
Friday, May 29, 2020

সন্তান হিসেবে দোষ করতে পারি! তাই বলেকি অভিমান করে চলে যাবেন!
Friday, May 22, 2020
এশিয়ার গৌরব মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী;স্বপ্নযোগে রাসুল সা.এর আদেশ
বর্তমান বাংলাদেশের মুফতীয়ে আজম ও হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতী আল্লামা আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহু শুধু বাংলাদেশের নয় এশিয়া উপমহাদেশের গর্ব। হাদিস ও ফিকায় সমান যোগ্য একজন ব্যক্তি তিনি।
Tuesday, April 7, 2020
মৃত্যু আসার আগেই আপনার পরিবারকে যে সমস্ত বিষয়ে ওসিয়ত করে যাবেন!!
ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, তার চিন্তার ভারসাম্য।
Saturday, April 4, 2020
আপোষহীন অপ্রতিরোধ্য মুফতী আমিনী রহ. ৪ঠা এপ্রিলের হরতাল একটি উদাহরণ মাত্র
দেশে অনেক সংগঠন আছে, আছেন অনেক নেতা। তারপরেও কেন মানুষ সময়ে সময়ে আল্লামা মুফতী আমিনীকে স্মরণ করেন? কেন তারা বলেন? আজ মুফতী আমিনীর বড় প্রয়োজন। কারণ, এদেশে যখন কোন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড হয়, নেতা এবং সংগঠন নিজেকে এবং সংগঠনের ব্যানারকে প্রচারের সুবর্ণ সুযোগ মনে করে কিছুদিন মিছিল মিটিং করে চালিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ে। অপেক্ষায় থাকে আবার কবে নতুন ইস্যু তৈরি হবে, নিজের ও দলের র্যাংকিং একটু বাড়িয়ে নেবে। তাইতো একের পর এক ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড হচ্ছে, দলগুলোও মিছিল মিটিং-এর জন্য প্রস্তুত আছে।
Thursday, April 2, 2020
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ | সতর্কতামূলক পোস্ট | আল্লামা মামুনুল হক
যে সকল সংগঠন, সংস্থা কিংবা ব্যক্তি করোনা ভাইরাস কেন্দ্রিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকেপড়া অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের সহযোগিতায় ভূমিকা পালন করছেন,
Tuesday, March 31, 2020
করোনার ভয়ে মুসাফাহা ছেড়ে দেওয়া; কুরআনে বর্ণিত সামেরীর সাদৃশ্য হচ্ছে না তো ?
মহান আল্লাহ তায়া’লার উপর ঈমান,আকিদা বিশ্বাস বিশুদ্ধ রাখা এবং ইসলামের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আজ আমরা পশ্চিমা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করছি। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। রোগ-শোক, বালামুসিবত থেকে রক্ষা সহ যাবতীয় কিছুর দিকনির্দেশনা ইসলামে রয়েছে।
Monday, March 30, 2020
তীয়করোনার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে আল্লামা তাকি উসমানির বিশেষ আহ্বান
করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে সবধরণের কাজই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ‘দিন এনে দিন খায়’ এমন অসহায় মানুষগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হলেও কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা এখন করোনা ভাইরাসে নয় বরং অনাহারে মৃত্যুর শঙ্কায় ভুগছেন।
Saturday, March 28, 2020
করোনা ভাইরাস;আল্লামা বাবুনগরীর দিকনির্দেশনামূলক জুমার বয়ান
গতকাল ২৭ মার্চ জুমার নামাযের পূর্বে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার কেন্দ্রীয় বায়তুল করীম জামে মসজিদে আগত মুসল্লিদের সামনে দেশ ও জাতীর উদ্দেশ্যে ইসলামের বিধান ও স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকনির্দেশনামূলক বয়ান পেশ করেছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে প্রদত্ত সময়োপযোগী মূল্যবান বয়ানের সারাংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো- সংক্ষিপ্ত খুতবার পর আল্লামা বাবুনগরী সূরা আহযাবের ৪৩ নং আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন,মহান আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন-তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। আল্লাহ তায়া’লা অত্যন্ত দয়া-মায়া করে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর মায়া-মমতার একশ ভাগের একভাগ সমস্ত সৃষ্টি জীবের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন আর বাকি ৯৯ ভাগ রোজ হাসরের নিজের কাছে জমা রেখে দিয়েছেন। এই এক ভাগ পেয়েই সৃষ্টি জীব পরস্পরের মধ্যে একে অপরকে মায়া-মমতা করে। মায়া মোহাব্বতের বান্দারা যখন আল্লাহ তায়া’লার অবাধ্যতা আর নাফরমানী করে তখন আল্লাহ তায়া’লা রাগান্বিত হন। বিভিন্ন আযাব-গযব ও বালামুসিবত দিয়ে বান্দাকে গুনাহ ছেড়ে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সংকেত দেন। তাওবা করে গুনাহ ক্ষমা চেয়ে আল্লাহ তায়ালার দিকে তা প্রত্যাবর্তনের আহবান করেন। যেমন পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা নুহ এর ১০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,বর্তমানে আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক,রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল সহ সর্বক্ষেত্রে শুধু গুনাহ আর গুনাহ। হয়ত এসব গুনাহের কারণেই আজ করোনা ভাইরাসের মতো এই মহামারি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। গুনাহের কারণে আল্লাহ তায়া’লা বান্দাকে আযাব গযবে নিপতিত করেন। সূরা শুরার ৩০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
আল্লাহ তায়া’লা বলেন,তোমাদের ওপর যেসব বিপদ আপদ পতিত হয় তা তোমাদের কর্মেরই ফল। এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। সূরা সেজদা ২১ নং আয়াত-আল্লাহ তায়া’লা বলেন, গুরু শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাবো।যাতে তারা আল্লাহর দিকে
প্রত্যাবর্তন করে। সূরা আনকাবুতের ৪০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারনে পাকড়াও করেছি। সুতরাং বর্তমান সময়ের এই মহামারি গুনাহেরই ফসল।বর্তমান সবচে বড় আল্লাহর নাফরমামি হলো আল্লাহর নাজিলকৃত ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র,ইসলামকে নির্মূল করার অপচেষ্টা।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন। নামায কাযা করা ,
সুদ-ঘুষ,আত্মসাৎ,হাইজ্যাক চাদাবাজী,
সন্ত্রাস,বেপর্দা,নাচগান ইত্যাদি। তাই নাজুক মুহূর্তে যাবতীয় গুনাহ পরিত্যাগ করে খাটি দিলে তাওবা করে আল্লাহ তায়া’লার দিকে রুজু হতে হবে।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যখন সমস্ত মুসলমান আল্লাহ তায়া’লার ঘর মসজিদে এসে নামায,জিকির-আযকার ও দুআ কান্নাকাটি করে এই মহামারি থেকে পানাহ চাওয়ার কথা ছিলো সেই সময়ে ইহুদি খ্রিস্টান আর ইসলাম বিরোধীরা মুসলমানদেরকে মসজিদ থেকে বের করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত। তারা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আতংক সৃষ্টি করে আজ মসজিদে নামায বন্ধ,জুমা বন্ধ করছে। এমনকি পবিত্র খানায়ে কাবার তাওয়াফ বন্ধ করেছে,মসজিদে নববীতে নামায বন্ধ করে দিয়েছে। এসব ইসলাম বিরোধীদের পরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র। এসবে বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
এই মহামারি থেকে বাঁচতে চিনের
অমুসলিমরা মসজিদে মসজিদে গিয়ে দুআ চাচ্ছে। মুসলমানদের সাথে দুআয় শরীক হয়ে এ মহামারী থেকে রক্ষা পেতে মহান আল্লাহ তায়া’লার নিকট দুআ করেছে। কিন্তু মুসলমানরা কেন আজ মসজিদে যাবে না! নামায পড়বে না? যেখানে অমুসলিমরা মসজিদে যাচ্ছে সেখানে তো মুসলমানদের আরো বেশি বেশি মসজিদে যাওয়া উচিত। এবং মুসলমানদের আরো বেশি বেশি আল্লাহ তায়া’লাকে ভয় করা জরুরী।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়া’লা মক্কা শরীফকে বালাদান আমিনা বা নিরাপদ শহর বলেছেন এবং হাদীস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,মদীনা মুনাওয়ারায় দাজ্জাল এবং মহামারী ঢুকতে পারবে না। মুসলমান হিসেবে কুরআনের আয়াত ও বিশ্ব নবীর চিরন্তন সত্য এ বাণীর উপর ঈমান এবং আকিদা বিশ্বাস থাকার অপরিহার্য ছিলো কিন্তু আজ সৌদি হুকুমতের এ আয়াত ও হাদীসের উপর বিশ্বাস কোথায়! যার কারণে তারা আজ পবিত্রময় এ দু জায়গায় ইবাদাত বন্ধ করে দিয়েছে। মুসলমানদের জন্য এটা বড় দুঃখজনক ও মর্মাহত হওয়ার মতো বিষয়।
সহিহ বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "লা-আদওয়া- অর্থাৎ রোগের কোন ছোয়াছে নেই। রোগ আল্লাহ তায়া’লার হুকুম ছাড়া নিজস্ব ক্ষমতায় কাউকেই আক্রান্ত করতে পারে না। অথচ আজ করোনা ভাইরাসের ছোয়াছে অজুহাতে মসজিদ বন্ধ করা হচ্ছে। কতিপয় দূর্বল ঈমানদাররা আজ মসজিদে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,কেহ করোনা ভাইরাসে বা অন্য কোন রোগে অসুস্থ হলে সে মসজিদে আসবে না। তবে একজনের জন্য হাজার সুস্থজনকে মসজিদে আসা থেকে বারণ করা যায় না। বাস্তবেই কেহ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সে হসপিটালে থাকবে তবে যারা সুস্থ তারা সকলেই সচেতনতা বজায় রেখে মসজিদে আসবে।
আজ মসজিদ ছেড়ে ঘরে নামায পড়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বহু ঘর তো এমন আছে যেখানে পাঁচ সাতজন সদস্য বা দশ পনেরো জনের যৌথ ফ্যামিলি। মসজিদে জমায়েত হয়ে নামায পড়লে করোনা ছড়িয়ে যাবে কিন্তু ঘরে জমায়েত হয়ে পড়লে তা ছড়াবেনা এই নিশ্চয়তা কে দিয়েছে! মসজিদ রহমত বরকতের জায়গা। মসজিদ ঘর থেকে নিরাপদ।
এই মহামারিতে কোন মুসলমান মারা গেলে সে অবশ্যই রাসুলের হাদীস অনুযায়ী শহীদ হবে। তাকে ইসলামি বিধানানুযায়ী জানাযা ও দাফন কাফন করতে হবে। দুঃখজনকভাবে বলতে হয় আজ ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে টিভি টকশোতে করোনায় আক্রান্তদের লাশ আগুনে পুড়ে ফেলার কথা হচ্ছে। এমন কথা মেনে নেওয়া যায়না। মুসলমানের লাশ আগুনে পুড়ার কথা বলে চরম ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। লাশ আগুনে পুড়ে ফেলা হিন্দুয়ানী রীতি নীতি।এবং মুসলমানদের জন্য ইহা হারাম।
ঢালাওভাবে করোনায় মৃতদের লাশ আগুনে পুড়ার কথা বলে ওরা মূলত এদেশকে হিন্দুয়ানী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে।এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।
আল্লামা বলেন,হক্কানী
ওলামায়ে কেরাম দেশ ও জাতীর ঈমান আকিদা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী।জাতীর কর্ণধার। বর্তমান এই নাজুক মুহূর্তে ওলামায়ে কেরাম কুরআন সুন্নাহর আলোকে জাতীকে সঠিক পথ পদর্শন করতে হবে।কুরআন-সুন্নাহর আলোকে করনীয় ও বর্জনীয় ঠিক করে দিতে হবে।
ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,রোগীর দেখাশোনা ও সেবা-শুশ্রূষাও একটি ইবাদত। করোনায় আক্রান্ত কোন রোগী দেখলে ডাক্তারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাবে এমনটা মনে করা ঠিক নয়। এটা ইসলামের আকিদা বিশ্বাসের পরিপন্থী। বর্তমানে করোনার ভয়ে অনেক জায়গায় সাধারণ রোগীদেরকেও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে রোগীরা অসহায় হয়ে কষ্ট ভোগ করছে। এটা দুঃখজনক। রোগীদেরকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে সেবার মহৎ কাজ করলে আল্লাহ তায়া’লার নিকট এর উত্তম বিনিময় পাওয়া যাবে।
আমরা হাজার চেষ্টা করেও এই মহামারি থেকে বাঁচতে পারবো না। সূরা তাকভীরের ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়া’লা বলেন,তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না। তাই আমাদেরকে মহান রবের দিকেই ফিরতে হবে,পানাহ চাইতে হবে।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,আমরা নীচের সরকারের নির্দেশ অবশ্যই মানব কিন্তু উপরের সরকার মহান রব্বুল আলামিনের নির্দেশ আরো হাজারগুণ মানতে হবে। তাই গুনাহ ছেড়ে দিয়ে পূর্বকৃত পাপকাজ থেকে তাওবা করে আল্লাহ তায়া’লার দিকে ফিরে আসতে হবে। এবং শরঈ বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অভিজ্ঞ ডাক্তাররা যেসব পরামর্শ দেন তা যথাযথ ভাবে মেনে চলতে হবে।
Wednesday, March 18, 2020
করোনা থেকে বাঁচতে অজুর উপকারিতা
Thursday, October 24, 2019
আমি মুসলিম তাই বলে কি আমার girlfriend থাকবে না ?
Saturday, October 12, 2019
মেয়েকে লেখা খতিব উবায়দুল হক রহ- এর চিঠি
খতিব উবায়দুল হক রহ.- এর বড় মেয়ে রায়হানা হক সিলেটে তার দাদীর কাছে থাকতেন। যখন তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো, সে সময় ১৬ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে মেয়েকে পত্র লিখেছিলেন। চিঠিটির আংশিক তুলে ধরা হলো—এহসান সিরাজ
Wednesday, October 2, 2019
ধর্ম যার যার উৎসব সবার!....কিছু কথা অতঃপর মুসলিম ও পূজা
Wednesday, September 25, 2019
বিবাহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাইতুল্লাহর সাবেক ইমাম শাইখ সালিহ আলে তালিব এর ঐতিহাসিক খুৎবাহটির অনুবাদ
মূলঃ শাইখ সালেহ আলে-তালিব (হাফিযাহুল্লাহ)
অনুবাদঃ Rashid Ahmad Qasemi (সাল্লামাহুল্লাহ)
খুৎবাহটির হুবহু অনুবাদ তুলে ধরছি, শাইখ হামদ-সালাতের পর বলেন,
বর্তমানে বিবাহের কথা হল সবচেয়ে কষ্টের কথা, আজকের এই খুৎবাহতে গোটা বিশ্বের মুসলমানদের কল্যাণকামনায় এবং সতর্কতার লক্ষ্যে; বিবাহের এমন কিছু বাহ্যিক কারণ আলোচনা করব যে গুলো বিবাহকে বাধাগ্রস্ত করে মুসলিম উম্মাহ'র গোটা জীবনযাত্রায় চরম অশোভনীয় প্রভাব ফেলছে৷
তন্মধ্যে ছেলে-মেয়ে উভয়ের বিবাহ বিলম্বের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে কারণটি আমরা দেখি তা হল, ছেলে-মেয়ের একাডেমিক পড়াশোনা শেষ না হওয়া, অথবা পড়াশোনা শেষ হয়েছে কিন্তু ভাল চাকরি না থাকার অজুহাত করা; অথবা আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার অজুহাত করা; অথবা কম বয়সে বিবাহ করে ফেললে লোকে কি বলবে? এই খোড়া অজুহাত গুলো দাঁড় করিয়ে বিবাহ বিলম্ব করা হয় বর্তমান সমাজে৷
#এই_সব_গুলো_অজুহাত_হল_শয়তানের_সূক্ষ্ম_অপকৌশল_চক্রান্ত_ও_পরিস্কার_ধোঁকা_ষড়যন্ত্র ৷
বর্তমান সময়ে শয়তান, বিভিন্ন অশ্লিল ফিল্ম ও নাটকের সিরিয়াল, বিভিন্ন অশ্লিল চ্যানেল, ম্যাগাজিন, মাসিক পত্রিকা, পর্ণোগ্রাফীর অশ্লিলতার মাধ্যমে মানুষের দেমাগ বিশেষ করে যুবকদের দেমাগকে ধোলাই করে বিবাহ থেকে অনাগ্রহ সৃষ্টি করছে৷
এই সমস্ত কারণে মানুষের চারিত্রিক নৈতিকতা আজ ধ্বংস হয়ে সর্বক্ষেত্রে বিরাট অমঙ্গল, অশান্তি বিরাজ করছে৷
ইখওয়াতাল ঈমান!
বিবাহ বিলম্ব করা যেমন স্বভাগত নিয়ম পরিপন্থী ঠিক তেমনি শরঈ ভাবেও সুন্নাহ পরিপন্থি ৷
সমস্ত সমাজ-বিজ্ঞানীগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যে বিবাহের উপযুক্ত সময় হল প্রাপ্ত বয়স্ক হতেই দেরী না করে দ্রুত বিবাহ করে ফেলা৷ যা বর্তমান সমাজে খুবই কঠিন ব্যপার৷
এবং আত্মিক ও শারিরিকভাবে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অল্প বয়সে বিবাহ করা৷
এবং অল্প বয়সে বিবাহ করলে মেধা শক্তি, মনোবল, শারিরিক সুস্থতা, অনেক অনেক বেড়ে যায়৷
এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, দ্রুত বিবাহের ফলে দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা লাভ হয়, ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে হেফাযত করা যায়, বিশেষ করে যৌবনের শুরু থেকেই চারিত্রিক নির্মলতা অর্জিত হয়৷
কিন্তু আফসোসের কথা হল, ,এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটিতে যখন বিভিন্ন অজুহাতে বাধা তৈরী করা হল সাথে সাথে পুরো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিভিন্ন অন্যায়, অনিষ্টতা ঢুকে গেল৷
বিবাহ যদিও সামাজিক একটি বন্ধন কিন্তু তা শুধু সামাজিক নয় বরং আল্লাহ তাআলার অনেক বড় একটি হুকুম ও নবী সঃ এর সুন্নাতও, তাই এই সুন্নাতটি আদায় করতে গিয়ে সামাজিকতার প্রতিবন্ধকতায় আটকে না থেকে আল্লাহর উপর ভরসা করে বিবাহ করে ফেলা উচিত, আল্লাহ বলেন,
وَأَنكِحُوا۟ ٱلْأَيَٰمَىٰ مِنكُمْ وَٱلصَّٰلِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَآئِكُمْ إِن يَكُونُوا۟ فُقَرَآءَ يُغْنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ
অর্থঃ তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
সূরা আন নূর আয়াত: ৩২
তিরমিযী শরীফে আছে,
রাসূল সঃ বলেন,
ثلاثة حق على الله عونهم المجاهد في سبيل الله والمكاتب الذي يريد الأداء والناكح الذي يريد العفاف.
অর্থ, আল্লাহ্ তা‘আলা তিন প্রকার মানুষকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।
১৷ আল্লাহ্ তা‘আলার পথে জিহাদকারী,
২৷ মুকাতাব গোলাম- যে চুক্তির অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা করে,
৩৷ এবং বিবাহে আগ্রহী লোক, যে বিয়ের মাধ্যমে পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়৷
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৫৫
কিছু চরম মূর্খ পরিবার রয়েছে যারা মেয়ের মোহর এত বেশী পরিমাণে ধার্য করে, যেন এটি বাজারের একটি পণ্য, যে যত বেশী লাভ আর দরাদরি করে বিক্রি করতে পারে!
এর বিপরিতে এমন কিছু গুণী পরিবার রয়েছে যারা মেয়ের মোহর কম ধার্য করে এমন ছেলে তালাশ করে যে মেয়ের জন্য দ্বীনদারির ক্ষেত্রে সহযোগী হিসাবে থাকবে,
এটাই হল আসল তাকওয়া ও সুন্নাত, রাসূল সঃ বলেন,
إن من يمن المرأة تيسير خطبتها وتيسير صداقها.
সবচেয়ে লক্ষী মেয়ে হল, যার বিবাহের কাজ ঝামেলামুক্ত ও মোহর কম হয়৷
(মুসনাদে আহমদ ২৪৬০৭)
আরেক হাদীসে আছে,
إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَئُونَةً
সবচেয়ে বরকতময় বিবাহ হল, যে বিবাহের মোহর কম৷
(মুসনাদে আহমাদ ২৪৫২৯)
কিন্তু বর্তমান সমাজে মোহর মহামারির আকৃতি ধারণ করেছে, মেয়ে পক্ষ সাধ্যের বাহিরে মোহর নির্ধারণ করে (যা নিতান্তই লোভ ও নির্ভেজাল নিম্ন মন-মানুষিকতার পরিচয়) আর ছেলে এই মোহর আদায় করতে গিয়ে ঋণ করে এবং বিভিন্ন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে৷
বেশী মোহরের লোভে লম্বা সময় মেয়েরা ঘরে পড়ে থাকতে থাকতে এক সময় দেখা যায় আইবুড়ো মেয়ে দিয়ে ঘর ভরে গেছে৷
এর কুফল পরবর্তীতে এতই ছড়িয়ে পড়ে যে, এই সমস্ত প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা নিজেদের যৌবনের চাহিদা মেটাতে গোপনে চাচাতভাই, ফুফাতভাই, মামাতভাইদের সাথে ফিজিক্যালী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে৷ যা মারাত্মক অপরাধ, গোনাহ৷
বিবাহের ক্ষেত্রে অভিবাবকদের উচিত, ছেলে-মেয়ে উভয়ের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া৷ কোনো দ্বীনী প্রতিবন্ধকতা না থাকলে অভিবাববকের উপর আবশ্যক হল, সন্তানের খুশী মত বিয়ে দিয়ে দেওয়া, পারিবারিকভাবে অন্যত্র বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি না করা৷
এই সম্পর্কে সহীহ বুখারী মুসলিমে অনেক হাদীসও রয়েছে৷
শাইখুল ইসলাম ইবনিয়া তাইমিয়া রহঃ বলেন,
ليس لأحد الأبوين أن يلزم الولد بنكاح من لا يريد، حتي أنه إذا امتنع فلا يكون عاقا
ছেলে যাকে বিবাহ করতে চাই তাকে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ার বা ছেলে যাকে বিয়ে করতে চায়না তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করা, পিতা-মাতা কারো এই অধিকার নেই, এই ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে যদি পিতা-মাতার কথা অমান্য করে তাহলে হাদীস অনুযায়ী সেই সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য বলে বিবেচিত হবে না৷
ঠিক ঐরকমভাবে মাতা-পিতার জন্য মেয়েকে টাকাওয়ালা বা প্রভাবশালী ছেলের সাথে ধন-সম্পদের লোভে বিয়ের জন্য বাধ্য করা পরিস্কার যুলুম ও হারাম৷
সুতরাং অভিবাবকদের উচিত, বিবাহের ক্ষেত্রে সম্পদের লোভে কোনো অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন না করা৷ বিবাহ একটি আমানত, এই আমানতকে কোনো লোভে পড়ে নষ্ট করা হারাম৷
এমন অনেক অভিবাবক আছে যারা নিজের সতীসাধি চরিত্রবান নামাযী, মুত্তাকী মেয়েকে টাকার লোভে ফাসেক, বেনামাযী, চরিত্রহীন, নেশাখোর, লম্পট, লুচ্ছা ছেলেদের সাথে টাকার লোভে বিয়ে দিয়ে মেয়ের জীবনটাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, অথচ মেয়ের কোনো দোষ নেই, সম্পূর্ণ দোষ অভিবাববকের যা সুস্পষ্ট হারাম৷
আর ছেলে-মেয়েদেরও উচিত বিবাহের ক্ষেত্রে মাতা-পিতা কিছু কল্যাণ মনে করলে তা সাদরে মেনে নেওয়া৷
আমরা মুসলমান হিসাবে আমাদের উচিত, বিবাহের ক্ষেত্রে কেবল দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেওয়া, রাসূল সঃ বলেন,
إذا جاءكم من ترضون دينه وخلقه فأنكحوه إلا تفعلوا تكن فتنة في الأرض وفساد " . قالوا يا رسول الله وإن كان فيه قال " إذا جاءكم من ترضون دينه وخلقه فأنكحوه " . ثلاث مرات .
তোমরা যে লোকের দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ, তোমাদের নিকট যদি সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সাথে (তোমাদের পাত্রীর) বিয়ে দাও। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু (ক্রটি) তার মাঝে থাকলেও কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের নিকটে যে লোকের দ্বীনদারি ও নৈতিক চরিত্র পছন্দ হয় সে লোক তোমাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) একথা তিনি তিনবার বললেন।
(জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১০৮৫)
বর্তমান সমাজে সবাই বিবাহে দুনিয়াবী যত শর্ত আছে তা খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কিন্তু কেউ দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়না৷
অথচ, বুখারী মুসলিমে আছে রাসূল সঃ বলেন,
تنكح المرأة لأربع لمالها ولحسبها وجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك.
চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৯০, মুসলিম, হাদিস নং ৩৫২৭)
জেনে রাখুন! যারা দ্বীনদারিকে খাটো করে বাকি গুণাগুণ খুব যাচাই বাচাই করে বিবাহ করবে তারা কখনও দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারবে না৷
বর্তমানে বিবাহ কঠিন হওয়ার দরুন নারী-পুরুষের অবাদ মেলামেশা, গায়ক- গায়িকাদের বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে অশ্লিল গান পরিবেশনা, বিনোদনের নামে নর্তকীদের নগ্ন দেহ প্রদর্শন, এই সব গোনাহের কাজে যুবক যুবতীরা জড়িয়ে পড়ছে, অথচ, সবগুলোই আল্লাহর সাথে মারাত্মক নাফরমানী করার শামিল৷
বিবাহ করে এই সমস্ত বিনোদন, মজা পাওয়া যায় না? অবশ্যই পাওয়া যায়, তাহলে বিবাহ করা ছাড়া কেন যুবসমাজ এই সমস্ত অপরাধের সাথে জড়াচ্ছে? যে গুলো দেশ ও জাতীকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিচ্ছে, এবং যমীনী, আসমানী শাস্তি অবতীর্ণ হচ্ছে ৷
আল্লাহ সবাইকে বিবাহ করার এবং সমস্ত গোনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন, আমীন৷
এরপর শাইখ নিচের এই আয়াতটি পড়ে তার খুৎবাহ শেষ করেন৷
أَفَمَنْ أَسَّسَ بُنْيَٰنَهُۥ عَلَىٰ تَقْوَىٰ مِنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنٍ خَيْرٌ أَم مَّنْ أَسَّسَ بُنْيَٰنَهُ عَلَىٰ شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَٱنْهَارَ بِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ
অর্থঃ আচ্ছা! যে ব্যক্তি তার ভিত্তি গড়েছে আল্লাহ্র প্রতি ধর্মনিষ্ঠতা ও সন্তষ্টির উপরে সে ভালো, নাকি যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী, অতঃপর তা তাকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর আল্লাহ জালেমদের পথ দেখান না।
সূরা আত-তাওবাহ্ (التوبة), আয়াত: ১০৯
আল্লাহ তাআলা শাইখকে জালিমের কারাগার থেকে মুক্তি দান করুন, এবং যুবসমাজকে শাইখের কথা গুলো অনুধাবন করে আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন৷
Monday, September 16, 2019

খুবই মূল্যবান ৩০টি ছোট হাদিস!
১। রাসূল (সা:)বলেছেন আমার কথা (অন্যদের কাছে)পৌছিয়ে দাও, তা যদি একটি আয়াতও হয়। (সহীহ বুখারীঃ
৩২১৫)
২। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদীহওয়ার জন্য এতটকুই যথেষ্ঠ যে, সে যা শোনে (যাচাই ব্যতীত) তাই বলে বেড়ায়। (সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা,
অনুচ্ছেদ ৩)
৩।রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে। (দেখুন সহীহ বুখারীঃ ১০৭,১০৯,১০৯,১১০,১১১ সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা)
৪।পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট। (তিরমিযী, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৭১০)
৫। পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাতের সওয়াব পাওয়া যায় (সহীহ বুখায়, মুসলিম ও তিরমিযীঃ ২১৩)
৬। ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে সলাত ছেড়ে দেওয়াই হচ্ছে ব্যবধান। (সহীহ মুসলিমঃ ১৫৪,১৫৫, মিশকাত)
৭। ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সলাতের হিসাব নেওয়া হবে। (সহীহ তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনু মাযাহঃ ১৪২৫,১৪২৬)
৮। যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের নামায আদায় করবে সে জান্নাতে যাবে। (সহীহ বুখারীঃ ৫৪৬)
৯। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট প্রিয় ঐ আমল যা নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪১,৬০২০)
১০। যে ব্যক্তি (পুরুষ) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, সে জাহান্নামী। (সহীহ বুখারীঃ৫৩৭১, মিশকাত, হা/৪১২৫)
১১। কালিজিরায় মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা রয়েছে। (বুখারী, হা/৫২৮৬ ও মুসলিম)
১২। নবী করীম (সাঃ) মিষ্টি ওমধু খুব ভালো বাসতেন। (বুখারী, হা:৫২৮০)
১৩। যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষন (অনিহা প্রকাশ) করবে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। (সহীহ
বুখারীঃ ৪৬৯৭)
১৪। যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করবে ও আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার, ফেরেশতা ও সকল মানব
সম্প্রদায়ের লানত । (সহীহ বুখারীঃ ৬৮০৮)
১৫। যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ ঈমান আছে, সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে যাবে না।
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)। সরিসা পরিমান ইমানের পরিচয় হল ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরা। যে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে না অর্থাৎ ৪,৩,২,১ ওয়াক্ত নামাজ পরে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।যেমন থাকবে ইহুদি,নাসারা,হিন্দু, আর ও অন্ন ধমে'র লোকেরা চিরস্থায়ী জাহান্নামে
তেমনি থাকবে বেনামাজি,৪,৩,২,১ ওয়াক্ত নামাজিরা। আল্লাহ ৫ ওয়াক্ত নামাজি কে নামাজি গন্ন করেন। ৪,৩,২,১ ও বেনামাজি কে আল্লাহ নামাজি মনে করেন না।
১৬। যে ঘরে কুকুর ও (প্রাণীর) ছবি থাকে,সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (সহীহ বুখারীঃ ২৯৯৮, ৫৫২৫,
মিশকাত হাঃ৪২৯৮)
১৭। তিন ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের দিকে করুণার দৃষ্টি দিবেন না ও তাদের জন্য কঠিন শাস্তি
(ক) গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ
(খ) খোঁটাদানকারী (গ) মিথ্যা কসমে পণ্য বিক্রয়কারী। (মুসলিম, মিশকাত হা/২৬৭৩)
১৮। "যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ জিহাদ করেনি এমনকি জিহাদের আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেনি, সে মুনাফিকের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল। " (সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৯, নাসায়ীঃ৩০৯৯)
১৯। আত্নীয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করলে রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায়। (সহীহ বুখারীঃ ৫৫৫৯,৫৫৬০)
২০। কেউ সওয়াল থেকে পবিত্র থাকতে চাইলে আল্লাহ্ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়,আল্লাহ্ তাকে অমুখাপেক্ষী রাখেন এবং যে ধৈর্য ধারণ
করতে চায়, আল্লাহ্ তাকে তাই দান করেন। ধৈর্যের চায়ে অধিক ব্যাপক কিছু দান করা হয়নি। (সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৯, সহীহ মুসলিম , সহীহ আবু দাউদ,হা ১৬৪৪)
২১। বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে (সত্তর হাজার) ওসব লোক যারা অশুভ অমঙ্গল চিহ্ন মানে না, যারা মন্ত্রতন্ত্রের ধার ধারে না এবং আগুনেপোড়া লোহার দাগ লাগায় না ; বরং সদা সর্বদা তাদের পরোয়ারদেগারের উপর পূর্ণ ভরসা রাখে। (সহীহ বুখারী,
হাদিস ৫৩৪১,৬২৮,৬০৯৯)
২২। যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শহীদি মৃত্যু কামনা করে, আল্লাহ্ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছিয়ে দিবেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিমঃ
৪৭৭৮)
২৩। যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু'আ করে, তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আমীন, এবং
তোমার জন্যও অনুরুপ হবে। (সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদ,হাঃ১৫৩৪)
২৪। কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য অশ্লীল বাকচারী ও কৃপণ হওয়াই যথেষ্ট। (আহমাদ, মিশকাত হা/৪৬৯৩)
২৫। রাসূল বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না। (সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, ত্বাবরানী, আল্লামা আলবানী রহ. এর সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা খণ্ড দুই হাদিস
নং-৯৭২)
২৬। যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উযূকে পূর্ণাঙ্গরুপে সম্পন্ন করে, তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে,তার জন্য জান্নাতের ৮(আট)টি দরজা খুলে যায় । সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে । (সহিহ মুসলিমঃ ৪৬০, তিরমিযীঃ৫৫, ইবনু মাযাহঃ ৪৭০)
২৭। যে ব্যক্তি দিবসে ১ বার ও রাতে ১ বার আন্তরিকতার সাথে সােয়্যদুল ইস্তেগফার পাঠ করে যদি সে দিন বা রাতে মারা যায়, তাহলে ওই ব্যক্তি জান্নাতি । ( সহিহ বুখারী-৫৮৬৭)
২৮। ওযু করার সময় কেউ যদি উত্তমরূপে ওযু করে তাহলে তার শরীরের সব গুণাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তার নখের নিচের গুণাহও বের হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিমঃ ৪৮৪,৪৮৫)
২৯। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরান শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা
দেয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪৬৬১,৪৬৬২)
৩০। কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা ফিরিশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরাআন পড়ার সময় আটকে যায়
এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। (সহীহ বুখারী-৪৯৩৭, মুসলিম আবু দাউদ)
নিজে পড়ুনঃ অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন "ইনশাআল্লাহ্" !
Thursday, September 12, 2019

মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?
মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?
আপনার স্ত্রী, আপনাকে প্রানের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। মনে করুন, রাত ১০টায় আপনি মারা গেলেন। কবর দিবে বাদ যোহর।
কেউ যদি আপনার স্ত্রীকে এসে বলল, কবর দিতে তো অনেক দেরি হবে, এখন অনেক রাত হয়েছে। আমরা সবাই একটু ঘুমিয়ে আসি। সকালে দেখা হবে
আর লাশ এখন বিছানাতেই থাকুক। আর আপনিও ঘুমিয়ে থাকুন। আর এইটাতো আপনাদেরই বিছানা। আমরা গেলাম। আপনি ঘুমিয়ে যান। আপনার
মোহব্বতের স্ত্রী কি আপনার সাথে আর ঘুমাবে...? না, কখনই না। যত মোহব্বত করুক না কেন ! আপনি এখন লাশ। আপনার চ্যাপ্টার ক্লোজ।
এবার ভেবে দেখুন, সারা জীবন তাদের জন্য কত কিছুই না করেছেন ! কিন্তু আজকে আপনি তাদের কাছে সেই পূর্বের আপনি না। আপনি এখন লাশ।
তাহলে কার জন্য ব্যয় করলেন !
জীবনের মূল্যবান সময় গুলি ! যারা আপনার মৃত্যুর পরে আর কাজে আসবে না। বজ্রপাতের আওয়াজ হলে, ভয়ে চিৎকার দিয়ে আপনার বুকের পাঁজর আঁকড়ে ধরে মিশে যেত। আপনাকে জড়িয়ে ধরার পরে তার ভয় কাটতো। আজ আপনি মারা যাওয়ার পরে আপনার সাথে থাকবে না কেন ? কারণ আপনাকে এখন সে ভয় পায়। কারণ শুধু একটাই, আপনি এখন লাশ।
মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?
যেখানে ঘোর অন্ধকার, সেখানে নাই আলো বাতাস, নাই বেরিয়ে যাওয়ার কোন পথ। যেখানে আপনার শরীরের উপর দিয়ে বিষাক্ত বিচ্ছু, বিষাক্ত সাপ বেয়ে যাবে অনবরত। যেখানে আপনার চোখের সামনে দেখবেন বিরাট লম্বা এক সাপ। আপনার নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করছে। কান দিয়ে বের হচ্ছে। আপনার হাতে তখন কোন ক্ষমতা থাকবে না চুল পরিমাণ নড়া-চড়া করার। ধারালো দাঁতওয়ালা বড় বড় পোকা আপনার পেট কামড়ে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে খাচ্ছে। আপনার চোখ কামড়ে ধরে টেনে হিচড়ে একটা চোখ খুলে ফেলেছে। যেখানে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও
কেউ শুনবে না, কেউ বাঁচাতে আসবে না।
সেই জায়গার নাম হল "কবর"। রোদ আর বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছাদ কিংবা টিনের চালা লাগাতে হয়। চোর ডাকাতের ভয়ে দরজা-জানালা বানাতে হয়।
অঙ্গ ঢাকার জন্য কাপড় পরিধান করতে হয়। বাইক চালানোর সময় মাথার সুরক্ষার জন্য হেলমেট পরতে হয়। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে অল্প কিছু সময় বসবাস করার জন্য আমরা যে কত কিছু করি ! দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এই কথা আমরা সবাই জানি। তবু আমরা এই ক্ষণস্থায়ী সুখ-শান্তির জন্য জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করি। তাই আমাদের ঈমান ও আমল জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য ঢাল-তলোয়ার হিসাবে কাজে লাগবে ! তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসুন, যাকে ভালবাসলে আখিরাতে তার বিনিময়ে পাওয়া যাবে জান্নাত। হ্যাঁ, দুনিয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটা হওয়া উচিৎ আখেরাতের জন্য সঞ্চয় হিসাবে।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।