Showing posts with label তহারত বা পবিত্রতা. Show all posts
Showing posts with label তহারত বা পবিত্রতা. Show all posts

Tuesday, December 18, 2018

ইস্তিঞ্জার আদব

ইস্তিঞ্জার আদব

ইস্তিঞ্জার আদব

৫ দিকে ফিরিয়া ইস্তিঞ্জা করা নিষেধ যথাঃ
১. ক্বিবলার দিকে মুখ করিয়া।
২. ক্বিবলার দিকে পিঠ করিয়া।
৩. চন্দ ও সূর্যের দিকে মুখ করিয়া।
৪. প্রবল বাতাসের দিকে মুখ করিয়া।
৫. একেবারে উলঙ্গ হইয়া।

১০ জায়গায় ইস্তিঞ্জা করা নিষেধ যথাঃ-
১. মানুষ চলাচলের রাস্তায়।
২. ছায়াদার ফলদার গাছের নীচে।
৩. উজু ও গোসলের স্থানে।
৪. গর্তের ভিতরে।
৫. গোরস্থানে।
৬. দাঁড়াইয়া হাঁটিয়া।
৭. বিনা উযরে পারিতে।
৮. ঘরে বা বিছানায়।
৯. মসজিদের আঙ্গিনায় বা ঈদগাহে।
১০. জন সম্মুখে।

৬ জিনিস নিয়া ইস্তিঞ্জায় যাওয়া নিষেধ যথাঃ-
১. আল্লাহ তা আলার নাম।
২. নবীগণের নাম।
৩. ফেরেস্তাগণের নাম।
৪. কুরআনের আয়াত।
৫. হাদিসের টুকরা।
৬. দুআ কালাম।(লিখিত বা অংকিত)

ইস্তিঞ্জার সময় ৮ কাজ করা নিষেধ
যথাঃ-
১. কথা বলা।
২. জিকির বা তাসবীহ্ পড়া।
৩. কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা।
৪. সালাম দেওয়া।
৫. সালামের উত্তর দেওয়া।
৬. খাওয়া বা পান করা।
৭. মিসওয়াক করা।
৮. লিখা পড়া।

১০ জিনিস দ্বারা কুলুখ লওয়া নিষেধ যথাঃ-
১. গাড্ডি।
২. কয়লা।
৩. কাগজ।
৪. কাঁচ।
৫. গাছের কাঁচা পাতা।
৬. খাদ্য দ্রব্য।
৭. শুকনো গোবর।
৮. জমজমের পানি।
৯. ডান হাত দ্বারা।
১০. ব্যবহৃত ঢিলা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা।

ইস্তিঞ্জার সময় ৮টি সুন্নাত
যথাঃ-
১. বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা।
২. জুতা-সেন্ডেল পায়ে রাখা।
৩. মাথা ঢাকিয়া রাখা।
৪. দিলে দিলে ইস্তিগফার করা।
৫. ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা।
৬. পানি খরচ করা।
৭. ডান পা দিয়ে বাহির হওয়া।
৮.প্রবেশের আগে পরে দুআ পড়া।

গোসলের ফরয ও সুন্নাতসমূহ

গোসলের ফরয ও সুন্নাতসমূহ


গোসলের ফরয তিনটি

১. ভালভাবে একবার কুলি করা ৷ (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬

২. নাকের নরম স্থান পর্যন্ত একবার পানি পৌছানো ! (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)

৩. সমস্ত শরীরে একবার পানি পৌছে দেয়া, যেন কোথাও এক চুল পরিমাণ শুকনো না থাকে ! (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬/ তিরমিযী, ১০৩: আল বাহরুর রায়িক, ১: ৪৫/ শামী, ১: ১৫১

গোসলের সুন্নাতসমূহ

১.ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাৎ পেশাব করা ৷ (মুসান্নেফে আব্দুর রাযযাক হাদিস নং ১০২০

২. শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া ৷ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১২৬৯৪

৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কঞ্জিসহ ধোয়া | (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৪৮

৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া ৷ (মুসলিম শরীফ, হাদিস নং ৩২১

৫. নাপাকী লেগে থাকলে বা না লেগে থাকলে সর্ব অবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা ৷ এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া ৷ (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৪৯

৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযু করা ৷ তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে | (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৬০

৭.প্রথমে মাথায় পানি ঢালা ৷ (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৫৬

৮.এরপর ডান কাঁধে | (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৫৪

৯.এরপর বাম কাধে | (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৫৪) ,

১০.অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো ৷ (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৭৪)

১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে ! (আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ৮১৩)

 তবে নদী-পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ৷ (আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ৮১৩) 

১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধৌত করা | (তিরমিযী, হাদিস নং ১০৬) 

Thursday, May 11, 2017

মানুষের বীর্য পাক না নাপাক? বুখারীর অসত্য রেফারেন্সের জবাব

মানুষের বীর্য পাক না নাপাক? বুখারীর অসত্য রেফারেন্সের জবাব

আসলে এটি ইমাম বুখারী রহঃ এর মত নয়, কথিত আহলে হাদীসদের মত। ইমাম বুখারী রহঃ এর দিকে মিথ্যার নিসবত করা হয় এটি বলে।

বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের ৩৬ নং পৃষ্ঠায় ইমাম বুখারী রহঃ একটি পরিচ্ছেদ এনেছেন। সেটি হল- بَابُ إِذَا غَسَلَ الجَنَابَةَ أَوْ غَيْرَهَا فَلَمْ يَذْهَبْ أَثَرُهُ তথা “যখন কেউ বীর্য ইত্যাদি ধৌত করা হয়, কিন্তু তার চিহ্ন না যায়”।

উক্ত পরিচ্ছেদের অধীনে ইমাম বুখারী রহঃ দুটি হাদীস এনেছেন, যার মাঝে একটি হল,

عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ [ص:56] فِي الثَّوْبِ تُصِيبُهُ الجَنَابَةُ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: «كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ، وَأَثَرُ الغَسْلِ فِيهِ» بُقَعُ المَاءِ

অনুবাদ- আমার বিন মাইমুন রহঃ সুলাইমান বিন ইয়াসার রাঃ কে বীর্য লাগা কাপড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, হযরত আয়শা রাঃ বলেছেন, “আমি রাসূল সাঃ এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম তারপর তিনি নামাযের জন্য বের হতেন এমতাবস্থায় যে, কাপড়ে পানির ছাপ লেগে থাকতো। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৩১, ২২৯}

এ পরিচ্ছেদের অধীনে গায়রে মুকাল্লিদ আলেম ওহীদুজ্জামান সাহেব লিখেছেনঃ “ইমাম বুখারী রহঃ এ পরিচ্ছেদে বীর্য ছাড়া অন্য কোন নাপাকীর কথা উল্লেখ করেননি। হয়তো বাকি নাপাককে বীর্যের উপরই কিয়াস করেছেন। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, ইমাম বুখারী রহঃ এর নিকট বীর্য নাপাক।{তাইসীরুল বারী-১/১৭০}

# গায়রে মুকাল্লিদ আলেম মাওলানা ওহীদুজ্জামান সাহেবের বক্তব্য দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, ইমাম বুখারী রহঃ এর নিকট বীর্য নাপাক। অথচ গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের মত হল যে, বীর্য পাক। এ কারণেই বুখারীর মতের বিরোধীতা করে আহলে হাদীস অহীদুজ্জান সাহেব লিখেনঃ

“বীর্য পাক, চাই তা ভিজা হোক, বা শুকনো হোক, ঘাঢ় হোক বা পাতলা। {কানযুল হাকায়েক-১৬, নুজুলুল আবরার-১/৪৯}

# আহলে হাদীস নওয়াব নূরুল হাসান সাহেব লিখেছেনঃ “বীর্য সর্ববস্থায় পবিত্র”। {আরফুল জাদী-১০}

# আহলে হাদীস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান সাহেব লিখেছেনঃ “মানুষের বীর্য নাপাক হওয়ার কোন দলীল নেই”। {বুদুরুল আহিল্লাহ-১৫}

অথচ বুখারী, হাদীস স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, বীর্য নাপাক। কারণ যদি বীর্য পাকই থাকতো, তাহলে আম্মিজান আয়শা রাঃ কেন তা পানি দিয়ে ধুয়ে দিতেন?

ইমাম বুখারীর বিরোধীতা করে বীর্যকে কথিত আহলে হাদীসরা দলীল ছাড়াই সর্ববস্থায় পবিত্র বলে থাকে তাদের আকাবীরদের অন্ধ তাকলীদ করে । খাওয়া-পান করা সবই মনে হচ্ছে জায়েজ তাদের কাছে?!

তাছাড়া রাসূল সাঃ এটা সিক্ত থাকলে ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর কাপড়ে লাগলে তা ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাক হলে ধৌত করার নির্দেশনা দিলেন কেন? আর নবীজী সাঃ এর কাপড়ে যে বীর্য লেগে শুকিয়ে গেয়েছিল, তা তিনি খুটিয়ে তুলে ফেলাটাই প্রমাণ করে তা পাক থাকলে খুটে ফেলে দেয়ার দরকার কি? যেমন কাপড়ে যদি আটা লেগে শুকিয়ে যায়, তাহলে তা খুটিয়ে ফেলে দিলে তা একেবারেই উঠে যায়, এমনি বীর্যও শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে তা তুলে ফেললে তার কোন কিছু আর বাকি থাকে না, তাই নবীজী সাঃ খুটিয়ে তুলে ফেলার পর তা না ধুয়েই নামায পড়েছেন। বীর্য পাক এজন্য নয়।

এছাড়া অন্যান্য হাদীসে এসেছে-

يَا عَمَّارُ إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ: مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَالْقَيْءِ وَالدَّمِ وَالْمَنِيِّ

আম্মার বিন ইয়াসার রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়, যথা-১-পায়খানা, ২-প্রশ্রাব, ৩-বমি, ৪-রক্ত, ৫-বীর্য। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৫৮}

হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ বলেন-বীর্য সিক্ত থাকলে তা ধুয়ে ফেল, আর শুকিয়ে গেলে তা খুটিয়ে ফেল। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৯৩৩}

-আহলে হক মিডিয়া  থেকে

Thursday, March 23, 2017

গোসল ফরজ হয় কী কী কারণে এবং ফরজ।গোসল করার।সহিহ শুদ্ধ পদ্ধতি কী?

গোসল ফরজ হয় কী কী কারণে এবং ফরজ।গোসল করার।সহিহ শুদ্ধ পদ্ধতি কী?

বিভিন্ন কারণে গোসল ফরজ হয়। আর ফরজ গোসল ইসলামি জীব বিধানের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ হলো কারো ওপর গোসল ফরজ হলে সঠিক-শুদ্ধ পদ্ধতিতে গোসল আদঅয না করা পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নাপাক থাকবেন। আর এই নাপাকি অবস্থায় তার কোনো প্রকারের কোনো ইবাদত-বন্দেগি করার অনুমতি নেই। সুতরাং সঠিক-শুদ্ধভাবে আমল করার জন্য শারীরীকভাবে পবিত্র থাকার উদ্দেশ্য গোসল ফরজ হওয়ার কারণ, ফরজ গোসলের ফরজ, সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমরসহ ফরজ গোসল করার পদ্ধতি সবার জানা থাকা একান্ত জরুরি।
গোসল ফরজ হওয়ার কারণসমূহ হলো-
১. জাগ্রত বা নিদ্রা অবস্থায় উত্তেজনার সাথে বীর্যপাত হওয়া। কিন্তু নিদ্রা অবস্থায় উত্তেজনার অনুভব না হলেও গোসল করা ফরজ। কেননা নিদ্রা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে মানুষ অনেক সময় তা বুঝতে পারে না। মোট কথা গোসল ফরজ হওয়ার জন্য বীর্যপাত শর্ত তাতে উত্তেজনা থাকুক আর না থাকুক সেটা কোনো বিষয় নয়।
২. স্ত্রী সহবাস করার দ্বারা গোসল ফরজ হয়। সহবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গের সর্বনিম্ন আগাটুকু (সুপারি পরিমাণ আংশ) প্রবেশ করালেই গোসল ফরজ হয়ে যাবে । কেননা এ ব্যাপারে নবি [সা.] বলেন, পানি নির্গত হলেই পানি ঢালতে হবে। [মুসলিম, অধ্যায় : হায়েজ, অনুচ্ছেদ : পানি নির্গত হলেই পানি ঢালা। হা/ ৩৪৩।] অর্থাৎ বীর্যের পানি নির্গত হলেই গোসল করতে হবে।
নবি [সা.] আরো বলেন, স্ত্রীর চার শাখার (দুই হাত দুই পায়ের) মাঝে বসে, তার সাথে সহবাসে লিপ্ত হলেই গোসল ফরজ হবে। [বুখারি, অধ্যায় : গোসল, অনুচ্ছেদ : উভয় লিঙ্গ মিলিত হলে করণীয়, হা/ ২৯১। মুসলিম, অধ্যায় : হায়েয, অনুচ্ছেদ : পানি ঢালার সম্পর্ক পানি নির্গত হওয়ার সাথে। হা/ ৩৪৮।] এখানে বীর্যপাতের কোনো কথা বলা হয়নি। এর দ্বারা বুঝা যায় এই এইভাবে স্ত্রী সহবারে যদিও বীর্যপাত না হয় তবুও গোসল ফরজ হবে। এ বিষয়টি অনেক মানুষের জানা নেই। অনেক লোক স্ত্রী সহবাসে বীর্যপাত না করলে অজ্ঞতা বশত সপ্তাহ মাস কাটিয়ে দেয় গোসল করে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এমন ভুল থেকে বাচার নেক তাওফিক দান করুন। আমিন। এটি একটি মারাত্মক ধরণের ভুল। এ জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শরীয়তের সীমারেখা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরজ। অতএব উল্লেখিত হাদিসের ভিত্তিতে সহবাস করে বীর্যপাত না হলেও গোসল করা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর ফরজ।
৩. নারীদের ঋতু (হায়েজ-মিনস) বা নেফাস (সন্তান প্রসোবত্তোর স্রাব) হওয়া। ঋতুবতী নারীর স্রাব বন্ধ হলে গোসলের মাধ্যমে তাকে পবিত্র হতে হবে। এই গোসলও ফরজ গোসলের অন্তর্ভূক্ত। কেননা আল্লাহ বলেন অর্থাৎ তারা তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে হায়েজ সম্পর্কে । বলে দাও, এটা অপবিত্র। কাজেই তোমরা হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে না; যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে তখন গমন করো তাদের কাছে। যেভাবে আল্লাহ্ আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন। (সূরা বাক্বারা- ২২২)
নবি [সা.] ইস্তেহাজা বিশিষ্ট নারীকে নির্দেশ দিয়েছেন, ঋতুর নির্দিষ্ট দিনসমূহ সে বিরত থাকবে তারপর গোসল করবে। নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান। তার উপরও গোসল করা ফরজ। হায়েয ও নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য ফরজ গোসল করার পদ্ধতি নাপাকি থেকে গোসল করার পদ্ধতির অনুরূপ। তবে কোনো ইসলামি পণ্ডিতরা ঋতুবতীর গোসলের সময় বরই পাতা ব্যবহার করা মুস্তাহাব বলেছেন। কেননা এতে অধিক পরিস্কার ও পবিত্র হওয়া যায়। বরই পাতার বদলে সাবান বা শ্যম্পু ব্যবহার করলেও উক্ত উদ্দেশ্য হাসিল হয়।

৪. আবার কেউ কেউ মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া ফরজ বলে উল্লেখ করেছেন। এই কথার দলীল হচ্ছে, নবি [সা.] -এর কন্যা যয়নবকে যারা গোসল দিচ্ছিলেন, তিনি তাদেরকে বললেন, যয়নবকে তিনবার গোসল করাও, অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার অথবা এর চাইতে অধিকবার- যদি তোমরা তা মনে কর। [বুখারি, অধ্যায় : জানাযা, অনুচ্ছেদ : মৃতকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দেয়া ও অজু করানো। হা/১২৫৩। মুসলিম, অধ্যায় : জানাযা, অনুচ্ছেদ : মৃতকে গোসল দেয়া, হা/৯৩৯।]
তাছাড়া বিদায় হজে আরাফা দিবসে জনৈক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় বাহন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু বরণ করলে নবি [সা.] বলেন, তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দ্বারা গোসল দাও এবং পরিহিত দু’টি কাপড়েই কাফন পরাও। [বুখারি, অধ্যায় : জানাযা, অনুচ্ছেদ : ইহরামকারী মৃত ব্যক্তিকে কিভাবে কাফন পরাতে হয়। হা/ ১২৬৭। মুসলিম, অধ্যায় : হজ, অনুচ্ছেদ : ইহরামকারী মৃত্যুবরণ করলে কি করতে হবে। হা/১২০৬।]
মৃত্যু ব্যক্তিকে গোসল করানো ফরজ। কিন্তু এটা জীবিতের সাথে সম্পর্কিত। কেননা মৃত্যু বরণ করার কারণে উক্ত ব্যক্তির উপর শরীয়তের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে গেছে। তাই জীবিতদের উপর ফরজ হচ্ছে, তাকে গোসল করিয়ে দাফন করা। কেননা নবি [সা.] এ সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফরজ গোসলের ফরজসমূহ হলো-
গোসলের ফরজ মোট তিনটি। এই তিনটির কোনো একটি বাদ পরলে ফরজ গোসল আদায় হবে না। তাই ফরজ গোসলের সময় এই তিনটি কাজ খুব সর্তকতার সাথে আদায় করা উচিত।
১. গড়গড়া কুলি করা।
২. নাকে পানি দেওয়া।
৩. এরপর সারা দেহে পানি ঢালা ও ভালোভাবে গোসল করা।
ফরজ গোসলের সুন্নাত আমলগুলো হলো-
১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোসল করার নিয়ত করা।
২. ফরজ কাজগুলোর মাঝে ক্রম বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
৩. প্রথমে ওজু করা।
৪. দুই হাতের কবজি পর্যন্ত ধোয়া।
৫. শরীরে কোনো নাপাকি থাকলে তা দুর করা।
৬. মেছওয়াক করা।
৭. সারা দেহে তিন বার পানি ঢালা।
ফরজ গোসলের মুস্তাহাবসমূহ হলো-
১. উচু স্থানে বসে গোসল করা যাতে পনি গড়িয়ে যায় ও গায়ে ছিটা না লাগে।
২. পানির অপচয় না করা।
৩. বসে বসে গোসল করা।
৪. লোক সমাগমের স্থানে গোসল না করা।
৫. পাক জায়গায় গোসল করা।
৬. ডান দিক থেকে গোসল শুরু করা।
ফরজ গোসলের সঠিক-শুদ্ধ নিয়ম-পদ্ধতি
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়ত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়ত করাতেই হবে এমনটা ভাবা বা জরুরি মনে করা বিদআত।
২. প্রথমে দুই হাতে কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুয়ে নেওয়া।
৩. এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধৌত করা এবং শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুয়ে পরিস্কার করা।
৪. এবার বাম হাতকে ভালো করে ধুয়ে ফেলা।
৫. এরপর অজু করতে হবে তবে দুই পা ধোয়া যাবে না।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
৭. এরপর সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে।
৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।
বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে
১. ফরজ গোসলে পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।
২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।

মূল : শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আলউছাইমীন রাহ.-সৌদি আরবের আরেকজন সম্মানিত আলিম, সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য।

Tuesday, March 21, 2017

ওযুর ফরয ও সুন্নাত সমূহ

ওযুর ফরয ও সুন্নাত সমূহ

ওযুর ফরয ৪টি
১. সমস্ত মুখ একবার ধৌত করা। (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)
২. দুই হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)
৩. মাথার এক চতুর্থাংশ একবার মাসাহ করা। (ঐ)
৪. উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)
ফায়দা : উপরোক্ত চারটি কাজের কোন একটি না করলে বা এর মধ্যে এক চুল পরিমাণও শুকনা থাকলে উযু সহীহ হবে না।
(প্রমাণ: শামী, ১:৯১/ আল বাহরুর রায়িক, ১:৯/ হিদায়া, ১:১৬)

উযুর সুন্নাত সমূহ
১. উযুর নিয়ত করা অর্থাৎ উযুকারী মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, পবিত্রতা অর্জন করা ও নামায জায়েয হওয়ার জন্য আমি উযু করছি।
(সূরা বায়্যিনাহ, ৫/ বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬৬৮৯)
২. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে উযু আরম্ভ করা। হাদীসে পাকে আছে, বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়ে উযু করলে যতক্ষণ ঐ উযু থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে ততক্ষণ অনবরত সাওয়াব লিখতে থাকবে, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে।(নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং-৭৮/ তাবারানী সাগীর, ১ : ৭৩)
৩. উভয় হাত পৃথকভাবে কব্জিসহ তিনবার ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৫৯)
৪. মিস্‌ওয়াক করা। যদি মিস্‌ওয়াক না থাকে তাহলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত মাজা মিস্‌ওয়াক অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি লম্বা না হওয়া এবং গাছের ডাল হওয়া মুস্তাহাব। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২১৬, ১৩৯, ৩৯৯০/ তিরমিযী, হাদীস নং-২৩/ বাইহাকী, হাদীস নং-১৭৪)
৫. তিনবার কুলি করা।
(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৮৫)
৬. তিনবার নাকে পানি দেয়া এবং নাক সাফ করা। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১০৭৭)
৭. তৎসঙ্গে প্রতিবারই নাক ঝাড়া।
(মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৩৬)
৮. প্রত্যেক অঙ্গকে পূর্ণভাবে তিনবার করে ধোয়া।
(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৫৯)
এর জন্য তিনবারের বেশি পানি নিতে হলে নিবে।
৯. দুই হাতে মুখ ধোয়া এবং মুখমণ্ডল ধোয়ার সময় দাড়ি খিলাল করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩১)
১০. হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা। (তিরমিযী, হাদীস নং-৩৮)
১১. একবার সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ্‌ করা।
(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৪)
১২. উভয় কান মাসাহ করা। উল্লেখ্য, কানের ছিদ্রের মধ্যে কনিষ্ঠ আঙ্গুল ঢুকিয়ে এবং ভিতর দিকে অবশিষ্ট অংশে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা মাসাহ করা।
(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩৫)
১৩. উযুর অঙ্গসমূহ হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধোয়া।
(মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৫৭৬/ সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং-১১৮
১৪. এক অঙ্গ ধোয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করা।
(মুসলিম, হাদীস নং-২৪৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৭৩)
১৫. তরতীবের সাথে উযু করা। অর্থাৎ উযুর অঙ্গসমূহ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। (আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩৭)
১৬. ডান দিকের অঙ্গ আগে ধোয়া।
(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৬৮)
১৭. শীত অথবা অন্য কোন কারণে যখন উযু করতে ইচ্ছে না হয়, তখনও উযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ধুয়ে উযু করা।
(তিরমিযী, হাদীস নং-৫১/ মুসলিম, হাদীস নং-২৫১)
১৮. উযুর মধ্যে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া :
اَللّهُمَّ اغْفِرْلِي ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ.
(আমালুল্‌য়াওমি ওয়াল লাইলাহ লি ইবনিসসুন্নী, হাদীস নং-২৮)
এবং উযু শেষ করে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া।
(মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৩৪)
অতঃপর এ দু‘আ পড়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنْ .
(তিরমিযী, হাদীস নং-৫৫)
উল্লেখ্য, গোসল এবং তায়াম্মুমের শুরু ও শেষে উযুতে বর্ণিত দু‘আ পড়বে।
বি.দ্র. শুধু এ সব বর্ণনা পড়ার দ্বারা সুন্নাত তরীকায় উযু করা সম্ভব নয়, এ জন্য কোন হাক্কানী আলেম থেকে সব বিষয়গুলো চাক্ষুষভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে সকল বিষয় চাক্ষুষভাবে দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। (তিরমিযী, হাদীস নং-১৪৯)