষয়ের লিখিত দলীল সভাপতি সাহেব উভয়পক্ষকে জমা দিতে বলেন। আমরা হানাফীগণ প্রত্যেক বিষয়ে প্রায় ষাট-সত্তরটি করে দলীল-আদেল্লা তখনই বিচারকের নিকট জমা দিয়ে দিই। উনাদের কাছে লিখিত দলীল-পত্র না থাকায় সাতদিন সময় চেয়ে নেয়। সাতদিন পরে বা আরো পরে পাব চুরান্ত বিজয়।
আমরা সংঘটিত দুই বিষয়ে বিজয়ী হওয়ায় ছোট একটি মিছিল বের করি।
অনুষ্ঠানটি অডিও-ভিডিও করা হয়েছে। সময় সুযোগ করে ইন্টারনেটে আপলোড করব ইনশা আল্লাহ।
যারা দুয়া করেছেন, সহযোগীতা করেছেন, সহমর্ম প্রদর্শন করেছে তাদের সবাইকে জানাই বে-হিসাব মুবারকবাদ।

Mufti Habibullah Siraji ওয়াল থেকে Hafiz Khasru👌

Wednesday, April 26, 2017

বাহাসের ফলাফলঃ- ভক্তরা জানে না শায়েখের হালাত! তাই চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিপদে পড়ে যায়!

বাহাসের ফলাফলঃ- ভক্তরা জানে না শায়েখের হালাত! তাই চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিপদে পড়ে যায়!

অন্ধ ভক্তদের কাছে তাদের শায়েখেরা লৌহ মানব। এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পান না। দলীলের পাহাড়ের অধিকারী। একেকজন ভরা কলস। যেন সাক্ষাৎ পালোয়ান রুস্তম। বাকিরা সব খালি কলস। (ভরা ও খালি কলস শব্দটির উদ্ভাবনকারী শায়েখ কাজী ইব্রাহীম সাহেব)

কিন্তু বাস্তবতা শায়েখদের জানা।
আসলে কতটুকু দলীল-খুঁটির জোড় আছে? কতটা ষ্ট্রং দলীল? দুর্বল দলীলগুলো ধোপে টিকবে কি?
এসব কিছুই শায়েখদের বাগারম্বরতার যাঁতাকলে লুকিয়ে থাকে। ফলে আসল হাকীকত রয়ে যায় পর্দার আড়ালে। ভক্তদের চোখের অন্তরালে।
তাই তারা লাফান। ঝাড়ি দেন। চ্যালেঞ্জ করেন। কিন্তু আফসোস! যাদের ভরসায় গরম করে তুলেন এলাকা। সেই তাদের কাছে যেতেই তাদের আশার বেলুন ফুঁস করে যায় ফুটে। উড়ে যায় প্রত্যাশার ফুলানো বুকের বাতাসগুলো। চুপসে যায় মুখ। লজ্জায় অনেকেই ত্যাগ করেন বাচাল শায়েখদের সঙ্গ। তবে অনেকেই জেদের বশে আঁকড়ে থাকেন সেই অন্ধ ভক্তির যষ্ঠি।
ঘটনা মূলত এমনি। স্থান পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হয় সময়। বদলে যায় মানুষও। কিন্তু রয়ে যায় সেই পুরানো ইতিহাস। ভ্রান্ত দলের সেই পুরানো কাসুন্দি। সময় স্থানের বিবর্তনে পরিবর্তন হয় না। স্থানে-কালে-ভেদে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় স্থানে স্থানে।
আজও হল তা'ই।
আজকের স্থানটা কুমিল্লা সদরের ঝাউতলা মসজিদে আকসা।
অন্ধ ভক্তটার নাম জনাব নুরুল আমীন ভুঁইয়া এ্যাডভোকেট।
সমস্যা করছিলেন অনেক দিন থেকেই। মুসল্লিগণ বিরক্ত শায়েখ ভক্তটার আচরণে। এত জোরে আমীন বলেন যে, আশেপাশের মুসল্লিদের কান স্তব্ধ হবার জোগার।
এ কেমন আমীন হে? বলতে মনে চাইলে বল। পাশের জন শুনতে পায় এতটুকু জোরে বল। কিন্তু মুসল্লিদের নামাযে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এ কেমন আমীন? এ আমীন কোন কিতাবে লেখা আছে?
শুরু হল তর্ক। ভক্ত সাহেব গর্ব করে বললেনঃ হুম চ্যালেঞ্জ! আমাদের শায়েখ কাজী ইব্রাহীম সাহেবকে আনবো। বসার সাহস আছে আপনাদের?
মসজিদটির এক জুমআর খতীব কর্মঠ আলেমে দ্বীন মুফতী সামসুল হক জিলানী সাহেব রাজি হয়ে গেলেন প্রস্তাবে। ইচ্ছে ফিতনার সমাধান হোক।
যোগাযোগ করলেন বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন, প্রজ্ঞাবান মুহাদ্দিস মুফতী আমজাদ সাহেবের সাথে।
ফের তারিখ দিয়ে শায়েখ ভক্ত দু'টি ডেট ঘুরালেন। অবশেষে নিজেই বসার নিশ্চয়তার একজন কাগজ কম্পোজ করালেন। সমন্বয়কারী হিসেবে সাইন করলেন। প্রথম সমন্বয়ক হিসেবে মসজিদটির সহসভাপতির নাম লিখে তার কাছ থেকেও দস্তখত আনলেন।

আলোচকের নাম দিলেন-
*শা‌য়েখ কাজী ইব্রা‌হিম।
*মাওলানা স‌ফিউল্লাহ।
*অধ্যক্ষ মাওলানা আলমগীর।
আর বিষয়?
১ নামা‌যে আমীন জো‌রে না আস্তে বলা উত্তম?
২ তারাবীহ নামা‌যের রাকাত সংখ্যা কত?
৩ নামা‌যে কোথায় হাত বাঁধা উত্তম?
৪ মুসল্লী ইমা‌মের পিছ‌নে সূরা ফা‌তিহা না পড়‌লে তার নামায হ‌বে না?

দস্তখত করা উক্ত কাগজ পাঠিয়ে দিলেন মুফতী জিলানী সাহেবের কাছে।
ব্যস। এবার! এবারতো আর ডেট দিয়ে শায়েখদের না এনে কোন উপায় নেই। কথা হল, ২১শে এপ্রিল ২০১৭ ঈসাব্দ রোজ শুক্রবার শায়েখ কাজী ইব্রাহীম সাহেব কুমিল্লা আসবেন। জুমআ পড়াবেন এক মসজিদে। যে মসজিদে জুমআ পড়াবেন তার থেকে বেশি দূরে নয় ঝাউতলার আলোচ্য মসজিদে আকসা।
সুতরাং এবার কাজীকে আনা একদম সহজ। জুমআ পড়াতে আসলে এখানে আসতে  সমস্যা কোথায়?

অধমের সাথে যোগাযোগ করলেন মুখলিস আলেমে দ্বীন মুফতী জিলানী সাহেব। আমি বললামঃ হযরত এসব করে কোন লাভ নেই। আমি লিখে দিতে পারবোঃ কাজী ইব্রাহীম যদি জানে যে, বাহাস হবে, তাহলে সেদিন তিনি উক্ত মসজিদের আশেপাশে যাবার সাহসও করবে না। আমি এ শায়েখকে ভাল করেই চিনি। ভক্ততো আর জানে না শায়েখের প্রকৃত হালাত। তাই অহেতুক লাফাচ্ছে। ঢাকা থেকে কষ্ট করে আমার যাবার কোন দরকার নেই।

কিন্তু শুক্রবার সাড়ে এগারটার দিকে জিলানী সাহেব ফোন করে জানালেন ভক্ত এ্যাডভোকেট সাহেব বলেছেন কাজী ইব্রাহীম সাহেব কুমিল্লা এসে গেছেন। তিনি আসবেন বাহাসে। তাই আপনাকে আসতেই হবে।
বললামঃ কুমিল্লা আসলেও বাহাসে আসবে না। অহেতুক না যাই।
তবু হযরতের পীড়াপীড়িতে আসলাম।

কিন্তু কী হল? সেই একই ঘটনা। একই ইতিহাস। মসজিদ কমিটির স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি ও আগ্রহ দিলে প্রশান্তি দিল। কিন্তু শায়েখদের পুরানো আচরণ আর ভক্তদের অন্ধত্ব মনে কষ্টের খোঁচাও অনুভব করাল।

একটি ফায়দাঃ
মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলঃ যেহেতু তারিখ ও সময় নিজে নির্দিষ্ট করেও তাদের শায়েখ উপস্থিত করাতে পারেনি। এর মানে তাদের দালিলীক ভিত্তি দুর্বল। সুতরাং এখন থেকে উক্ত মসজিদে  জোরে আমীন বলাসহ লা-মাযহাবী সকল প্রকার আচরণ নিষিদ্ধ। কোন মুসল্লিই এমন আচরণ করতে পারবে না।
বন্ধ হল ফিতনার দুয়ার আলহামদুলিল্লাহ।

বিঃদ্রঃ
১
যাদের সন্দেহ আছে, তারা উক্ত মসজিদ পরিদর্শন করুন। বাস্তব পরিস্থিতি জানুন। যোগাযোগ করুন মসজিদ কমিটির সাথে।
কিন্তু যাচাই ছাড়া উক্ত সত্য ঘটনাকে নাটক, মিথ্যাচার ইত্যাদি বলে নিজের আমলনামায় গোনাহ লিপিবদ্ধ না করাতে অনুরোধ থাকবে।

মোহতারাম Lutfor Faraji সাহেবের টাইমলাইন থেকে,,,

Thursday, March 23, 2017

হায়াতুন্নবী সাঃ বিষয়ক বাহাসের সারসংক্ষেপ!! ৫ মে ২০১৫

হায়াতুন্নবী সাঃ বিষয়ক বাহাসের সারসংক্ষেপ!! ৫ মে ২০১৫

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

বাহাসের আলোচ্য বিষয়– আকিদায়ে হায়াতুন্নবী সাঃ।

আহলে হাদীস মুনাজির– শায়েখ আকরামুজ্জামান, শায়েখ মুখলেসুর রহমান, শায়েখ মুরাদ বিন আমজাদ।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মুনাজির– মাওলানা তাহমীদুল মাওলা, মাওলানা আবু হাসসান রাইয়্যান, মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী।

স্থান– শায়েখ আকরামুজ্জামান সাহেবের নিজের মাদরাসা, কাজিবাড়ি উত্তরা ঢাকা।

তারিখ-৪ই মে ২০১৫ ঈসাব্দ রোজ সোমবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা।

আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে আমরা শায়েখ আকরামুজ্জামান সাহেবের মাদরাসায় প্রবেশ করেই বাহাসে শরীক হলাম!

“কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা বিষ খেয়ে মরে যেতে রাজি কিন্তু আমাদের সাথে বসতে রাজি নয়” মর্মে ষ্ট্যাটাস দিলে অনেক কষ্ট পান হয়তো কতিপয় শায়েখগণ। সেই হিসেবেই হঠাৎ করে মেসেজে পেলাম শায়েখ আকরামুজ্জামান সাহেবের ছেলের। আামি কুৎসা রটাই, আমি দলীলের নামে গোঁজামিল দেই, আহলে হাদীস নামধারীদের বিরোধিতা করার জন্যই আমার জীবন উৎসর্গ করেছি ইত্যাদি আরো অনেকগুলো অপবাদ আমার উপর আরোপ করে বাহাস করার জন্য আমার কাছে জানতে জানতে চাওয়া হয়।

রাজি হয়ে যাই সানন্দে। তারিখ জানিয়ে দেই প্রথমে ২৮ তারপর ২৯ ই এপ্রিল।

প্রথমে যদিও আমাদের দেয়া তারিখেই বসার আহবান করা হয়ে থাকে, কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের তারিখে বসতে পারবেন না বলে ৪ ই মে তারিখে বসার কথা বলেন নিজের পক্ষ থেকে।

আমরা এতেও রাজি হয়ে গেলাম।

আমরা প্রস্তাব করলাম-

বিষয়বস্তুও আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি জানিয়ে দিচ্ছি।

ক) হায়াতুন্নবী সাঃ কে তালাক প্রদানকারী মুসলমান থাকে কি না?

খ) নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মাসআলায় আমাদের ও আকরামুজ্জামান সাহেবের মতামত ও আমল পূর্ণ উল্লেখ পূর্বক দলীল প্রমাণ পেশ করা হবে।

বাহাসে আহবানকারী পক্ষ শর্ত দেয়-

১। আপনার শর্তানুযায়ী, ২ জন ক্যামেরাম্যান, আপনি নিজে, ২ জন সহকারি মুনাজির, মোট ৫ জনের বেশি লোক সমগম করা যাবেনা।

২। শর্তানুযায়ী, আপনারা ভিডিও করতে পারবেন। তবে তা প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষের কোনো মুনাজিরের বক্তব্যকে বিন্দুমাত্র এডিট বা কাটছাট করে মূল বিষয়বস্তুর বিকৃতি সাধন করা যাবেনা। তাছাড়া এটা একজন মুমিনের আমানতদারিতরও প্রশ্ন, তবুও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

এরপর আহলে হাদীস ভাইয়েরা নতুন শর্ত জুড়েন-

আমরা ৫জন ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবো না। তারাও ৫জনের উর্দ্ধে থাকবে না।

আরো একটি শর্ত- বাহাস হবে তাদের নিজেদের মাদরাসায়। অন্য কোথাও নয়।

তারপর বিষয়বস্তু অনেক ও সময়সাপেক্ষ আলোচনার বিষয় হওয়াতে আমরা প্রস্তাব করলাম-

“বিষয় অধিক হওয়ায় একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে প্রথম বৈঠক তথা আগামী ৪ই মে ২০১৫ ইং তারিখের প্রথম আলোচনা হবে শুধু হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গে। হায়াতুন্নবী সাঃ কে তালাক প্রদানকারীর হুকুম কী?

তারপর পরবর্তী বৈঠক থেকে শুরু হবে নামাযের তাকবীরে তাহরীমা থেকে নিয়ে সালাম পর্যন্ত মাসআলা বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা। এক বৈঠক শেষে পরবর্তী বৈঠকের তারিখ ও বিষয় এবং সময় আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে।”

আমরা তাদের দেয়া সব শর্ত নির্দ্ধিধায় মেনে নিলেও তারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো মানতে অস্বিকৃতি জানান। যেমন তারপর জানানো হয়-

একাধিক বৈঠক হতে পারবে না। সব আলোচনাই একদিনে শেষ করতে হবে। [অথচ যা ছিল অসম্ভব]

নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও নিজেদের জায়গা হওয়া সত্বেও সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জুড়তে চাইলেন নতুন দু’টি শর্ত। যথা-

১) ভলান্টারিং এর জন্য থাকবে তাদের পক্ষ থেকে কয়েকজন।

২) একজন থাকবে সঞ্চালক।

তারপর কথিত আহলে হাদীসদের পক্ষ থেকে বাহাসের মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়-

১। কুর’আনের সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী দলিল গ্রহন।

২। সহিহ হাদিসের সঠিক নির্দেশনা ও বুঝ অনুযায়ী দলিল গ্রহন।

বাহাসের বিষয়াবলী আমরা যা নির্ধারণ করতে চাচ্ছি, তা আপনার দেয়া বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তা হল-

১। কুর’আন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকিদাহ।

২। সন্নাত ও বিদ’আত এর জ্ঞানের আলোকে ইসলামী আমল ইবাদত।”

আশা করি একজন সাধারণ বুদ্ধি বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তিই উপরোক্ত বক্তব্যগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন এসবের কোনটিই বাহাস অনুষ্ঠিত হবার প্রতি আগ্রহী শর্ত নয়। পরিস্কার ভাষায় দেখুন-

ক)

আমরা যাবো কেবলি ৫জন। আর তাদের নিজেদের স্থান ও ও মাদরাসা হওয়া সত্বেও ৫ জন ছাড়া বাড়বে আরো ভলান্টার, বাড়বে মাঝখানে তাদের নিজেদের মনমত একজন সঞ্চালক। যিনি ইচ্ছে করে বাহাসের মোড় ঘুড়ানোর অপচেষ্টা করবেন। [করেছেনও যা সামনে বলা হবে ইনশা্আল্লাহ]

খ)

কুরআনের সঠিক বুঝ অনুপাতে দলীল গ্রহণ আর হাদীসের সঠিক বুঝ অনুপাতে দলীল গ্রহণ। এটি একটি ধোঁয়াশা বক্তব্য। বুঝতো নেয়া হবে কুরআন ও হাদীস থেকে কিন্তু দলীলটা কোত্থেকে গ্রহণ করা হবে তা নির্ণয় করা নেই। দুই নাম্বার বিষয় হল এই বুঝের কথা বলা হচ্ছে এটা কার বুঝ? আমরা বলবো এটাই কুরআন থেকে বুঝ পাওয়া যায় তাই এভাবে দলীল হবে। তারা বলবে অন্যটা। এভাবে বুঝকে এক করা কিভাবে সম্ভব?

তাহলে এটি একটি ধোঁয়াশা শর্ত ছাড়া আর কী? এমন জখাখিচুরী শর্ত নিয়ে কি করে বাহাসে অংশগ্রহণ করা যায়?

গ)

কুরআন ও সহীহ সুন্নার আলোকে ইসলামী আকিদাহ। একটি ব্যাপক ও বিশাল আলোচ্য বিষয়। আরেকটি তথা সন্নাত ও বিদ’আত এর জ্ঞানের আলোকে ইসলামী আমল ইবাদত ও একটি বিশাল ও বিস্তর বিষয়।

যেকোন একজন সাধারণ মুসলমানও বুঝবেন এ শর্ত দিয়ে কেউ আলোচনায় বসা মানেই ধুম্রজাল সৃ্ষ্টি করা।

কারণ এত আম বিষয়ে কথা বলতে গেলে কোন বিষয় থেকে কোন বিষয়ে যাবে তার কোন ঠিকঠিকানা নেই। ইবাদতে আছে নামায রোজা, হজ্ব যাকাতসহ সহ অসংখ্য বিষয়। আকিদায়ও আছে অসংখ্য শাখাপ্রশাখা। তাহলে এরকম আম বিষয়কে বাহাসের বিষয়বস্তু নির্দিষ্ট করা মানে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা নয় কি? অপরপক্ষকে আপত্তি তুলে বাহাস থেকে অস্বিকৃতি জানাতে প্রলুব্ধ করা নয়কি?

কিন্তু মজার বিষয় হল। এসব শর্তগুলো যদিও আমাদের জন্য আত্মঘাতি ও বিপদজনক। তবু আমরা সহাস্য বদনে তা মেনে নিলাম। জানিয়ে দিলাম বিষয়বস্তু তথা কুরআন ও সহীহ সুন্নার আলোকে ইসলামী আকিদা। ইসলামী ইবাদত। তবে শর্ত হল প্রথমে আমরা প্রথমে আলোচনা করবো হায়াতুন্নবী বিষয়ে। তারপর বাকি আকিদার উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন তুললাম ভলান্টার ও সঞ্চালক নিয়ে। মাত্র তিনজন বাহাসকারীর জন্য কিসের ভলান্টার লাগবে? তিন তিন ছয়জনের আলোচনার মাঝে  কোন সঞ্চালকের প্রয়োজন নেই। যেহেতু ভিডিও হবে, সেই সাথে তা সরাসরি সম্প্রচার হবে। সেখানে অতিরিক্ত মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। যা হবার তাতো সবাই দেখতেই পাবে। তাই আহলে হাদীস নামধারী ভাইদের পক্ষ থেকে যতজন লোক থাকবে আমাদের পক্ষ থেকেও ততজন লোকই রাখতে হবে। তাই তাদের পক্ষ থেকে সঞ্চালক থাকলে আমাদের পক্ষ থেকেও সঞ্চালক থাকবে।

কিন্তু আমাদের এ শর্ত তারা মানতে অস্বিকৃতি জানান। ভলান্টারটি বাদ দিলেও সঞ্চালক রাখবেনই মর্মে সাফ জানিয়ে দেন।

তখন আমরা প্রস্তাব করলাম- আগে না বলা সত্বেও নতুন করে জোড়পূর্বক যদি আপনারা সঞ্চালক রাখার শর্ত করেই থাকেন, তাহলে আমাদের শর্ত হল আমরা মোট ৭ জন আসবো। আপনারাও সাতজন থাকবেন। এ সাতজনের মাঝে একজন সঞ্চালক ও একজন মুনাজির হবে।

কিন্তু আহলে হাদীস ভাইয়েরা তাদের মত একজন সঞ্চালক বাড়ানোর কথা মেনে নিলেও একজন মুনাজির বাড়ানোর আমাদের শর্তকে প্রত্যাখ্যান করে দেন। সেই সাথে পরিস্কার জানিয়ে দেন যে, যিনি সঞ্চালক হবেন, তিনি কোন কথা বলবেন না। তিনি শুধুই সময়কে মেন্টেন করবেন। সময় দেখা ছাড়া তার আর কোন ভূমিকা থাকবে না।

আমরা রাজি হয়ে গেলাম। আমরা  চাচ্ছিলাম যেকোনভাবে তাদের সাথে বসতে। এসব শর্ত ফর্তের ফাঁদে পড়ে বসাটা যেন বাদ কিছুতেই না যায়। তাই রাজি হয়ে গেলাম আমরা।

একথাগুলো হয় ১ তারিখ। আমাদের জানানো হয় পরদিন তথা ২ তারিখ সকাল আগারটা মাঝে আমাদের নিশ্চয়তা দেয়া হবে শর্তগুলো বিষয়ে।

কিন্তু পরদিন এগারটা বেজে গেলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি তাদের। তখন আমরা তাদের আবার নক করলাম। এখনো জানানো হচ্ছে না কেন?

জানানো হল জোহরের পর জানানো হবে। কিন্তু তখনো জানানো হয়নি। আবার নক করলাম। তখন বলা হলো আসরের পর তারা বসবেন তারপর জানানো হবে। কিন্তু মাগরিবের পর হবার পরও কোন কিছুই জানানো হয়নি।

বাধ্য হয়ে বাদ মাগরিব প্রায় এক ঘন্টা পর কল দিলাম। তখন তারা বলেন ঠিক আছে চুক্তিনামা পাঠিয়ে দিন। তবে আমাদের পক্ষ থেকে আরেকটি শর্ত দলীল হবে শুধুই কুরআন ও হাদীস। ইজমা ও কিয়াস দ্বারা দলীল দেয়া যাবে না।

আমরা বললাম- দেখুন যদি আপনারা ইজমা ও কিয়াসকে দলীল মানতে অস্বিকৃতি জানান, তাহলে আগে বাহাস হবার দরকার দলীল কয়টি? দু’টি না  চারটি? আমরা কিন্তু আপনাদের সাথে আলোচনায় বসতে চাই। এ কারণেই আপনাদের মাদরাসায় বলার পরও রাজি হয়েছি। মাত্র ছয়জন যেতে পারবো তা বলার পরও রাজি হয়েছি। একের পর এক শর্ত বাড়াচ্ছেন তবু রাজি হচ্ছি। এখন যদি নতুন করে শর্ত বাড়ান যে, দলীল দু’টি। তাহলে কিন্তু বিপদে আপনারাই পড়বেন। তখন কিন্তু আমরা আপনাদের ঊসুলে হাদীসের কোন পরিভাষা ব্যবহার করতে দিবো না, কারণ উসূলে হাদীসের পরিভাষা কোনটিই কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। এসবই মুহাদ্দিসদের কিয়াস্ ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। তখন আলোচনা হবে না বরং আপনারা প্রতিটি পদে পদে ধরা খাবেন।

তারপর আমরা জানালাম। ২০০৩ সালে আল্লামা আব্দুল মালিক সাহেব দা.বা. এর সাথে যখন আকরামুজ্জামান সাহেব বসেছিলেন তখন কিন্তু তিনি নিজেই তার প্রবন্ধে দলীল চারটি সাব্যস্ত করেছেন দু’টি নয়। সেই সাথে তার অনূদিত এবং ব্যাখ্যা করা বিতর্কিত বাংলা বুখারীতে তিনি দলীল হিসেবে চারটিকেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেখানে এখন কেন দু’টির কথা বলছে?

যাইহোক, অবশেষে কুরআন ও সুন্নাহের সেবক হিসেবে ইজমা ও কিয়াসকে দলীল মেনে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে মর্মে সম্মতি দান করা হয়।

আরো একটি মজার কথা হল, আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করলাম- আপনারাতো বিষয় দিলেন আকিদা ও ইবাদতের সব বিষয় নিয়ে কথা হবে তো এখনো এতে সম্মততো?

জবাব দেয়- একদিনে সব বিষয়ে কথা বলতে পারবেনতো?

আমরা জানালাম- আপনাদের মতামত কি?

বলে- একদিনে সব বিষয়ে কথা বলা যাবে না, তাই শুধু হায়াতুন্নবী বিষয়ে আলোচনা হবে কাল।

মনে মনে হাসি পেল। তাহলে আগে এরকম জগাখিচুরী মার্কা বিষয়বস্তু তাহলে কেন তারা দিয়েছিলেন? নিশ্চয় আমরা যাতে ভয় পেয়ে বাহাসে বসতে অস্বিকৃতি জানাই। কিন্তু বিষয়বস্তু জগাখিচুরী হলেও যখন আমরা রাজি হয়ে গেলাম, তখন নিজে নিজেই বিষয়বস্তু কমিয়ে একটিতে নিয়ে এল। হাস্যকর কাজকর্ম!

অবশেষে চলে এল ৪ তারিখ। আমরা তথা মাওলানা তাহমীদুল মাওলা এবং মাওলানা আবু হাসসান রাইয়্যান এবং আমি অধম উপস্থিত হলাম আকরামুজ্জামান সাহেবের মাদরাসায়।

বাহাস শুরু হতে হতে সময় লেগে গেল প্রায় এগারটা। তখন আকরামুজ্জামান সাহেব শর্ত জুড়ে দেন আলোচনা যোহরের আগেই শেষ করতে হবে। আমরা বলেছিলাম যোহরের পরও চলতে। কিন্তু আমাদের কথা মানা হয়নি।

যাইহোক, শুরুতেই শর্ত ভঙ্গ দিয়ে শুরু হয় বাহাস। কথা ছিল সঞ্চালক কোন কথা বলবেন না। তিনি শুধুই সময়কে নিয়ন্ত্রণ করবেন। কিন্তু আলোচনার শুরুতেই আহলে হাদীস ভাইদের সঞ্চালক মাওলানা সানাউল্লাহ নিজেই বাহাসকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নানাভিদ বিষয়ের অবতারণা করতে চান। যা ছিল খুবই দৃষ্টকটু। আমরা শর্তের কথা বলে তাকে থামিয়ে দেই। অবশেষে আবারো শর্ত ভঙ্গ করে সঞ্চালক সানাউল্লাহ সাহেব দীর্ঘ বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ যাবার পর তাকে শর্ত ভঙ্গ করছেন কেন? জানতে চাইলে তার কথা থামিয়ে বাহাস শুরু করেন। এভাবে পুরো বাহাস জুড়েই তিনি শর্ত ভঙ্গ করে বারবার কথা বলতে চেষ্টা করেছেন মুনাজিরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে।

প্রথমেই আমাদের পক্ষ থেকে মাওলানা তাহমীদুল মাওলা উপস্থাপন করেন হায়াতুননবী বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা। উপমহাদেশে একমাত্র আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সঠিক মতও পথের ধারক উলামায়ে দেওবন্দের প্রায় আটটি কিতাব দেখিয়ে তিনি জানান- আমাদের আকিদা হল- রাসূল সাঃ ইন্তেকাল করেছেন। আর মৃত্যুর পর তিনি বিশেষ হালাতে জীবিত। যা পরিস্কার হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তারপর তিনি এ বিষয়ে পরিস্কার সহীহ হাদীস পেশ করেন। সেই সাথে এর স্বপক্ষে ইবনে তাইমিয়া, আল্লামা সাখাবী, আলবানীসহ আরব শায়েখদেরও মত উল্লেখ করেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে আরো অনেক দলীল পেশ করতে পারেননি।

তারপর লা-মাযহাবীদের পক্ষ থেকে আকরামুজ্জামান সাহেব দাঁড়িয়ে জানিয়ে দেন। আপনাদের সাথে আমাদের প্রায় মিল আছে। একটু অংশ ছাড়া। সেটি হল কবরের জীবিত থাকার সাথে আপনারা বলেছেন কিছুটা মিল আছে। আমাদের মত হল কোন মিল নেই। আপনাদের প্রমাণ দেয়া নবীরা কবরে জীবিত তারা সেখানে নামায পড়ে মর্মের হাদীসটি সহীহ আমরাও মানি।আর কুরআনে এসেছে আপনি মৃতকে শুনাতে পারবেন না। তাই তারা শুনতে পায় না। তারা মৃত।

এরপর সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে আকরামুজ্জামান সাহেব ফাজায়েলে আমলসহ আমাদের আকাবীরদের কিতাবে বর্ণিত বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত কারামত সম্পর্কিত ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা হায়াতুন নবীর আকিদার কারণে হয়েছে। নবী জীবিত তাই তিনি যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান। ঘটনা শুনান সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ সালাম দিলে কবর থেকে সালামের জবাব আসার।

এরপর আমি অধম বললাম- তাহলে আপনি স্বীকার করে নিলেন নবীরা কবরে জীবিত। কিন্তু আমরা যে বললাম দুনিয়ার জীবনের সাথে কিছুটা মিল আছে সেটিকে অস্বিকার করলেন। অথচ হাদীসটি মানার পর একথা বলাটা আর যৌক্তিক থাকে না। কারণ হাদীসেই এসেছে তিনি সেখানে নামায পড়েন, আর এ নামাযটা দুনিয়ার কাজ। কুরআনে এসেছে শহীদগণকে রিজিক দেয়া হয়, সেই হিসেবে নবীগণও এ মর্যাদা প্রাপ্য। তাহলে কুরআন্ ও হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক আছে। রিজিক খাওয়া, নামায পড়া এসব কি দুনিয়ার কর্ম নয়? তাহলে কোন সম্পর্ক নয় একথা বলা কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে?

আর আপনি রাসূল সাঃ  বিষয়ে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলেন। এসবতো কারামতের ঘটনা। এসবের সাথে হায়াতুন্নবী আকিদার কী সম্পর্ক? আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত মত হল ওলীদের কারামত সত্য। এসব কারামত হয়েছে নবীগণ কবরে জীবিত থাকার করণে এটি একটি অযৌক্তিক কথা। হায়াতুন্নবী আকিদার সাথে কারামতের ঘটনাকে ঘুলিয়ে ফেলা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় ছাড়া আর কিছু নয়। দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এক করার কোন সুযোগ নেই।

শেষ দিকে বললেন- কবরে থাকা ব্যক্তি শুনে না। কারণ আল্লাহ নবীকে বলেছেন আপনি মৃতকে শুনাতে পারবেন না। এ আয়াত দ্বারা আপনি বলতে চাচ্ছেন তাই মৃত শুনে না। এটিও অযৌক্তিক কথা। আমাদের আপনারা আজ নাস্তা করাতে পারেননি, তাই বলে কি আমরা নাস্তা খাইনি? আমাদের কাঁধের দুই ফেরেশতাকে আমরা কথা শুনাতে পারি না। তাই বলে কি তারা শুনে না?

আর আপনি পুরো আয়াত কেন দেখেননি? আয়াতেতো কাফেরদের সম্পর্কে এ তাশবীহ দেয়া হয়েছে। যাদের নবী শুনাতে পারেন না। এর মানে কাফেররা শুনে না? যদি না’ই শুনে তাহলে তারা কাফের হল কিভাবে? ঈমানের দাওয়াত না শুনলে কোন ব্যক্তি কাফির হতে পারে? তাহলে শুনাতে পারবেন না মর্মের বক্তব্য নির্ভর আয়াত দিয়ে কবরে থাকা ব্যক্তি শুনে না দাবি করা দলীলহীন বক্তব্য নয়কি?

আবার আসলেন শায়খ আকরামুজ্জামান সেই পুরনো বুলি নিয়ে। আবারো কারামতের ঘটনা উদ্ধৃত করে ধুম্রজাল সৃষ্টি করতে চাইলেন।

তারপর আমাদের পক্ষ থেকে মাওলানা তাহমীদুল মাওলা সাহেব দাড়িয়ে বললেন- আমরা আমাদের আকাবীরদের কিতাব থেকে তাদের আকিদা পরিস্কার ভাষায় উল্লেখ করে দিয়েছি। সেখানে আপনি তাদের কিতাবে বর্ণিত ঘটনা উল্লেখ করে আপনার মনমত একটি আকিদা দাঁড় করাতে চাচ্ছেন। আকিদা বিষয়ে পরিস্কার বক্তব্য থাকার পর কিতাবে বর্ণিত ঘটনার কারণে কারো আকিদা প্রমাণিত হলে আমি আপনাকে এরকম একই ঘটনা আমি ইবনে তাইমিয়া, শায়েখ উসাইমিন, ইবনুল কাইয়্যুম রহঃ এর কিতাব থেকে দেখাতে পারবো। যা হুবহু ফাযায়েলে আমলের ঘটনার মতই। তাহলে যে ঘটনার কারণে আমাদের আকাবীরদের বাতিল আকিদা আপনি বলতে চান, ঠিক একই আকিদা আপনাদের কাছে মান্যবর ব্যক্তিদের কিতাব থেকেও আমি দেখাতে পারবো। আসলে এটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ই নয়। শুধু ঘটনা দিয়ে কারো আকিদা প্রমাণিত হয় না। বিষয় হল নবীগণ কবরে জীবিত কি না? আপনি পরিস্কার ভাষায় আমাদের দলীল দেয়া হাদীসটি মেনে নিয়েছেন যেখানে বলা হয়েছে নবীগণ কবরে জীবিত তারা সেখানে নামায পড়েন। আর একই কথা বলেছেন শায়েখ ইবনে তাইমিয়াসহ প্রায় সকল মুহাক্কিক আলেমগণ। সেখানে কবরে জিন্দা নবীকে তালাক প্রদান এবং তাদের মহা শয়তান বলে ইবনে তাইমিয়াসহ আরো কাদেরকে আপনার শয়তান বলছেন তা খেয়াল আছে কি?

আরেকটি বিষয়- আপনি বলেছেন মৃত ব্যক্তি শুনে না। অথচ হাদীসে এসেছে নবীদের কাছে সালাম পৌছানো হয়। আর কাছে গিয়ে সালাম দিলে তারা শুনতে পান। হাদীসের রেফারেন্স ও কিতাব দেখিয়ে মাওলানা তাহমীদুল মাওলা তা উপস্থাপন করেন।

এবার আকরামুজ্জামান সাহেব সালাম দিলে শুনতে পান মর্মের হাদীসটিকে জাল বলে আখ্যায়িত করলেন। আর জীবিত আছে ঠিক আছে। কিন্তু তাদের জিন্দা নবী বলতে হবে একথা কোথায় আছে মর্মে প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

কিন্তু মজার বিষয় হল তাহমীদুল মাওলা সাহেব যখন বলে দেন, আপনি যে সনদকে জাল বলছেন সেই সনদকে জাল বলছেন সেটিকে ইবনে তাইমিয়া কোন সমস্যা নেই বলেছেন। অথচ তার কাছে আমাদের দলীল দেয়া সনদটি ছিল না। আর আমরা যে সনদটির কথা বলেছি সেটিকে আল্লামা সাখাবী, ইবনে হাজার আসকালানী জায়্যিদ বলে মন্তব্য করেছেন। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি আমাদের দেয়া সনদকে কিছুতেই আপনি জঈফ বা জাল প্রমাণ করতে পারবেন না।

একথা শুনে শায়েখ মুখলেসুর রহমান সাহেব আকরামুজ্জামান সাহেবের জাল বলা হাদীসটিকে সঠিক বলে মেনে নেন।

মুরাদ বিন আমজাদ সাহেব পরিস্কার ভাষায় বলে দেন, আসলে মহা শয়তান বলে আমরা আপনাদের উদ্দেশ্য নেইনি। এর দ্বারা আসলে আমাদের বেরেলবী বিদআতিরা উদ্দেশ্য। উলামায়ে দেওবন্দ নয়। আর আমরাও ভুল করেছি। ভুল হওয়া স্বাভাবিক।

অবশেষে মাওলানা তাহমীদুল মাওলা বলেন- আমরা মুরাদ বিন আমজাদকে ধন্যবাদ জানাই তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য। আর আকরামুজ্জামান সাহেব নিজেই শর্ত দিয়েছিলেন সালাফের বুঝ অনুপাতে কুরআন ও হাদীসের দলীল দিতে হবে। তো সেই হিসেবে আমরা ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যুমের বক্তব্য নকল করেছিলাম, কিন্তু তিনি কি করে ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যুমকে মানেন না বলে জানালেন?

আর তিনি আরেকটি কথা বলেছেন নবী কবরে জীবিত ঠিক আছে, কিন্তু তাকে জিন্দা বলতে হবে একথা কোথায় আছে? আমরা বলি একথা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে জিন্দা তাকে জিন্দা বলতে। যেমন কুরআনে এসেছে যাদের কতল করা হয়েছে তাদের তোমরা মৃত বলো না। তাদের বল তারা জীবিত। যেখানে আল্লাহ যিনি জীবিত তাকে জিন্দা বলতে বলেছেন, সেখানে জিন্দা বলা যাবে না জিন্দা বলা নাজায়েজ একথা তিনি কিভাবে বলেন?

আর কবরে  জীবিত ও নামায পড়ার বিষয়টি মানার পর জিন্দা বলা ও হায়াতুন্নবী শব্দের ক্ষেত্রে আপত্তির কোন কারণ আমরাদের বুঝে আসছে না।

এর কোন জবাব আকরামুজ্জামান প্রদান করতে পারেননি। সালাফদের কথা অনুপাতে কুরআন ও হাদীস মানার দাবি শর্তে উল্লেখ করার পরও “সালাফদের মানেন না” কি হিসেবে বললেন তা’ও তিনি পরিস্কার করতে পারেননি।

আর আমাদের আকাবীরদের কিতাবে বর্ণিত ঘটনা নিয়ে আপনাদের আপত্তির হুবহু আপত্তিকর কথা ও ঘটনা ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যুম ইবনে উসাইমিন এর গ্রন্থাবলীতে আছে। আপনারা চাইলে অন্য  কোন মজলিসে আপনাদের সাথে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি আছি।

এভাবেই শেষ হয় ৪ই মে ২০১৫ ইং ঈসাব্দের বাহাসটি। যার বিস্তারিত ভিডিও অচিরেই আপলোড হবে আহলে হক মিডিয়ার ওয়েব সাইটে ইনশাআল্লাহ।

এভাবে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আমরা আরো বসতে চাই। প্রতিটি মতভেদপূর্ণ বিষয়কে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।

কালেক্ট_আহলে_হক_মেডিয়া