Showing posts with label সিরাতুন্নাবী ও সুন্নাতে রাসূল (ﷺ). Show all posts
Showing posts with label সিরাতুন্নাবী ও সুন্নাতে রাসূল (ﷺ). Show all posts

Sunday, February 9, 2020

কয়টা বিয়েতে রাসূল  ﷺ সুন্নাত আছে ??

কয়টা বিয়েতে রাসূল ﷺ সুন্নাত আছে ??


- ৫লাখ ১০লাখ টাকা দেনমোহর কি রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ?
- ১০০-২০০ আত্মীয় ভোজন কি রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ?
- গায়ে হলুদ, বৌভাত কি রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ?
- সরকারি চাকরিজীবী দেখে মেয়ে বিয়ে দেওয়া কি রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ?
- জমজমাট ডেকোরেশন, লাইটিং, গান বাদ্য কি রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ?
-যৌতুক আদান-প্রদান কি রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ?

অনেক ছেলেরা যৌতুকে ১০০% ছাড় দিলেও মেয়ে পক্ষের লোকেরা উচ্চ দেনমোহর থেকে কোনোক্রমেই ছাড় দিতে চাই না।
তারা বুঝতেই চাই না যে এটা একটা ঋণ।

আপনি যদি বিয়ের সময়ই একটা ছেলে কে ঋণগ্রস্ত করে দেন, তাহলে সে কি ঋণ পরিশোধ করবে, নাকি সংসার চালাবে??

যেই সম্পর্কের শুরু হয় যদি, আল্লাহর এতগুলো নাফরমানী দিয়ে
সেই সম্পর্ক বরকতময় হবে কিভাবে ???
সংগৃহীত

Monday, July 10, 2017

এই হাদীসের কথাগুলো রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যান্ত ব্যাথাভরা হৃদয়ে বলেছেন

এই হাদীসের কথাগুলো রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যান্ত ব্যাথাভরা হৃদয়ে বলেছেন

মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ
.
এ হল সে সব (হাদীস), যা আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। এরপর সেগুলি থেকে তিনি কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেন। একটি হল যে,
.
"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার অবস্হা সে ব্যক্তির অবস্হার ন্যায় যে আগুনে প্রজ্জ্বলিত করল, যখন তাতে তার চতূষ্পার্শ আলোকিত হচ্ছেন, তখন পতঙ্গ ও সেসব প্রানী যা আগুন পড়ে থাকে, তাতে পড়তে লাগল আর সে ব্যক্তি সেগুলোকে বাধা দিতে লাগল। কিন্তু তারা তাকে হারিয়ে দিতে তাতে ঢুকে পড়তে লাগল।
.
তিনি বললেন, এটাই হল তোমাদের অবস্হা আর আমার অবস্হা। আমি আগুন থেকে রক্ষার জন্য তোমাদের কোমরবন্ধগুলি ধরে রাখি ও বলি, আগুন থেকে দুরে থাক, আগুন থেকে দুরে থাক। আর তোমরা আমাকে হারিয়ে দিয়ে তার মাঝে ঢুকে পড়ছো।" -(মুসলিমঃ ৫৭৫৮)
.
আজ মানুষ গুনাহ থেকে ফিরতেই চায় না। জেনেবুঝে হাসি - ঠাট্টার ছলেও গুনাহ করে। আল্লাহ্ মাফ করুন কিছু গুনাহ আছে মানুষ করে সাময়িক তৃপ্ত হয় যেমন নেশা করা, জিনা করা, গীবত করা এগুলো করে কিছুটা সময় মজা পায়, একটু তৃপ্ত হয়। কিন্তু এমনও গুনাহ মানুষ করে যাতে কোন মজাও পায়না আবার সাজাও বহু। যেমন ফরজ তরখ করা, পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরা।
.
অথচ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ফরজ। তা যত ক্ষুদ্র গুনাহই হোক না কেন।
.
"সেই ব্যাক্তি যে আল্লাহ্কে হারালো, সে কি পেল?"
.
"আর সেই ব্যাক্তি যে আল্লাহ্কে পেল, সে কি হারালো?"
.
আমাদের রব্ব বলেনঃ

ﻳَﺎ ﺃَﻳَّﺘُﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﻔْﺲُ ﺍﻟْﻤُﻄْﻤَﺌِﻨَّﺔُ(০) ﺍﺭْﺟِﻌِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚِ ﺭَﺍﺿِﻴَﺔً ﻣَّﺮْﺿِﻴَّﺔً(০) ﻓَﺎﺩْﺧُﻠِﻲ ﻓِﻲ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ(০) ﻭَﺍﺩْﺧُﻠِﻲ ﺟَﻨَّﺘِﻲ(০)

"হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে এসো। সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার নেকবান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।" -(সুরা আল ফাজর,২৭-৩০)
*
এখনও সময় আছে তওবা করি হতে পারে আজকের রাতটাই আমাদের জীবনের শেষ রাত। আল্লাহ্ খালেস তওবা নসীব করুন। আমিন।।

Saturday, June 24, 2017

কেমন ছিলেন দেখতে আমার রাসূল (ﷺ)

কেমন ছিলেন দেখতে আমার রাসূল (ﷺ)

উম্মে মা-বাদ নামে একজন বৃদ্ধ মহিলার ঘরের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছালেন রাসূল (ﷺ) আর সাহাবীরা মদিনা সফরের সময়। তিনি ছিলেন খুবই দানশীল। রাসূল  (ﷺ) তার কাছে এসে বললেন আপনার কাছে খাবার কিছু আছে, তিনি বললেন: আমার কাছে যদি কিছু থাকতো তাহলে তোমাকে জিজ্ঞেস করতে হতোনা। রাসূল (ﷺ) বললেন: আপনার ঘরের কোনায় একটা ভেড়া দেখতে পাচ্ছি। বৃদ্ধা বললেন: খুবই দুর্বল সে, দুধ দিতে পারবে না। রাসূল (ﷺ) হেসে বললেন: আমাকে অনুমতি দেন। ছোট খাটো না বিশাল একটা বালতি নিয়ে রাসূল (ﷺ) ভেঁড়িটির দুধ দোহাতে লাগলেন আর আশ্চর্য ভাবে, দুধ বালতির কানাই কানাই পূর্ণ হলো। তিনি মহিলাটিকে দুধ পান করলেন, তারপর সাহাবীদের এবং সব শেষে নিজে পান করলেন। বৃদ্ধার স্বামী ফিরে এসে বললেন এতো দুধ কোত্থেকে? বৃদ্ধা বললেন: আজকে এক অলৌকিক মানব ঘরে এসেছেন। বৃদ্ধার স্বামী বললেন, উনার আকৃতি আমাকে বলো। উম্মে মা-বাদের এই আকৃতি সবচেয়ে সঠিক আর সমাদৃত; এতো সুন্দর করে কেউ কোনোদিন মহানবীর (ﷺ) শারীরিক ঘটনার বর্ণনা দিতে পারেনি। যদিও তিনি মাত্র একবার আমার নবীকে দেখেছিলেন।
- পোশাকে আষাকে খুবই পরিছন্ন, তার চেহারা ছিল উজ্জ্বল, মুখ লম্বাটে, গোলগাল হালকা-পাতলা চেহারা, কোনো মেদ বা ভুঁড়ি ছিলোনা, আকারে মধ্যম, চোখ ছিল ডাগর ডাগর; চোখের মনি খুবই কালো আর বড়, চোখের সাদা অংশ খুবই সাদা, সুরমায় পরিপূর্ণ, কণ্ঠ ছিল তীক্ষ্ণ, পলক ছিল লম্বা লম্বা, ঘন ব্রু, দুই ব্রু নির্দিষ্ট দুরুত্বে আর এর মাঝখানে কোন লোম ছিল না, মাথার চুল ছিল খুবই কালো আর ঘাড় পর্যন্ত লম্বা, সামান্য কোঁকড়ানো-বাবরি, তার গায়ের রঙ দুধে-আলতায় মিশ্রিত গোলাপের মতো, ঘন দাড়ি, মুখগহবর প্রশস্ত, ঘাড় যেন রৌপ্যপাত্রে রক্তঢালা, সুঠাম দেহ, হাত-পায়ের আঙুলগুলো শক্তিশালী ও মজবুত, তিনি অনেক মানুষের ভিড়ে ছিলেন কিন্তু সবার চাইতে (সাহাবী) তিনি ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর, কথাবার্তা খুবই বুদ্ধিসম্পন্ন আর প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এই কথা শুনে বৃদ্ধার স্বামী বললো, ইনি রাসূল (ﷺ) ছাড়া আর কেউ হতে পারেন না, যার পিছনে মক্কার পৌত্তলিকরা লেগেছেন, আমি যদি তাকে খুঁজে পাই তাহলে তার বায়াত গ্রহণ করবো। পরে,এই দম্পতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
- হজরত জাবের (রা) বলেন, একবার আমি চাঁদনি রাতে নবী (ﷺ) কে দেখলাম। মুরুভুমির বুকে চাঁদের চাইতে সুন্দর কিছু আছে কি? হঠাৎ আমার মনে হলো দেখি কে বেশি সুন্দর!! রাসূল (ﷺ) তখন আমার কিছু দুরুত্বে অবস্থান করছিলেন,তখন আমি
- একবার রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে তাকালাম আর একবার চাঁদের দিকে।
- একবার রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে তাকালাম আর একবার চাঁদের দিকে।
- একবার রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে তাকালাম আর একবার চাঁদের দিকে।
- আল্লাহর কসম তাকে আমার কাছে চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর মনে হলো। কল্পনাতীত সুন্দর ছিলেন আমার নবী (ﷺ) তার চাইতেও বেশি ছিল তার আব্রু, হায়া, ওয়াকার আর লজ্জা তিনি রূপ সৌন্দর্য্য দেখিয়ে বেড়াতেন না, লজ্জার দিকের থেকে তিনি ছিলেন হজরত ইউসুফ (আ) এর চাইতে উত্তম।  যে কেউ তাকে প্রথম দর্শনে হতভম্ব হয়ে পড়ত এবং একথা বলতে বাধ্য হতো জীবনে এমন সুন্দর মানুষ দ্বিতীয়জন দেখিনি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্বপ্নে হলেও নবী (ﷺ) কে দেখার সৌভাগ্য নসিব করুন

Wednesday, May 31, 2017

🌈প্রিয় নবী (সা.) এর কিছুচারিত্রিক গুণাবলী

🌈প্রিয় নবী (সা.) এর কিছুচারিত্রিক গুণাবলী

১. কেউ কথা বলতে বসলে সে ব্যক্তি উঠা না পর্যন্ত তিনি উঠতেন না।
২. লৌকিকতার প্রয়োজনেও ছোট প্লেটে খাবার খেতেন না।
৩. সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকতেন।
৪. অধিকাংশ সময়ই নিরব থাকতেন।
৫. বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না।
৬. কথা বলার সময় সুস্পষ্টভাবে বলতেন যাতে শ্রবনকারী সহজেই বুঝে নিতে পারে।
৭. বক্তব্য দীর্ঘস্হায়ী করতেন না যাতে শ্রোতারা বিরক্ত হয়ে যায়। এবং এত সংক্ষিপ্ত করতেন না যাতে কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
৮. কথা, কাজে ও লেন-দেনে কঠোরতা অবলম্বন করতেন না।
৯. নম্রতাকে পছন্দ করতেন।
১০. তার নিকট আগত ব্যক্তিদের অবহেলা করতেন না।
১১. কারো সাথে বিঘ্নতা সৃষ্টি করতেন না।
১২. শরীয়ত বিরোধী কথা হলে তা থেকে বিরত রাখতেন বা সেখান থেকে উঠে যেতেন।
১৩. আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি নিয়ামতকে কদর করতেন।
১৪. খাদ্য দ্রব্যের দোষ ধরতেন না। মন চাইলে খেতেন না হয় বাদ দিতেন।
১৫. ক্ষমাকে পছন্দ করতেন।
১৬. যে কোন প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতেন, যাতে প্রশ্নকারী সে ব্যাপারে পরিপূর্ণ অবহিত হয়।
১৭. সর্বদা ধৈর্য্য ধরতেন।
১৮. হাতে যা আসত তা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিতেন।
.
রাসুল (সা.) এর গুণাবলী বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাসূল (সা.) এর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার তাওফীক দান করুন
___________________অামিন

Monday, May 22, 2017

ঘুমানোর সুন্নাত সমূহ

ঘুমানোর সুন্নাত সমূহ


الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد:
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মৃত্যু বরণের পূর্বেই কুরআন ও হাদীছের মাধ্যমে এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন।
আল্লাহ্ বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الْإِسْلَامَ دِينًا
“আজকের দিনে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের উপর আমার নেয়ামতকে পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদাঃ ৩)
সুতরাং পবিত্র কুরআন ও রাসূলের সুন্নাতই হচ্ছে ইসলামী শরীয়তের ভিত্তিমূল। আল্লাহর বাণী পবিত্র কুরআন যেমন অহী তেমনি তাঁর রাসূলের হাদীছ অন্য এক প্রকার অহী। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের খেয়াল-খুশী মত কোন কথাই বলতেন না।
আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى
“এবং তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তা (কুরআন) অহী ছাড়া অন্য কিছু নয়, যা প্রত্যাদেশ হয়। (সূরা নাজমঃ ৩-৪)
সুতরাং অনুসরণের দিক থেকে হাদীছ কুরআনের মতই। হাদীছ ব্যতীত কোন মুসলিমের পক্ষে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। তাই মহান আল্লাহ্ কুরআনের অনেক স্থানেই রাসূলের অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন।
মানব জীবনের ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ ও অনুসরণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তাই আমরা যাদি সকলেই সকল কাজে রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ইহকাল ও পরকালে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
হে নবী! আপনি বলুন, “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। যাতে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ তাআলা হলেন ক্ষমাশীল, অতিদয়ালু। [সুরা আল ইমরান : ৩১]
ফায়দা : উল্লেখিত আয়াত থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুসরণের দ্বারা দু’টি লাভ, একটি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন অপরটি গুনাহ মাফ হওয়া।
তাহলে আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ আর অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহকে পেলাম এবং আমাদের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারলাম।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-
হে নবী! আপনি বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। তারপরও যদি তোমার মুখ ফিরিয়ে নাও, তার ন্যাস্ত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং  তোমাদের  উপর ন্যাস্ত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তার অনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রাসূলের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্ট রুপে পৌঁছে দেওয়া। [সূরা নুর : ৫৪]
ফায়দা : উল্লেখিত আয়াত থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ অনুসরণের মাঝে হেদায়েত নিহিত রয়েছে। যে যত বেশি সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করবে, যে তত বেশি হেদায়েত পাবে।
তাই আমরা কাফির, মুশরিক, অমুসলিমদের অনুসরণ ছেড়ে বিশ্ব নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ ও অনুসরণ করি, তাহলে আমরা হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারব এবং আমাদের জীবন সুন্দর হবে। আর আল্লাহর রহমতও বেশি পাব।
১. ইশার নামাযের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চেষ্টা করা, যাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠা সহজ হয়।
(বুখারী, হাঃ নং ৫৪৭)
বি.দ্র. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমীন, চৌকি, কাপড়ের বিছানা, চাটাই, চামড়ার বিছানা ইত্যাদির উপর শয়ন করেছেন বলে হাদীসে বর্ণিত আছে।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২০৬৯/ শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২২)
২. উযু করে শয়ন করা।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩১১)
৩. শোয়ার পূর্বে বিছানা ভালভাবে ঝেড়ে নেয়া।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩২০)
৪. শয়নের পূর্বে পরিহিত কাপড় পরিবর্তন করে ঘুমের কাপড় পরিধান করা।
(আল মাদখাল, ৩ : ১৬২)
৫. শয়নের পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে নিম্নে বর্ণিত কাজগুলো করা : ১. দরজা বন্ধ করা। ২. মশক বা পানির পাত্র এবং খাদ্য দ্রব্যের পাত্র ও অন্যান্য পাত্রসমূহ ঢেকে রাখা। যদি ঢাকার জন্য কোন বস্তু না পাওয়া যায়, তাহলে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে তার মুখে একটি লাটি বা ছড়ি রেখ দেয়া, ৩. বাতি নিভানো।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৬২৩-২৪)
৬. ঘুমানোর পূর্বে উভয় চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানা।
(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৮২৪৯)
৭. ঘুমানোর পূর্বে কিছু পরিমাণ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা। যথা : আলহামদু শরীফ, সূরা কাফিরূন, আয়াতুল কুরসী, আমানার রসূল থেকে সূরা বাক্বারার শেষ পর্যন্ত, সূরা মুলক, আলিফ লাম মীম সিজদাহ ইত্যাদি তিলাওয়াত করা বেশি পড়া সম্ভব না হলে কমপক্ষে ছোট ২/ ৩ টি সূরা পড়ে নেয়া।
(তাবারানী কাবীর হাঃ নং-২১৯৫) (আল আদাবুল মুফরাদ, হাঃ নং ১২০৯/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৩২৭৫)
৮. ঘুমানোর পূর্বে কয়েকবার দরূদ শরীফ পাঠ করা এবং তাসবীহে ফাতেমী অর্থাত ৩৩ বার সূবাহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৩১১৩)
৯. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস প্রত্যেকটা তিনবার করে পড়ে হাতে দম করে যতটুকু সম্ভব মাথা হতে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে হাত মুছে দেয়া। তিনবার এরূপ করা।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫০১৭)
১০. ঘুমানোর সময় ডান কাতে কিবলামুখী হয়ে শোয়া সুন্নাত। উপুড় হয়ে শয়ন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এভাবে শয়ন করাকে আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩১৪/ সহীহ ইবনে হিব্বান হাঃ নং ৫৫৪৯)
১১. শয়ন করে এ দু‘আ পড়া :
باسمك ربى وضعت جنبى وبك ارفعه، ان امسكت نفسى فارحمها وان ارسلتها فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين
(বুখারী শরীপ, হাঃ নং ৬৩২০)
১২. ঘুমানোর পূর্বে তিনবার এই ইস্তিগফার পড়া :
استغفر الله الذى لا اله الا هو الحى القيوم واتوب اليه
(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৩৯৭)
১৩. এই দু‘আটিও পড়া :
اللهم باسمك اموت واحيى
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩১৪)
১৪. সর্বশেষে এ দু‘আটি পড়া :
اللهم اسلمت وجهى اليك وفوضت امرى اليك والجأت ظهرى اليك رغبة ورهبة اليك لاملجأ ولا منجا منك الا اليك- اللهم امنت بكتابك الذى انزلت وبنبيك الذى ارسلت-
(বুখারী, হাঃ নং- ২৪৭)
১৫. শয়ন করার পর ভয়ে ঘুম না আসলে এই দু‘আ পড়া :
اعوذ بكلمات الله التامة من غضبه وعقابه وشرعباده ومن همزات الشياطين وان يحضرون-
(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৫২৮)
১৬. স্বপ্নে ভয়ংকর কিছু দেখে চক্ষু খুলে গেলে তিনবার
اعوذ بالله من الشيطان الرجيم
পড়ে বাঁ দিকে থু-থু ফেলে পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া। তাতে ক্ষতির আর কোন আশংকা থাকে না এবং এ দু‘আটি পড়া :
اللهم انى اعوذبك من شر هذه الرؤيا-
(মুসলিম, হাঃ নং ২২৬২)
১৭. সুযোগ হলে দুপুরে খানার পর কিছুক্ষণ কাইলূল্লাহ করা অর্থাত শয়ন করা। চাই ঘুম আসুক বা না আসুক।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৩৯)
ঘুম থেকে উঠার সুন্নাতসমূহ
১. ঘুম থেকে উঠেই উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল এবং চক্ষুদ্বয়কে হালকাভাবে মর্দন করা, যাতে ঘুমের ভাব দূর হয়ে যায়।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৮৩)
২. ঘুম হতে উঠার পর এই দু‘আ পড়া :
الحمد لله الذى احيانا بعد ما اماتنا واليه النشور
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩২৪)
৩. যখনই ঘুম হতে উঠা হয়, তখনই মিসওয়াক করা একটা সুন্নাত। উযু করার সময় উযুর সুন্নাত হিসেবে মিসওয়াক করা।
(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৫/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উক্ত সুন্নাত সমূহের উপর আমল করার তৌফিক দান করেন। #আমীন

Saturday, May 13, 2017

খাওয়ার পর বরতন ধুয়ে খাওয়া কি সুন্নত?

খাওয়ার পর বরতন ধুয়ে খাওয়া কি সুন্নত?

কেউ কেউ মনে করে যে, খাওয়ার পর বরতন ধোয়া পানি পান করা সুন্নত। এই ধারণা সঠিক নয়। হাদীস ও সুন্নাহর কিতাবে এমন কোনো সুন্নতের কথা নেই। সুন্নত হল, খাওয়ার পর হাত, হাতের আঙ্গুল চেটে খাওয়া এবং বরতন ভালোভাবে মুছে খাওয়া। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে আঙ্গুল ও বরতন ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়ার আদেশ করেছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২০২২)
সুতরাং আঙ্গুল ও প্লেট ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া সুন্নত, ধুয়ে পানি পান করা সুন্নত নয়। তবে সুন্নত ও     মুস্তাহাব মনে না করে কেউ যদি প্লেট ধুয়ে পানি পান করে তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই; বরং তা মুবাহ। কিন্তু একে সুন্নত বলা সঠিক নয়।
খ) খাওয়ার পর মুখমন্ডলে ও পায়ের তালুতে হাত মোছা কি সুন্নত?
কোনো মজলিসে দেখলাম, এক ব্যক্তি খাবারের পর অতি গুরুত্বের সাথে পায়ের তালুতে হাত মুছলেন এবং সঙ্গীকেও সুন্নত বলে এতে উৎসাহিত করলেন।
আসলে এটিও সুন্নত নয়। একে সুন্নত বলা ভুল; বরং চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে হাত সাবান বা গরম পানি দ্বারা উত্তমভাবে পরিষ্কার করে রুমাল বা তোয়ালে জাতীয় কিছুতে মুছে নেওয়া উচিত। হাদীসে আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন আহার করে, তখন সে যেন আঙ্গুল চেটে খাওয়ার আগে রুমালে হাত না মোছে। (মুসনাদে আহমদ ১/৩৪৬, হাদীস : ৩২৩৪)
যাই হোক, খাওয়ার পর পায়ের তালুতে হাত মোছা বা বরতন ধুয়ে পানি পান করা না-জায়েয নয়, কিন্তু একে সুন্নত বলা ভুল। কোনো কাজ বৈধ হওয়া আর সুন্নত হওয়া এক কথা নয়।

Thursday, March 23, 2017

ইস্তিঞ্জার সুন্নাত সমূহ (নবীজীর সুন্নাত পর্ব-০১)

ইস্তিঞ্জার সুন্নাত সমূহ (নবীজীর সুন্নাত পর্ব-০১)

১. মাথা ঢেকে রাখা। (বাইহাকী শরীফ, হাঃ নং ৪৫৬)
২. জুতা-সেন্ডেল পরিধান করে যাওয়া।  (তাবাকাতে ইবনে সাআদ’, ১৮৫/ কানযুল উম্মাল, হাঃ নং-১৭৮৭২)
৩. পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে এই দু‘আ পড়া :  بسم الله اللهم انى اعوذبك من الخبث والخبائث  (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৫)
৪. দু‘আ পড়ার পর আগে বাম পা ঢুকানো।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)
৫. কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে না বসা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৪৪)
৬. যথাসম্ভব বসার নিকটবর্তী হয়ে ছতর খোলা এবং বসা অবস্থায় পেশাব ও পায়খানা করা, দাঁড়িয়ে পেশাব না করা।   (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ২৯/ তিরমিযী শরীফ, হাঃ নং ১৪)
৭. পেশাব ও নাপাক পানির ছিঁটা হতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২১৮)
৮. পানি খরচ করার পূর্বে ঢিলা-কুলুখ (বা টয়লেট পেপার) ব্যবহার করা।  (বাইহাকী, হাঃ নং ৫১৭)
৯. ঢিলা ও পানি খরচ করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৪)
১০. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়ার জন্য আড়ালে সামান্য চলাফেরা করা। (ইবনে মাজাহ শরীফ, হাঃ নং ৩২৬)
১১. যেখানে পেশাব ও পায়খানার জন্য নির্ধারিত কোন জায়গা নেই, সেখানে এমনভাবে বসা যেন ছতর নজরে না পড়ে। (আবু দাউদ হাঃ নং ২)
১২. পেশাবের জন্য নরম বা এমন স্থান তালাশ করা যেখান থেকে পেশাবের ছিঁটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩)
১৩. ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা।   (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ নং ৮৩)
১৪. ডান পা দিয়ে বের হওয়া।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)
১৫. বাইরে এসে এই দু‘আ পড়া :  غفرانك الحمد لله الذى اذهب عنى الاذى وعافانى  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩০ : ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩০১) (চলবে ইনশাআল্লাহ)

Tuesday, February 28, 2017

স্মৃতি শক্তি বাড়াতে মহানবী (ﷺ) ৯টি কাজ করতে বলেছেন

স্মৃতি শক্তি বাড়াতে মহানবী (ﷺ) ৯টি কাজ করতে বলেছেন

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের কোন কিছু মনে থাকে না। আবার এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা কোন কিছু খুব বেশি দিন মনে রাখতে পারেন না। এমন সমস্যা মূলত দূর্বল স্মৃতিশক্তির কারণে হয়ে থাকে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)
৯টি কাজ করতে বলেছেন। সেগুলো হলো-
১, ইখলাস বা আন্তরিকতাঃ যে কোনো কাজে সফলতা অর্জনের ভিত্তি হচ্ছে ইখলাস বা আন্তরিকতা। আর ইখলাসের মূল উপাদান হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। নিয়তের বিশুদ্ধতার গুরুত্ব সম্পর্কে উস্তাদ খুররাম মুরাদ বলেন, “উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে।” এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।” [সূরা আল-বায়্যিনাহঃ ৫] তাই আমাদের নিয়ত হতে হবে এমন যে, আল্লাহ আমাদের স্মৃতিশক্তি যেনো একমাত্র ইসলামের কল্যাণের জন্যই বাড়িয়ে দেন।
২. দু’আ ও যিকর করাঃ আমরা সকলেই জানি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দু’আ করা যাতে তিনি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মোক্ত দু’আটি পাঠ করতে পারি, “হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১১৪] তাছাড়া যিকর বা আল্লাহর স্মরণও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “…যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন…” [সূরা আল-কাহ্ফঃ ২৪] তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা।
৩. পাপ থেকে দূরে থাকাঃ প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হচ্ছে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। পাপের অন্ধকার ও জ্ঞানের আলো কখনো একসাথে থাকতে পারে না। ইমাম আশ-শাফি’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “আমি (আমার শাইখ) ওয়াকীকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। তিনি বলেন, আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোন পাপচারীকে দান করা হয় না।”
আল-খাতীব আল-জামী'(২/৩৮৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেনঃ
“এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হে আবদ-আল্লাহ, আমার স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে দিতে পারে এমন কোন কিছু কি আছে? তিনি বলেন, যদি কোন কিছু স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে তা হলো পাপ করা ছেড়ে দেয়া।’”
যখন কোনো মানুষ পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। সে তার কৃতকর্মের ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে তার অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায় এবং জ্ঞান অর্জনের মতো কল্যাণকর ‘আমল থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই আমাদের উচিত পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
৪. বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করাঃ একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখবো যে, আমাদের সকলের মুখস্থ করার পদ্ধতি এক নয়। কারো শুয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কারো আবার হেঁটে হেঁটে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়। কেউ নীরবে পড়তে ভালোবাসে, কেউবা আবার আওয়াজ করে পড়ে। কারো ক্ষেত্রে ভোরে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কেউবা আবার গভীর রাতে ভালো মুখস্থ করতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা। আর কুর’আন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুর’আনের আরবি কপি) ব্যবহার করা। কারণ বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে যায় এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে যায়।
৫. মুখস্থকৃত বিষয়ের উপর ‘আমল করাঃ আমরা সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো একটি বিষয় যতো বেশিবার পড়া হয় তা আমাদের মস্তিষ্কে ততো দৃঢ়ভাবে জমা হয়। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে অতো বেশি পড়ার সময় হয়তো অনেকেরই নেই। তবে চাইলেই কিন্তু আমরা এক ঢিলে দু’পাখি মারতে পারি। আমরা আমাদের মুখস্থকৃত সূরা কিংবা সূরার অংশ বিশেষ সুন্নাহ ও নফল সালাতে তিলাওয়াত করতে পারি এবং দু’আসমূহ পাঠ করতে পারি সালাতের পর কিংবা অন্য যেকোনো সময়। এতে একদিকে ‘আমল করা হবে আর অন্যদিকে হবে মুখস্থকৃত বিষয়টির ঝালাইয়ের কাজ। আবার কোনো কিছু শেখার একটি উত্তম উপায় হলো তা অন্যকে শেখানো। আর এজন্য আমাদেরকে একই বিষয় বারবার ও বিভিন্ন উৎস থেকে পড়তে হয়। এতে করে ঐ বিষয়টি আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।
৬. মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাদ্য গ্রহণঃ পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ আমাদের মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য একান্ত আবশ্যক। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ আমাদের ঘুম বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের অলস করে তোলে। ফলে আমরা জ্ঞানার্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়ি। তাছাড়া কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। সম্প্রতি ফ্রান্সের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যয়তুনের তেল চাক্ষুস স্মৃতি (visual memory) ও বাচনিক সাবলীলতা (verbal fluency) বৃদ্ধি করে। আর যেসব খাদ্যে অধিক পরিমাণে Omega-3 ফ্যাট রয়েছে সেসব খাদ্য স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপের জন্য খুবই উপকারী। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য অনেক ‘আলিম কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণের কথা বলেছেন। ইমাম আয-যুহরি বলেন, “তোমাদের মধু পান করা উচিত কারণ এটি স্মৃতির জন্য উপকারী।”
মধুতে রয়েছে মুক্ত চিনিকোষ যা আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া মধু পান করার সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তে মিশে গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। ইমাম আয-যুহরি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীস মুখস্থ করতে চায় তার উচিত কিসমিস খাওয়া।”
৭. পরিমিত পরিমাণে বিশ্রাম নেয়াঃ আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ব্যস্ত অফিসের মতো কাজ করে। এটি তখন সারাদিনের সংগৃহীত তথ্যসমূহ প্রক্রিয়াজাত করে। তাছাড়া ঘুম মস্তিষ্ক কোষের পুণর্গঠন ও ক্লান্তি দূর করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দুপুরে সামান্য ভাতঘুম আমাদের মন-মেজাজ ও অনুভূতিকে চাঙা রাখে। এটি একটি সুন্নাহও বটে। আর অতিরিক্ত ঘুমের কুফল সম্পর্কে তো আগেই বলা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাওয়াহ বিতরণ না করে নিজের মস্তিষ্ককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া।
৮. জীবনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারসমূহ ত্যাগ করাঃ বর্তমানে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া ও জ্ঞান অর্জনে অনীহার একটি অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেদেরকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখি। ফলে কোনো কাজই আমরা গভীর মনোযোগের সাথে করতে পারি না। মাঝে মাঝে আমাদের কারো কারো অবস্থা তো এমন হয় যে, সালাতের কিছু অংশ আদায় করার পর মনে করতে পারি না ঠিক কতোটুকু সালাত আমরা আদায় করেছি। আর এমনটি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে নিজেদেরকে আড্ডাবাজি, গান-বাজনা শোনা, মুভি দেখা, ফেইসবুকিং ইত্যাদি নানা অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখা। তাই আমাদের উচিত এগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা।
৯. হাল না ছাড়াঃ যে কোনো কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হাল না ছাড়া। যে কোনো কিছু মুখস্থ করার ক্ষেত্রে শুরুটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়। তাই আমাদের উচিত শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে হাল না ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

Saturday, February 25, 2017

আল্লাহ্'র কাছে এমন একটি দৃশ্য খুবই ভাল লেগেছিল!

আল্লাহ্'র কাছে এমন একটি দৃশ্য খুবই ভাল লেগেছিল!

রাসূল (সাঃ) একদিন মসজিদ-ই-নববী'তে আসরের নামাজ পড়াচ্ছিলেন। তিনি যখন সেজদায় গেলেন, হঠাৎই হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) নানাজীর পিঠের উপর উঠে বসে পড়লেন।
ইমাম হাসান (রাঃ) ও হোসাইন (রাঃ)-কে নবীজী খুবই মহব্বত করতেন। তাঁদের মনে কেউ কষ্ট দিলে তা রাসূলের অন্তরে বিদ্ধ হত।
তিনি হোসাইন (রাঃ) পিঠ থেকে ফেলতেও পারছেন না; নাতিও পিঠ থেকে নামছেন না। এদিকে সেজদাও প্রলম্বিত হচ্ছে।
শেষে তিনি যখন উঠার মনস্থ করলেন; তখনই জিব্রাইল (আঃ) হাজির হলেন। বললেন, রাসূল (সাঃ) আপনি সেজদা থেকে মাথা উঠাবেন না।
দৃশ্যটি আল্লাহর খুব পছন্দ হয়েছে।
আল্লাহ্ আরশে আজীমে ফেরস্তারাসহ দৃশ্যটা দেখছেন।
সুবহানআল্লাহ,আল্লাহুয়াকবার।

Wednesday, February 15, 2017

হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কে হত্যা করা হয়েছে!!!

হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কে হত্যা করা হয়েছে!!!

খুবই গুরুত্বপুর্ন লেখা আশা করি মনযোগ সহকারে পড়বেন সম্পুর্ন লেখাটা পড়বেন শেষ হওয়া অবধি এবং সাথে সাথে প্রত্যেকটা তথ্য ও রেফারেন্স হাদীসগুলো থেকে মিলিয়ে নিবেন ।
কোরআনে সূরা আলে ইমরান - ১৪৪ নং আয়াত থেকে,
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْقَبْلِهِ الرُّسُلُ ۚ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَىٰ
أَعْقَابِكُمْ ۚ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَشَيْئًا ۗ وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ
And Muhammad is no more thana messenger; the messengers have already passed away before him; if then hedies or is killed will you turn back upon your heels? And whoever turns backupon his heels, he will by no means do harm to Allah in the least and Allahwill reward the grateful.
"--- আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয় ! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন । তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন , তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে ? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে , তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না । আর যারা কৃতজ্ঞ , আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন ---" ।
উপরের আয়াতে এই কথার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে , রাসুল (সাঃ) এর স্বাভাবিক মৃত্যু হয় নি বরঞ্চ তাঁকে হত্যা (শহীদ) করা হয়েছে । কারন أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ ,أَو এর মানে ‘ অথবা ’ ও হয় আবার ‘ বরঞ্চ ’ হিসাবে ধরা যায় ।
এখানে যে ভাবে বলা হচ্ছে তাতে দুটো মানে নেওয়া যেতে পারে । সুতরাং এটার মানে দাঁড়াল যে
“ যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন বরঞ্চ কতল করা হয়।
নবী (সাঃ) কে শহীদ করা হয়েছ এটা আরও ভালো ভাবে বোঝা যায় যখন আমরা দেখি যে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলছেন যে ,
عَنْ عَبدِ اللَّهِ قَالَ لَأَنْ أَحْلِفَ تِسْعًا أَنَّ رَسُولَاللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ قَتْلًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ وَاحِدَةً أَنَّهُلَمْ يُقْتَلْ وَذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ جَعَلَهُ نَبِيًّا وَاتَّخَذَهُ شَهِيدًا
“ আমি ন’বার কসম খেতে পারি যে, নবিকে হত্যা করা হয়েছে , কিন্ত একবারও কসম খাব না যে তাঁকে (কতল) করা হয়নি । আল্লাহ তাঁকে নবী ও শহীদ করেছেন ”।
-মুসনাদ এ আহমাদ ইবনে হাম্বাল ।
-- মুসত্রাদক‘আলা সাহিহাইন তাহাকিক যাহাবিঃ বুখারি ও মুসলিমের standard এর হাদিস।
-- মজমাউজ জওাদ, বর্ণনা কারিগন সব সিকাহ ( বিশস্ত)।
-- কানজোলউম্মাল, তারিখ এ ঈসলাম,যাহাবি। তারিখ এ দামিস্ক, ইবনে আসাকির।
--আল বেদায়া ওরনেহায়া, ইবনে কাসির।
আরও অনেক হাদিসের বই এ ।
সুতরাং একথা বোঝা যাছে যে , নবী পাক (সাঃ) কে হত্যা করা হয়েছে । এটা আহলে সুন্নাও মনে করে ।
এখন প্রশ্ন থাকে যে, কে বা কারা কিভাবে নবী (সাঃ) কে হত্যা করেছে ?
আহলে সুন্নাতাঁদের চিন্তা ধার অনুসারে বলে যে , যয়নব বিনতে হারিস একজন ইহুদি মহিলা , যার ভাই মরহাবকে ইমাম আলি হত্যা করে ছিলেন । খাইবারে যুদ্ধের পরে ঐ হিহুদী মহিলা বিষ খাবারে বিষ দিয়েছিল , সেই বিষক্রিয়াতে পাক নবী (সাঃ) মারা যান ।
সংক্ষিপ্ত ঘটনা -
খাইবার যুদ্ধে ইহুদিদের পরাজয়ের পরে যখন নবী পাক (সাঃ) ঐখানে অবস্থান করছিলেন তখন যয়নব বিনতে হারিস নামে এক ইহুদি মহিলা রসুল (সাঃ) কে দাওয়াত করে বিষ মেশানো বকরি রান্না করে দেন , যাতে মুহাম্মাদ (সাঃ) কে পরীক্ষা করা যায় যে , তিনি একজন আল্লাহ প্রেরিত সত্যিকারের রাসুল ।
হাদিস আর ইসলামের ইতিহাসের কিতাব থেকে আমরা এই বিষয় তিন ধরনের বর্ণনা পাই-
এখানে আমি সহীহ বুখারি ও মুসলিম থেকে একটা একটা করে হাদিস উল্লেখ করছি -
১) রাসুল (সাঃ) রান্না করা উক্ত গোস্ত খান এবং বুঝতে পারেন যে , এতে বিষ মেশানো আছে । এবং ইহুদি মহিলাটাকে হত্যা করা হয়নি ।
সহিহ বুখারি হাদিস নং - ২৪৪১
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহাব (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে , তিনি বলেন , জনৈক ইয়াহূদী মহিলা নবী (সাঃ) এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এলো । সেখান থেকে কিছু অংশ তিনি (সাঃ) খেলেন এবং খাওয়ার পরে বিষক্রিয়া টের পেয়ে মহিলাকে হাজির করা হল । তখন বলা হল , আপনি কি এই মহিলাকে হত্যার আদেশ দিবেন না ?
তিনি (সাঃ) বললেন , না ।
আনাস (রাঃ) বলেন নবী (সাঃ) এর (মুখ গহবরের) তালুতে আমি বরাবরই বিষ ক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম ।
২) রাসুলের (সাঃ) ও একজন সাহাবী ঐ গোস্ত খেলেন আর ঐ সাহাবী মারা গেলেন।
রাসুল (সাঃ) বুঝতে পারলেন যে , খাবারে বিষ দেওয়া আছে । ইহুদি মহিলাকে হত্যা করা হয় ।
সহিহ বুখারি - হাদিস নং - ৩৯২৫
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে , যখন খায়বার বিজয় হয়ে গেল তখন ইহুদীদের পক্ষ থেকে রান্না করা একটি বকরী রাসূল (সাঃ) কে হাদিয়া হিসাবে দেওয়া হয় । সেই রান্না করা বকরীটিতে বিষ মেশানো ছিল ।
খায়বার যুদ্ধে যখন ইহুদীদের জন্য মুসলমানদের আনুগত্য স্বীকার ব্যতীত অন্য কোন পথ বাকী রইল না তখন তারা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ।
ইহুদী হারিসের কন্যা ও সালাম ইবনু মুশফিমের স্ত্রী যয়নাব একটি বকরীর গোশতে বিষ মিশিয়ে তা রাসূল (সাঃ) এর জন্য হাদিয়া হিসাবে পাঠাল ।
রাসূল (সাঃ) বকরীটির গোশত খেলেও বিষ তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারে নি বটে , কিন্ত তাঁর সাহাবী বার আ ইবনু মা’রূর (রাঃ) বিষক্রিয়ার ফলে শহীদ হন ।
ষড়যন্ত্রকারী মহিলা ধরা পড়ার পর প্রথমে তাকে মাফ করে দেওয়া হয়েছিল , কিন্ত পরবর্তীতে যখন বারাআ (রাঃ) মারা গেলেন তখন ‘ কিসাস ’ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয় ।
৩) রাসুল (সাঃ) খাওয়ার আগেই ইহুদি মহিলাকে ডেকে পাঠান ও সরাসরই বলে দেন যে , এতে বিষ মেশান আছে ।
সহিহ বুখারি - হাদিস নং - ৫৩৬২
কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত ।
তিনি বলেন , খায়বার যখন বিজয় হয় , তখন রাসুলুল্লাহ ( সাঃ) এর নিকট হাদীয়া স্বরুপ একটি ভুনা বকরী প্রেরিত হয় । এর মধ্যে ছিল বিষ ।
তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন যে , এখানে যত ইয়াহুদী আছে আমার কাছে তাদের জমায়েত কর । তার কাছে সবাইকে জমায়েত করা হলে । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের সন্মোধন করে বললেন , আমি তোমাদের নিকট একটি বিষয়ে জানতে চাই , তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে ?
তারা বলল , হ্যা , হে আবূল কাসিম ।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন , তোমাদের পিতা কে ?
তারা বলল , আমাদের পিতা অমুক ।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন , তোমরা মিথ্যে বলেছ বরং তোমাদের পিতা অমুক ।
তারা বলল , আপনি সত্য ও সঠিক বলেছেন ।
এরপর তিনি (সাঃ) বললেন , আমি যদি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি , তা হলে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমাকে সত্য কথা বলবে ?
তারা বলল , হে আবূল কাসিম , যদি আমরা মিথ্যে বলি তবে তো আপনি আমাদের মিথ্যা জেনে ফেলবেন , যেমনিভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে ।
তখন তিনি (সাঃ) বললেন , তোমরা কি এ বকরীর মধ্যে বিষ মিশ্রিত করেছ ?
তারা বলল , হ্যা ।
তিনি (সাঃ) বললেন , কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্ভুদ্ধ করেছে ?
তারা বলল , আমরা চেয়েছি !যদি আপনি নবুওয়াতের দাবীতে মিথ্যাবাদী হন , তবে আমরা আপনার থেকে মুক্তি পেয়ে যাব । আর যদি আপনি সত্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হন , তবে এ বিষ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না ।
বিঃদ্রঃ - উপরে একই ঘটনার সহিহ হাদিসের তিন রূপ দেওয়া হল --
এই বিষয় আরও কিছু জানা যায় যে , ইহুদি মহিলা পরবর্তীতে মুসলিম হয়ে গিয়েছিল ।
যাইহোক , খাইবারের যুদ্ধ ৬য় হিজরিতে হয়েছিল আর রাসুল (সাঃ) ১০ ম হিজরিতে মারা যান ।
এ কথা বোধগম্যের বাইরে যে , বিষ পানের ৪ বছর পর কি ভাবে একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে !
ধরে নিলাম যে , রাসুল (সাঃ) ঐ গোস্ত খেয়েছিলেন ।
ঐ ইহুদিদের কথা অনুযায়ী ওরা বিষ দিয়েছিল রাসুল (সাঃ) এর থেকে তাৎক্ষনিক ভাবে মুক্তি পাওয়ার জন্য ।
অথচ এটাও দেখা যাচ্ছে যে , রাসুল (সঃ) আদৌও ঐ গোস্ত খান নি ।
এখন এই প্রশ্নও উঠতে পারে যে , ঐ ইহুদি মহিলা বিষ দিয়ে ছিল আর এটাপরীক্ষা কারার জন্য যে , তিনি প্রকৃত নবী কিনা ।
এখন যদি রাসুল পাকের (সাঃ) উপর বিষক্রিয়া হয় বা অন্য একজন সাহাবা মারা যাওয়ার পর বোঝা যায়ে যে , বিষ আছে । তবে তো ঐ মহিলার পরীক্ষাতে রসুল (সাঃ) পাস করতে পারলেন না ।
আর ঐ মহিলা মুসলিম বা হবেন কেন ?
এখন দেখা যাক ,
রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যুর সময়কার কিছু হাদিস ।
যেখানে বলা হচ্ছে যে , নবী (সাঃ) যখন অসুস্থ ছিলেন , সেই সময় তিনি (সাঃ) ঘুমাচ্ছিলেন । তখন হযরত আয়শা নবী (সাঃ) এর মুখে কিছু দ্রব্য ঢুকিয়ে দেন । তখন রাসুল (সাঃ) কড়া ভাবে আয়শাকে বলেছিলেন যে , এভাবে তাঁর মুখে যেন কিছু না দেওয়া হয় ।
সূত্র -  সহিহ আল বুখারি , আধুনিক প্রকাশনী -ঢাকা , বাংলাদেশ
৫২৯৪ - ইবনে আব্বাস ও আয়শা থেকে বর্ণিত ।
নবী (সাঃ) ইন্তেকাল করলে হযরত আবু বকর নবী (সাঃ) কে চুমু দিলেন । হযরত আয়েশা (রাঃ) আরও বলেন , নবীজী (সাঃ) এর অসূখের সময় আমরা তার মুখে কিছু ঢেলে দিলাম ।  তখন তিনি রাসুল (সাঃ) আমাদের ইশারা দিতে থাকলেন যে , তোমরা আমায় মুখে কিছু ঢেল না । আমরা মনে করলাম , এটা ঔষধের প্রতি একজন রোগীর অরুচির প্রকাশ মাত্র । এরপর তিনি যখন সুস্থবোধ করলেন তখন বললেন , আমি কি তোমাদের আমার মুখে কিছু ঢালতে নিষেধ করি নি ? আমরা বললাম , আমরাতো ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারন অনীহা মনে করেছিলাম । তখন তিনি রাসুল (সাঃ) বললেন , আমি এখন যাদের এ ঘরে দেখতে পাচ্ছি তাদের সকলকে এটা না গিলিয়ে ছাড়ব না শুধুমাত্র আব্বাস (রাঃ) ছাড়া । কেননা, তিনি তোমাদের সংগে জড়িত ছিলেন না ।
৬৪২০ - হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত -
তিনি বলেন , আমরা নাবী (সাঃ) এর অসুখের সময় তার মুখের এক কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম ।
তিনি (সাঃ) বলেন , তোমরা আমার মুখের কিনারায় ঔষধ দিও না ।
আমরা মনে করলাম , রোগী ঔষধ সেবন অপছন্দ করেই থাকে ।
যখন তাঁর হুশ ফিরে এলো , তখন তিনি (সাঃ) বললেন , তোমাদের মধ্যে যেন এমন কেউ থাকে না , যার মুখের কিনারায় জোর পুর্বক ঔষধ ঢেলে দেয়া না হয় শুধুমাত্র আব্বাস ব্যতীত।
কেননা , সে তোমাদের কাছে হাজির ছিল না ।
৬৪৩০ - মূসা’দ্দাদ (রহঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত -
তিনি বলেন , আমরা নবী (সাঃ) এর অসুখের সময় তার মুখের কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম । আর তিনি (সাঃ) আমাদের দিকে ইশারা করতে থাকলেন যে , তোমরা আমার মূখের কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিও না ।
আমরা মনে করলাম যে , রোগীর ঔষধের প্রতি অনীহা-ই এর কারণ । যখন তিনি (সাঃ) হুশ ফিরে পেলেন , তখন বললেন , আমাকে জোর পূর্বক ঔষধ সেবন করাতে কি তোমাদেরকে নিষেধ করি নি ?  আমরা বললাম , রোগীর ঔষধের প্রতি অনীহা তাই এর কারণ বলে আমরা মনে করেছি । তখন তিনি (সাঃ) বললেন , তোমাদের মাঝে যেন এমন কেউ না থাকে যার মুখে জোরপূর্বক ঔষধ ঢালা হয় আর আমি দেখতে থাকব শুধু আব্বাস ব্যতীত ।  কেননা , সে তোমাদের সাথে ছিল না ।
নোট - উপরে অনেক বেশির ভাগ জায়গাতে ঔষধ শব্দ অরিজিনালে নেই অনুবাদক বসিয়ে দিয়েছেন , বরং অরিজিনাল আরবীতে এটা আছে ‘(কিছু একটা) ঢেলেদিলাম’) ।
সুতরাং উপরের হাদিস সমূহ থেকে দেখা যাচ্ছে যে , রাসুল (সাঃ) তার অসুস্থতার সময় হযরত আয়েশা এবং আরও কেউ রসুলের (সাঃ) মুখে কিছু ঢুকিয়ে দেন...যেটা রাসুল পাক (সাঃ) নিষেধ করার পরেও । রাসুল (সাঃ) পরিষ্কার ভাবে বারণ করেছিলেন যে , তাঁর মুখে যেন কিছু না দেওয়া হয় । পরে রাসুল (সাঃ) একটু হুস ফিরে পেলে রাগান্বিত হয়ে বললেন যে , এটাকে সবাইকে মুখে দিতে হবে এবং রাসুল (সাঃ) সেটা দেখবেন , শুধু হযরত আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত কারণ তিনি ঐ সময় ছিলেন না ।
রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যুর কারণ হিসাবে হযরত আয়েশা এটা প্রচার করতে লাগলেন যে , টেস্টিস এ টিউমার ফেটে গিয়ে মারা গিয়েছেন ।
মুসন্দে আহমাদ ও আবু ইয়ালাআল মাসুলি -
حدثنا كامل ، حدثنا ابن لهيعة ، حدثني أبو الأسود ، عنعروة ، عن عائشة ، قالت : مات رسول الله صلى الله عليه وسلم من ذات الجنب
কিন্ত কেউ এটাকে বিশ্বাস করতে চায় নি কারণ রাসুল (সাঃ) আগেই বলে গিয়েছিলেন যে , এই ধরনের রোগ আমাদের রাসুলদের হয় না ।
এই সব দেখে হযরত আয়েশা বললেন যে , খাইবার যুদ্বে খাবারের বিষ ক্রীয়ায় তিনি (সাঃ) মারা গিয়েছেন ?
আপনারা উপরে আহলে সুন্নিদের সহীহ হাদিস থেকে বুঝতেই পারছেন যে , খাইবার যুদ্বে আল্লাহের রাসুল (সাঃ) বিষ খান নি বলেই বোঝা যাচ্ছে । আবার খেলেও তাঁর উপর ঐ বিষ কোন ক্রীয়া করে নি ।
আবার ঐ বিষ দেওয়া হয়েছিল ৬ষ্ঠ হিজরিতে এবং রাসুল (সাঃ) ইন্তেকাল করেছেন ১০ম হিজরিতে । তাহলে দীর্ঘ চার দশক কিভাবে একজন লোক দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে ?
এতো গেল আহলে সুন্নাতের হাদিস গ্রন্থ থেকে দলিল ।
এখন দেখা যাক যে , শীয়া হাদিস বা তাফসির বই এ কি বলা হচ্ছে,
তাফসির এ আইয়াস ও আল্লামা মাজলিশি ও আলি ইবনেইব্রাহিম কুম্মি যিনি ইমাম হাসন আল আসকারী এর সমসাময়িক ছিলেন -
ইমাম জাফর সাদিক এর থেকে বর্ণনা করেছেন যে , তার মুল মর্ম হল যে রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের শেষ দিনের দিকে হযরত আবু বকর আর হযরত ওমরের ইশারাতে হযরত আয়শা ও হযরত হাফসা রাসুল (সাঃ) কে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে ছিলেন ।
সুপ্রিয় পাঠক , এই লেখাটিতে নিজস্ব কোন কিছুই বলা হয় নি । ইতিহাস থেকে যা পাওয়া যায় তাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে ।  এখন এই লেখাটা গ্রহন করা বা না করা যার যার ব্যক্তিগত অভিরুচি ।
তবে হ্যা , এই বিষয় আপনাদের শালীন ভাষায় যৌক্তিক যে কোন তথ্যাদি বা মতামত সাদরে গ্রহনীয় ।