Showing posts with label প্রবন্ধ নিবন্ধ. Show all posts
Showing posts with label প্রবন্ধ নিবন্ধ. Show all posts

Saturday, May 30, 2020

ফেকআইডি ও অপপ্রচারঃ প্রতারণা ও মিথ্যাচার

ফেকআইডি ও অপপ্রচারঃ প্রতারণা ও মিথ্যাচার


ফেকআইডি ও অপপ্রচারঃ প্রতারণা ও মিথ্যাচার
তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ফেসবুকের ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে নেতিবাচক দিকও। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে ফেসবুক এখন নতুন এক নেশায় পরিণত হয়েছে।যা হতাশাব্যঞ্জক ও বিপদজনক! তারচেয়ে আরো দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে কিছু অসৎ ও অসাধু ব্যক্তি ফেসবুককে মন্দকাজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা ফেকআইডি খুলে প্রতিনিয়ত মানুষকে ধোকাঁ দিচ্ছে। বিভ্রান্ত করছে। মানহানি করছে। পরস্পর বিবেদ লাগিয়ে দিচ্ছে। গীবত, অপবাদ, চরিত্রহনণ, হুমকি ধমকি প্রদানসহ নানা অপকর্মে ফেকআইডিগুলো ব্যবহার করছে। যা  অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাসূল (সাঃ)বলেন, من غش فليس منا  যে ধোঁকা দেয় সে আমার অর্ন্তভূক্ত নয়। 
যেসব কারণে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ লোপ পায়, সমাজ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়, সামাজিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি নষ্ট হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গীবত, যা মানুষকে নিকৃষ্টতম প্রাণীতে পরিণত করে। তাইতো আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) মানুষকে এই নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ হে মুমিনগণ তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাকো। কতক ধারণা পাপের অর্ন্তভূক্ত। তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না, একে অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরাতো সেটাকে ঘৃণাই করে থাকো। আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু”- হুজুরাতঃ১২। রাসূল (সাঃ) বলেন, গীবত যিনা ব্যভিচারের চেয়েও বেশি জঘন্য ও ঘৃণ্য অপকর্ম” অন্য হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেন, গীবত শ্রবণকারী গীবতকারীদের পাপের ভাগীদার। আলোচ্য আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রতিয়মাণ হয় যে, গীবত এমন এক জঘন্য অপকর্ম যা মানুষের ঈমান ও আমলকে ধ্বংস করে দেয়। বরবাদ করে দেয় তাদের ইহকাল ও পরকালকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, না জেনে না বুঝে আমরা সর্বদা এ জঘন্য অপকর্মে ভেসে চলেছি। বিশিষ্ট ও সাধারণ কেউই আমরা এ মারাত্মক রোগ থেকে মুক্ত নই। সমাজের সর্বস্তরের সকলে এ মহামারী রোগে এমনভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন যে, এটাকে এখন আর কেউ পাপকর্ম বলেই গণ্য করেন না। আমাদের অন্তর থেকে সে অনুভূতিটুকুও লোপ পেয়ে গেছে। বিবেকের ঘটেছে অপমৃত্যু। আর এজন্য আমাদের নেই কোন অনুতাপ, অনুশোচনা, নেই কোন তাড়না।
ইবনুল কায়্যিম (রাহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি তার নিজেকে ভালোভাবে চিনতে পেরেছে, সে অন্যের দোষ-ত্রুটি বাদ দিয়ে নিজের সংশোধনে লেগে গেছে। খারাপ স্বভাবের মধ্যে খুবই ফালতু একটা স্বভাব হলো, মানুষের সমালোচনা করে বেড়ানো। প্রথমত, এর দ্বারা গীবত হয় এবং এর বিনিময়ে সমালোচনার শিকার হওয়া ব্যক্তি হাশরের মাঠে সমালোচনাকারীর নেকি নিয়ে নিবে। দ্বিতীয়ত, এর দ্বারা সমাজে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়। 
হাদিসে এসেছে, من ستر مسلماً ستره الله في الدنيا والآخرة যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবে, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবেন। আল্লাহপাক আমাদেরকে পরনিন্দা, গীবত, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষসহ সকল খারাপ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন

‌লেখকঃ মাওলানা এরফান শাহ্   
গ্রন্থকার ও কলা‌মিস্ট
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

Sunday, April 19, 2020

কিছু আবেদনময়ী বোরকা ওয়ালী

কিছু আবেদনময়ী বোরকা ওয়ালী

✋একটু ব্যতিক্রমি পোস্ট। 
👉আগে পড়ুন পরে কমেন্ট করুন।
🌸ইদানিং একটি বিষয় লক্ষ্য করছি যে, " কাওমি মহিলা মাদ্রাসার " নামে মেয়রা এমন কিছু পোস্ট কোরতেছে আর এমন কিছু আবেদনময়ী বোরকা ওয়ালী
মেয়দের পিক আপলোড করছে যার কারনে কাওমী অঙ্গনের বদনাম হচ্ছে।। 

আচ্ছা আপনারা আপনাদের সুস্হ বিবেক থেকে চিন্তা করে বলেন তো আমি যে কয়েকটি বোরকা ওয়ালী মেয়ের পিক আপলোড করলাম এগুলা কি বাস্তবেই পর্দা শিখাচ্ছে?? না  এই আবেদনময়ী চাহনী অন্যদিকে আহবান করছে??

এই আবেদনময়ী বোরকাওয়ালীর চাহনির কারনে কত ছেলে অন্যরকম কমেন্ট করছে।। আর এখান থেকে আপনারা স্বাদ নিচ্ছেন।।
এগুলা কি গুনাহ নয়।।।

কেউ কেউ আবার পোস্ট করছ যে, 
❌কাওমি ওয়ালীদের বিয়ে করতে কপাল লাগে।।
❌কাওমী মেয়েরা একটু বেশি কিউট হয়।
❌কে কে কাওমি মেয়েদের পছন্দ করেন?
এই সেই আরো অনেক কিছু। 

এগুলা কিরে বোন?? এসব কথা দ্বারা তুমি কি বুঝাতে চাও??

এগুলাকে পর্দা বলেনা বরং এই সমস্ত কথা আর আবেদনময়ী পিকের কারনে ছেলেরা খারাপ চিন্তা করে।। আর যৌন সুড়সুড়ি দেয়া হচ্ছে।।। 

বাস্তবিক অর্থে যারা কাওমি মেয়ে তারা এসব পিক আপলোড করতে পারনা।।।

কখনো কি চিন্তা করছেন এসবের পিছনে কোন ষড়যন্ত্র আছে কি না??

কিছু আমার বোন আছে যারা না বুঝে এসব ষড়যন্ত্রের ফাদে পা দিয়েছে।। 

প্লিজ এসব থেকে বিরিত থাকেন।। পর্দার পোস্ট করতে চাইলে কোন ফুল বা ফলের পিক দেন বা প্রকৃতির পিক দেন।। 

  এসব খারাপ লাগলো তাই বল্লাম। তাই আগে ভাবুন পরে পোস্ট করুন। কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন.....

Wednesday, April 8, 2020

বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে শাইখ সুদাইসের উপদেশ

বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে শাইখ সুদাইসের উপদেশ


বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন সবার মাঝে এক মহা আতঙ্ক ও আশংকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শুরু থেকেই মুসলমানদের প্রধান দুই মসজিদে সাধারন মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে।

রোববার (৬ এপ্রিল) মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট ও মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ ড. আব্দুর রহমান সুদাইস মদিনার মসজিদে নববীতে এশার নামাজের ইমামতি করেন।

নামাজের পর তিনি বর্তমান বিপর্যস্ত বিশ্বের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাঠকদের জন্য শাইখ সুদাইসের পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হল-

বর্তমান বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সারা বিশ্ব আজ ধেয়ে আসা একটি মহাবিপদে আপতিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক মহা পরীক্ষা।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। (সূরা বাকারা-১৫৫)

দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের হারামাইনের এই পবিত্র ভূমিও আজ এ মুসিবতের অনুপ্রবেশ ও বিস্তার থেকে মুক্ত নয়। এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকাই বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। (সূরা আল ক্বমার- ৪৯)

যে কোনো মুসিবত আল্লাহর নির্দেশে আপতিত হয়। যেগুলো তার মহিমান্বিত বাণীতে সুবিদিত হয়েছে, আল্লাহ্ ইরশাদ করেন, পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (সূরা হাদীদ- ২২)

শুনে রেখ! তারই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরা আরাফ- ৫৪)

তাই, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবার উচিত আল্লাহর প্রতি ঈমানকে দৃঢ় করা এবং তার ওপর ইতিবাচক ধারণা পোষন করা। আল্লাহ আমাদের বরকতদাতা, তিনিই মহান। সঙ্গে এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করা উচিত যে, আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠ রূপে ফিরে যাওয়া ব্যতীত আমাদের আর কোন গন্তব্য নেই।

সমগ্র মুসলিম জাতির কর্তব্য হল এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সুরক্ষার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করা এবং এটিকে প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া। হারমাইনের পবিত্র এই দেশটিও শরীয়তের মূলনীতি বিবেচনায় নানা ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। মনে রাখতে হবে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরক্ষাই উত্তম।

সবমিলিয়ে নিজেদের সুস্থতার প্রতি সচেতন হতে হবে। কেননা আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যেকই যার যার স্থানে দায়িত্বশীল। নিজেদের অধীনস্থদের বিষয়ে আমরা নিজেরা প্রশ্নের সম্মুখীন হবো। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা উচিত। এটিই শরীয়তের দাবি।

কোয়ারেন্টিনের এই উদ্ভাবন শরীয়তের আলোকেই সাব্যস্ত। আল্লাহ বলেন, আর তোমরা তোমাদের নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। (সূরা বাকারা-১৯৫)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সূরা নিসা- ২৯)

আর আমরা কোনো ধরণের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নিজেদের মাঝে আশাবাদের জাগরণ সৃষ্টি করব। ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই এই শঙ্কা কেটে যাবে।

তাই আমাদের জন্য উচিত হল অধিক পরিমাণে দোয়ায় মনযোগী হওয়া। কেননা এটি মুমীনের হাতিয়ার। আল্লাহ বলেন, তোমাদের পালকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তাতে সাড়া দেবো। (সূরা মুমিন-৬০)

আর আমাদের আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করা উচিত। আল্লাহর ইরশাদ, আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গাম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম; যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে। এরপর তাদের কাছে যখন আমার আজাব আসলো, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করলো না? (সূরা আনআ'ম- ৪২-৪৩)

আর এটি সুবিদিত এবং পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়ম যে, মুসিবতে আল্লাহমুখী হলে তা তিনি দূরীভূত করে দেন।

আর আমরা এখন মহিমান্বিত রমজানের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। তাওবা ও ইস্তেগফারের মধ্য দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং আগত মাসকে বরণ করে নেয়া এখন আমাদের প্রধান কাজ।

Saturday, April 4, 2020

৪ ঠা এপ্রিল হরতাল মুফতি আমিনী রাহ: রাজনীতি: মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি

৪ ঠা এপ্রিল হরতাল মুফতি আমিনী রাহ: রাজনীতি: মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি



৪ঠা এপ্রিল হরতাল ও মুফতি আমিনী রহ. এর রাজনীতি

ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। হঠাৎ একদিন পত্রিকায় প্রকাশ হল সরকার কুরআনবিরোধী নারীনীতিও পাশ করতে যাচ্ছে। আর বসে থাকার সুযোগ নেই। তাছাড়া গতানুগতিক আন্দোলনে সরকারের হুঁশ ফিরবে না, তা বুঝা গেছে কথিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে।
তাই ওই দিন বিকালেই মুক্তাঙ্গনে তাৎক্ষনিক এক সমাবেশ করে আল্টিমেটাম দিয়ে ৪ঠা এপ্রিল হরতালের ডাক দিলেন মুফতী আমিনী রহ.।

শুরু হল হরতাল সফলের প্রস্তুতি। লালবাগ থেকে ছোট্ট ছোট্ট কাফেলা ছড়িয়ে পড়ল গোটা বাংলাদেশে। অধম রাজবাড়ী, ফরিদপুর হয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ওই অঞ্চলের প্রতিটি মাদ্রাসায় হরতাল সফলের লক্ষে সফর করেছি।
লালবাগে ঢাকার উলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে একাধিকবার। বিতরণ করা হয়েছে লিফলেট ও পোস্টার।

কিন্তু এ ছিল বাহ্যিক কর্মকাণ্ড। যা সব হরতালেই লোকেরা করে থাকে। এ হরতাল সফল হওয়ার পিছনে কাজ করেছে অন্য কিছু।
আমিনী রহ. জীবনের শেষের দিকে সাধারণত সকাল ১১টায় মাদ্রাসায় আসতেন। দরস- তাদরিস, মিটিং মতবিনিময়, তাঁর দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তদারকি নিয়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করতেন। রাতের শেষভাগ আর শুক্রবারের আসর থেকে মাগরিব রুম বন্ধ করে তিনি একা হয়ে যেতেন।

এ হরতাল ঘোষণার পর পাল্টে গেল নিয়মিত সূচি। সময়ে সময়ে রুম বন্ধ পাওয়া যেত। কখনো ১১টার দিকে এসেই রুম বন্ধ করে দিতেন। আসরের পরেও রুম ভেতর থেকে বন্ধ থাকত। চলে যেতেন একেবারে ভেতরের ছোট্ট কামরাটিতে। সেখানে গিয়ে কি করতেন একথা অন্তত লালবাগের সবারই জানা। কান্নাজরিত কণ্ঠে তিলাওয়াত আর সিজদায় পরে চিৎকারে ভারী হয়ে উঠত পরিবেশ। তিনি কাঁদতেন, মহান রবের দরবারে অঝোরে কাঁদতেন। আজো মনে হয় তাঁর কান্নায় বুকটা আমার ফেটে যাবে।
এবং এই দিন গুলিতে তিনি ধারাবাহিক রোযা রেখেছেন। ভয়ভীতি এসেছে পরওয়া করেন নি। সন্তান ও পরিবারের মায়া মহব্বতও তাকে দ্বীনি আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারে নি।
এছাড়া প্রধান রাজনৈতিক মিত্র ছিল বিএনপি। হরতাল পর্যন্ত হযরত বিএনপির কারো ফোন রিসিভ করেন নি। কিংবা জোটভুক্ত কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থনও চান নি। তাইতো ২০দলীয় জোট শেষ মুহূর্তে নৈতিক সমর্থন দিলেও অনেকটা উদাসীন ছিল এই কর্মসূচী নিয়ে।
যেহেতু এটি ইমানী আন্দোলন, তাই মুফতি আমিনী রহঃ এমনটি করেছেন। যাতে তা রাজনৈতিক রুপ না পায়। বা কোন দল কিংবা গোষ্ঠীর পক্ষে না যায়। এ আন্দোলন মুসলমানদের। মুসলমানরা দল মত নির্বিশেষে তাতে অংশ গ্রহন করবে।
এই ছিল সফলতার কারন। আর এমনই ছিল মুফতী আমিনীর রাজনীতি।
(৪ ঠা এপ্রিল ২০১৬)

Friday, April 3, 2020

রাতজাগাপাখি আল্লামা মামুনুল হক : অজানা একটি আজীব তথ্য পেলাম

রাতজাগাপাখি আল্লামা মামুনুল হক : অজানা একটি আজীব তথ্য পেলাম


রাত জাগা পাখি। আল্লামা মামুনুল হক হাফি:। অজানা একটি আজীব তথ্য পেলাম!
আমার ইসলাহী মুরুব্বী,প্রিয় রাহবার, মুসলিম বাজার মাদরসার মুহতামিম এবং শাইখুল হাদিস রহ: এর খাদেম মুফতি আব্দুল ওয়াহিদ কাসেমী দা:বা: এর কাছে গতকাল এবং আজ ছিলাম। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে সময় এক পর্যায়ে উস্তাদে মুহতারাম আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের ব্যাপারে কথা উঠলে হুজুর আমাকে বললেন-
রিজওয়ান! মামুনুল হক আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ও আমার মাখদুম শাইখুল হাদিস রহ: এর সাহেবজাদা। তার ব্যাপারে আমার কিছু বিষয় জানা রয়েছে।
বাবার থেকে ওয়ারিশ সূত্রে বেশ কিছু বিষয় মামুন ভাই পেয়েছেন।তার মধ্যে একটি হল- আমি শাইখুল হাদিস রহ: এর রাত্রি জাগরন দেখেছি। রাতভর তিনি কিভাবে মহান আল্লাহর জিকির, নামাজ ও রোনাজারিতে কাটাতেন। আমি নিজ চোখে দেখেছি। সে বিষয়গুলো মামুন ভাই বাবা থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছেন।

মামুন ভাই এত হুংকার দেন, এর পেছনে শুধু উনি জনশক্তিকে প্রধান হাতিয়ার মনে করেন না, এর পেছনে মূল হাতিয়ার মামুন ভাইয়ের রাত্র জাগরণ ও রোনাজারি। অতএব বাতিলের বিপক্ষে কাজ করতে রাত্রি জাগরনের অভ্যাস করো।

আলহামদুলিল্লাহ। এমন একজন মহান উস্তাদের ছাত্র হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ ওয়াশ শুকর ওয়াফিরা।

মুফতি রিজওয়ান রফিকী ফেসবুক টাইমলাইন

Monday, March 30, 2020

হেযবুত তওহীদ নিয়ে প্রশাসনের প্রতি খোলা চিঠি।

হেযবুত তওহীদ নিয়ে প্রশাসনের প্রতি খোলা চিঠি।


প্রশাসনের প্রিয় ভায়েরা!
আমি বিশ্বাস করি- আপনারা দেশের শান্তির জন্য প্রায় প্রতি রাতের ঘুম হারাম করে, জিবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি করে থাকেন।
যে সময় আপনাদের বাবা, মা, সন্তান, স্ত্রী, আত্মীয় স্বজন সবাই ঘুমিয়ে থাকেন, ঠিক তখনও আপনাদের রাত জেগে ডিউটি পালন করতে হয়। জনগনের নিরাপত্তার জন্য মৃত্যুর ঝুঁকি নিতেও ভয় করেন না আপনারা।আপনাদের এ অবদানের মূল্য দেবার ক্ষমতা আমাদের নেই। শুধু এতটুকু বলি আপনারা যাঁরা দেশ,জাতি,মানবতা ও ধর্মের জন্য নিশ্বার্থ কাজ করছেন,আপনাদের এ সেবার মূল্য মহান রব নিজ হাতে দান করেন।আমিন!

প্রিয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী! 
যখন আপনাদেরই সামনেই কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের দেশে সংঘবদ্ধ হয় এবং দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে ততপর হয়, তখন আমরা জেনে শুনে চুপচাপ থাকতে পারি না।
কারণ মানবীয় দৃষ্টিকোন থেকে আমাদের মত সাধারণ মানুষেরও অনেক দায়ীত্ব রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

আপনাদের মত আমরা অস্ত্র হাতে নিতে না পারলেও, বক্তব্য ও লেখনীর অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতিকে সতর্ক করে আপনাদের কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারি। সাধ্যমত চেষ্টা করি হরদম। এটাকে শুধু দায়ীত্ব নয় বরং সৌভাগ্যের ব্যাপার মনে করি।আমরা চাই স্বাধীন দেশটা নৈরাজ্য থেকে হেফাযত থাক।

প্রিয় প্রশাসন! 
আজ আমি একটি সন্ত্রাসী সংগঠণের সাথে প্রমাণসহ পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছি।যারা অলরেডি সরকারের কালো তালিকাভুক্ত সংগঠণ তথা হেযবুত তওহীদ। এ সংগঠণের প্রতিষ্ঠাতা বায়াজীদ খান পন্নী (ডাক নাম সেলিম খান পন্নী) ৭১ সালের একজন নাম করা রাজাকার ছিলেন। টাঙ্গাইলে শান্তি কমিটি যারা গঠণ করেছিলো, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল এ পন্নী সাহেব ও তার বাবা মেহেদী আলী খান পন্নী খসরু। দেশ স্বাধীনের পর তাদেরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে এলাচীপুর এনে বিচার করা হয়েছিল। যা 'স্বাধীনতা ৭১' বইয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন। বিস্তারিত এখানে দেখতে পারেন- https://youtu.be/-ECJdUqc3aU

অবশ্য তারা জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কিছু সেমিনার করে আপনাদের সতর্ক দৃষ্টি তাদের থেকে সরাতে ব্যপক ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের বই পুস্তকে সন্ত্রাসকে উস্কে দেয়ার যেসব কথাবার্তা রয়েছে সেগুলোর কি হবে?
মুখে মুখে জঙ্গিবাদের বিরোধিতা করলেও তারা যে তাদের সদস্যদের সেগুলোই নিয়মিত পড়াচ্ছে সেগুলোর কি হবে? স্বশস্ত্র সংগ্রামকে যারা নিজেদের মূল থিউরী বানিয়ে বই-পুস্তক ছড়াচ্ছে এবং তাদের কর্মীদের সেভাবে তৈরী করছে, সেগুলো কোন নজরে দেখছেন? কোনো নাগরিকের কি স্বশস্ত্র সংগ্রামের অনুমতি দেশের সংবিধান অনুমতি দেয়? যদি দেয় তাহলে আমার জানা মতে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অনেক আলেম কারাবন্ধী। কেন? আর যদি স্বশস্ত্র সংগ্রাম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়, তাহলে নিন্মোক্ত কথা যে সংগঠণ নিয়মিত চর্চা করছে তাদের ব্যাপারে আপনারা চুপ কেন?

চলুন তাদের কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরি-
১. একথা যুক্তিসংগত যে, যে যোদ্ধা নয়,যুদ্ধ জানেনা তার এই দীনুল ইসলামের সমিতির প্রাথমিক সভ্যপদেরও (Primary membership) যোগ্যতা নেই। ভালো সভ্য হওয়া তো দুূরের কথা।
সূত্র: ইসলামের প্রকৃত আকীদা পৃ:১৮

২.জিহাদকারীর মর্যাদা নবীদের চেয়েও বেশি।
সূত্র: ইসলামের প্রকৃত আকীদা পৃ:১৭

৩.সালাতের প্রশিক্ষণ শুধু আমাদের যুদ্ধ শেখায় না, সালাহ্ চারিত্রিক,দৈহিক,মানসিক, আত্মিক,আধ্যাত্মীক বহু প্রকারের শিক্ষা দেয় যদিও যুদ্ধের প্রশিক্ষণটাই প্রথম ও মুখ্য।
সূত্র:এসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ:২১

৪.আর এই উম্মতে মোহাম্মাদীর প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে- সশস্ত্র সংগ্রাম কোরে সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক দীন কার্যকর কোরে মানব জাতির মধ্যেকার সমস্ত অন্যায়, অবিচার,অত্যাচার,অশান্তি,রক্তপাত দূর করে শান্তি (এসলাম) প্রতিষ্ঠা কোরে এবলিসের চ্যালেঞ্জে তাকে পরাজিত কোরে আল্লাহকে জয়ী করা।
সূত্র:এসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ:২১

৫. সশস্ত্র সংগ্রাম না করলে যেকোন ইবাদত মূ্ল্যহীন।এমনকি কেয়ামতে নবির সুপারিশও পাবে না।
সূত্র: ইসলামের প্রকৃত আকীদা পৃ:১৬

৬. হেযবুত তওহীদ যারা আসবে তারা নিশ্চিত জান্নাতী।
সূত্র: আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা পৃ:৬৩

শান্তি রক্ষাকর্তা প্রিয় প্রশাসন! উপরোল্লিখিত কথা গুলো ধর্মের অপব্যাখ্যা করে ইসলামকে বরং সন্ত্রাসের ধর্ম বলে চালিয়ে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র বলে আমি মনে করি, পাশাপাশি সরাসরি রাষ্ট্রের সংবিধান বিরোধী।
উপরোল্লিখিত কথা গুলো ইসলামের সত্যিকারের জিহাদের কথা নয় বরং ট্যারোরিষ্টদের কথা। জিহাদ আর সন্ত্রাস এক নয় বরং পুরোটাই উল্টা।সন্ত্রাস ধ্বংশ করতেই জিহাদ। কিন্তু সে জিহাদের অপব্যাখ্যা করে সন্ত্রাসবাদ তৈরির জন্য উল্লেখিত কথা গুলো কি বড় ভূমিকা রাখবে না? বলুন! এরপরও কি তারা শুধু কালো তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকবে? নিষিদ্ধ হওয়া যৌক্তিক নয় কি? 

আমি তো মনে করি হেযবুত তওহীদের এসব কথাবার্তার পরও তাদেরকে ওপেন ভাবে কার্যক্রমের সুযোগ দেয়া মানে ট্যারোরিজমকে সুযোগ দেয়া। এত মারাত্মক কথা থাকার পরও কাদের ছত্রছায়ায় তারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে আমার বোধগম্য নয়।

প্রিয় বাহিনী! তারা শুধু সন্ত্রাসী সংগঠণ নয় বরং ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকেও একটি ভ্রান্ত ও কুফরী সংগঠন।ইসলামী মূলধারা বিবর্জিত একটি সংগঠণ। 
তারা একে একে ইসলামের অধিকাংশ বিধিবিধান নিয়ে বাজে মন্তব্য করে সমাজে দাঙ্গা লাগানোর পায়তারা করছে। তাদের উগ্র কথাবার্তা সমাজের তাওহীদ প্রিয় মুসলমানদের হ্নদয়ে বারবার আঘাত করেই চলেছে। 

তারা প্রচলিত ইসলামকে ভুল, মরা,পচা এবং হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান ধর্মের মত আখ্যায়ীত করার পাশাপাশি ইসলামকে নরকীয় সিস্টেম যা শান্তি আনতে ব্যার্থ বলে দাবী করেছে।
সূত্র: ইসলামের প্রকৃত সালাহ পৃ:২০/৬১

শুধু তাই নয় বিশ্বব্যাপী ১৬০ কোটি মৃসলমানকে কাফের-মোশরেক, আবু জেহেলের মত এমনকি ইহুদীদের মত অভিসপ্ত এবং জাহান্নামী বলে দাবী করেছে এই হেযবুত তওহীদ।
সূত্র:এসলাম শুধু নাম থাকবে পৃ:৭২/৭৫/৭৭/৮৩/৮৪১০৮/

তারা আরো দাবি করেছেন-
১. হেযবুত তওহীদের সদস্যদের দুই শহীদের মর্যাদা এমনকি সরাসরি জান্নাতী।
২. পন্নী সরাসরি আল্লাহর মনোনীত এমাম,
৩. পন্নীর উপর মোজেজা সংগঠিত হয়েছে।
৪. নবিরা যেখানে ব্যার্থ, সেটা পন্নীকে দিয়ে হবে।
৫. আলেম এবং ফকিহরা ইসলাম বিকৃত করেছে, এরা কুকুর-শুকরের চেয়েও খারাপ।
৬. ইবলিসের চ্যালেঞ্জে আল্লাহ হেরে গেছেন।
৭. রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জ না করতে পারলে ইবাদতের কোন মূল্য নেই।
৮. বোরখা শয়তানের আবিস্কার। 
৯. শুধু ইসলাম নয়, যেকোন ধর্ম পালন করে জান্নাতে যাওয়া যাবে।
১০. সনাতন ধর্ম কোরআনের ধর্ম।
১১. গান-বাজনা হালাল। 
১২. কবিরা গুনাহ করলেও হিসাব দেয়া লাগবে না। 
১৩. বেতন নিলে সে ইমামের পেছনে নামাজ পড়া যাবেনা। 
১৪. নবিজি স: তাঁর দায়ীত্ব পূর্ণ করতে পারেননি। 
১৫. নবিজি স: আজও রহমাতুল্লিল আলামিন হতে পারেননি।
১৬. নবিজির সুন্নাহ বলতে শুধুই জিহাদ। খাওয়া,শোয়া,পোষাক ইত্যাদীতে নবিজির কোন সুন্নাত নেই।
১৭. দাড়ি,টুপির সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।

এভাবে করে একে একে নামাজ,রোজা,হজ্ব,যাকাতসহ ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে তারা অপব্যাখ্যা করে সমাজের মুসলিমদের উস্কে দিচ্ছে বিশৃঙ্খলার জন্য।

প্রিয় প্রশাসনের দায়ীত্বশীলগণ! হেযবুত তওহীদ শুধু ধর্ম নয় দেশেরও শত্রু। যা আমি এখানে তুলে ধরলাম,আশা করি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং যথাপোযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যথায় দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য মহাহুমকি হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি। তাই ধর্ম ও দেশটাকে সুরক্ষিত রাখতে হেযবুত তওহীদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। মহান রব আমাদের দেশটা সমস্ত আগ্রাসন থেকে হিফাযতে করেন। আমিন!

নিবেদক,
রিজওয়ান রফিকী
বোর্ডবাজার, গাজীপুর সিটি।
৩০/৩/২০২০ ঈ:

Saturday, March 28, 2020

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে একযোগে   আযান;ইসলাম কি বলে?

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে একযোগে আযান;ইসলাম কি বলে?

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে একযোগে   আযান;ইসলাম কি বলে?
পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের মতো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশও আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার কথা সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে। এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে মহান আল্লাহ তায়া’লার নিকট দুআ কান্নাকাটি ও তাওবা ইস্তেগফার না করে কতিপয় মানুষ একের পর এক গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বর্তমান মোবাইল ও ইন্টারনেটের যুগে গুজব ছড়ানো খুবই সহজ। আজকাল ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ব্লগগুলোয় গুজব ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা হরহামেশাই  ঘটছে

ক'দিন আগে জনৈক ব্যক্তির স্বপ্নের প্রেক্ষিতে গভীর রাতে তানকুনি পাতা খাওয়ার গুজবের পর গতকাল ২৬ মার্চ দিবাগত রাতে নতুন করে ছড়িয়েছে সকল মসজিদে একযোগে আযানের গুজব। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে গতরাত ১০ টায় পুরো দেশের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে আযান দেওয়া হয়েছে।
অনেক জায়গায় মহিলারাও আযান দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হয়েছে "আযান দিলে এবং রং চা-খেলে করোনা ভাইরাস থাকবে না।কেহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবে না। আরো নানা কথা...

আযান যেহেত ইসলামের একটা বিধান তাই আযানের এ গুজবের পর মহামারির সময়ে সমষ্টিগতভাবে আযান দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে কিনা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ অনলাইন-অফলাইনে জোরদার তর্কবিতর্ক চলছে।

আযান ইসলামের বিধান। তবে কখন কোথায় এর নির্ধারিত স্থান ও হুকুম বর্ণিত রয়েছে। যেমন-
★ ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নাত।
★ তেমনি তাহাজ্জুদের জন্য আযান দেওয়াও প্রমাণিত।
★ নবজাতকের ডান কানে আযান ও বাম কানে ইক্বামত দেওয়া সুন্নাত।
★  জঙ্গলে ভয় পেলে আযান দেওয়ার কথা বর্ণিত আছে।
★ ভূত দেখলে বা পেশ হলে আযান দেওয়ার কথা বর্ণিত আছে।
★ মানুষ জিন দ্বারা আক্রান্ত হলে, জ্বিনের বীভৎস রূপ পরিদৃষ্ট হলে আযান দেয়া যায়, যাতে আযান শুনে সে পালিয়ে যায়। কেননা, মন্দ জ্বিন ও শয়তান আযান শুনলে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে ভেগে যায়।
জিনের আছর বন্ধ করতে আযানের কথা বর্ণিত আছে।

উল্লিখিত স্থান ছাড়া আযান দেওয়া শরীয়তে প্রমাণিত নয়।

এবার আসা যাক মূল আলোচনায়। করোনা ভাইরাস বা এ ধরনের মহামারী থেকে বাঁচতে আযান দেওয়া ইসলামি শরীয়তে এর কোন ভিত্তি আছে কিনা?
এ ব্যাপারে কুরআন হাদীসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাদি অধ্যয়ন করলে জানা যায় যে,মহামারি ইত্যাদি থেকে বাঁচতে সমষ্টিগত ভাবে আযান দেওয়া হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদিন, সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত নয়। ইসলামি শরীয়তে এভাবে সমষ্টিগত আযানের কোন নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েত পাওয়া যায় না। এর কোন ভিত্তি নেই। তাই সুন্নাত,মুস্তাহাব বা সওয়াবের কাজ মনে করে এভাবে আযান দেওয়া ইসলামি  শরীয়তের পরিপন্থী কাজ।

মহামারির সময়ে তাওবা, ইস্তিগফার, দোআ দরুদ পড়ার কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে।

মহামারির সময় সমষ্টিগত আযানের ব্যাপারে ফক্বীহুন নফস আল্লামা রশীদ আহমাদ গংগুহী রহ.  ফাতওয়ায়ে রশীদিয়া ১ নং খন্ডের ১৪৫ নং পৃষ্ঠায় লিখেন-

طاعون وبا وغیرہ امراض کے شیوع کے وقت کوئی خاص نماز احادیث سے ثابت نہین ہے نہ اسوقت اذانیں کہنا کسی حدیث میں وارد ہواہے اس لئے اذان کو یا نماز جماعت کو ان موقعوں میں ثواب یا مسنون یا مستحب جاننا خلاف واقع ہے

অর্থ-মহামারি ইত্যাদি রোগ ছড়িয়ে পড়লে নির্দিষ্ট কোন নামায বা আযান দেওয়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। এ জন্য এসময়ে বিশেষ পদ্ধতিতে আযান বা জামায়াত সহকারে নামায পড়াকে সওয়াবের কাজ বা সুন্নাত,মুস্তাহাব মনে করা শরয়ী বাস্তবতার পরিপন্থী।

وبا کے وقت اذان دینا شرعاً
ثابت نہیں _ اس کو سنت یا مستحب سمجھنا درست نہیں _”
(احسن الفتاوی :375 /1)

অর্থ-মহামারির সময় আযান দেয়ার শরয়ী কোনো ভিত্তি নেই।এমন সময় আযান দেয়াকে সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করা ঠিক নয়। (আহসানুল ফাতওয়া ১/৩৭৫)

অনেকের প্রশ্ন,আযান দেওয়া এটা তো ভালো কাজ।এই করোনা ভাইরাসের নাজুক পরিস্থিতিতে আযান দিলে সমস্যা কোথায়? এ প্রশ্নের জবাব একেবারেই সহজ। আর তা হলো-ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। মানব জীবনে করণীয় বর্জনীয় সবই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন। মন যা চায় তা করলে সেটা ইবাদাত হবেনা। বরং একজন মুসলমানের প্রত্যেকটা কাজ হতে হবে আল্লাহ তায়া’লার হুকুম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ত্বরীক্বা মতো। কোন একটা কাজ ইবাদাত বা সওয়াবের হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো- সেটা আল্লাহর হুকুম এবং রাসুলুল্লাহ সা.এর সুন্নাহ মোতাবেক হতে হবে। মহামারী ইত্যাদির সময় এভাবে আযান দেওয়া রাসুলুল্লাহ সা. থেকে প্রমাণিত নয় তাই আযান একটা ভালো কাজ হলেও এই সময়ে ইসলামের বিধান,সওয়াবের কাজ বা সুন্নাত মুস্তাহাব মনে করে তা দেওয়া যাবেনা। নামায ভালো কাজ তবে নিষিদ্ধ সময়ে কেহ নামায পড়লে সওয়াবের জায়গায় গুনাহ হবে। মহামারি ইত্যাদি আজ নতুন নয়। সাহাবায়ে কেরামের সময়েও বিভিন্ন মহামারি দেখা দিয়েছে। যদি আযান দেওয়া ইসলামের বিধান বা রাসুলুল্লাহর সুন্নাহ হতো তাহলে সাহাবায়ে কেরাম থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যেতো।কিন্তু তা পাওয়া যায়না।

★ গুজব বড় গুনাহ;থেকে বেঁচে থাকা উচিত:

মূলত গুজব হল, যার কোন ভিত্তি নেই। মিথ্যা খবর অপ-প্রচার করে সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা হয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মিথ্যা তো তারাই বানায় যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের ওপর ঈমান রাখে না। বস্তুত তারাই মিথ্যাবাদী’ (সূরা নাহল, আয়াত-১০৫)। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়’ (সহিহ মুসলিম)।

মিথ্যা কথা বলা,প্রচার করা বড় গুনাহ।
মিথ্যা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন : ‘মিথ্যাবাদীদের উপর অভিসম্পাত।' (আল-ইমরান-৬১)
‘আল্লাহ তায়ালা মিথ্যুক অপচয়ীকে সুপথ দেখান না।' (মুমিন : ২৮) আল্লাহ তায়া’লার লা'নত বা অভিশাপের চেয়ে বড় বিষয় আর কি হতে পারে!

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়তে বলেছেন, করোনা ভাইরাসের এই নাজুক পরিস্থিতিতেও আমরা এ দুআ বেশি বেশি পড়তে পারি-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ.  (رَوَاهُ أَبو داود بإِسنادٍ صحيح)

উচ্চারণ:  ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি,ওয়া সাইয়ি ইল আসক্কাম’।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সমস্ত দুরারোগ্য ব্যাধি হতে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৫৪)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার তাওফিক দান করুন!

[সংকলনে-

★ হাফেজ মাওলানা জুনাইদ আহমদH.M.Zunaid,দাওরায়ে হাদীস ও উচ্চতর আরবী সাহিত্য বিভাগ,হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়। ]
★ মাওলানাIn'amul Hasan Faruqi ইন'আমুল হাসান ফারুকী,
দাওরায়ে হাদীস,উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগ ও উচ্চতর কুরআন ও তাফসীর গবেষণা বিভাগ,হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় ]
মানব সেবায় এক ঐতিহাসিক নাম মাওলানা গাজী ইয়াকুব হাফি:

মানব সেবায় এক ঐতিহাসিক নাম মাওলানা গাজী ইয়াকুব হাফি:

মাওলানা গাজী ইয়াকুব হাফি:।
মানব সেবায় এক ঐতিহাসিক নাম গাজী ইয়াকুব।যখনই কোন ব্যক্তি,পরিবার বা সমাজ বিপদগ্রস্ত হয়,তখনই নিজের সাধ্যমত ছুটে যান এ আলেমে দ্বীন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যিনি নিজের জিবনকে উতসর্গ করেছিলেন। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা যাঁর সাহায্য পেয়েছিলেন চরম বিপদের মূহুর্তে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর নামটি লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায় পাতায়।

ডেঙ্গু ইস্যুতে তিনি ঢাকার অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে ডেঙ্গু নিধনে কাজ করেছিলেন। যা সে সময়ে ছিলো চোখে পড়ার মত। মিরপুর বস্তি পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় বস্তিবাসিদের একটু মাথাগোঁজার মত ব্যবস্থা করতে, দুমুঠো ভাত তাদের মুখে তুলে দিতে যিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন তিনিই সেই আলেমে দ্বীন গাজী ইয়াকুব।

সম্প্রতি সময়ে করোনা ভাইরাস থেকে দেশ ও জাতিকে হিফাযত করতে ঘুমকে হারাম করেছেন।
দৌড়ঝাঁপ করছেন করোনা থেকে দেশ ও সমাজের মানুষকে বাঁচাতে।

নিস্বার্থ এ মানবসেবী মানুষটি আজ যদি আলেম না হয়ে ভার্সিটি পড়ুয়া হতেন,তাহলে হয়তো তাঁর নামটি পত্রিকায় পত্রিকায় ছেয়ে যেতো। বাঙ্গালী জাতি হয়তো তাকে জাতীয় পুরস্কার দিয়ে ধন্য করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়তো। কিন্তু আফসোস এ জাতির জন্য যারা সত্যিকারের মানবসেবীকে অবহেলা করেই চলেছে।

আমাদের সমাজের নেতৃত্বে এমন মানুষ গুলোই যদি আসতেন,তাহলে হয়তো দেশটা স্বর্ণে পরিনত হতো। কিন্তু আমরা তো বাঙ্গালী। সিটিগোল্ডকে আপন করে স্বর্ণকে ছেড়ে দিয়েছি।

তবে দোয়া করছি-
বড়ভাই! মানবসেবায় নিজেকে উতসর্গ করেছেন। আপনার এ ধারা অব্যাহত থাকুক। আপনি এ জগতে কিছু না পেলেও ওপারে বঞ্চিত হবেন না।রব আপনাকে ভুলে যাবেন না।ইনশাআল্লাহ।
আপনি আমার অহংকার।আমাদের গর্ব। কওমীর গর্ব।আপনার মত সন্তান প্রতিটি মা যেন জন্ম দেন। সে কামনা করি হরদম। জাযাকুমুল্লাহ।

মুফতি রিজওয়ান রফিকী ফেসবুক টাইমলাইন
করোনা ভাইরাসের একটি ছবি আপনার ঈমানকে যেন নষ্ট না করে

করোনা ভাইরাসের একটি ছবি আপনার ঈমানকে যেন নষ্ট না করে

করোনা ভাইরাসের একটি ছবি আপনার ঈমানকে যেন নষ্ট না করে
একটি ছবি ঈমানকে নষ্ট করে দিতে পারে। যেমন, এ পোস্টে সংযু্ক্ত ছবির ব্যাপারে বলা হয়েছে--এ ছবির প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে বললে,
ঈমানহীনগণ বলবেন করোনা ভাইরাস নিজস্ব শক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্যের মধ্যে সংক্রমণ করে, তাই করোনা ভাইরাসের ভয়ে একজন অপরজন থেকে এভাবে দূরে থাকতে হবে।

অথচ এরকম যদি কোন মুসলিম বিশ্বাস করেন,তাহলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।

পক্ষান্তরে এ ছবি দেখে ঈমানদারগণ বলবেন--আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো কোন রোগ হতে পারে না। তবে এভাবে এ জন্য দাঁড়াতে পারেন, যেন ঈমান সুরক্ষিত থাকে। যাতে কারো সংস্পর্শে গিয়ে করোনা ভাইরাস হলে মনে এ ধারণা জন্ম না নেয় যে, সেই রোগীর সংস্পর্শের দ্বারা তার নিজস্ব সংক্রমণ ক্ষমতার মাধ্যমে এ রোগ হয়েছে। কেননা, এমন ধারণা ঈমানের পরিপন্থী।
লেখক: মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী

Thursday, March 19, 2020

হঠাৎ কেন এ চিঠি!!! আরবিতে লিখা ছিল ঐ চিঠিখানা।

হঠাৎ কেন এ চিঠি!!! আরবিতে লিখা ছিল ঐ চিঠিখানা।


আমি সিরিয়া থেকে বলছি,
আমি একজন অসহায়  মুসলিম বোন। আমার প্রান ওষ্ঠাগত। মৃত্যর মুহুর্তে লিখছি মুসলিম উম্মাহকে জানাতে। আমি ১৬ বৎসরের একজন মুসলিম তরুণী, আব্বা আলেম, মা কোরআন হাফেজা। গত ২৩/০২/১৮ দিবাগত রাত্রে আমেরিকার কিছু বদমাইশ আমার বাড়িতে ডুকে আমার ২ ভাই ও আব্বাকে শহিদ করে দেয়।
 হঠাৎ আমার ১২ বৎসরের বোনের উপর পাষণ্ডরা নির্যাতন শুরু করে আব্বা ও ভাইয়ের সামনে, যখন তাদের শরীর থেকে অঝোড়ে রক্ত ঝরছিল।
.
আমার ছোট বোনটাও রেহাই পায়নি শিয়াদের আসাদ সরকার ও রাশিয়ার পুতিন,ইরানের শিয়া  বাহিনীর কাছে। বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর মূহুর্তেও নির্যাতিত হচ্ছিল আমার বোন। ঠিক একই সময়ে আমার বোনটাও মারা গেল। আমি ভিতর থেকে চিৎকার দিলাম। পাষণ্ডগুলা আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল।
.
 তারা আমাকে তাদের শিবিরে নিয়ে গেল। তারা পালাক্রমে আমাকে নির্যাতন করল। আমি একটু পানি চাইলাম, তারা আমাকে পানি না দিয়ে এক কাফের আমার মুখে প্রস্রাব করে দিল।
সে বলল মুসলমানকে আমরা এভাবে পানি দিই। আমার দেহ থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। আমাকে তারা উলঙ্গ অবস্থায় বেধে রাখল, রাতে অন্য দুজন কাফের এসে আমাকে ধর্ষণ করল।
.
 আমাদের দুইবোনকে কেউ কখনো দেখেনি। আর আজ আমাদের এমন করুণ পরিস্থিতি, আমাদের পাশেও কেউ নেই। ২৬/০২/১৮ তারিখে তারা আমাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। আমার হাটার শক্তি নেই, সব কিছু আমার কেড়ে নিল ওরা, ওরা প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে হাজারো বোনের ইজ্জত। ইনশাআল্লাহ আমিও কোন কাফেরকে হত্যা করব, মৃত্যুকেও বরণ করে নিতে প্রস্তুত।
.
#হে_মুসলিম বিশ্বের ভাইয়েরা, আপনার সামনে আপনার কোন বোনকে ধর্ষণ করলে আপনি কি চুপ করে থাকতেন?

আপনার সামনে আপনার পিতা মাতা ভাই বোনকে হত্যা করলে আপনি চুপ করে থাকতেন? আমরা অসহায়, আর আপনারা মহা আনন্দে, মনে রাখবেন আমাদের চোখের পানির জন্য আপনারা দ্বায়ী।
.
কিয়ামতের কঠিন মুহুর্তে আপনাদের জন্য আল্লাহর দরবারে বিচার চাইব।

আমাদের মালিক একজন আছে, মনে রাখবেন তার বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবেন না। আমরা ভাল খাবার কখনো চোখে দেখিনি, ভাল করে কখনো ঘুমাতে পারিনি, জীবনে আনন্দ কি চোখে দেখেনি, মন থেকে কখনো হাসতে পারিনি, সুখ কাকে বলে চোখে দেখিনি। দেখেছি দুঃখ আর কামানের আঘাত, লাশের গন্ধ চারদিকে।
.
 হাজারো সন্তান মা বাবা হারা, হাজারো সন্তান ঘর হারা, হাজারো বোন নির্যাতিতা। আমরা কেবলমাত্র আল্লাহর দরবারে বিচার দিয়ে গেলাম। আর আমার কথা গুলো কোন ভাইকে আঘাত করলে কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হোন।
.
সালামান্তে,
তাহেরা বিনতে আবু বকর, সিরিয়া।
মানুষেরা তাওয়াফ বন্দ করলেই কি ক্বিয়ামতের লক্ষন?

মানুষেরা তাওয়াফ বন্দ করলেই কি ক্বিয়ামতের লক্ষন?

আসলেই কি করোনার কারনে ক্বাবার তাওয়াফ বন্দ হয়ে গেছে ?
মানুষেরাই কি শুধু ক্বাবার তাওয়াফ করে থাকে ?

না, এগুলি কিছুই না। আল্লাহপাক বলেন,, মানুষ এবং জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার গোলামীর জন্য। তাহলে এখানে জিনের কথাও আছে। কাজেই করোনার কারনে মানুষের তাওয়াফ বন্দ হলেও জিনদের তাওয়াফ বন্দ হয় নাই। তাছাড়াও একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যে, এক ঝাক পাখি তাওয়াফে রত আছে।

আর মানুষেরা তাওয়াফ বন্দ করে দিলেই ক্বিয়ামত হবে এমন কথা নাই। পূর্বে আরো অনেকবারই ভিবিন্ন কারনে তাওয়াফ বন্দ ছিল। ইতিহাস তার প্রমান।

যেমন ৮৬৫ সালে। ইসমাইল ইবনে ইউসুফ নামের এক উন্মাদ হজ্জ্বে এসে হাজারেরও অধিক মানুষকে হত্যা করেছিল। সেই সময়ে কাবা সাময়ীক সময়ের জন্য বন্ধ হয়।
কাবায় তাওয়াফ বন্ধ হয় ৯৩০ সালে। কারমাতিয়া নামের এক্সট্রিমিস্ট শিয়া গ্রূপ ছিল, যারা ঘোষণা দিয়েছিল যে কাবার চারদিকে তাওয়াফ করা জাহেলী আরবদের প্রথা, তাই ওরা কাবা ধ্বংস করতে আসে। লড়াই হয়, এবং ওরা কাবার সামনের কালো পাথরটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ২২ বছর সেটা ওদের দখলে ছিল, এবং অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ওরা ওটাকে ঘিরেই পূজা শুরু করে দিল। পরে এটিকে উদ্ধার করা হয়, এবং তারপর থেকে আবারও কাবার সামনে প্রতিস্থাপন করা হয়।
কাবায় তাওয়াফ বন্ধ হয়েছিল ১২৫৮ সালে। মঙ্গলরা তখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। বাগদাদে দুই মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করে ফোরাত নদীর পানির রঙ পাল্টে ফেলেছিল। ইসলামের খলিফাকে হত্যা করে তারা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল যে, কারোর সাহস হয়নি বাড়ির বাইরে এক কদমও ফেলার। তাই ওমরাহ এবং হজ্ব সেই বছরের জন্য বাতিল করা হয়।

১৮১৪ সালে প্লেগ ছড়িয়ে পরে এবং আরব অঞ্চলেই আট হাজারের উপর মানুষ মারা যান। সেই সময়ে কাবার তাওয়াফ বন্ধ করা হয়। ১৮৩১ ইন্ডিয়া থেকে কিছু হাজি, ওমরাহকারী এক ছোঁয়াচে রোগ নিয়ে আসেন, যার ফলে কাবায় উপস্থিত এক তৃতীয়াংশ মানুষ সেই রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান। আবারও কাবা বন্ধ করতে হয়।

১৮৯২ কলেরা ছড়িয়ে পরে। ১৯৭৯ সালে সন্ত্রাসী হামলা ঘটে। এইভাবে ১৯৮৭ সর্বশেষ ম্যানেনজিসাইটিস আউটব্রেক ঘটে, এবং কাবা বন্ধ করা হয়। এছাড়াও কাবা গৃহে অগ্নিকাণ্ডের ফলেও কাবা তাওয়াফ বন্ধ ছিল। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে যে, যার কারনে ক্বাবার তাওয়াফ বন্দ হতে পারে।
যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারনে ক্বাবার বড় বড় শায়েখগন ক্বাবা বন্দের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেন নাই, সেখানে আমরা কেন ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খেতে যাব?? যেখানে বিশ্বের সেরা শায়খ, আব্দুর রহমান সুদাইসির মত লোক ক্বাবা বন্দের পক্ষে কথা বলেছেন সেখানে আমরা কেন নাক গালাতে যাব ? যদিও এর জন্য আমরা অন্তর্জালায় ভুগতেছি।

আর বড় কথা হল, ক্বাবার তাওয়াফ বন্দ হয় নাই। মানুষেরা বন্দ করলেও অন্য জাতীরা চালু রেখেছে। আশা করি এটা নিয়া আমরা আর মাথা ঘামাব না। আমরা ধৈর্য্য সহকারে দোয়া করতে থাকব যে, আল্লাহ তাআলা যেন পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়।

বি/দ্র ঃ একটা বিষয় আমার বুঝে আসতেছে না যে, যেসব গুনাহের কারনে অজানা অচেনা মহামারী আসে সেসব গুনাহের কাজ আগে বন্দ না করে কেন ক্বাবাকে আগে বন্দ করা হল। যেমন ক্লাব, সিনেমা, পর্যটনে নারী পূরুষের অবাধ চলাফেরা ইত্যাদি ইত্যাদি।
করোনা : দাজ্জালী ফেৎনার প্রাথমিক পরীক্ষা  মুহাম্মদ নোমান কাসেমী

করোনা : দাজ্জালী ফেৎনার প্রাথমিক পরীক্ষা মুহাম্মদ নোমান কাসেমী

দাজ্জাল আসবে। আসবেই। কোনো সন্দেহ নেই। বেশির ভাগ মানুষ দাজ্জালের ফেৎনার জালে আটকা পড়ে যাবে। তারা আল্লাহর চেয়ে দাজ্জালকে বেশি ভয় পেতে থাকবে। আল্লাহর রহমতের আশার চেয়ে দাজ্জালের ভুয়া আশ্বাসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে। সারা বিশ্বে একত্রে দাজ্জালের প্রভাব প্রকাশিত হবে।
বর্তমান করোনা দাজ্জালের সে ফেৎনার প্রাথমিক পরীক্ষা বলা যায়। দাজ্জালের সময়কার সব অবস্থা যেন মানুষের মাঝে এখনই পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানুষ আল্লাহকে ভুলে, আল্লাহর ঘর ছেড়ে অন্যত্র মুক্তি তালাশ করছে। মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা দাজ্জালী ফেৎনার অন্যতম অংশ।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দাজ্জালের ফেৎনা থেকে হেফাজত করুন।
اللهم انى اعوذبك من فتنة المسيح الدجال
১ দিনের মুসলিমের ঈমান !

১ দিনের মুসলিমের ঈমান !

গতকাল যে খ্রিস্টান ভাইকে কালিমা পড়ালাম, তিনি আজ ফোন দিয়েছেন ।  ফোন দিয়ে যেই কথা বলেছেন সেটা শুনে নিজেকেই ধিক্কার দিতে মন চায় ! আমি ২৭ বছরের মুসলিম। আর তিনি মাত্র ১ দিনের মুসলিম ! গতকাল রাতেই কালেমা পড়েছিলেন । আলহামদুলিল্লাহ্‌ !

ভাইয়ের কথা- 
ভাই, আমি তো মাত্র ২ জনকে সাক্ষী রেখে শুধুমাত্র আমার রবকে সন্তুষ্টি করার জন্য জাহান্নামের ভয়ে ও জান্নাতের আশায় ঈমান এনেছি। আপনি আর সর্বদ্রষ্টা আমার রব ছাড়া আমার ইসলাম গ্রহণের কথা আর কাউকেই বলিনি। আমার মা,বাবা দুজনেই (হয়তো ঈমান না এনেই) আল্লাহ্‌র ডাকে সাড়া দিয়ে সুনিশ্চিত আখিরাতের জীবনে পাড়ি দিয়েছেন। আমার আপু, ভাই, চাচা, চাচী- সকলের আমাকে খ্রিস্টান মনে করে । হায় ! আমার আল্লাহ্‌ যদি এই অবস্থায় আমাকেও তাঁর কাছে ডেকে নেন তাহলে আমার কী হবে ? একজন মুসলিমকে কোরআন-সুন্নাহ মেনে কতই না সুন্দর করে গোসল দেয়া হয়, গুণাহ-এর জন্য আল্লাহ্‌ ও আল্লাহ্‌র বান্দা উভয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়, জানাজা পড়া হয়,  তাঁর  জন্য দোয়া করা হয় । কিন্তু, আমার ইসলাম গ্রহণের কথা না জেনে আমার আপু, ভাই, চাচা, চাচী,  আত্মীয়-সমাজ- প্রতিবেশীরা তো আমাকে কোরান-সুন্নাহ মেনে  আমাকে গোসল দেবে না, কাফন পড়াবে না, আমার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে  দোয়া করবে না অথবা মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা চাবে না,  ইসলামিক রীতিতে দাফন করবে না । তাহলে ভাই, আমি কি জান্নাতে যেতে পারবো? নাকি আমার চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে- জাহান্নাম ! 

ভাইয়ের প্রশ্ন শুনে আমার সরব মুখে ক্ষণিকের তরে ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম ।
হায় !
২৭ বছরের মুসলিম হয়ে ১টা দিনও আমার মনে এমন প্রশ্নের উদয় হয় নি। কী অর্জন করলাম ২৭ বছরে ! আর এই অজানা অচেনা অদেখা ভাইটি কী ঈমান-ই না কিনলেন ১ দিনে !

উনি কি-ই বা পারেন ! কালেমাও ঠিকমত শেখেন নি, কোন সুরার ১ লাইনও পারেন না, কোন দিন মাদ্রাসাতেও যান নাই, ইসলামের অথবা ঈমান-আমলের কোন ডিগ্রীও নেই ষুধু মাত্র ঈমান আর তাকওয়া ছাড়া ।

আর আমরা মুসলিমরা যেভাবে জীবন যাপন করি, না জানি খ্রিস্টান ভেবে কাল আমাকেই খ্রিস্টানদের রীতিতে অতিম শয্যায় শায়িত হতে হয় কি না জানি না। কোথায় চলেছি ভাই ! কেউ দুনিয়া বেঁচে ঈমান কেনে, আর কেউ ঈমান বেঁচে গান্ধা দুনিয়া কেনে।

Saturday, February 1, 2020

জামায়াতে ইসলামি ভাইদের প্রতি আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের অনুরোধ

জামায়াতে ইসলামি ভাইদের প্রতি আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের অনুরোধ


আমার জামায়াত শিবির ও সমর্থক ভাইদের সমীপে,,
আপনাদের জেনে রাখা ভালো আপনাদের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কোন হিংসা বিদ্বেষ নেই।
আপনাদের আক্বিদাগত সমস্যাগুলোর কথা যুগ যুগ ধরে হক্কানি উলামায়ে কেরামগন আলোচনা করে আসছেন,সংশোধন হওয়ার জন্য। আপনাদেরকে অনুরোধ করছেন,
সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য আহবান করছেন কিন্তু আপনাদের পূর্বসুরী এবং বর্তমান জামায়াত নেতৃবৃন্দ বিষয়গুলো আমলে নেননি বা নিচ্ছেননা বিধায় এই দ্বন্ধ অব্যাহত রয়েছে।আর না শুধরালে কিয়ামত পর্যন্ত আপনাদের সাথে এই দ্বন্ধ অব্যাহত থাকবে ইসলামের জন্য।
.
আপনারা আমাদের উপর মিথ্যা তোহমত দিচ্ছেন আমরা কোরআনের তাফসির মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছি। ক্বওমির কোন আলেম- উলামা তো আপনাদের তাফসির মাহফিল বন্ধ করার জন্য কোন কথা বলেননি বা আওয়াজ তুলেননি।কোরআন হাদিস নিয়ে একাধিক মনগড়া ব্যাখাকারী,সাহাবীদের শানে কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগকারী একজন বিতর্কিত বক্তাকে না আসার জন্য আন্দোলন করেছেন।সুতরাং আপনারা ডাহা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আম জনসাধারণের কাছে আলেম সমাজকে সমালোচিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছেন।তাওহিদি জনতা এতো বোকা নয় যে আপনাদের কথা মেনে নেবে।
.
আজহারী সাহেবকে বাদ দিয়ে তাফসির মাহফিল করুন আশাকরি কেউ বাধা দিবেনা ইনশাআল্লাহ আমরাও উপস্থিত থাকবো তাফসির মাহফিলে।
কিন্তু জামায়াতের নতুন অনেক ভাইদের হয়তো জানা নেই এই জামায়াতই কোরআনের মাহফিল শুধু বন্ধ নয় কোরআনের মাহফিলের প্যান্ডালে পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ১৯৯৬সালে সিলেট আলিয়া মাটে।
এসব আপনাদের মাধ্যমেই সম্ভব।ক্বওমির কোন আলেম উলামারা এমন জঘন্য কাজ করেননি আর কিয়ামত পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ করবেনওনা।

নতুন জামায়াতী অনেক ভাইদের জানা নেই যে আপনাদের জামায়াত ক্ষমতার দাপটে ১৯৮৫সালে উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদরাসায় হামলা করেছিলো।একজন ছাত্র ভাইকেও শহিদ করেছিলো।
কিন্তু কখনো ক্বওমির সন্তানেরা আপনাদের কোন মাদরাসায় হামলা করে কাউকে হত্যা করেনি।
আর ইনশাআল্লাহ কোন সময় করবেওনা।
.
ক্বওমির উপর আপনাদের আরো শত শত নির্যাতনের প্রমাণ বিদ্যমান আছে এতোকিছুর পরেও ক্বওমির উলামায়ে কেরাম উদারমনে আপনাদের ভ্রান্ত আক্বিদা ছেড়ে সঠিক পথে আসার জন্য আহবান করেই যাচ্ছেন।
আর আপনারা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ক্বওমির আলেম উলামাদের গালি গালাজের মাধ্যমে চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেই চলেছেন।আর আপনাদের ভাষা এতো নিম্নমানের যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। collected

Thursday, December 26, 2019

আমাকে আপনি বিয়ে করে নিন!

আমাকে আপনি বিয়ে করে নিন!

আমাকে আপনি বিয়ে করে নিন!
 ❤(মাওলানা তারিক জামিলের বয়ান থেকে )❤
গ্লাস্কোতে এক যুবক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৷ তিন দিন চিকিৎসা চলে ৷

চতুর্থ দিন নার্স তাকে বলল, "আমাকে আপনি বিয়ে করে নিন ৷"
- কেন? আমি মুসলমান! ইসলাম ধর্ম মতে আপনার-আমার বিয়ে হতে পারে না!
-নার্স বলল, আমিও মুসলমান হয়ে যাবো।
-কেন?
-নার্স বলল, আমি বহুদিন যাবত এ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছি। আজ পর্যন্ত কোনো পুরুষকে আমার সম্মুখে চোখ অবনত করতে দেখিনি। ব্যতিক্রম শুধু আপনি ৷ আমি আসি আর আপনি চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলেন ৷ আমার জীবনে আপনিই প্রথম পুরুষ, যে নারী দেখলে চোখ নত করে ফেলে। এমন লজ্জাশীলতা সত্য ধর্ম ছাড়া আর কেউ শেখাতে পারে না।

বন্ধুগণ, চোখের হেফাজত একজন অমুসলিম নারীর ভেতরে ইসলাম ঢুকিয়ে দিয়েছে ৷ মেয়েটি মুসলমান হয়ে গেল। তাদের বিবাহ হয়ে গেল। পরে এই মহিলার মাধ্যমে কত ব্রিটিশ মহিলা মুসলমান হয়েছে, তার কোন হিসাব নাই ৷

আসুন পুরুষ মহিলা সকলেই আমরা আপন চোখের হেফাজত করি। তাহলে আল্লাহতায়ালা দুনিয়া ওহ সাজিয়ে দিবেন আখিরাত ওহ সাজিয়ে দিবেন। ♥

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে তৌফিক দান করুক।
আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে দ্বীনের জন্য কবুল করুক।  আমিন।

Wednesday, November 13, 2019

নামাজ ত্যাগ করলে তার উপর ১৫টি আজাব আসবে

নামাজ ত্যাগ করলে তার উপর ১৫টি আজাব আসবে


*দুনিয়াতে ৬টি✓ *মৃত্যুর সময় ৩টি✓ *কবরের মধ্যে ৩টি✓ *হাশরের মাঠে ৩টি✓

দুনিয়াতে ৬টি আজাব হলো
১। বেনামাজীর হায়াত কমে যাবে।
২। বেনামাজীর জীবনে বরকত হবে না।
৩। বেনামাজীর চেহারার সৌন্দর্য্য থাকবে না।
৪। বেনামাজীর কোন দোয়া কবুল হবে না।
৫। বেনামাজীর সব নেকী বরবাদ হবে।
৬। বেনামাজীর নিকট হতে সব রহমতের ফেরেশতা চলে যাবে এবং এক সময় ইসলাম হতে খারিজ হয়ে যাবে।

মৃত্যুর সময় ৩টি আজাব হলো
১। বেনামাজী মরবার সময় অপমানিত,লাঞ্চিত ও শিদ্দাত (অতিকষ্ট) দিয়ে জান বের করা হবে।
২। বেনামাজী ক্ষুধার্ত অবস্থায় মরবে।
৩। বেনামাজীর মৃত্যুর সময় এত পিপাসা হবে যে,মনে চাইবে ৭ দরিয়ার পানিও যদি মুখে ঢেলে দেয় তবুও বুঝি পিপাসা মিটবে না।

কবরের মধ্যে ৩টি আজাব হলো
১। বেনামাজীর কবর চেপে আসবে তাকে পিষতে থাকবে।এতে তার এক পাজরের হাড়েঁর সাথে অপর পাঁজর মিশে যাবে।
২। বেনামাজীর কবরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে।
৩। বেনামাজীর কবরে বিরাট বিরাট সাপ এসে ভরে যাবে এবং এক ফেরেশতা আসবে জোরে জোরে গুর্জ মারতে থাকবে।

হাশরের মাঠে তিনটি আজাব হলো
১। বেনামাজীকে আল্লাহ পাক গজবের সাথে ডাকবেন এবং বিরাট এক সাপ এসে তাকে খোঁজ করতে থাকবে।
২। ত্রিশ হাজার বৎসরের পুলছেরাতের রাস্তা হিরার চেয়ে ধারাল,চুলের চেয়ে চিকন,আমাবশ্যার রাত্রের চেয়ে অন্ধকার,বেনামাজী যখন সেই পুলের উপরে পা রাখবে সঙ্গে সঙ্গে পা কেটে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।
৩। বেনামাজীর জন্য ওয়াইল নামক দোজখ ঠিক করে রেখেছেন,ফেরেশতা কেয়ামতের দিন দোজখে ফেলে দিন ৭০ গজ জিঞ্জিরে বাঁধিয়া অনেক আজাব দিবেন।

 দুনিয়ার বেনামাজী বাদশাহকে বলা হবে কেন নামাজ পড় নাই।সে বলবে ব্যস্ততার জন্য সময় পাইনি।বলা হবে,সোলায়মান (আঃ) সারা বিশ্বের রাজত্ব পেয়েও কোন দিন নামাজ ত্যাগ করেনি,তুমি মিথ্যা ওজর করছো!
হে ফেরেশতারা..............ওকে জাহান্নামে নিয়ে যাও।

 রোগী বলবে,রোগের জ্বালায় নামাজ পড়তে পারিনি।বলা হবে,আইয়ুব (আঃ) কে ১৮ বৎসর পোকায় খেয়েছে তবুও সে নামায ছাড়েনি। মিথ্যাবাদীকে জাহান্নামে ফেলে দাও।

 আর একজনে বলবে সন্তান অনেক ছিল তাদের সেবায় ব্যস্ত ছিলাম,বলা হবে ইয়াকুব (আঃ) এর ছেলে মেয়ে তোমার চেয়েও বেশি ছিল।ইউসুফের জন্য কাঁদতে কাদঁতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল,তবু নামাজ ছাড়েনি।মিথ্যাবাদীকে জাহান্নামে নাও।

 বেনামাজী স্ত্রী লোককে হাজির করা হবে।সে বলবে স্বামীর কাজের চাপে তার ভয়ে নামাজ পড়তে পারিনি।বলা হবে ফেরাউনের বিবি আছিয়ার স্বামী বড়জালিম না তোমার স্বামী বড় জালিম? জালিমের বিবি হয়েও আছিয়া নামায ছাড়েনি।তুমি মিথ্যা ওজর করছ,হে ফেরেশতারা ওকে জাহান্নাম নিক্ষেপ করো।

 আমার নবী (সাঃ) বলেন,বেনামাজীর দুই হাত জিঞ্জির দ্বারা বাধাঁ হবে।অতঃপর ফেরেশতাগণ তার মুখমন্ডলে ও পৃষ্ঠে আঘাত মারতে থাকবে।তখন বেহেশত তাহাকে ডেকে বলবে,ওহে আল্লাহর শত্রু! আমার সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নাই।আমিও তোমার নই এবং তুমি আমার নও,তখন দোজখ তাহাকে ডেকে বলবে।আসো!আসো!আমার কাছে আসো!আমি তোমার তুমি আমার।

 হাদীসে আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন,জাহান্নামে লমলম নামে একটি জায়গা আছে দেখতে উটের গর্দ্দানের মত দেখায় এবং এক মাসের পথের ন্যায় দীর্ঘ্য,ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সাপ দ্বারা ঐ জায়গাটা পরিপূর্ণ,সেখানে বেনামাজীদেরকে ফেলে দেয়া হবে।
লক্ষ লক্ষ ভয়ঙ্কর সাপ গুলি বেনামাজীদেরকে প্যাঁচ দিয়ে ধরে মনের আনন্দে দংশন করতে থাকবে।ভাই ও বোনেরা আমার!আল্লাহ পাকের কাছে পানাহ চান।

 অন্য এক হাদীসে হুজুরে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,দোজখের মধ্যে জুব্বুল হুযুন নামে বিরাট আকারের একটি ময়দান আছে,উহা শুধু বিচ্ছু দ্বারা পরিপূর্ণ।এক একটি বিচ্ছু খচ্চরের মত উঁচু ও মোটা।বেনামাজীদেরকে দংশন করার জন্যই ওদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন
فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا اطْمَأْنَنْتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

অতঃপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো,বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে।অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে, নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।
সূরা আন নিসা (১০৩)

বিঃদ্রঃ আল্লাহ মাদের ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। নামায পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে!আসুন আমরা সকলেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ওয়াক্ত মতো পড়ার জন্য চেষ্টা করি!!মনে রাখবেন..... হাদীসে পাকে এসেছে
 اول ما يحاسب به العبد يوم القيامه الصلاه
কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে।

সব সময় ঈমানের সাথে থাকুন,ভাল লাগলে শেয়ার করুণ,আপনাদের সকলের কল্যান কামনা করছি॥

Friday, November 1, 2019

হাত পায়ের নখ কাটার সুন্নত তরীকা

হাত পায়ের নখ কাটার সুন্নত তরীকা


হাত পায়ের নখ কাটা সুন্নত এবং তা জুমু'আর দিন কাটা সুন্নত। [-বায়হাকী]

আর হাত পায়ের নখ কর্তন করার সুন্নত তরীকা (পদ্ধতি) হলো এই যে,_____
প্রথমে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে কনিষ্ঠা আঙ্গুল পর্যন্ত কাটবে। এরপর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল থেকে শুরু করে এক এক করে ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলে গিয়ে শেষ করবে।
আর পায়ের নখ কাটার বেলায়, ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বাম পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুল পর্যন্ত এসে কাটা শেষ করবে। এই পদ্ধতিতে কাটাই উত্তম। তবে এর ব্যতিক্রম হলেও দূরস্থ হবে।

[- ফাতওয়ায়ে শামী,, ৫ম খণ্ড,, পৃঃ ৪০১]

#والله_اعلم_بالصواب______,,,,,,_______,,,,,,_______

Sunday, May 5, 2019

যেভাবে ধংস হচ্ছে দেশের যুব সমাজ

যেভাবে ধংস হচ্ছে দেশের যুব সমাজ


১.নৈতিক শিক্ষার অভাব, 
২.বাবা-মায়ের ব্যস্ততা ও উদাসীনতা, 
৩.পাশ্চাত্য ও ইন্ডিয়ান সংস্কৃতির প্রভাব, 
৪.পর্নগ্রাফী, অশ্লীল সিডি, অশালীন টিভি প্রোগ্রাম, ইন্টারনেট, মোবাইলের সহজলভ্যতা,
৫.নেশার সামগ্রীর সহজলভ্যতা, 
৬.মেয়েদের অশালীন পোশাক ও বেহায়াপনা,
৭.দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান না থাকা ।

১. নৈতিক শিক্ষার অভাব:
পরিবার হলো একটি শিশুর প্রাথমিক পাঠশালা । বর্তমানে পরিবারগুলোতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার খুব অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে । ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষকে শালীনতা ও নৈতিকতা শিক্ষা দেয় । তাই শিশুরা যে পরিবারেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন তাদের স্ব স্ব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন । যে পরিবারে ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাব আছে সেই পরিবারের শিশুরা আদর্শবান ও সুশৃংখল হয়ে গড়ে উঠে । ধর্মবিমুখ পরিবারের শিশুরা হয়ে থাকে বেপরোয়া এবং পরবর্তীতে কোন সামাজিক , নৈতিক অনুশাসন তারা মেনে চলতে চায় না । বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে শিক্ষা কারিকুলাম অনুসরণ করা হচ্ছে তাতে নৈতিকতা গঠনের কোন সুযোগ নেই বললেই চলে । ধর্মীয় শিক্ষা বিবর্জিত কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের সেক্যুলার আদর্শে গড়ে তুলে । অপরপক্ষে ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তোলে । মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ , সহমর্মিতা , সমবেদনার শিক্ষা দেয় ধর্ম । বর্তমানে ধর্মহীন শিক্ষার করালগ্রাসে যুব সমাজের চারিত্রিক সৌন্দর্য ভূলুণ্ঠিত হয়ে সেখানে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বন্যপ্রাণীর হিংস্রতা । এই অবস্থা চলতে থাকলে মানুষরূপী পশুতে সমাজ ছেঁয়ে যাবে । যার প্রতিকারের কোন সুযোগই আর অবশিষ্ট থাকবে না ।

২.বাবা-মায়ের ব্যস্ততা ও উদাসীনতা :
আজকাল অনেক পরিবারের বাবা-মাকে তাদের উঠতি বয়সের সন্তানদের ব্যাপারে উদাসীন দেখা যায় । তাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় যায় , কি করে , কার সাথে মিশে , এসব তারা খবর রাখতে পারছেন না । নিজেদের ক্যারিয়ার গঠন ও উপার্জনের ক্ষেত্রে তারা এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে , বাচ্চাদের ন্যূনতম সময়টুকুও দিতে পারেন না । এই সুযোগে ছেলেমেয়েরা হয়ে উঠছে স্বাধীনচেতা । তারা তাদের লাগামহীন জীবনকে উপভোগ করার জন্য হয়ে উঠছে বেপরোয়া । অনেক বাবা-মা নিজেরা শালীনভাবে চললেও সন্তানদেরকে মডার্ন বানানোর নামে কিনে দিচ্ছেন অশালীন ড্রেস । ছেলেমেয়েদের সাথে সুন্দরভাবে মেশা , সঙ্গ দেয়া এবং আদর্শিক কোন শিক্ষা দেবার প্রয়োজনও বোধ করছেন না । ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হচ্ছে । সন্তানরা হয়ে উঠছে বাঁধনহারা । জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে । তারা তাদের জীবনকে উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন উপায় বের করে নিচ্ছে । জুটিয়ে নিয়ে অসৎসঙ্গ , যারা তাদেরকে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়তে প্রোরোচিত করছে । বিভিন্ন পার্টি বা দিবস উদযাপনের নামের তারা বেহায়াপনা ও উচ্ছৃংখলতায় মেতে উঠছে , গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে অবস্থান করছে , ওদিকে বাবা-মায়েরা থাকছেন সম্পূর্ণ অাঁধারে নিমজ্জিত ।

৩.পাশ্চাত্য ও ইন্ডিয়ান সংস্কৃতির প্রভাব:
বাংলাদেশে বর্তমানে চর্চা চলছে পাশ্চাত্য ও ইন্ডিয়ান সংস্কৃতির। আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে অপসংস্কৃতির বিভীষিকা । বাঙ্গালীয়ানার নামে বিভিন্ন দিবসগুলো উদযাপিত হচ্ছে অত্যন্ত নগ্নভাবে । তথাকথিত আধুনিকতার নামে যুব সমাজ ঝুঁকে পড়ছে বেহায়াপনায় । পরিবারে ও সমাজে ইসলামী অনুশাসন না থাকায় মন-মগজে তারা অপসংস্কৃতিকে অাঁকড়ে ধরছে । উঠতি বয়সের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা তাদের আনন্দের খোরাকে পরিণত হয়েছে । তারা নির্দ্বিধায় ঘোষণা দিচ্ছে , ‘ইভটিজিং ! তার মজাই আলাদা । ‘ রাস্তাঘাটে বখাটেদের উৎপাত অনেকের গা সহা হয়ে গেছে । ভাবখানা এই, ‘এই বয়সের ছেলেপেলেরা একটু-আধটু এমনটি তো করবেই । ‘ সামাজিক অবক্ষয় চূড়ান্তরূপ পরিগ্রহন করেছে । নিজেদের স্বকীয়তা , সংস্কৃতিতে নেমেছে চূড়ান্ত ধস । সকাল-সন্ধ্যা মেয়েদের রাস্তাঘাটে বাজে বাজে মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়া হচ্ছে । নোংরা , অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করা হচ্ছে । এমনকি শারীরিকভাবেও মেয়েদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে । পৌত্তলিক সংস্কৃতির অবাধ অনুপ্রবেশ আমাদের সুস্থ সংস্কৃতিকে দেউলিয়া করে দিচ্ছে । যে সংস্কৃতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে যুব সমাজ নিজেদের নীতি-নৈতিকতা পর্যন্ত বিসর্জন দিচ্ছে ।

৪.পর্নগ্রাফী , অশ্লীল সিডি , অশালীন টিভি প্রোগ্রাম , ইন্টারনেট ও মোবাইলের সহজলভ্যতা: 
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত প্রসার জাতির জন্য আশীর্বাদ মনে করা হলেও এর অপব্যবহার যুবসমাজকে বিপথগামী করছে। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বদৌলতে অশ্লীল সিডি, নীল ছবি এখন যুব সমাজের হাতের নাগালে এসে গেছে । ইন্টারনেট ও মোবাইলের সহজলভ্যতা জাতিকে যতটা এগিয়ে দিয়েছে পিছিয়েছেও ভয়ংকর রুপে । বিভিন্ন অশ্লীল নাটক ও সিনেমা যুব সমাজকে হাতে-কলমে অশ্লীতা শিক্ষা দিচ্ছে । উৎসাহিত হয়ে উঠছে ইভটিজিং-এ । অবলীলায় তারা জড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন যৌন হয়রানিমূলক কাজে । জোরপূর্বক যৌন হয়রানির হার আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । এইসব উচ্ছৃংখল যুবকদের কাছ থেকে মেয়েদের পরিবারের সদস্যরাও নিরাপদ নয় । প্রতিবাদ করলে হয়তো এসিড মারছে অর্থাৎ শারীরিকভাবে আঘাত করছে অথবা হত্যা করছে । মোবাইলে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার কারণে খুব সহজেই তারা পর্ণ চিত্র ডাউনলোড করতে পারছে এবং সেই শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য পাগলপারা হয়ে উঠছে । কোমলমতি মেয়েদেরকে প্রেমের ছলনা দিয়ে আয়ত্বে আনছে ও তাদের অজান্তেই তাদেরকে দিয়ে পর্ণ চিত্র বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে । এইসব অশ্লীল ছবি জাতির ভবিষ্যৎ যুব সমাজকে ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে ।

৫.নেশার সামগ্রীর সহজলভ্যতা:
একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজন সেই জাতির যুব সমাজকে ধ্বংস করা । এই সুদূর প্রসারি টার্গেট নিয়ে কিছু চিহ্নিত চক্র আমাদের যুব সমাজের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে । নেশার সামগ্রী যুব সমাজের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া হয়েছে । চোরাই পথে নেশার সামগ্রী হরদম আসছে । পিলখানা ট্র্যাজেডির পর থেকে বর্ডার অরক্ষিত থাকায় এর মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে গেছে । নেশাগ্রস্ত যুব সমাজ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে । পথে ঘাটে স্কুল-কলেজগামী মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করছে। এমনকি জোরপূর্বক তাদের যৌন কামনাকে পূর্ণ করার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠছে । যাচ্ছেতাইভাবে যৌনবাসনা পূর্ণ করাটাই তাদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে । ভগ্ন পরিবার ও যেসব পরিবারে বাবা-মায়ের মিল নেই , সেই পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই অধিকহারে নেশাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন রকম অপকর্মে ।
৬.মেয়েদের অশালীন পোশাক:
এই বখে যাওয়া ছেলেদের পাশাপাশি কিছু কিছু মেয়ের অশালীন পোশাকও ইভটিজিং-এ উৎসাহ জোগাচ্ছে । দেহ প্রদর্শনীমূলক অাঁট-সাঁট পোশাক পরে মেয়েরা তাদেরকে যৌন আবেদনময়ী করে তুলে ধরছে । এখন চারিদিকে মেয়েদের চলছে সুন্দরী হিসেবে প্রদর্শন করার মৌন প্রতিযোগিতা । তারা বুঝতেও পারছে না , এতে তাদের সৌন্দর্য্য ও মর্যাদা বাড়ছে না বরং কমছে । ঐসব বাজে পোশাক তাদের নোংরাভাবে বখাটে ছেলেদের আকর্ষণ করছে ও অনুপ্রাণিত করছে অসামাজিক কাজে । বর্তমানে কিছু কিছু মেয়ের পোশাকে এতটাই নগ্নতা এসেছে যে তাতে ছেলেরা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে প্ররোচিত হচ্ছে ।

৭.দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান না থাকা:
 প্রতিদিন পত্র-পত্রিকায় ইভটিজিং ও যৌন হয়রানিমূলক বিভিন্ন ঘটনা ছাপা হচ্ছে এবং তা দিন দিন মহামারী আকার ধারণ করছে । কিন্তু আইন-শৃংখলা বাহিনী এসব ব্যাপারে যেন অনেকটাই উদাসীন । এমন কি বখাটেদের শায়েস্তা করার জন্য কোন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না । এতে বখাটেদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে অনেকগুণ । কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহল তাদের প্রভাব খাটিয়ে এসব কুলাঙ্গারদের ছাড়িয়ে নিচ্ছে আদালত থেকে । পরবর্তীতে তারা বিপুল উৎসাহ নিয়ে প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সমস্ত প্রকার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে ।

Thursday, February 28, 2019

বর্তামানে কোন কোন দেশের উপর জিহাদ ফরজ..?

বর্তামানে কোন কোন দেশের উপর জিহাদ ফরজ..?

 শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল হক সাহেব( রাহঃ 

আফগানিস্তানে জিহাদের বিধান!

নফীর আ'ম হওয়ার কারণে আফগাস্থানের উপর জিহাদ ফরজ!


(দলিল, ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া, ৫/২৮৮)


কাশ্মীরে জিহাদের বিধান!

কাশ্মীরেরর উপর জিহাদ ফরজ! তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকেরা জিহাদে অক্ষম হলে, পর্যায়ক্রমে তার নিকট বর্তী ইসলামি রাষ্ট্রের উপর জিহাদ ফরজ হবে।  এভাবে পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত ইসলামি রাষ্ট্রের উপর জিহাদ জিহাদ ফরজ হয়ে যাবে!


(দেখুন,ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া, ৫/২৮৯)


বার্মা জিহাদের বিধান!

মুসলমানের উপর জুলুম নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে, সেখানকার জালেম-কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা তাদের জন্য জিহাদ ফরজ হয়ে যায়। বার্মার মুসলমানদের দুর্বলতা এবং জিহাদের ক্ষেত্রে অক্ষমতার দরুন প্রতিবেশী ইসলামি রাষ্ট্রের উপর তাদের সহযোগীতার জন্য জিহাদ করা ফরজ! এভাবে ক্রমাগত নিকটবর্তী এমনকি পূর্ব-পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত ইসলামি রাষ্ট্রের উপর জিহাদ ফরজ হবে!


(দলিল দেখুন,ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া,৫/২৯০)


বোসনিয়ায়ে কিহাদের বিধান!

কাফেররা যখন কোন মুসলিম ভূ-খন্ডে অনুপ্রবেশ করে এবং সেখানকার মুসলমানেরা তাদের মোকাবেলায় অক্ষম হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় নিকটবর্তী এলাকার জন্য জিহাদ ফরজ হয়ে যাবে।

এমনকি পূর্ব-পশ্চিম সমস্ত ইসলামি রাষ্ট্রের উপর জিহাদ ফরজ হয়ে যাবে।

সুতরাং বসনিয়ার মজলুম মুসলমানদেরকে সম্ভব্য সব পন্থায় সহযোগিতা করা এবং কাফেরদের অনিষ্টকে প্রতিহত করা সমস্ত ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


(দেখুন,ফতওয়ায়ে হক্কানিয়া,৫/২৯৮)


এতোগুলো রাষ্ট্রের উপর যদি জিহাদ ফরজ হয় তাহলে আপনার উপর জিহাদ ফরজে কেফায়া নাকি ফরজে আইন এটা বুঝার দায়িত্ব আপনার! 

আপনাকে শুধু চিন্তার খোরাকী দিলাম!

Sunday, January 20, 2019

কওমির তুলনা শুধুই কওমি

কওমির তুলনা শুধুই কওমি

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রি বোর্ডিং এ রাত কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে? 

✍ক্বাওমি মাদ্রসার ছাত্র+ছাত্রী পার্কে বসে প্রেম নিকেতন কখনো দেখেছেন? 

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার ছাত্রের লজিং এর মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাহার করায় মেয়েকে খুন করেছে? 

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার ছাত্রীকে মা-বাবা পার্টির খরচ না দেওয়াই মাবাবাকে খুন করেছে? 

✍ক্বাওমি মাদ্রসার ছাত্ররা শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত কখনো করেছে?

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের মাবাবা বৃদ্ধাশ্রমে কোথাও কি দিয়েছে? 

✍ক্বাওমি মাদ্রার শিক্ষক হায়েয/নেফাস মাসিক ঋতুশ্রাবের অবস্থায় দর্সকালে ছাত্রীকে.কোরআন হাদিসের শিক্ষা দিয়েছে? 

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার ছাত্রীকে পাখি/কিরণমালা ড্রেস না দেওয়াই সুইসাইড করেছে? 

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার ছাত্র নামাজ বাদ দিয়ে পতিতালয়ে ঘুরতে দেখেছেন? 

✍ক্বাওমি মাদ্রাসার ছাত্র চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পাবলিকের হাতে গণধোলাই খেয়েছে? 

ইত্যাদি ইত্যাদি এরকম খবর আপনি কয়টা পেয়েছেন?


✍যদি না পান তাহলে কেন? আপনার মাথায় এতো জ্ঞান সেটার উত্তর দিন...!

তাহলে আপনি তাদের মতো হলে দোষের কি? 

নাকি আপনি চান চলুক ধর্ষণ,চলুক চাঁদাবাজি,

চলুক অশ্লীলতার প্রেম? 

✍আমরা চাই আপনারা ডাক্তার হোন, ইঞ্জিনিয়ার হোন, তাতে দেশের আপনাদের লাভ, আমাদেরও লাভ।

আমার মা,বোন,স্ত্রী সবাই আপনার কাছেই তো যাবে! কিন্তু আফসোস!

একজন ছেলে আর একজন মেয়ের মাঝে আপনার কাছে কোন পার্থক্য নেই।

কেন?কেন? আমরা চাই আপনারা সুন্দর সুশীল ভাবে মুক্তভাবে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হোন।

.

✍আর সেটা চাওয়া কি আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেবের ভুল????

তাই আল্লাহ কা ওয়াস্তে কিছু মন্তব্য করার আগে একবার ভাবুন।

আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ওয়াল জালাল আমাদেরকে কোরআন সুন্নাহের সঠিক জ্ঞান দান করুণ আমীন।

কওমির তুলনা শুধুই কওমি