Showing posts with label জিজ্ঞাসা ও সমাধান. Show all posts
Showing posts with label জিজ্ঞাসা ও সমাধান. Show all posts

Sunday, August 6, 2017

বিয়ে পূর্ব যিনা করা দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হয় না আল্লাহর হক?

বিয়ে পূর্ব যিনা করা দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হয় না আল্লাহর হক?

প্রশ্ন- শরিয়তে জিনার বেপারে কি বলা হয়েছে? আর জিনা করলে কি আল্লাহর হক নষ্ট হয় না কি বান্দার হক নষ্ট হয়? কোন যুবক যুবতী যদি বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তাহলে আল্লাহ কি তাদের ক্ষমা করবেন? আর এখন তাদের কি করা উচিত? শরিয়তের আলোকে একটা সমাধান চাই

উত্তর: ব্যাভিচার একটি অশ্লীল কাজ। মানুষ লজ্জা-শরম ও মনুষ্যত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে শয়তানের আতœপ্রবঞ্চনার শিকার হয়ে এ অনৈতিক ও পাশবিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ব্যাভিচারের কারণে সৃষ্টি হয় সামাজিক অনাসৃষ্টি, খুন খারাবী হত্যা ও হত্যার মত জঘন্য অপরাধ। যে যৌন শক্তি আল্লাহ পাক মানুষের বংশধারা সম্প্রসারণের জন্যে প্রদান করেছেন, তা যদি বিপথে বিনষ্ট করা হয় , তখন মানব সমাজে বিপর্যয় দেখা দেয়। চোখ কান খোলা রাখেন এমন ব্যক্তির জন্য তা আর খুলে বলার প্রয়োজন বলে মনে করছি না। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন-
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮﺍ ﺍﻟﺰِّﻧَﺎ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﻭَﺳَﺎﺀَ ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ (৩২)
আর তোমরা ব্যাভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সূরা ইসরা -৩২) আল্লাহ তাআলা সফলকাম মুমিনের পরিচয়ে সূরা মুমিনের (৫-৬) নং আয়াতে বলেন-
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻟِﻔُﺮُﻭﺟِﻬِﻢْ ﺣَﺎﻓِﻈُﻮﻥَ (৫) ﺇِﻟَّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻬِﻢْ ﺃَﻭْ ﻣَﺎ ﻣَﻠَﻜَﺖْ ﺃَﻳْﻤَﺎﻧُﻬُﻢْ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢْ ﻏَﻴْﺮُ ﻣَﻠُﻮﻣِﻴﻦَ (৬)
(তরজামা) এবং যারা নিজেদেও যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। মোটকথা বিবাহিত স্ত্রী অথবা শরীয়াত সম্মত দাসীর সাথে শরীয়াতের বিধি মোতাবেক কামপ্রবৃত্তি চারিতার্থ করার আর কোন হালাল পথ নয়। তাই ইসলামে বিবাহ পূর্ব প্রেম-প্রীতি সম্পূর্ণরূপে হারাম। এর পরিণাম ভয়াবহ হয়ে থাকে। এ অভিশপ্ত অপরাধ নির্মূলের জন্য ইসলাম অনেক ব্যাবস্থা পত্র দিয়েছে। নিম্নে তার কিয়দাংশ উল্লেখ করা হলো। ১. তাকওয় অর্জনের মাধ্যমে সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা। ২.পর্দা রক্ষা করে চলার নির্দেশ দিয়ে। ৩. লজ্জাবোধের নির্দেশ দিয়ে। ৪.দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়ে। ৫.জাহেলী যুগের ন্যায় উগ্র পোশাকে চলাফেরা না করার নির্দেশ দিয়ে। ৬. দেহাবয়বের সৌন্দর্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়ে। ৭. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বর্জনের নির্দেশ দিয়ে। ৮. সহশিক্ষার পদ্ধতি পরিহার করার বিধান আরোপ করে। ৯. কোন পুরুষের সাথে একান্ত সাক্ষাতের ব্যাপারে নিষাধাগ্ঞা আরোপ করে। যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন বিষয় থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়ে। ১০. শাস্তিদানে কঠোরতার মাধ্যমে। অবিবাহিত কেউ ব্যাভিচার করলে তার শাস্তি হল ১০০ চাবুক। আর বিবাহিত কেউ ব্যাভিচার করলে তার শাস্তি হল সঙ্গেসার বা প্রস্তারাঘাতে মৃত্যুদ-। ইরশাদ হয়েছে
ﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻴَﺔُ ﻭَﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻲ ﻓَﺎﺟْﻠِﺪُﻭﺍ ﻛُﻞَّ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣِﺎﺋَﺔَ ﺟَﻠْﺪَﺓٍ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﺧُﺬْﻛُﻢْ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﺭَﺃْﻓَﺔٌ ﻓِﻲ ﺩِﻳﻦِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِ ﻭَﻟْﻴَﺸْﻬَﺪْ ﻋَﺬَﺍﺑَﻬُﻤَﺎ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ (২)
যিনাকার পুরুষ ও মহিলা তাদের প্রত্যেককে একশত দুররা মার। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি কোনরূপ অনুকম্পা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও। (সূরা নূর:৩) উল্লেখ্য যে এ বিধান কার্যকর অধিকার রয়েছে একমাত্র রাষ্ট্রের। ব্যক্তিগত বা সামাজিক উদ্যেগে এ শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সুবিবেচক, মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ হিসাবে মহান আল্লাহ্ তাআলা তদীয় বিধানে মানুষের জীবনকে সাবলীল, গতিশীল, সৌন্দর্যমন্ডিত ও শান্তিপূর্ণ করে তোলার জন্য এবং মানুষের নৈতিক, আধ্যাত্মিক, জ্ঞানগত ও জাগতিক বিকাশের জন্য প্রত্যেক মানুষকে তার ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে কতিপয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। এই সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিকেই ইসলামে অধিকার বলা হয়। ১. যেসব সুযোগ সুবিধা একান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের সাথে কিংবা এক ব্যক্তির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সেগুলোকে বলা হয় হক্কুল ইবাদ। ২. এমন হক ও অধিকার যার সুফল কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত নয়। বরং তার সুফল সমগ্র মুসলমান (তথা মানুষ) ভোগ করে কিংবা মানব সম্প্রদায়ের কোন একটি বিশেষ শ্রেণী ভোগ করে। আবার সকল মানুষের জন্যই তা প্রয়োজনীয় ও কাম্য। এ ধরণের অধিকারকে শরীয়াতের পরিভাষা হক্কুল্লাহ কিংবা আল্লহর হক বলা হয়ে থাকে। লক্ষ্যনীয় যে সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুযোগ সুবিধার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করার জন্য ইসলামে সেগুলোকে হক্কুল্লাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যাতে এগুলোর ক্ষেত্রে কেউ সীমা লঙ্ঘন করতে দুঃসাহসী না হয়ে উঠে। (আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও ইসলাম ৪৮৮) উপরোক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে যিনার বিষয়টি বিবেচনা করলে বুঝা যায় যে, এ অপরাধটি যদিও বান্দার হকের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয় কিন্তু এ অপরাধটি এমন অনেক অপরাধ সঙ্গে নিয়ে আসে যার দ্বারা বান্দার হক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হত্যা ও লুটতরাজের হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ এ অপরাধটি যেমন জনক্ষতিকর কাজ তেমনি হিংস্র প্রকৃতির পাপ কাজ। একারেই ইসলাম এ অপরাধকে সব অপরাধের চেয়ে গুরতর বলে সাব্যস্ত করেছে এবং এর শাস্তিও সব অপরাধের শাস্তির চেয়ে কঠোর বিধান করেছে। কেননা এটি এমন একটি অপরাধ যা অন্যান্য শত শত অপরাধকে নিজের মধ্যে সন্নিবেশিত করেছে। নিজের কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হয়ে ভবিষ্যতে যিনা না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে আন্তারিকভাবে তওবা করতে হবে। গুণাহ যতই হোক না কেন নিয়মমত মত তওবা করিলে মাফ পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন-
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺍﻟﺴُّﻮﺀَ ﺑِﺠَﻬَﺎﻟَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻳَﺘُﻮﺑُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻳَﺘُﻮﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠِﻴﻤًﺎ ﺣَﻜِﻴﻤًﺎ (১৭)
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে অত:পর অনতিবিলম্বে তওবা করে এরাই সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। (সূরা নিসা-১৭) হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেছেন যে
, ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻚ ﻣﺎ ﺩﻋﻮﺗﻨﻲ ﻭﺭﺟﻮﺗﻨﻲ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻓﻴﻚ ﻭﻻ ﺃﺑﺎﻟﻲ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﻟﻮ ﺑﻠﻐﺖ ﺫﻧﻮﺑﻚ ﻋﻨﺎﻥ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺛﻢ ﺍﺳﺘﻐﻔﺮﺗﻨﻲ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻭﻻ ﺃﺑﺎﻟﻲ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻚ ﻟﻮ ﺃﺗﻴﺘﻨﻲ ﺑﻘﺮﺍﺏ ﺍﻷﺭﺽ ﺧﻄﺎﻳﺎ ﺛﻢ ﻟﻘﻴﺘﻨﻲ ﻻ ﺗﺸﺮﻙ ﺑﻲ ﺷﻴﺌﺎ ﻷﺗﻴﻚ ﺑﻘﺮﺍﺑﻬﺎ ﻣﻐﻔﺮﺓ
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন- হে আদম-সন্তান, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমার নিকট দোআ করতে থাকবে এবং আমার নিকট আশা করতে থাকবে তোমার যত গুণাহই হোক না কেন, আমি তা মাফ করে দিব এবং আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম-সন্তান, তোমার গুণাহ যদি আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত পৌছে যায়, অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও , তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব। এবং আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম-সন্তান, তুমি যদি আমার নিকট এই পরিমাণ গুণাহ নিয়ে হাযির হও যা দ্বারা সমস্ত পৃথিবী ভরে যায়, কিন্তু তুমি আমার নিকট এই অবস্থায় আস যে, কউকেই আমার সাথে শরীক করো নাই, তবে আমি তোমাকে এই পরিমাণ ক্ষমা দান করব যা দ্বারা সমস্ত পৃথিবী ভরে যায়। (তিরমিযী শরীফ- হাদীস নং ৩৫৪০) হযরত আয়শা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন
– ﺇﻥ ﺍﻟﻌﺒﺪ ﺇﺫﺍ ﺍﻋﺘﺮﻑ ﺛﻢ ﺗﺎﺏ ﺗﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
বান্দা নিজ কৃত গুনাহের কথা স্বীকার করে যদি তওবা করে তাহলে আল্লাহও তার তওবা কবুল করেন। (বুখারী ও মুসলিম) এতএব প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়ের কৃত কর্মের জন্য অনতিবিলম্বে তওবা করা ও বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা আবশ্যক। কোন আহলে দিল আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে তাহলে সব রকমের গুনাহ থেকে বাচা সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া আরেফ বিল্লাহ হাকীম আখতার রহ. লিখিত ‘আতœার ব্যাধি ও তার প্রতিকার’ এবং গবেষক আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া লিখিত ‘ইসলাম ও যৌনবিধান’ গ্রন্থ দুটির অধ্যায়ন অনেক ফলোদয় হবে বলে আশা রাখি। উল্লেখ্য যে, উক্ত নারীর সাথে বৈধভাবে বসবাস করতে চাইলে শরয়ী পদ্ধতিতে তাকে বিবাহ করে ঘর সংসার করার ও সুযোগ রয়েছে।
ﻭﺃﻧﻬﺎ ﻭﺍﺟﺒﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻔﻮﺭ ﻻﻳﺠﻮﺯ ﺗﺄﺧﻴﺮﻫﺎ ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻧﺖ ﺍﻟﻤﻌﺼﻴﺔ ﺻﻐﻴﺮﺓ ﺃﻭﻛﺒﻴﺮﺓ ‏( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ – ﺷﺮﺡ ﻣﺴﻠﻢ ﻟﻼﻣﺎﻡ ﺍﻟﻨﻮﻭﻯ ) ﺝ 2 ﺭﺟﻞ ﺗﺰﻭﺝ ﺣﺎﻣﻼ ﻣﻦ ﺯﻧﺎ ﻣﻨﻪ ﻓﺎﻟﻨﻜﺎﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻜﻞ ﻭﻳﺤﻞ ﻭﻃﺆﻫﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻜﻞ، ﺷﻠﺒﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺰﻳﻠﻌﻰ ﺹ 133 ﻓﺼﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺤﺮﻣﺎﺕ ، ﻣﻜﺘﺒﺔ ﺍﻣﺪﺍﺩﻳﺔ ﺑﺎﻛﺴﺘﺎﻥ، ﺍﻟﺒﺤﺮ ﺍﻟﺮﺍﺋﻖ :3 106 ﻓﺼﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺤﺮﻣﺎﺕ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺸﺎﻣﻰ ﺯﻛﺮﻳﺎ :4 142 ﻓﺼﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺤﺮﻣﺎﺕ
কাউকে কষ্ট দেবার পর ক্ষমা চাইলে যদি সে মাফ না করে তাহলে করণীয় কি?

কাউকে কষ্ট দেবার পর ক্ষমা চাইলে যদি সে মাফ না করে তাহলে করণীয় কি?

আপনার দায়িত্ব ছিল ক্ষমা চাওয়া। যাকে কষ্ট দিয়েছেন তার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। সেই সাথে তওবা করা।
এর দ্বারাই ইনশাআল্লাহ আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। বাকি সর্বদা চেষ্টা করা উক্ত ব্যক্তিকে খুশি করতে চেষ্টা করা। তারপরও যদি সে ক্ষমা না করে, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ আপনার সাধ্যে যা ছিল তা আপনি করেছেন। সাধ্যের বাইরে কিছু করার জন্য শরীয়ত ব্যক্তিকে বাধ্য করে না।
অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা নাজায়েজ। সেই হিসেবে আপনি যেহেতু এখন তওবা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনার তওবাকে কবুল করবেন। যাদের কাছে ছবি আছে তাদের সম্ভব হলে বলে দিন যেন এসব ছবি নষ্ট করে ফেলে। যদি সম্ভব না হয়, ইনশাআল্লাহ এতে আপনি পাকরাও হবেন না। কারণ সাধ্যের বাইরে কোন কিছু করতে বান্দাকে আল্লাহ তাআলা বাধ্য করেননি।
ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻌْﻤَﻞْ ﺳُﻮﺀًﺍ ﺃَﻭْ ﻳَﻈْﻠِﻢْ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﺛُﻢَّ ﻳَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﺠِﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ ‏[ ٤: ١١٠
যে গোনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়। {সূরা নিসা-১১০}
ﻗُﻞْ ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳْﺮَﻓُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰٰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻟَﺎ ﺗَﻘْﻨَﻄُﻮﺍ ﻣِﻦ ﺭَّﺣْﻤَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻐَﻔُﻮﺭُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ‏[ ٣٩ :٥٣ ]
বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। {সূরা যুমার-৫৩}
ﻟَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭُﺳْﻌَﻬَﺎ ‏[ ٢ : ٢٨٦
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না,{সূরা বাকারা-২৮৬}
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴْﺪَﺓَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺍﻟﺘَّﺎﺋِﺐُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺬَّﻧْﺐِ، ﻛَﻤَﻦْ ﻟَﺎ ﺫَﻧْﺐَ ﻟَﻪُ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসল সাঃ ইরশাদ করেছেন, গুনাহ থেকে তওবাকারী সেই ব্যক্তির মত যার কোন গোনাহ নেই। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫০}

Saturday, June 24, 2017

রোযা রেখে ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেলা প্রসঙ্গে;

রোযা রেখে ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেলা প্রসঙ্গে;

 সুওয়াল :

একজন ব্যক্তি রোযা অবস্থায় ভুলবশত পানি পান করেছিল। এরপর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পানাহার করেছে। জানার বিষয় হল, এখন তাকে কী করতে হবে?

✍জাওয়াব :
রোযা রেখে ভুলবশত (অর্থাৎ রোযার কথা স্মরণ না থাকায়) পানাহার করলে রোযা ভঙ্গ হয় না।

হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।
(সহীহ মুসলিম ১/৩৬৪)

এক্ষেত্রে নিয়ম হল, রোযার কথা স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানাহার বন্ধ করবে এবং সারাদিন আর কিছু খাবে না। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সে যেহেতু ভুলবশত পানি পান করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করেছে তাই তার রোযা ভেঙ্গে গেছে। অতএব তাকে ঐ রোযাটি কাযা করতে হবে। কাফফারা দিতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে সে গুনাহ করেছে। এজন্য তাকে ইস্তিগফার করতে হবে।

ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪০১, ৪০২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলামারাকী ৩৬৮

Thursday, May 4, 2017

পায়ের সাথে পা মিলানোর নামে পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা আসলেই কি হাদীসে এসেছে?

পায়ের সাথে পা মিলানোর নামে পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা আসলেই কি হাদীসে এসেছে?

মূলত হাদীসে পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে কাতার সোজা করতে এমনভাবে যে একজনের পা যেন অপরজনের পায়ের বরাবর সোজা থাকে। আগ পিছ না হয়ে যায়। একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। আসলেই পায়ের সাথে পা মিলানো উদ্দেশ্য নয়।

কাতার সোজা করা সম্পর্কিত হাদীস সমূহের দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট হবে আশা করি-

১

692 – حدثنا عمرو بن خالد قال حدثنا زهير عن حميد عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : ( أقيموا صفوفكم فإني أراكم من وراء ظهري ) . وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه (صحيح البخارى-كتاب الجماعة والإمامة ، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف، رقم الحديث-692)

হযরত আনাস রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“তোমরা কাতার সোজা কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের পিছন থেকেও দেখি”।

আর আমাদের একেকজন কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতো, আর পায়ের সাথে পা মিলাতো। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৯২}

২–

وقال النعمان بن بشير رأيت الرجل منا يلزق كعبه بكعب صاحبه (صحيح البخارى-كتاب الجماعة والإمامة ، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف)

হযরত নুমান বিন বাশির রাঃ বলেন-আমাদের মাঝে একজনকে দেখতাম তিনিতার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতেন। {সহীহ বুখারী, কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলানোর অধ্যায়}

৩–

عَنْ أَبِى الْقَاسِمِ الْجَدَلِىِّ قَالَ سَمِعْتُالنُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ « أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ». ثَلاَثًا « وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ ». قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ (سنن ابى داود-كتاب الصلاة، باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، رقم الحديث-662)

আবুল কাশেম জাদালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি হযরত নুমান বিন বাশির কে বলতে শুনেছি- রাসূল সাঃ আমাদের দিকে ফিরে তিনবার বললেন-“তোমরা কাতার সোজা কর, আল্লাহর কসম! তোমরা কাতার সোজা কর, নতুবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অন্তর পরিবর্তন করে দিবেন”।

তিনি [নুমান বিন বাশির] বলেন-তখন আমি দেখলাম এক লোক তার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাচ্ছে, এবং হাটুর সাথে হাটু মিলাচ্ছে, এবং পায়ের গিটের সাথে গিট মিলাতো।

৪–

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ »»وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، رقم الحديث-666)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা কাতার সোজা কর এবং কাঁধসমূহের মাঝে বরাবরি রাখ, খালি স্থান পূর্ণ কর। আর শয়তানের জন্য খালি যায়গা রেখো না। আর যে কাতার মিলালো, আল্লাহ তায়ালা তাকে মিলিয়ে দিবেন। আর যে পৃথক করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে পৃথক করে দিবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৬৬৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৫৭২৪, সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং-৪৯৬৭}

৫–

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ إِنِّى لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، رقم الحديث- 667)

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা কাতার সোজা কর, এবং ঘাড়কে বরাবর কর, নিশ্চয় যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! আমি দেখি শয়তান তোমাদের কাতারের ফাঁকে প্রবিষ্ট হয় বকরীর ছোট বাচ্চার মত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৬৬৭)

উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কি উদ্দেশ্য?

১-কাতার সোজা করা আবশ্যক একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। সেই সাথে জামাতে নামায পড়ার সময় মাঝখানে এমন ফাঁক রাখা যাবে না, যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে। নামাযে মুসল্লী পা ছড়িয়ে পাশের জনের পায়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়াবে সেটা বুঝানো উদ্দেশ্য নয়।

২-পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নামাযে পা ছড়িয়ে দাঁড়াতে হবে একথা উদ্দেশ্য।

প্রথম বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ফুক্বাহায়ে কিরামদের।

আর দ্বিতীয় বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ উদ্ধারে অক্ষম কতিপয় ব্যক্তিদের মত। যারা শুধুমাত্র হাদীসের বাহ্যিক অনুবাদ পড়েই হাদীসের মর্ম বুঝে গেছেন মনে করে আত্ম-অহংকারে ভোগেন তাদের বক্তব্য।

বিশুদ্ধ বক্তব্য

প্রথম বক্তব্যটিই বিশুদ্ধ। কারণ হাদীসে রাসূল সাঃ এর উদ্দেশ্য যদি সত্যিকারভাবেই পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো, আর হাটুর সাথে হাটু মিলিয়ে দাঁড়ানো ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ছড়িয়ে দাঁড়ানো উদ্দেশ্য হত, তাহলে এরকম উদ্ভট কথা রাসূল সাঃ কিছুতেই বলতে পারেন না যা একেবারেই অসম্ভব। কারণ নুমান বিন বাশির রাঃ এর এক বর্ণনায় এসেছে কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলানোর কথা, আর অন্য বর্ণনায় এসেছে হাটুর কথাও। তাহলে এই সুরতটি কখনো সম্ভব? হাটু, কাঁধ ও পা কি একসাথে মিলানো যায় কখনো?

সুতরাং বুঝা গেল-এসব হাদীসে রাসূল সাঃ এর মূল উদ্দেশ্য হল- যেন লোকেরা এভাবে দাঁড়ায় যে, কাতারের মাঝখানে কোন ফাঁক থাকতে না পারে যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে। সেই সাথে কাতার হতে হবে একদম সোজা। যেন সবার কাঁধ বরাবর হয়। পায়ের সাথে পা বরাবর হয়। হাটুর সাথে বরাবর হয়। পায়ের গিটের সাথে পাশের জনের পায়ের গিট বরাবর হয়। লাগোয়া নয় বরং বরাবর হওয়া উদ্দেশ্য।

এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে সকল হাদীসের অর্থ সঠিক হয়ে যায়। কারণ তখন “কাঁধের সাথে কাঁধ মিলবে” মানে হল সবার কাঁধ সমান সমান হবে। “পায়ের সাথে পা মিলবে” মানে হল সবার পা রাখার স্থান বরাবর হবে। “হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলবে” মানে হল সবার হাটু বরাবর হবে। “পায়ের গিটের সাথে গিট মিলবে” মানে হল সবার পায়ের গিট বরাবর হবে।

পক্ষান্তরে সত্যিকারর্থে পায়ের সাথে পায়ের পা মিলানোর কথা বললে সেটা হবে আজগুবি কথা। কারণ পায়ের সাথে পা মিলালে কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো সম্ভব নয়। আবার কাঁধ ও পা যদি আলৌকিকভাবে মিলেও যায়, তাহলে হাটুর সাথে হাটু মিলবে কি করে? যেটা আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় এসেছে। সেই সাথে পায়ের গিটের সাথে গিট ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো কি সম্ভব?

সুতরাং বুঝা গেল পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা এসব হাদীসে বুঝানো উদ্দেশ্য নয়। বরং কাতার সোজা করার গুরুত্ব ও সোজা করার পদ্ধতি বুঝানো উদ্দেশ্য। যেটা হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারীতে বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন

المراد بذلك المبالغة فى تعديل الصف وسد خلله (فتح البارى-2/211

অর্থাৎ এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হল-কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বুঝানো, আর কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা। {ফাতহুল বারী-২/২১১}

হাদীসের মাঝে অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা

কথিত আহলে হাদীস তথা গায়রে মুকাল্লিদরা এ সকল হাদীস দিয়ে পা ছড়িয়ে অন্য মুসল্লির সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো প্রমাণ করতে হাদীসের মাঝে একটি চাতুরীর আশ্রয় নেয়। যেহেতু পায়ের সাথে পা মিলানো সম্ভব হয় না, তাই তারা বলে যে, পায়ের সাথে পা মিলানোর মানে হল একজনের পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুলীর সাথে অপরজনের কনিষ্ঠা আঙ্গুলী মিলানো।

এ কথাটি হাদীস নিয়ে একটি চাতুরী ছাড়া কিছু নয়। কারণ হাদীসের সুষ্পষ্ট শব্দ হল-قدم যার অর্থ পা। আর আঙ্গুল বুঝানো উদ্দেশ্য হলে হাদীসের ভাষ্য হতো الإصبع[আঙ্গুল] পায়ের কথা কেন বলা হল? হাদীসের শব্দের মূলার্থ পাল্টে এই মনগড়া ব্যাখ্যা দেবার অধিকার তারা কি করে পেল?

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

১-তুহফাতুল আলমায়ী-১/৫৫১-৫৫৪

২-ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-৯/৪৫২-৪৫৭

আল্লাহ তাআলা আমাদের সহীহ ভাবে আমল করার তৌফিক দান করেন। আমীন

Friday, April 28, 2017

হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভেঙে যাবে কি?

হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভেঙে যাবে কি?

সমাজের মানুষরা বলে থাকে, অজু করার পর কোনোভাবে হাঁটু খুলে অর্থাৎ হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভেঙে যায়। তেমনি পা ধোয়ার সময় যদি হাঁটু খুলে যায় তাহলেও যতটুকু অজু করা হয়েছে তা ভেঙে যাবে এবং আবার শুরু থেকে অজু করতে হবে। এ কারণে অনেককে নতুন করে অজু করতেও দেখা যায়। এ ব্যাপারে শরীয়তের জবাব হলো, হাঁটু খুলে গেলে বা হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে অজু ভাঙবে না। সমাজে প্রচলিত এই ধারণাটি সঠিক নয়।
তবে হ্যাঁ হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঢেকে রাখা জুরুরি। পা ধোয়ার সময় সতর্কতার সঙ্গে ধোয়া উচিত। কোনোভাবেই হাঁটুর উপর কাপড় উঠানো উচিত নয়। কিন্তু এ কথা সঠিক নয়, হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভেঙে যায়। ফেকাহর কিতাবে নির্ধারিত অজু ভঙ্গের কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণেই অজু ভাঙে না। অজু ভঙ্গের যে সাতটি কারণ রয়েছে সতর খুলে যাওয়া বা হাঁটুর উপরে কাপড় উঠার কারণটি নেই।
অজু ভঙ্গের কারণ সাতটি হলো, এক. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হলে অজু ভেঙে যাবে। দুই. শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা পানি ইত্যাদি বের হয়ে গড়িয়ে গেলে।
তিন. মুখভরে বমি করলে অজু ভেঙে যাবে। মুখ ভরে বমি করার অর্থ হল এত পরিমাণ বমি আসা যে মুখে সেটা আটকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়। চার. থুথুতে রক্তের পরিমাণ যদি থুথুর সমপরিমাণ বা থুথু থেকে বেশি হয় তাহলে অজু ভেঙে যাবে। পাচ. বেহুশ, পাগল, অজ্ঞান বা অচেতন হলে। ছয়. চিত বা কাত বা উপুড় হয়ে ঘুমালে অজু ভেঙে যাবে। এভাবে নিতম্বের একপার্শ্বে ভর করে ঘুমালেও অজু ভেঙে যাবে।
সাত. নামাজের মধ্য এরকম শব্দ করে হাসা যে পাশে কেউ থাকলে সে শুনতে পাবে এরকম শব্দ করে হাসলেও অজু ভেঙে যাবে। এই হল অজু ভাঙার প্রধান ও মৌলিক কারণসমূহ। উপর্যুক্ত সাতটি কারনের মাঝে হাঁটুর উপরে কাপড় উঠে যাওয়াটি নেই।

দলীল: উলঙ্গ হওয়া অজু ভঙ্গের কোন কারণের অন্তর্ভূক্ত নয়। তাই সতর খুলে যাওয়ার দ্বারা অজু ভঙ্গ হবে না। তেমনিভাবে লজ্জাস্থানে হাত দেবার দ্বারাও অজু নষ্ট হয় না। তবে হাতটি ধুয়ে নেয়া উত্তম।

عشرة أشياء لا تنقض الوضوء، منها (الى ان قال) ومنها مس ذكر ودبر وفرج مطلقا، (حاشية الطحطاوى على المراقى الفلاح، كتاب الطهارة، فصل عشرة أشياء لا تنقض الوضوء-93)

أيضا لا ينقض مس ذكر لكن يغسل يده ندبا وإمرأة وأمرد لكن يندب للخروج من الخلاف لا سيما للإمام)

وفى رد المحتار، قوله لكن يغسل يده ندبا لحديث من مس ذكر فليتوضأ أى ليغسل يده جمعا بينه وبين قوله صلى الله عليه وسلم هل هو إلا بضعة منك، حين سئل عن الرجل يمس ذكره بعد ما توضأ (الدر المختار، مع رد المحتار، مطلب نوم الأنبياؤ غير ناقض-1/147

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বু্ঝে আমল করার তৌফিক দান করেন।  আমীন

Sunday, March 19, 2017

মাতা পিতার মৃত্যুর পর কি করাবো?

মাতা পিতার মৃত্যুর পর কি করাবো?

মাতা-পিতার মৃত্যুর পর সন্তানেরা আত্মার মাগফেরাতের জন্য কিছু করে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ করতে চান | বেশীর ভাগ ছেলে-মেয়ে না জেনে অনেক শরীয়ত বিরোধী কাজ তথা বিদআতের সাথে লিপ্ত হয় | অথচ সঠিক পদ্ধতি জানাটা আমাদের জন্য প্রয়োজন | এ বিষয়ে শরীয়ত কি বলে তা জানা সবার প্রয়োজন ||
হযরত আবু উসাইদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা নবী (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম | এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)! মাতা-পিতার মৃত্যুর পর তাদের সাথে সদ্ব্যব্যবহার করার কোন অবকাশ আছে কি?? তিনি বললেন, হ্যাঁ | চারটি উপায় আছেঃ
(১) মাতা-পিতার জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করা,
(২) তাঁদের কৃত ওয়াদা এবং বৈধ অসিয়তসমূহ পালন করা,
(৩) তাঁদের বন্ধুদের সাথে সুন্দর আচরণ করা,
এবং
(৪) তাদের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় এবং সুন্দর আচরণ করা ||
[আল্ আদাবুল মুফরাদ-হাদীস নং-৩৫]
দোয়া ও ইস্তেগফার করাঃ মাতা-পিতার জন্য দোয়া করার নিয়ম মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন,,
“রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানী ছাগিরা |” অর্থাৎ : হে আল্লাহ্‌! আমার পিতা-মাতার উপর রহম করো, যেমনি ভাবে তাঁরা ছোট বেলায় আমাদের উপর রহম করেছেন | [সুরা বনী ইসরাইল-২৪]
কাজেই প্রত্যেক সালাতের পর আমাদেরকে আল্লাহ্‌র শিখিয়ে দেয়া দোয়া করা প্রয়োজন | আল্লাহ্‌ পাক আমাদের কে আমল করার তাওফিক দান করুন,, আমীন ||

Friday, February 24, 2017

কবরের আযাব গোপন রাখার হিকমত কী?

কবরের আযাব গোপন রাখার হিকমত কী?

কবরের আযাব গোপন রাখার মধ্যে যেসব বড়
বড় হিকমতে ইলাহী লুকায়িত রয়েছে, তার
মধ্যে এও রয়েছে যে,
(১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেনঃ মৃতদেরকে দাফন করা
থেকে বিরত থাকার আশঙ্কা না থাকলে
আমি আল্লাহ তাআলার কাছে দু’আ করতাম,
তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব
থেকে কিছু শুনান।
(২) কবরের আযাব গোপন রাখার মাধ্যমে
আল্লাহ তাআলা মৃতের পরিবারের প্রতি
রহম করেছেন। কেননা তারা যদি তাদের
মাইয়্যেতের আযাব ও চিতকার শুনতো,
তাহলে তারা স্থির থাকতে পারতোনা।
(৩) আযাব গোপন রাখার মাধ্যমে মৃতের
মান-মর্যাদার দিকটার প্রতিও খেয়াল
রাখা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তার
জীবিত আত্মীয় স্বজনকে তার বেহাল
অবস্থা জানাতে চান নি।
(৪) মৃতের পরিবারের মান-ইজ্জতের
প্রতিও খেয়াল রাখা হয়েছে। কেননা
মাইয়্যেতের আযাব শুনলে লোকেরা হয়ত
তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবাবের জীবিত
সদ্যস্যদেরকে দোষারোপ করে বলতোঃ এই
তো তোমার পিতাকে কবরে শাস্তি দেয়া
হচ্ছে, এই তো তোমার মা খুব আযাবে আছে!
এই তো তোমার ছেলে.....ভাই... ইত্যাদি।
(৫) আযাবের আওয়াজ ও চিতকার শুনেই
কারো মৃত্যু হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। কেননা
এই আওয়াজ সাধারণ আওয়াজ নয়। এতে অন্তর
ফেটে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। যার
ফলে মৃত্যু অথবা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার
সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়; এর ফলে
পৃথিবীর এই সুন্দর নিয়ম-কানুন লন্ড-ভন্ড হয়ে
যেত, যা হিকমতে ইলাহীর খেলাফ।

Tuesday, November 22, 2016

এক খৃষ্টান বাদশাহ চারটি প্রশ্ন
লিখে ওমর (রাঃ) এর কাছে
পাঠালেন!

এক খৃষ্টান বাদশাহ চারটি প্রশ্ন লিখে ওমর (রাঃ) এর কাছে পাঠালেন!

এক খৃষ্টান বাদশাহ চারটি প্রশ্ন
লিখে ওমর (রাঃ) এর কাছে
পাঠালেন এবং
আসমানী কিতাবের আলোকে
উত্তর চাইলেন।

১ম প্রশ্নঃ একই মায়ের পেট হতে
দু'টি বাচ্চা একই দিনে একই সময় জন্ম
গ্রহন করেছে
এবং একই দিনে ইন্তেকাল করেছে
তবে তাদের একজন অপরজন থেকে
১০০ বছরের বড় ছিলো। তারা দুইজন
কে? কিভাবে তা হয়েছে?

২য় প্রশ্নঃ পৃথিবীর কোন স্থানে
সূর্যের আলো শুধুমাত্র একবার
পড়েছে।
কেয়ামত পর্যন্ত আর কখনো সূর্যের
আলো সেখানে পড়বে না?

৩য় প্রশ্নঃ সে কয়েদী কে, যার
কয়েদ খানায় শ্বাস নেওয়ার
অনুমতি নেই আর সে শ্বাস নেওয়া
ছাড়াই জীবিত থাকে?

৪র্থ প্রশ্নঃ সেটি কোন কবর, যার
বাসিন্দা জীবিত ছিল এবং কবর ও
জীবিত ছিল আর সে কবর তার
বাসিন্দাকে নিয়ে ঘোরাফেরা
করেছে এবং কবর থেকেতার
বাসিন্দা জীবিত বের হয়ে
দীর্ঘকাল পৃথিবীতে জীবিত
ছিল?
হযরত ওমর (রাঃ) হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে ডাকলেন
এবংউত্তর গুলো লিখে দিতে
বললেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ)
উত্তরগুলো লেখেন

১ম উত্তরঃ দুই ভাই ছিলেন হযরত
ওযায়ের (আঃ) এবং ওযায়েয
(আঃ). তারা একই দিনে জন্ম এবং
একই দিনেইন্তেকাল করা সত্বেও
ওযায়েয (আঃ) ওযায়ের (আঃ)
থেকে ১০০ বছরের বড় হওয়ার কারন
হল, মানুষকে আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুর
পর আবার কিভাবে জীবিত করবেন?
হযরত ওযায়ের (আঃ) তা দেখতে
চেয়েছিলেন। ফলে আল্লাহ
তাকে ১০০ বছর যাবত মৃত্যু অবস্থায়
রাখেন এরপর তাঁকে জীবিত করেন।
যার কারনে দুই ভাইয়ের বয়সের
মাঝে ১০০ বছর ব্যবধান হয়ে যায়।

২য় উত্তরঃ হযরত মুসা (আঃ) এর
মু'জিযার কারনে বাহরে কুলযুম তথা
লোহিত সাগরের উপর রাস্তা হয়ে
যায় আর সেখানে সূর্যের আলো
পৃথিবীর ইতিহাসে একবার
পড়েছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত আর
পড়বে না।

৩য় উত্তরঃ যে কয়েদী শ্বাস
নেওয়া ছাড়া জীবিত থাকে, সে
কয়েদী হল মায়ের পেটের বাচ্চা,
যে নিজ মায়ের পেটে কয়েদ
(বন্দী) থাকে।

৪র্থ উত্তরঃ যে কবরের বাসিন্দা
জীবিত এবংকবর ও জীবিত ছিলো,
সে কবরের বাসিন্দা হল হযরত ইউনুস
(আঃ) আর কবর হল ইউনুস (আঃ) যে
মাছের পেটেছিলেন সে মাছ। আর
মাছটি ইউনুস (আঃ) কে নিয়ে
ঘোরাফেরাকরেছে।
মাছের পেট থেকে বের হয়ে
আসার পর ইউনুস (আঃ) অনেক দিন
জীবিত ছিলেন। এরপর ইন্তেকাল
করেন।

Wednesday, November 16, 2016

এক নাস্তিক একজন আলেম কে বলেছিল , ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমি মুসলমান হয়ে যাবো ।

এক নাস্তিক একজন আলেম কে বলেছিল , ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমি মুসলমান হয়ে যাবো ।


এক নাস্তিক একজন আলেম কে বলেছিল , ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমি মুসলমান হয়ে যাবো ।
প্রশ্ন ১: আল্লাহ কোথায় আছে ? আল্লাহকে আমাকে দেখান ?
প্রশ্ন ২: আল্লাহ নাকি জ্বিন জাতিকে জাহান্নামে শাস্তি দিবেন , কিন্তু জ্বিন জাতি তো আগুনের সৃষ্টি ..! তো আগুন কে আগুন দ্বারা কিভাবে শাস্তি দিবেন ?
প্রশ্ন ৩: দুনিয়ায় যা হয় তা নাকি সব আল্লাহর নির্দেশে হয় , তাহলে আবার তিনি পাপের শাস্তি দিবেন কেন ? পাপ ও তো তার নির্দেশেই হয় ?
তার প্রশ্ন শোনার পর আলেম কিছুই বললেন না , বরং শক্ত মাটির একটা টুকরা নিয়ে তার কপালে ঢিল মারলেন ।
এতে করে লোকটি আঘাত পেয়ে কাজী সাহেবের নিকট গিয়ে বিচার চাইলো যে , আমি তাকে প্রশ্ন করায় সে আমাকে আঘাত করেছেন এতে আমি অনেক ব্যাথা পেয়েছি ।
কাজী তখন আলেমকে ডেকে পাঠালেন এবং অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন ।
আলেম বললেনঃ তার প্রথম প্রশ্ন ছিল আল্লাহ কোথায় ? আল্লাহকে দেখান ? তো তাকে আমার প্রশ্ন হল , তার ব্যাথা কোথায় ? ব্যাথা আমাকে দেখাক ?
তার ২য় প্রশ্ন ছিল , আগুনের জাতিকে আল্লাহ আগুন দিয়ে কিভাবে শাস্তি দিবেন ?
তো সে মাটির সৃষ্টি হয়ে মাটির আঘাতে ব্যাথা পেল কিভাবে ? তার ৩য় প্রশ্ন ছিল , সব আল্লাহর নির্দেশে হওয়া সত্তেও তিনি শাস্তি দিবেন কেন ? তাহলে আমিও তো তাকে আল্লাহর নির্দেশে ঢিল মেরেছি , সে আপনার দরবারে বিচার দায়ের করল কেন ?
মাশাআল্লাহ ...