Showing posts with label পাঠকের পাতা. Show all posts
Showing posts with label পাঠকের পাতা. Show all posts

Friday, May 29, 2020

“বিপক্ষে গেলে বহিরাগত, স্বপক্ষ হলে আম‌ন্ত্রিত”

“বিপক্ষে গেলে বহিরাগত, স্বপক্ষ হলে আম‌ন্ত্রিত”

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও কাঁদাছুড়াছুড়ি উম্মুল মাদারিস ও মকবুল ইদারায় অশোভন ও অনাকাঙ্ক্ষিত। 
মকবুল ইদারার গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে এসব অপসংস্কৃতি, সাংঘর্ষিক ও আত্মঘাতী কর্মকান্ড কোনোভাবেই মানায় না। উল্লেখ্য, দায়িত্বশীলগণ আরো দায়িত্ববান হবেন, প্রতিবেশীগণ আরো যত্নবান হবেন, প্রাক্তন ছাত্ররা আরো সচেতন হবেন, আলেম উলামারা আরো সজাগ হ‌বেন, শুরার সম্মাণিত সদস্যগণ আরো নিরপেক্ষ হবেন, সরকার ও প্রশাসন বি‌বেকবান হ‌বেন এবং সেব‌কের ভূ‌মিকা পালন কর‌বেন  এটিই সকলের প্রত্যাশা। ((كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ))  হাদিসে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা সকলে জিম্মাদার, প্রত্যেকে নিজ জিম্মাদারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। 
অতএব, উভয়পক্ষ আল্লাহর ওয়াস্তে, দ্বী‌নের স্বা‌র্থে নমনীয় হবেন,  কাঁদাছুড়াছুড়ি বন্ধ করবেন, পরস্পর দূরত্ব কমিয়ে মিলেমিশে নতুন অধ্যায়ের সুচনা করবেন, মুসলিম উম্মাহর চেতনা ও আদর্শের বাতিঘরকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখবেন এটিই জাতির কামনা। কর্তৃপক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।  সকল বিত‌র্কের  অবসান হোক। ইদারা নিয়মতা‌ন্ত্রিকভা‌বে প‌রিচা‌লিত হোক। সকল অনিয়ম ও অন্যায়‌ দূ‌রিভূত হোক।  উম্মুল মাদারিস ও মকবুল ইদারাকে নিয়ে বিতর্ক, অপপ্রচার, বিভ‌ক্তি, ষড়যন্ত্র, গ্রু‌পিং, আলোচনা ও সমালোচনা চিরতরে বন্ধ হোক, এটিই উম্মাহর চাওয়া।  
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সাম্য। করোনায় যেভাবে ধনী গরীবের মাঝে ব্যবধান কমিয়েছে অনুরূপভাবে ঈদ উম্মুল মাদারিস ও মকবুল ইদারার সকল দায়িত্বশীলগণের রাগ-অভিমান ভাঙ্গিয়ে  وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ দলাদলি, দ্বন্দ্ব, দূরত্ব, ভেদাভেদ ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে, ইদারা অতীতের সেই পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে, সকলের মাঝে ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্বের  শক্তিশালী বন্ধন গড়ে তুলবে, আকাবের ও কওমের শতবর্ষী এই  আমানত রক্ষা হবে, দা‌য়িত্বশীলগণ ঐক্যবদ্ধভা‌বে এগি‌য়ে যা‌বেন, এটিই কওমের প্রত্যাশা, কামনা, চাওয়া ও দোয়া। 
আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেনঃ إنما المؤمنون إخوة فأصلحوا بين أخويكم  হাদিসে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ  لا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث ليال: يلتقيان فيعرض هذا ويعرض هذا؛ وخيرهما الذي يبدأ بالسلام : مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন, নিরাপ‌দে থাকুন।  মকবুল ইদারার জন্য দোয়া করুন। করোনাভাইরাস, দুর্যোগ, মহামারী ও সকল ফিতনা ফ্যাসাদ থেকে আল্লাহপাক সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন

‌লেখকঃ মাওলানা এরফান শাহ্ 
গ্রন্থকার ও কলা‌মিস্ট
প্রাক্তন ছাত্র, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
সন্তান হিসেবে দোষ করতে পারি! তাই বলেকি অভিমান করে চলে যাবেন!

সন্তান হিসেবে দোষ করতে পারি! তাই বলেকি অভিমান করে চলে যাবেন!


সন্তান হিসেবে দোষ করতে পারি! তাই বলেকি অভিমান করে চলে যাবেন!

কী হবে আমাদের একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন আমাদের ছেড়ে। কওমি অঙ্গনের বাতিগুলো নিভে যাচ্ছে। কওমী অঙ্গন দিনদিন আলোহীন হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন কোন না  কোন দুঃসংবাদ আমাদের পিছু লেগেই আছে।
 
আর যাঁরা অবশিষ্ট আছেন তাঁরাও সুস্থ নয়। সবাই কোন না কোন জটিল রেগে ভুগছেন। 

জানি না তাঁরা কি আমাদের উপর এত বেশি রাগ করেছেন ! যে কারণে অভিমান করে আমাদের ইয়াতিম করে চলে যাচ্ছেন একে একে  আপন গন্তব্য মাহবুবের ডাকে! হে আমাদের বটবৃক্ষ! হে আমাদের ছায়াবৃক্ষ! সন্তান হিসেবে আমরা অনেক ভুল করতে পারি। আমাদের অনেক ভুল হয়ে যেতে পারে! হয়তো  ভুলবশত নাবুঝে অসম্মান করতে পারি! অভিভাবক হিসেবে আমাদের ক্ষমা করা যায়না?  সন্তান হিসেবে ক্ষমা পাওয়ার আবদারটুকুতো আমাদের রয়েছে।

 প্লীজ আর অভিমান করবেন না। আকাবির শুণ্য কিভাবে চলবো আমরা। কে পথ দেখাবেন আমাদের! কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক কে আমাদের ধরিয়ে দিবেন। নাহ এভাবে চলে না। দয়া করে আমাদের ক্ষমা করুন। এভাবে অভিমান করে আর চলে যাবেন না। 

হে প্রভু! হে আল্লাহ! হে পরম করুনাময়! আপনি আমাদের অভিভাবকের হায়াতে তাইয়েবা দান করুন।তাঁদের ছায়া বৃদ্ধি করে দিন। আমাদের কল্যাণের জন্য হায়াত দীর্ঘ করুন। আমীন

Friday, May 22, 2020

এশিয়ার গৌরব মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী;স্বপ্নযোগে রাসুল সা.এর আদেশ

এশিয়ার গৌরব মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী;স্বপ্নযোগে রাসুল সা.এর আদেশ


বর্তমান বাংলাদেশের মুফতীয়ে আজম ও হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতী আল্লামা আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহু শুধু বাংলাদেশের নয় এশিয়া উপমহাদেশের গর্ব। হাদিস ও ফিকায় সমান যোগ্য একজন ব্যক্তি তিনি। 
বহু মুফতী আছেন যাঁরা ফিকাহ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ হলেও হাদীসে অতটা অভিজ্ঞতা রাখেন না। আল্লামা চাটগামী সাহেব হুজুর হাদীস ফিকাহ উভয়টাতেই সমান দক্ষতা রাখেন। তাঁর স্বরচিত আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল্ল নামক কিতাবটি পড়লে তা সুস্পষ্ট বুঝা যায়।

তিনি দীর্ঘদিন জামিয়া বিন্নুরী টাউন করাচি পাকিস্তানের প্রধান মুফতী ছিলেন। পাকিস্তানের আপামর জনসাধারণ সহ শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম আল্লামা চাটগামী সাহেবকে মুক্তা তুল্য মনে করেন। শ্রদ্ধা করেন ইজ্জত সম্মান করেন। তিনি  আল্লাহ ওয়ালা ও নিভৃতচারী একজন বুজুর্গ ব্যক্তি।

আল্লামা আশেক এলাহী বুলন্দশহরী রহ. এর সাহেবজাদা  মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেব দা.বা.। যিনি মদিনা মুনাওয়ারায় থাকেন। তিনি ভারত উপমহাদেশের  মুফতিয়ানে কেরামের ফাতাওয়ার কিতাব সমূহকে সামনে রেখে জামেয়ুল ফাতাওয়া নামে একটি ফতোয়াগ্রন্থ সংকলনের উদ্যোগ নিয়েছেন। একদিন তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, আল্লাহর নবী সা. তাকে বললেন, তুমি তোমার জামেয়ুল ফাতাওয়ায় বাংলাদেশের মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী লিখিত" জাওয়াহেরুল ফাতাওয়া"কিতাবটাও অন্তর্ভুক্ত করিও।আল্লাহু আকবার...।

মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী ফতুয়ার ব্যাপারে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন যুগের স্বীকৃতি। তিনি কত বড় বুজুর্গ একজন মুফতী সাহেব তা সহজেই অনুমান করা যায়। 

জাওয়াহেরুল ফাতাওয়ার নতুন এডিশন যা বাংলা বাজারের মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ চাপিয়েছে। তাতে মাওলানা আব্দুর রহমান দা.বা. এর স্বহস্তে লিখিত "খাবনামা " শিরোনামে স্বপ্নটির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

ক'দিন আগে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পাকিস্তানের নাগরিক,হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক প্রবীণ ওস্তাদ আল্লামা সুলাইমান আরমান কাতেব সাহেব রহমাতুল্লাহ আলাইহির নাতি মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ বাংলাদেশ বেড়াতে এসেছিল।সেসম বিন্নুরী টাউনের প্রধান মুফতী কে তা জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায়-বান্নুরী টাউনের প্রধান মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহু। তিনি বাংলাদেশে চলে আসলেও এখনো কাগজ-পত্রে বান্নুরী টাউনের প্রধান মুফতী হিসেবে আব্দুস সালাম চাটগামী সাহেবই আছেন।অন্যরা সকলেই তাঁর নায়েব হিসেবে কাজ করছেন।

বান্নুরী টাউনের মতো বিশাল জামিয়ায় এখনো আব্দুস সালাম চাটগামীর মতো যোগ্য ও উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় প্রধান মুফতী হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সম্মান হিসেবে আজো প্রধান মুফতীর স্থানে আল্লামা আব্দুস সালাম চাটগামীকে রাখা হয়েছে।আর আমাদের বাংলাদেশে......।

মনে রাখতে হবে " যে জাতী তার গুণিজনের কদর আর মূল্যায়ন করে না সে জাতির মধ্যে গুণিজনের জন্ম হয় না।

আল্লাহ তায়া’লা হযরতকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন আমিন।
সংগৃহিত

Tuesday, April 7, 2020

মৃত্যু আসার আগেই আপনার পরিবারকে যে সমস্ত বিষয়ে ওসিয়ত করে যাবেন!!

মৃত্যু আসার আগেই আপনার পরিবারকে যে সমস্ত বিষয়ে ওসিয়ত করে যাবেন!!


• মাইকে আমার মৃত্যুর খবর বলবেন না..

• আমার মৃত্যুর সংবাদ শুনলে পড়ুন "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন"

• আমার মৃত্যুকে অকাল মৃত্যু বলবেন না,  কারণ আমি আমার নির্ধারিত রিযিক ভোগ করে ফেলেছি।

• আমাকে নিয়ে বিলাপ-মাতম করবেন না কারণ এটা সুন্নাহ বিরোধী কাজ,

• আমার মৃত্যুতে চল্লিশা, কুল-খানি, মিলাদ করবেন না .. কারণ এটা স্পষ্ট বিদ'আত,

• যারা আমার মৃত্যুর খবর শুনবেন বা যারা আমার মৃত্যুর সময় থাকবেন তারা অবশ্যই আমার জানাজায় অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করবেন।

• আমার লাশ মাহরাম ছাড়া  অন্য কাউকে দেখাবেন না

• আমার লাশকে সুন্দরভাবে গোসল করার ব্যবস্থা করে দিবেন,

• লাশ দাফনে ইসলামিক রীতিনীতি অবলম্বন করবেন.... সমাজের নয়

• আমাকে কবরস্থ করার পর কিছুক্ষণ সেখানেই থাকুন আর পড়ুন আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু।

• আমার কবরের আজাব লাঘবের জন্য ও মুনকার নাকিরের প্রশ্নের উত্তর  যেন দিতে পারি সেই দোয়া করবেন আল্লাহুম্মা সাব্বিত হু আলাল ইমান।

• আমার হয়ে দান-সাদাকা করবেন

• আমার সাদাকায়ে জারিয়া চালু থাকলে সেটার খবর নিয়েন,, সে গুলোকে সমুন্নত করার চেষ্টা করবেন।

• আমার পরিবারের খবর নিয়েন

• আমার মৃত্যু থেকে এই শিক্ষা নিয়ে ফিরে যাবেন... আপনার সময়ও অতি নিকটে..!!!

• আমার পাওনা আমার পরিবার কে ফিরিয়ে  দিবেন, না পারলে সাদকাহ জারিয়া করবেন আমার জন্য, তাও না পারলে আজিবন আমার জন্য দুয়া করবেন আমি ক্ষমা করে দিব ইন শা আল্লাহ  ।

আপনি আমার কাছে পেয়ে থাকলে আমার জীবিত অবস্থায়ই চেয়ে নিবেন আমার কাছে, আর যদি মরে যাই পরিবারের কাছে চাবেন। তারা না দিলে ক্ষমা করে দিবেন আল্লাহর জন্য আল্লাহ ও আপনাকে ক্ষমা করবেন ।

اللهم إني أسألك حسن الخاتمة مع كلمة التوحيد موتا شهيدا وأدخلني الجنة الفردوس الاعلي بلا حساب ولاعذاب يا رب العالمين.

আল্লাহ তোমার কাছে কালিমা নসিব করে উত্তম শহিদি মরন চাই। কোন প্রকার আযাব হিসাব ছাড়া  জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রবেশ করতে দিও হে পৃথিবীর মালিক।
ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, তার চিন্তার ভারসাম্য।

ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, তার চিন্তার ভারসাম্য।



আপনি দেখুন, ইসলামের প্রতিটি বিধানের মাঝে ভারসাম্য আছে। প্রতিটি বিধানের ক্ষেত্রে ইসলাম দুটি বিপরীত প্রান্ত লক্ষ্য রেখেই ফরমান জারি করে থাকে। 
ইসলাম এমন কোনো ধর্ম নয় যে, তা পালন করতে হলে আপনাকে পরিবার থেকে পালিয়ে যেতে হবে। 
ইসলাম এমন কোনো ধর্ম নয় যে, তার বিধান পালন করতে হলে আপনাকে স্রেফ নির্দিষ্ট জায়গাতে গিয়েই প্রার্থনায় বসতে হবে।
হ্যাঁ, আপনি চাইলে আপনার পরিবারের মাঝে অবস্থান করেও নামায আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, রোযা পালন, যাকাত প্রদান তথা প্রাত্যহিক ইবাদতগুলো সুন্দরভাবে আদায় করতে পারবেন। বিশেষত এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মসজিদের আমলগুলো ঘরে পালন করলে আপনার সাওয়াবে বিন্দু পরিমাণ কমতি হবে না।
..
এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ আমাকে এমন পাঁচটি বিশেষ নিআমত দান করেছেন, যা ইতোপূর্বে অন্য কোনো নবি-রাসূলকে দান করেননি।”
তন্মধ্য হতে একটি হলো,
 وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا 
“পুরো জমিন আমার জন্যে মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।” [বুখারি শরিফ]
আমরা জানি, মক্কার আল মাসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে নামায আদায়ের বিশাল সাওয়াব রয়েছে। তারপরও পুণ্যভূমি মক্কা-মদিনার অলি-গলিতে আপনি অজস্র ছোট ছোট মসজিদ দেখতে পাবেন। 
আপনি শুনলে হয়তো অবাক হবেন, খোদ মদিনা নগরীতেই এমন ২৫টি মসজিদ রয়েছে, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়েছেন। এর বাইরে আরো ৫টি মসজিদ রয়েছে, যেখানে সাহাবায়ে কেরাম রাদি. নামায পড়েছেন, বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়। অথচ তখনকার যুগে মদিনা মুনাওয়ারা আজকের মতো ঘন বসতিপূর্ণ ছিল না। 
..
কাজেই আসুন, লকডাউনের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের ঘরগুলোকে মসজিদে পরিণত করি। প্রতিটি ঘর হোক একেকটি মসজিদ। ঘরের প্রত্যেক পরিণত ব্যক্তি হয়ে ওঠুন পাঁচ ওয়াক্তের যোগ্য ইমাম।
আপনার ঘর হবে আপনার মসজিদ। আপনি হবেন সেই মসজিদের ইমাম। আল্লাহু আকবার। কত বড় নিআমত।
.
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামাতে নামায পড়ুন। দেখবেন, আল্লাহ আপনার ঘরকে জান্নাত বানিয়ে দিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
يَا بِلَالُ! أَقِمِ الصّلَاةَ، وَأَرِحْنَا بِهَا.
“হে বিলাল, সালাতের ব্যবস্থা করে আমাকে শান্তি দাও”। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৮৫]
.
আল্লাহ আমাদের ঘরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে দিন। 
প্রতিটি ঘর থেকে ভেসে আসুক কুরআন তিলাওয়াতের সমধুর সুর। 
আমাদের সবার অংশগ্রহণমূলক তাওবা-ইসতিগফারের বারিধারায় ধুয়ে যাক পৃথিবীর সকল পঙ্কিলতা। 
বনু আদমের জন্যে পৃথিবীটা আরেকবার বাসযোগ্য হয়ে ওঠুক।

Saturday, April 4, 2020

আপোষহীন অপ্রতিরোধ্য মুফতী আমিনী রহ. ৪ঠা এপ্রিলের হরতাল একটি উদাহরণ মাত্র

আপোষহীন অপ্রতিরোধ্য মুফতী আমিনী রহ. ৪ঠা এপ্রিলের হরতাল একটি উদাহরণ মাত্র


দেশে অনেক সংগঠন আছে, আছেন অনেক নেতা। তারপরেও কেন মানুষ সময়ে সময়ে আল্লামা মুফতী আমিনীকে স্মরণ করেন? কেন তারা বলেন? আজ মুফতী আমিনীর বড় প্রয়োজন। কারণ, এদেশে যখন কোন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড হয়, নেতা এবং সংগঠন নিজেকে এবং সংগঠনের ব্যানারকে প্রচারের সুবর্ণ সুযোগ মনে করে কিছুদিন মিছিল মিটিং করে চালিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ে। অপেক্ষায় থাকে আবার কবে নতুন ইস্যু তৈরি হবে, নিজের ও দলের র‍্যাংকিং একটু বাড়িয়ে নেবে। তাইতো একের পর এক ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড হচ্ছে, দলগুলোও মিছিল মিটিং-এর জন্য প্রস্তুত আছে।

পক্ষান্তরে মুফতী আমিনী রহ. দল কিংবা সংগঠনের পূজা করেন নি। "আমি জীবিত থাকব আর দ্বীনের ক্ষতি হবে" এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।

কুরআনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক নারী উন্নয়নের নামে কথিত নারী নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য এ দেশের শাসকগোষ্ঠীরা প্রায়ই চেষ্টা করেছে। মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলেও চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লামা মুফতী আমিনী রাহ. তখনো প্রতিবাদ করেছেন। জরুরী অবস্থায় মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১১-এর মার্চে আওয়ামী সরকার যখন নারী নীতিমালা চূড়ান্ত করে আল্লামা মুফতি আমিনী রহ. এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে ৪ঠা এপ্রিল দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেন। বাধা, প্রলোভন, ভয়-ভীত, হুমকি-ধমকি মোকাবেলা করে আল্লামা মুফতি আমিনী ছিলেন আপোষহীন অপ্রতিরোধ্য। তিনি স্পষ্টভাষায় বলে দিয়েছিলেন, নারী নীতিমালা স্থগিত কর তাহলেই হরতাল স্থগিত হবে।

 মানুষ নানা আশঙ্কায় আপোষ করে ফেলে। আল্লামা মুফতি আমিনী সন্তান গুম' হয়ে যাওয়ার পরেও কোন ধরনের আপোষরফা করেন নি।

২০০১ সালে হাইকোর্ট থেকে ফতোয়াবিরোধী রায় দেয়া হল। আল্লামা মুফতি আমিনী দুই বিচারপতিকে মুরতাদ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা ফতোয়া দিলেন। সারাদেশে আন্দোলন শুরু হল। আলেম-ওলামাদের ওপর চালানো হল নির্যাতন। দেয়া হলো মিথ্যা মামলা। মুফতি আমিনী থেমে যাননি। সর্বশেষ তাকেও কারাবরণ করতে হয়েছে।

সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে দেয়া হলো। ফিরিয়ে আনা হল ধর্মনিরপেক্ষতা। মুফতি আমিনী এক বক্তৃতায় বললেন, এই সংবিধান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হবে। ফলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে।

ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি, কোরআনবিরোধী নারীনীতি মালার বিরুদ্ধে তিনি গর্জে উঠেছিলেন। শেষ অবধি তাকে আমৃত্যু গৃহবন্দী থাকতে হয়েছে।

আমরা ভালো আছি, বেশ আরামে আছি, দীর্ঘ পরিকল্পনায় নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলেছি। বড় বড় স্বপ্ন দেখছি। পদ থেকে পদোন্নতির কথা ভাবছি। অথচ-

১৩দফা আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলন শেষ দফাও শেষ। কখনো মনেই হয় না যে, আমরা দফা দিয়েছিলাম। বাল্যবিবাহ আইন হয়েছে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মত কাউকে দেখা যায়নি। হাতিরঝিলে মসজিদ ভেঙে ফেলেছে প্রতিহত করতে কেউ দাঁড়ায় নি। জাতীয় মসজিদে বেদাতি খতিব, ফাউন্ডেশনে আজব ডিজি। কই আমরা কী করতে পেরেছি? আমরা হয়তো কেয়ামত পর্যন্ত বড় বড় সভা-সমাবেশ করতেই থাকব, কিন্তু কী লাভ? আমার মিটিং মিছিল তো তাদের কর্ণে পৌঁছে না। বরং রাতে টেবিলটক দিনে গরম বক্তৃতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উপকারী! 
(৪ঠা এপ্রিল ২০১৮)

Thursday, April 2, 2020

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ | সতর্কতামূলক পোস্ট | আল্লামা মামুনুল হক

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ | সতর্কতামূলক পোস্ট | আল্লামা মামুনুল হক


যে সকল সংগঠন, সংস্থা কিংবা ব্যক্তি করোনা ভাইরাস কেন্দ্রিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকেপড়া অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের সহযোগিতায় ভূমিকা পালন করছেন,
নগদ অর্থ,
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য,
কিংবা তৈরি খাবার বিতরণ করছেন,
তাদের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য । আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন ।

মানবতার এই সার্বজনীন আহ্বানে মানুষের পাশে দাড়ানোর এই মহতি উদ্যোগ আরো বৃদ্ধি পাক, সেই দোয়াই করি ।

তবে একটি কথা যেন আমরা ভুলে না যাই-
যে ভাইরাস থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে লকডাউন-অচলাবস্থার সৃষ্টি, ত্রাণ কিংবা সাহায্যের নামে যেন আবার সেই শারিরীক নৈকট্য তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি না হয় । মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভ্স পরলেই কিন্তু সংক্রমণের আশংকা কেটে যায় না, বরং এক অপর থেকে নিরাপদ দূরত্ব অবলম্বন করা জরূরী । নিজেদের কর্মী বা ছাত্রদের নিরাপত্তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা দায়িত্বশীলদের প্রথম দায়িত্ব ।

এ ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্য কিংবা ত্রাণসামগ্রী বিতরণের আয়োজন করতে না পারলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য মারফতে নগদ অর্থ পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে ।

অভাবী মানুষেরা ত্রাণের সংবাদ পেলে ভেঙ্গে পড়বেই । তখন আর শৃঙ্খলা কিংবা দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব হয় না ।

বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানাচ্ছি ।

Tuesday, March 31, 2020

করোনার ভয়ে মুসাফাহা ছেড়ে দেওয়া; কুরআনে বর্ণিত সামেরীর সাদৃশ্য হচ্ছে না তো ?

করোনার ভয়ে মুসাফাহা ছেড়ে দেওয়া; কুরআনে বর্ণিত সামেরীর সাদৃশ্য হচ্ছে না তো ?


করোনার ভয়ে মুসাফাহা ছেড়ে দেওয়া; কুরআনে বর্ণিত সামেরীর সাদৃশ্য হচ্ছে না তো ? 
মহান আল্লাহ তায়া’লার উপর ঈমান,আকিদা বিশ্বাস বিশুদ্ধ রাখা এবং ইসলামের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আজ আমরা পশ্চিমা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করছি। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। রোগ-শোক, বালামুসিবত থেকে রক্ষা সহ যাবতীয় কিছুর দিকনির্দেশনা ইসলামে রয়েছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে,করোনা ভাইরাস মহামারির এই নাজুক পরিস্থিতিতে আমরা অনেকেই ইসলামের নির্দেশনার প্রতি গুরুত্ববান না হয়ে পশ্চিমা প্রেসক্রিপশন যা যা করতে বলছে আমরা অক্ষরে অক্ষরে তা-ই পালন করছি।

পশ্চিমা প্রেসক্রিপশনে বলা হচ্ছে-
করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে পরস্পরে সাক্ষাৎ হলে একে অপরের সাথে মুসাফাহা করা যাবে না। ব্যস! আমরা বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছি। অনেকেই এখন আর মুসাফাহা করে না। সুস্থ ব্যক্তির সাথেও না। কি আশ্চর্য ব্যপার!

মুসাফাহার মাধ্যমেই করোনা ছড়িয়ে যাবে এমনটা আপনি আমার আকিদা বিশ্বাস হলে মহান আল্লাহ তায়া’লা উপর আর বিশ্বাস রইলো কোথায়? সহিহ বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ "লা-আদওয়া- অর্থাৎ রোগের কোন ছোয়াছে নেই। রোগ আল্লাহ তায়া’লার হুকুম ছাড়া নিজস্ব ক্ষমতায় কাউকেই আক্রান্ত করতে পারে না। হাদীসের ভাষ্য মতে নিজস্ব ক্ষমতায় যদি রোগ কাউকে আক্রান্ত করতে না পারে তাহলে পশ্চিমা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী একটি ফযিলতপূর্ণ আমাল মুসাফাহা ছেড়ে দেওয়ার কি মানে ?

মুসলমান একে অপরের সাথে দেখা হলে মুসাফাহা বা করমর্দন করা একটি ইসলামী রীতি ও উত্তম চরিত্র। রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে তা প্রমাণিত।
এর দ্বারা মুসাফাহাকারী ব্যক্তিদ্বয়ের মাঝে ভালবাসা ও হৃদ্যতার বহিঃপ্রকাশ হয় । মুসাফাহা মুসলমানদের পারস্পারিক হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহ দূর করে দেয়। মুসাফাহা-এর ফজিলতের ব্যাপারে হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে,রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:“কোন মুসলিমদ্বয় যদি সাক্ষাত করে পরস্পর মুসাফাহা করে তাহলে তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। [সুনানে আবু দাউদ- ৫২১২]

হ্যাঁ, বাস্তবেই কেহ করোনায় আক্রান্ত হলে বা সে করোনায় আক্রান্ত জানা থাকলে তার সাথে মুসাফাহা না করতে পারি। সেসময় সতর্ক থাকার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু 
ঢালাওভাবে সবার সাথে মুসাফাহা পরিত্যাগ করার তো কোন মানে হয় না।

মূসা আলাইহিসসালাম এর অনুপস্থিতিতে  সামেরী নাম এক ব্যক্তি মূসা আ.এর উম্মতের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলো। গো- বৎসের পূজার শিক্ষা দিয়েছিল।

পবিত্র কুরআন শরীফে ১৬ নং পারার সূরা ত্বহার ৯৭ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,হযরত মূসা আলাইহিসসালাম সামেরীকে বদ দুআ করে বলেছিলেন,দূর হ,তোর জন্য সারা জীবন এ শাস্তি রইলো যে,তুই বলবিঃ আমাকে স্পর্শ করো না। 

হযরত মূসা আ.সামেরীর জন্যে পার্থিব জীবনে এই শাস্তি ধার্য করেন যে,সবাই তাকে বর্জন করবে। এবং কেহ তার কাছে  ঘেঁষবে না।

তাফসীরে মারেফুল কুরআনে উল্লেখ আছে,কাউকে নিকটে আসতে দেখলেই সে(সামেরী)চিৎকার করে বলতোঃ
 لا مساس- লা মিছাছ
অর্থাৎ,আমাকে কেউ স্পর্শ করো না।

করোনার অজুহাতে যারা ঢালাওভাবে মুসাফাহা ছেড়ে দিয়েছি,তাদের ভেবে দেখা উচিত যে,এ কাজ কুরআনে বর্ণিত সামেরীর সাদৃশ্য হচ্ছে না তো!

কাছে না ঘেঁষা,পরস্পরের স্পর্শ বা ছোঁয়াকে খারাপ মনে করা এটা হিন্দুয়ানী রীতিনীতি। সামেরী থেকে হিন্দুরা গো-বৎসের পূজা আর ছোঁয়াকে খারাপ মনে করার শিক্ষা লাভ করেছে। এসব কোন মুসলমানের আকিদা বিশ্বাস হতে পারে না। পশ্চিমা চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনের পিছনে দৌড়ালে চলবে না বরং তা ইসলামের কষ্টিপাথরে যাচাই-বাছাই করে তারপর আমাল করতে করতে হবে। আল্লাহ তায়া’লা আমাদেরকে  তকদিরের উপর ঈমান রেখে, মহান আল্লাহ তায়া’লা উপর আকিদা বিশ্বাস সঠিক রেখে চলার তাওফীক দান করুন, আমিন। 

[সংকলনে-H.M.Zunaid
দারুল উলুম হাটহাজারী। 

Monday, March 30, 2020

তীয়করোনার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে আল্লামা তাকি উসমানির বিশেষ আহ্বান

তীয়করোনার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে গরিব অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে আল্লামা তাকি উসমানির বিশেষ আহ্বান


করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট‌ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে সবধরণের কাজই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ‘দিন এনে দিন খায়’ এমন অসহায় মানুষগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হলেও কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা এখন করোনা ভাইরাসে নয় বরং অনাহারে মৃত্যুর শঙ্কায় ভুগছেন।
এই দিন মজুর অসহায় ভাইদের খুঁজে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকি উসমানি। তিনি এক টুইটবার্তায় বিত্তশালীদের প্রতি এই আহ্বান জানান।

আল্লামা তাকি উসামানি লিখেছেন, “সামর্থ্যবান প্রত্যেকেই নিজের আশেপাশের ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ মানুষদের খুঁজে বের করুন। তাদের নগদ অর্থ অথবা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করুন। এটি সমাজের সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ করবে। এবং এটি উত্তম সদকা হিসেবেও গণ্য হবে। আর সদকা কোনো বিপদ ও মুসিবত দূর করার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম।”

আসুন, আমরা এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেই নিজ জায়গা থেকে অভাবী মানুষদের পাশে দাঁড়াই। তাদের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। আমাদের এই সহযোগিতা প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনবে, ইনশাআল্লাহ।

Saturday, March 28, 2020

করোনা ভাইরাস;আল্লামা বাবুনগরীর দিকনির্দেশনামূলক জুমার বয়ান

করোনা ভাইরাস;আল্লামা বাবুনগরীর দিকনির্দেশনামূলক জুমার বয়ান

করোনা ভাইরাস;আল্লামা বাবুনগরীর দিকনির্দেশনামূলক জুমার বয়ান
করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে
গতকাল ২৭ মার্চ জুমার নামাযের পূর্বে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার কেন্দ্রীয় বায়তুল করীম জামে মসজিদে আগত মুসল্লিদের সামনে দেশ ও জাতীর উদ্দেশ্যে ইসলামের বিধান ও স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকনির্দেশনামূলক বয়ান পেশ করেছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

কুরআন-সুন্নাহর আলোকে প্রদত্ত সময়োপযোগী মূল্যবান বয়ানের সারাংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো- সংক্ষিপ্ত খুতবার পর আল্লামা বাবুনগরী সূরা আহযাবের ৪৩ নং আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন,মহান আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন-তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। আল্লাহ তায়া’লা অত্যন্ত দয়া-মায়া করে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর মায়া-মমতার একশ ভাগের একভাগ সমস্ত সৃষ্টি জীবের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন আর বাকি ৯৯ ভাগ রোজ হাসরের নিজের কাছে জমা রেখে দিয়েছেন। এই এক ভাগ পেয়েই সৃষ্টি জীব পরস্পরের মধ্যে একে অপরকে মায়া-মমতা করে। মায়া মোহাব্বতের বান্দারা যখন আল্লাহ তায়া’লার অবাধ্যতা আর নাফরমানী করে তখন আল্লাহ তায়া’লা রাগান্বিত হন। বিভিন্ন আযাব-গযব ও বালামুসিবত দিয়ে বান্দাকে গুনাহ ছেড়ে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সংকেত দেন। তাওবা করে গুনাহ ক্ষমা চেয়ে আল্লাহ তায়ালার দিকে তা প্রত্যাবর্তনের আহবান করেন। যেমন পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা নুহ এর ১০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,বর্তমানে আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক,রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল সহ সর্বক্ষেত্রে শুধু গুনাহ আর গুনাহ। হয়ত এসব গুনাহের কারণেই আজ করোনা ভাইরাসের মতো এই মহামারি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। গুনাহের কারণে আল্লাহ তায়া’লা বান্দাকে আযাব গযবে নিপতিত করেন। সূরা শুরার ৩০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
আল্লাহ তায়া’লা বলেন,তোমাদের ওপর যেসব বিপদ আপদ পতিত হয় তা তোমাদের কর্মেরই ফল। এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। সূরা সেজদা ২১ নং আয়াত-আল্লাহ তায়া’লা বলেন, গুরু শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাবো।যাতে তারা আল্লাহর দিকে
প্রত্যাবর্তন করে। সূরা আনকাবুতের ৪০ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারনে পাকড়াও করেছি। সুতরাং বর্তমান সময়ের এই মহামারি গুনাহেরই ফসল।বর্তমান সবচে বড় আল্লাহর নাফরমামি হলো আল্লাহর নাজিলকৃত ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র,ইসলামকে নির্মূল করার অপচেষ্টা।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন। নামায কাযা করা ,
সুদ-ঘুষ,আত্মসাৎ,হাইজ্যাক  চাদাবাজী,
সন্ত্রাস,বেপর্দা,নাচগান ইত্যাদি। তাই নাজুক মুহূর্তে যাবতীয় গুনাহ পরিত্যাগ করে খাটি দিলে তাওবা করে আল্লাহ তায়া’লার দিকে রুজু হতে হবে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যখন সমস্ত মুসলমান আল্লাহ তায়া’লার ঘর মসজিদে এসে নামায,জিকির-আযকার ও দুআ কান্নাকাটি করে এই মহামারি থেকে পানাহ চাওয়ার কথা ছিলো সেই সময়ে ইহুদি খ্রিস্টান আর ইসলাম বিরোধীরা মুসলমানদেরকে  মসজিদ থেকে বের করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত। তারা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আতংক সৃষ্টি করে আজ মসজিদে নামায বন্ধ,জুমা বন্ধ করছে। এমনকি পবিত্র খানায়ে কাবার তাওয়াফ বন্ধ করেছে,মসজিদে নববীতে নামায বন্ধ করে দিয়েছে। এসব ইসলাম বিরোধীদের পরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র। এসবে বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

এই মহামারি থেকে বাঁচতে চিনের
অমুসলিমরা মসজিদে মসজিদে গিয়ে দুআ চাচ্ছে। মুসলমানদের সাথে দুআয় শরীক হয়ে এ মহামারী থেকে রক্ষা পেতে মহান আল্লাহ তায়া’লার নিকট দুআ করেছে। কিন্তু মুসলমানরা কেন আজ মসজিদে যাবে না! নামায পড়বে না? যেখানে অমুসলিমরা মসজিদে যাচ্ছে সেখানে তো মুসলমানদের আরো বেশি বেশি মসজিদে যাওয়া উচিত। এবং মুসলমানদের আরো বেশি বেশি আল্লাহ তায়া’লাকে ভয় করা জরুরী।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়া’লা মক্কা শরীফকে বালাদান আমিনা বা নিরাপদ শহর বলেছেন এবং হাদীস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,মদীনা মুনাওয়ারায় দাজ্জাল এবং মহামারী ঢুকতে পারবে না। মুসলমান হিসেবে কুরআনের আয়াত ও  বিশ্ব নবীর চিরন্তন সত্য এ বাণীর উপর ঈমান এবং আকিদা বিশ্বাস থাকার অপরিহার্য ছিলো কিন্তু আজ সৌদি হুকুমতের এ আয়াত ও হাদীসের উপর বিশ্বাস কোথায়! যার কারণে তারা আজ পবিত্রময় এ দু জায়গায় ইবাদাত বন্ধ করে দিয়েছে। মুসলমানদের জন্য এটা বড় দুঃখজনক ও মর্মাহত হওয়ার মতো বিষয়।

সহিহ বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "লা-আদওয়া- অর্থাৎ রোগের কোন ছোয়াছে নেই। রোগ আল্লাহ তায়া’লার হুকুম ছাড়া নিজস্ব ক্ষমতায় কাউকেই আক্রান্ত করতে পারে না। অথচ আজ করোনা ভাইরাসের ছোয়াছে অজুহাতে মসজিদ বন্ধ করা হচ্ছে। কতিপয় দূর্বল ঈমানদাররা আজ মসজিদে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,কেহ করোনা ভাইরাসে বা অন্য কোন রোগে অসুস্থ হলে সে মসজিদে  আসবে না। তবে একজনের জন্য হাজার সুস্থজনকে মসজিদে আসা থেকে বারণ করা যায় না। বাস্তবেই কেহ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সে হসপিটালে থাকবে তবে যারা সুস্থ তারা সকলেই সচেতনতা বজায় রেখে মসজিদে আসবে।

আজ মসজিদ ছেড়ে ঘরে নামায পড়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বহু ঘর তো এমন আছে যেখানে পাঁচ সাতজন সদস্য বা দশ পনেরো জনের যৌথ ফ্যামিলি। মসজিদে জমায়েত হয়ে নামায পড়লে করোনা ছড়িয়ে যাবে কিন্তু ঘরে জমায়েত হয়ে পড়লে তা ছড়াবেনা এই নিশ্চয়তা কে দিয়েছে! মসজিদ রহমত বরকতের জায়গা। মসজিদ ঘর থেকে  নিরাপদ।

এই মহামারিতে কোন মুসলমান মারা গেলে সে অবশ্যই রাসুলের হাদীস অনুযায়ী শহীদ হবে। তাকে ইসলামি বিধানানুযায়ী জানাযা ও দাফন কাফন করতে হবে। দুঃখজনকভাবে বলতে হয় আজ ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে টিভি টকশোতে করোনায় আক্রান্তদের লাশ আগুনে পুড়ে ফেলার কথা হচ্ছে। এমন কথা মেনে নেওয়া যায়না। মুসলমানের লাশ আগুনে পুড়ার কথা বলে চরম ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। লাশ আগুনে পুড়ে ফেলা হিন্দুয়ানী রীতি নীতি।এবং মুসলমানদের জন্য ইহা হারাম।
ঢালাওভাবে করোনায় মৃতদের লাশ আগুনে পুড়ার কথা বলে ওরা মূলত এদেশকে হিন্দুয়ানী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে।এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

আল্লামা বলেন,হক্কানী
ওলামায়ে কেরাম দেশ ও জাতীর ঈমান আকিদা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী।জাতীর কর্ণধার। বর্তমান এই নাজুক মুহূর্তে ওলামায়ে কেরাম কুরআন সুন্নাহর আলোকে জাতীকে সঠিক পথ পদর্শন করতে হবে।কুরআন-সুন্নাহর আলোকে করনীয় ও বর্জনীয় ঠিক করে দিতে হবে।

ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,রোগীর দেখাশোনা ও সেবা-শুশ্রূষাও একটি ইবাদত। করোনায় আক্রান্ত কোন রোগী দেখলে ডাক্তারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাবে এমনটা মনে করা ঠিক নয়। এটা ইসলামের আকিদা বিশ্বাসের পরিপন্থী। বর্তমানে করোনার ভয়ে অনেক জায়গায় সাধারণ রোগীদেরকেও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে রোগীরা অসহায় হয়ে কষ্ট ভোগ করছে। এটা দুঃখজনক।  রোগীদেরকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে সেবার মহৎ কাজ করলে আল্লাহ তায়া’লার নিকট এর উত্তম বিনিময় পাওয়া যাবে।

আমরা হাজার চেষ্টা করেও এই মহামারি থেকে বাঁচতে পারবো না। সূরা তাকভীরের ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়া’লা বলেন,তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না। তাই আমাদেরকে মহান রবের দিকেই ফিরতে হবে,পানাহ চাইতে হবে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,আমরা নীচের সরকারের নির্দেশ অবশ্যই মানব কিন্তু উপরের সরকার মহান রব্বুল আলামিনের নির্দেশ আরো হাজারগুণ মানতে হবে। তাই গুনাহ ছেড়ে দিয়ে পূর্বকৃত পাপকাজ  থেকে তাওবা করে আল্লাহ তায়া’লার দিকে ফিরে আসতে হবে। এবং শরঈ বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অভিজ্ঞ ডাক্তাররা যেসব পরামর্শ দেন তা যথাযথ ভাবে মেনে চলতে হবে।

Wednesday, March 18, 2020

করোনা থেকে বাঁচতে অজুর উপকারিতা

করোনা থেকে বাঁচতে অজুর উপকারিতা

করোনা থেকে বাঁচতে অজুর উপকারিতা
বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি আমাদের দেশেও পাওয়া গেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে আতঙ্ক। ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আপাতত জনসমাগম, গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে, ঘন ঘন হাত ধুতে।
কারণ হাতের মাধ্যমেই এই রোগ বেশি ছড়াতে পারে। আলেমরা বলছেন, করোনা থেকে বাঁচতে আমাদের সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে। গুনাহ ছেড়ে দিতে হবে।
পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনও করতে হবে। এ ছাড়া ঘন ঘন অজুর মাধ্যমেও আমরা সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পারি। কারণ মহান আল্লাহ অজু করার সময় এমন চারটি অঙ্গকে ধোয়া ফরজ করেছেন, যে চারটি অঙ্গের মাধ্যমে শরীরে দ্রুত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত করো)। (সুরা মায়েদা- ৬)
উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পবিত্রতা অর্জনের জন্য চারটি অঙ্গ ধৌত করা ফরজ করেছেন। কনুই পর্যন্ত হাত, মুখ, পা ও মাথা মাসেহ করা। পাশাপাশি যে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে, সেই পানিও হতে হবে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। যে পানির স্বাদ, গন্ধ এবং রং অবিকৃত থাকবে।
এ ছাড়া অজুর শুরুতে কবজি পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া, কুলি করা, দাঁত মিসওয়াক করা, কান ও নাকের বহির্ভাগ পরিষ্কার করাকে মহানবী সা. তাঁর সুন্নাত হিসেবে অনুসরণ করতে বলেছেন। নিম্নে বিজ্ঞানের আলোকে অজুর অঙ্গগুলো ধোয়ার উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
মুখমণ্ডল ধৌত করা: মুখ ধোয়ার অভ্যাস সব ঋতুতেই শরীর ও মনের সতেজতা আনে। মুখমণ্ডল ও দুই হাত শরীরের সবচেয়ে বেশি আবরণমুক্ত অংশ। তাই এগুলোতে সহজেই ধুলাবালি ও ভাইরাস, রোগজীবাণু লাগতে পারে। আর মানুষের ত্বকে বিশেষ করে লোমকূপের গোড়ায় এবং ঘর্মগ্রন্থির মুখে স্ট্যাপলিলোকাই, স্ট্রেপটোকক্কাই, কলিফর্ম ইত্যাদি ক্ষতিকর রোগজীবাণু থাকতে পারে।
এ ছাড়া চোখের ভ্রুযুগল, চোখের পাতা, গোঁফ, দাড়ি, যা সহজেই ময়লাযুক্ত হতে পারে তাও হাত-মুখ ধোয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যায়। মুখমণ্ডল অপরিষ্কার থাকলে রোগজীবাণু সহজেই মুখে প্রবেশ করতে পারে। মুখমণ্ডলের ঘাম, ময়লা ও জীবাণু ত্বকের সঙ্গে সেঁটে থাকতে সাহায্য করে। তাই আমরা ঘন ঘন অজুর মাধ্যমে আমাদের মুখমণ্ডলকে জীবাণুমুক্ত রাখতে পারি।
দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়া: স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য শরীরের এই অংশটুকু প্রায়ই খোলা থাকে, যার ফলে এ অংশে ময়লা ও রোগজীবাণু লাগতে পারে। হাতের আঙুলের ডগার মাধ্যমে বিশেষ করে চুলকানোর পর আঙুল, নাক, কানসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এসব জীবাণু বিস্তার লাভ করে। এ ছাড়া অপরিষ্কার হাত খাদ্য ও পানীয়কেও জীবাণুযুক্ত করতে পারে। তবে সুস্থ ত্বক এসব জীবাণুর জন্য এক স্বাভাবিক প্রতিরোধক।
কিন্তু ত্বকে সামান্যতম ক্ষত হলে তার মাধ্যমে এসব জীবাণু দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে পাঁচড়া, ফোড়া, কারবাংকন, সেলুলাইটিস, সেপটিকেনিয়া, পায়োমিয়া ইত্যাদি রোগ হতে পারে। আর এখনকার সময় এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কাও খুব বেশি। সুতরাং অজু করার সময় প্রথমে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে পরে মুখমণ্ডল ধৌত করলে এসব রোগ থেকে সহজেই মুক্ত থাকা সম্ভব।
মাথা মাসেহ করা: অজু করার সময় ভেজা হাতে মাথা মাসেহ করা ফরজ। রোগজীবাণুমুক্ত থাকতেও এ কাজটি দারুণ কার্যকর। কারণ আমাদের মাথা ও চুল সব সময় উন্মুক্ত থাকে। যার ফলে চুলের মধ্যে ময়লা ও রোগজীবাণু জমা হতে পারে। সুতরাং ভেজা হাতে মাথা মাসেহ করার মাধ্যমে সেই ময়লাগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব। মাথা মাসেহ করার পাশাপাশি ঘাড়েও ভেজা হাত দিয়ে মাসেহ করে নেওয়া রাসুল সা.-এর সুন্নাত। এর দ্বারা অজুর একটি সুন্নত যেমন আদায় হয়ে যায়, পাশাপাশি ঘুম থেকে উঠে বা কর্মক্লান্ত হলে ভেজা হাতে ঘাড় মাসেহ করলে সতেজতা অনুভূত হয়।
টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধৌত করা: দুই পা সবচেয়ে বেশি খোলা থাকে, বিশেষ করে গ্রীষ্মপ্রধান দেশে। এর ফলে এই অংশ খুব ময়লা ও জীবাণুযুক্ত হতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পা থাকলে জামাতে নামাজ পড়ার সময় ময়লা বা রোগজীবাণু ছড়াতে পারে না।
তাই অজুর মাধ্যমে ভালোভাবে পা ধোয়ার মাধ্যমেও আমরা করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে পারি। কারণ কোনোভাবে যদি আমাদের পায়ে করোনার জীবাণু লেগে যায়, তা খুব সহজেই হাতে উঠে যেতে পারে। যেহেতু এখন মশার উপদ্রবও অনেক বেশি।
করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আমরা অবশ্যই মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইব। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করব। পাশাপাশি সতর্কতাও অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করুন।

Thursday, October 24, 2019

আমি মুসলিম তাই বলে কি আমার girlfriend থাকবে না ?

আমি মুসলিম তাই বলে কি আমার girlfriend থাকবে না ?


আমি মুসলিম তাই বলে কি আমার girlfriend থাকবে না ? জানি গুনাহ কিন্তু আমি তো বিয়ে করব পরে!
*আমি গান শুনতে পারব না?
*পার্টিতে গিয়ে নাচতে পারব না?
*ব্যাংকের মুনাফা নিতে পারব না? 
*মনের ইচ্ছা মত কিছুই করতে পারব না? 
না এত্তসব নিয়ম কানুন মেনে চললে life এ
enjoyment কোথায়? না......আমার দ্বারা সম্ভব না! এমন মানসিকতা যাদের । যারা পারছেন না গুনাহ থেকে দূরে থাকতে .........
৫টি কাজ
যারা করতে পারলে , গুনাহ চালিয়ে যান........গুনাহ
আপনার কোন ক্ষতি করবে না । 
১.আল্লাহকে যদি অমান্য করতে চান তাহলে আল্লাহর দেয়া রিযিক গ্রহন করবেন না । কৃতজ্ঞগতা বলেও একটা কথা আছে ,
আল্লাহরদেয়া রিযিক খেয়ে কিভাবে আল্লাহের অবাধ্য হবেন? 
২.আল্লাহের মালিকানাধীন জায়গা ত্যাগ করেন । আল্লাহের মালিকানায় , আল্লাহের দয়ায় থেকে কিভাবে আল্লাহের আদেশ অমান্য করবেন?
৩.আমরা যদি এতটাই অকৃতজ্ঞ হই যে এখনো আমাদের আল্লাহের আদেশ অমান্য করার ইচ্ছা রয়েছে .... .. এমন জায়গা খুজে বের করেন ।
যেখানে আল্লাহর কাছ থেকে গোপন করতে পারবেন। 
৪.যখন মৃত্যুরফেরেশতা আসবে তখন পারলে তাকে বাধা দিয়েন। ভাল কাজ করার কিছু সময় চেয়েন । পাবেন না , তখন একমুহূর্তও দেরি করা হবে না শুধু শুধুই মৃত্যু থেকে পালাচ্ছেন।
৫.স্মরন করেন সেই দিনের কথা যেদিন জাহান্নামের ফেরেস্তা আপনাকে টেনে হিচড়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে পারবেন সেদিন নিজেকে জাহান্নামের হাত থেকে রক্ষা করতে?
এখনও যারা মনে করেন গুনাহের কাজ গুলো ছাড়া বাচতে পারবেন না , আল্লাহের আযাবের
জন্য অপেক্ষা করুন ......
"নিশ্চয়ি আপনার প্রভুর শাস্তি অবশ্যম্ভাবী ।
তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না "( সুরা তুরঃ ৭-৮)
এই point গুলো শুধুমাত্র আমাদের অসহায়ত্ব ও মহান আল্লাহের বড়ত্ব প্রকাশ করে ....... আল্লাহ আমাদের এই মহান সত্যকে অনুভব করার তাওফিক দান করুক আমিন ।

Saturday, October 12, 2019

মেয়েকে লেখা  খতিব উবায়দুল হক রহ- এর চিঠি

মেয়েকে লেখা খতিব উবায়দুল হক রহ- এর চিঠি


খতিব উবায়দুল হক রহ.- এর বড় মেয়ে রায়হানা হক সিলেটে তার দাদীর কাছে থাকতেন। যখন তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো, সে সময় ১৬ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে মেয়েকে পত্র লিখেছিলেন। চিঠিটির আংশিক তুলে ধরা হলো—এহসান সিরাজ

স্নেহের…!
এক বছর থেকে তোমার স্কুল শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তুমি লেখাপড়া ছেড়ে দিবে। বরং এখন আরও বেশি বেশি পড়া উচিত। লেখার চর্চা করাও দরকার। বিশেষভাবে দীনি কিতাবাদি এবং উর্দু বেহেশতী জেওর নিয়মিত পড়বে। দৈনিক দাদিজানের কাছে বসে বেহেশতী জেওর থেকে তিনি যতটুকু বলবেন ততটুকু পড়বে। তার কাছে জিজ্ঞেস করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করবে।

কিতাব ছাড়াও আরেকটি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা অত্যাধিক জরুরী। তা অর্জন করতে না পারলে ডিগ্রি অর্জন করার কোনো মূল্য থাকে না। এ জিনিসটি হচ্ছে ‘ছালিক্বা’ তথা আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জন এবং গৃহস্থ বিষয়ক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার শিক্ষা গ্রহণ। যে নারী এগুলো খেয়াল করে না, তাকে পদে পদে হোঁচট খেতে হয়। মানুষ তাকে ঘৃণা করে। পক্ষান্তরে যে মেয়ে এগুলো খেয়াল রাখে, লোকে তার তারিফ করে, সম্মান করে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে এগুলো অর্জন হয় না, নিজের বুদ্ধি-বিবেচনার মাধ্যমেই তা শিখতে হয়।

ছালিক্বা কাকে বলে? এর অর্থ কী? ছালিক্বা মানে—
১. প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেয়া।
২. নিজ দায়িত্বে ঘরের প্রতিটি কাজ সম্পাদন করা। কারো জন্য বসে না থাকা।
৩. ঘরের ছোট বড় সবার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৪. ঘরদোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
৫. ঘরের প্রতিটি বস্তু যথাস্থানে হেফাজতে রাখা।
৬. ছোট-বড় সবার মর্জি মোতাবেক খাবার পরিবেশন করা ও তাদের অন্যান্য চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৭. সবার সাথে নম্র ব্যবহার করা।
৮. বড়দের সেবা ও সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করা।
৯. ঘরে মেহমান আসলে তাদের সমাদর করা।
১০. ঘরে যা প্রয়োজন হতে পারে আগে থেকেই খেয়াল রাখা। এক সপ্তাহ পর কিসের প্রয়োজন হতে পারে, তা এখনই স্মরণ করিয়ে দেয়া।
১১. যে কাজে একবার দোষারোপ করা হয়, সে কাজে আবার যেন দোষারোপ করতে না হয়।

মোটকথা, ছলিক্বাসমৃদ্ধ মেয়ে সবসময় সুখে থাকবে। অন্যের সন্তুষ্টি পাবে। তার ঘর বেহেশতের নমুনা হবে। এসব বই পড়ে অর্জন করা যায় না। বুদ্ধি দিয়ে শিখতে হয়, আচার ব্যবহার থেকে শিখতে হয়। যার বয়বহার ভালো, তার কাছ থেকে শিক্ষা নিবে, যার ব্যবহার মন্দ, তার অনুসরণ করবে না।

আমার এ পত্রটি বুঝে শুনে দু’তিনবার পড়বে। যা বুঝে আসবে না, দাদী অথবা মাকে জিজ্ঞেস করে বুঝে নেবে। পত্রটি হেফাজত করে রাখবে। উপরোক্ত বিষয় সামনে রেখে নিজের মধ্যে কী কী ত্রুটি আছে, তা ভেবে দেখবে। নিয়মিত নামাজ পড়বে এবং কোরআন তেলাওয়াত করবে। এতে যেন ত্রুটি না হয়। এখানে সবাই ভালো আছে।

ইতি
উবায়দুল হক
১৬/১১/১৯৭৫

Wednesday, October 2, 2019

ধর্ম যার যার উৎসব সবার!....কিছু কথা অতঃপর মুসলিম ও পূজা

ধর্ম যার যার উৎসব সবার!....কিছু কথা অতঃপর মুসলিম ও পূজা



বর্তমানে তথাকথিত সুশীলদের বাজারে বিখ্যাত হওয়া একটি উক্তি হল “ধর্ম যার যার উৎসব সবার।” আর এই উক্তিটা তখনই তাদের মুখে বেশি শোনা যায় যখন কি না সামনে এসে পড়ে দূর্গাপূজা বা অন্যান্য পূজা। আর এই কথার চাদরে মুখ লুকিয়ে নিজের পূজায় যাওয়ার বৈধতা খুজে বেড়ান আমদের কিছু তথাকথিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা। এই মুসলিম ভাই বোনদের উদ্দ্যেশ্যেই আজকের লেখা।

তার আগে চলুন আমরা ধর্ম আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (সেকুলারিজম) সম্পর্কে জেনে আসি।

IIRT Arabic Intensive
উইকিপিডিয়া অনুসারে –

“ধর্ম হল  লিপিবদ্ধ  শৃঙ্খলিত প্রত্যাদেশ কে বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান  (প্রথা )  এঁর  উপর  আনুগত্য , যা  সাধারনত “আধ্যাত্মিক” ব্যাপারে “দৃঢ় বিশ্বাস” এঁর সাথে সম্পর্ক যুক্ত; এবং বিশেষ  পূর্বপুরুষ হতে  প্রাপ্ত  ঐতিহ্য , জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা , রীতি ও প্রথা কে  মানা এবং গবেষণা করা যাতে মানবজীবন কে বোঝা যায় এবং সেভাবে চালানো যায়।”[১] 

তাহলে উইকিপিডিয়া অনুসারে ধর্ম হলঃ

১. লিপিবদ্ধ  শৃঙ্খলিত প্রত্যাদেশ কে বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান  (প্রথা )  এঁর  উপর আনুগত্য।

২. বিশেষ  পূর্বপুরুষ হতে  প্রাপ্ত  ঐতিহ্য, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা, রীতি ও প্রথা কে  মানা।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছেঃ

“ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ  (Secularism) বলতে কিছু নির্দিষ্ট প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে থেকে পরিচালনা করাকে বোঝানো হয়।” [২] “ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেকুলারিজম” শব্দটি ১৮৫১ সালে ব্রিটিশ লেখক জর্জ জ্যাকব প্রথম ব্যবহার করেন। জর্জ জ্যাকব ধর্মের কোনো রকম সমালোচনা ছাড়া, সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য তার এই Secularism এর ধারণা প্রকাশ করেন।” [২]

সোজা কথায় বললে বলা যায়, তিনি বলতে চেয়েছেন ধর্ম দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে।

মোদ্দাকথা ধর্মনিরপেক্ষতা হল দেশের সরকার কোন ধর্মকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবে না আর ধর্মীয় নীতি অনুসারে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না।

তাহলে এই ধর্মনিরপেক্ষতা যদি কোন ব্যক্তি নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই ধর্মহীন মানে সেকুলার হতে হবে।

যাহোক, এবার “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এই ছোট্ট কথাটার প্রতি একটু খেয়াল করি। গঠনশৈলী অনুসারে এ ধরনের শব্দে সবার যে জিনিসটা সেই জিনিসের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। আরেকটু ভালোভাবে বলতে গেলে ধরুন গ্রামের একটা যৌথ পরিবারে যে সংসারগুলো থাকে সেগুলার মাঝে ঝামেলা হল যার ফলে যৌথ পরিবার ভাঙার উপক্রম হল তখন কেউ উঠে বলল “সংসার যার যার পরিবার সবার”। এর মানে হল সে বড় পরিবারের মাঝে বিদ্যমান সংসার গুলোকে ক্ষুদ্র করে যৌথ পরিবার বিষয়টাকে বড় করে দেখছে। আর সবাই তখন ওই ব্যক্তির ঐ কথার উপরে কথা বলে না কারন ওই ব্যক্তি ক্ষুদ্র সার্থ রেখে বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করতে বলছে।

তাহলে এবার যদি আমরা ওই  “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” কথাটার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে এই কথার মধ্যে ধর্ম বিষয়টা হল ক্ষুদ্র স্বার্থ আর উৎসব বিষয়টা হল বৃহৎ স্বার্থ। যারা এই ধরনের কথা বলে তাদের কাছেও ধর্ম বিষয়টা নগন্য। আর এই বিষয়টা মিলে যাচ্ছে সেকুলারিজম বিষয়টার সাথে। কারন সেকুলার রাষ্ট্রেরও মূলণীতি হল রাষ্ট্রের চেয়ে ধর্ম নগন্য। এখন কোন ব্যক্তি যদি বলেন  “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” তার মানে হল তার কাছে তার ধর্মের বিষয় খুবই ক্ষুদ্র মানসিকতার বিষয়, এর চেয়ে তার কাছে রাষ্ট্রের সকল ধর্মের উৎসব অনেক বড় বিষয়।

এবার চলুন ধর্ম তাদের কাছে কতটা ক্ষুদ্র বিষয় সেই বিষয়টা আরেকটু ভালোভাবে বুঝি।

ধরুন আমি যদি ধর্মের জায়গায় রাজনৈতিক দল কথাটা বসাই তাহলে কি “রাজনৈতিক দল যার যার উৎসব সবার” কথাটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের কাছে সত্য হবে? কখনই না। এর উদাহরন হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশের দুই রাজনৈতিক দলের একদলের শোক অনুষ্ঠানে অন্য দল শোক প্রকাশ করে না, আবার এক দলের নেতার জন্মানুষ্ঠানে অন্য দল অংশগ্রহন করে না।

এবার যদি আমি  ধর্মের জায়গায় রাষ্ট্র বসাই তাহলে কি কোনভাবে “রাষ্ট্র যার যার উৎসব সবার” সত্য হবে? তাও হবে না। যেমন ধরুন, বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে কি পাকিস্তানিরা আনন্দ প্রকাশ করবে? তেমনি ইন্ডিয়ার বিজয় দিবসে পাকিস্তানীরা বা পাকিস্তানের বিজয় দিবসে ভারতীয়রা আনন্দ প্রকাশ করবে না।

তাহলে এখন মনে হয় না আর বলে দিতে হবে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্থান আজ সেকুলার রাষ্ট্রের তথা সেকুলারদের কাছে কোথায়।

এক ধর্মের মানুষের অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যাওয়া কি যৌক্তিক?

এই প্রশ্নের উত্তর পাবার আগে আপনারা একবার একেবারে প্রথমে দেয়া ধর্মের সংজ্ঞার দিকে তাকান। ওখানে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে “ধর্ম হল  লিপিবদ্ধ শৃঙ্খলিত প্রত্যাদেশকে বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান  (প্রথা )  এর  উপর  আনুগত্য।” তাহলে যেহেতু প্রত্যেক ধর্মের উৎসবই ঐ ধর্মের প্রতিফলন আবার যেহেতু কোন ধর্মের ব্যক্তিই বলে না যে তার ধর্ম বাদে অন্য ধর্ম সঠিক তাহলে  কিভাবে অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যাওয়া যৌক্তিক হয়?

এবার আসি আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য মুসলিমদের নিয়ে।

মুসলিম ও পূজাঃ

যারা ইসলাম নামক ধর্মকে বিশ্বাস করে, তারাই মুসলিম। আর মুসলিম হওয়ার প্রধান শর্ত হল আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা অর্থাৎ

১. সৃষ্টি, রাজত্ব, কর্তৃত্ব্ব পরিচালনায় আল্লাহকে এক হিসেবে বিশ্বাস করা।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলছেনঃ

“আল্লাহ ছাড়া কোন স্রষ্টা আছে কি যে তোমাদেরকে আকাশ ও যমীন হতে জীবিকা প্রদান করে প্রদান করে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই। [সূরা ফাতিরঃ ৩]

“হে নবী! আপনি জিজ্ঞাসা করুন,সব কিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে? যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যার উপর কোন আশ্রয়দাতা নেই।” [সূরা মু’মিনূনঃ ৮৮]

“সৃষ্টি করা ও আদেশ দানের মালিক একমাত্র তিনি। বিশ্বজাহানের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা অতীব বরকতময়।” [সূরা আ’রাফঃ ৫৪]

২. আল্লাহ তা’আলা নিজেকে যে সমস্ত নামে গুনান্বিত করেছেন, সে সমস্ত নাম ও গুনাবলিতে তাঁকে এক ও অদ্বীতিয় বলে মেনে নেওয়া।

৩. ইবাদতের মালিক হিসেবে একমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করা। তিনি আর ছাড়া আর কারো জন্য ইবাদত করা যাবে না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সিজদাহ করা যাবে না। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ

“তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।” [সুরা আ’রাফঃ ৩]

“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।” [সুরা আলে ইমরানঃ ৮৫]

সুতরাং একথা দ্ব্যার্থহীনভাবে প্রমানিত যে মুসলমান হতে হলে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না শুধু তাই নয় একথা মনে প্রানে বিশ্বাস করতে হবে যে ইবাদতের মালিক একমাত্র আল্লাহ।

উইকিপিডিয়ায় পূজার সংজ্ঞায় বলা হয়েছেঃ

“Pūjā or Poojan is a prayer ritual performed by Hindus to host, honour and worship one or more deities or to spiritually celebrate an event. Sometimes spelt phonetically as pooja or poojah, it may honour or celebrate the presence of special guest(s), or their memories after they pass away. The word pūjā (Devanagari: पूजा) comes from Sanskrit, and means reverence, honour, homage, adoration, and worship”[৩]

অর্থাৎ হিন্দু ধর্মানুসারে পূজা হল যেখানে দেবতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা অতিথিদের অরাধনা করা হয়।

যা মুসলমানদের বিশ্বাসের ও কর্মের পরিপন্থি কারন মুসলমানরা এক আল্লাহর উপাসনা বা আরাধনা করে ও এর যোগ্য অন্য কেউ নেই বলে বিশ্বাস করে। সুতরাং  তেল আর নুন যেরকম একসাথে হতে পারে না সেরকম মুসলমানের উপস্থিতি ও আল্লাহ বাদে অন্য কারো উপাসনা এক সাথে খাতা-কলমে হতে পারে না।

যে মুসলমানদের পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) মুর্তি ভেঙে প্রমান করেছেন যে মূর্তি নিজেকে বাঁচাতে পারে না সে, অন্যকে রক্ষা করতে পারবে না, যে মুসলমানদের পূর্বপূরুষ হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কাবাঘর থেকে ৩৬০ টি মূর্তি সরিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষনা করেছিলেন, যে মুসলমানদের নবীরা সারাজীবন এক আল্লাহর উপাসনার বানী প্রচার করেছেন সেই মুসলমানরা শুধুমাত্র এক উপায়েই পূজার অনুষ্ঠানে যেতে পারে আর তা হল ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া। আর যারা ইসলাম বাদে অন্যকোন জীবনব্যবস্থার অনুসন্ধান বা অনুসরন করবে তারা কস্মিনকালেও মুক্তির স্বাদ আস্বাদন কর্তে পারবে না। কারন সৃষ্টিকর্তা তাঁর সর্বশেষ বানীর সংকলনে বলেনঃ

 “নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।” [সুরা আলে ইমরানঃ ১৯]

আর ইসলাম শুধু ধর্মই নয় পরিপূর্ন জীবন বিধান যেখানে আল্লাহ্‌ তা’আলা এখানে আমাদের জীবন চালানোর সূক্ষাতিসূক্ষ নির্দেশও দিয়েছেন।আল্লাহ্‌ তা’আলা ইবাদত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“বলুন, হে কাফেরকূল, আমি ইবাদত করিনা, তোমরা যার ইবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার ইবাদত আমি করি এবং আমি ইবাদতকারী নই, যার ইবাদত তোমরা কর। তোমরা ইবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।” [সূরা আল কাফিরুন: ১-৬]

অন্যদিকে আল্লাহ্‌ তা’আলা বাদে যারা অন্য কারো ইবাদত করে তাদের সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক ও থাকতে  পারে না, যেমনভাবে ইব্রাহীম (আঃ) ও তার সঙ্গীরা আল্লাহর পরিবর্তে যারা অন্য কারো ইবাদত করে তাদের এবং ইবাদতকারী বস্তুর সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ

“তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। … ” [সুরা মুমতাহিনাঃ ৪]

মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা যেখানে আল্লাহর পরিবর্তে যারা অন্য কারো ইবাদত করে তাদের এবং ইবাদতকারী বস্তুর সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করাকে পছন্দ করেছেন সেখানে আমরা কি করে পূজা উৎসব, যেখানে আল্লাহ্‌ বাদে অন্য কারো ইবাদত করা হয়, সেখানে যাবার কথা মনে পর্যন্ত আনতে পারি?

আল্লাহ্‌ আমাদের মাফ করুন। আল্লাহ্‌ তা’আলা যেন আমাদের সকলকে বিষয়গুলা বোঝার ও তাঁর একত্ববাদের উপর অটল থাকার তৌফিক দান করেন। আমিন।

[১] https://bn.wikipedia.org/wiki/ধর্ম

[২] https://bn.wikipedia.org/wiki/ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ

[৩] https://en.wikipedia.org/wiki/Puja_(Hinduism

Wednesday, September 25, 2019

বিবাহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাইতুল্লাহর সাবেক ইমাম শাইখ সালিহ আলে তালিব এর ঐতিহাসিক খুৎবাহটির অনুবাদ

বিবাহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাইতুল্লাহর সাবেক ইমাম শাইখ সালিহ আলে তালিব এর ঐতিহাসিক খুৎবাহটির অনুবাদ


মূলঃ শাইখ সালেহ আলে-তালিব (হাফিযাহুল্লাহ)
অনুবাদঃ Rashid Ahmad Qasemi (সাল্লামাহুল্লাহ)
খুৎবাহটির হুবহু অনুবাদ তুলে ধরছি, শাইখ হামদ-সালাতের পর বলেন,
বর্তমানে বিবাহের কথা হল সবচেয়ে কষ্টের কথা, আজকের এই খুৎবাহতে গোটা বিশ্বের মুসলমানদের কল্যাণকামনায় এবং সতর্কতার লক্ষ্যে; বিবাহের এমন কিছু বাহ্যিক কারণ আলোচনা করব যে গুলো বিবাহকে বাধাগ্রস্ত করে মুসলিম উম্মাহ'র গোটা জীবনযাত্রায় চরম অশোভনীয় প্রভাব ফেলছে৷

তন্মধ্যে ছেলে-মেয়ে উভয়ের বিবাহ বিলম্বের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে কারণটি আমরা দেখি তা হল, ছেলে-মেয়ের একাডেমিক পড়াশোনা শেষ না হওয়া, অথবা পড়াশোনা শেষ হয়েছে কিন্তু ভাল চাকরি না থাকার অজুহাত করা; অথবা আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার অজুহাত করা; অথবা কম বয়সে বিবাহ করে ফেললে লোকে কি বলবে? এই খোড়া অজুহাত গুলো দাঁড় করিয়ে বিবাহ বিলম্ব করা হয় বর্তমান সমাজে৷
#এই_সব_গুলো_অজুহাত_হল_শয়তানের_সূক্ষ্ম_অপকৌশল_চক্রান্ত_ও_পরিস্কার_ধোঁকা_ষড়যন্ত্র ৷

বর্তমান সময়ে শয়তান, বিভিন্ন অশ্লিল ফিল্ম ও নাটকের সিরিয়াল, বিভিন্ন অশ্লিল চ্যানেল, ম্যাগাজিন, মাসিক পত্রিকা, পর্ণোগ্রাফীর অশ্লিলতার মাধ্যমে মানুষের দেমাগ বিশেষ করে যুবকদের দেমাগকে ধোলাই করে বিবাহ থেকে অনাগ্রহ সৃষ্টি করছে৷
এই সমস্ত কারণে মানুষের চারিত্রিক নৈতিকতা আজ ধ্বংস হয়ে সর্বক্ষেত্রে বিরাট অমঙ্গল, অশান্তি বিরাজ করছে৷

ইখওয়াতাল ঈমান!
বিবাহ বিলম্ব করা যেমন স্বভাগত নিয়ম পরিপন্থী ঠিক তেমনি শরঈ ভাবেও সুন্নাহ পরিপন্থি ৷
সমস্ত সমাজ-বিজ্ঞানীগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যে বিবাহের উপযুক্ত সময় হল প্রাপ্ত বয়স্ক হতেই দেরী না করে দ্রুত বিবাহ করে ফেলা৷ যা বর্তমান সমাজে খুবই কঠিন ব্যপার৷
এবং আত্মিক ও শারিরিকভাবে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অল্প বয়সে বিবাহ করা৷
এবং অল্প বয়সে বিবাহ করলে মেধা শক্তি, মনোবল, শারিরিক সুস্থতা, অনেক অনেক বেড়ে যায়৷

এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, দ্রুত বিবাহের ফলে দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা লাভ হয়, ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে হেফাযত করা যায়, বিশেষ করে যৌবনের শুরু থেকেই চারিত্রিক নির্মলতা অর্জিত হয়৷

কিন্তু আফসোসের কথা হল, ,এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটিতে যখন বিভিন্ন অজুহাতে বাধা তৈরী করা হল সাথে সাথে পুরো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিভিন্ন অন্যায়, অনিষ্টতা ঢুকে গেল৷
বিবাহ যদিও সামাজিক একটি বন্ধন কিন্তু তা শুধু সামাজিক নয় বরং আল্লাহ তাআলার অনেক বড় একটি হুকুম ও নবী সঃ এর সুন্নাতও, তাই এই সুন্নাতটি আদায় করতে গিয়ে সামাজিকতার প্রতিবন্ধকতায় আটকে না থেকে আল্লাহর উপর ভরসা করে বিবাহ করে ফেলা উচিত, আল্লাহ বলেন,
وَأَنكِحُوا۟ ٱلْأَيَٰمَىٰ مِنكُمْ وَٱلصَّٰلِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَآئِكُمْ إِن يَكُونُوا۟ فُقَرَآءَ يُغْنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ
অর্থঃ তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
সূরা আন নূর আয়াত: ৩২

তিরমিযী শরীফে আছে,
রাসূল সঃ বলেন,
ثلاثة حق على الله عونهم المجاهد في سبيل الله والمكاتب الذي يريد الأداء والناكح الذي يريد العفاف.
অর্থ, আল্লাহ্ তা‘আলা তিন প্রকার মানুষকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।
১৷ আল্লাহ্ তা‘আলার পথে জিহাদকারী,
২৷ মুকাতাব গোলাম- যে চুক্তির অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা করে,
৩৷ এবং বিবাহে আগ্রহী লোক, যে বিয়ের মাধ্যমে পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়৷
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৫৫

কিছু চরম মূর্খ পরিবার রয়েছে যারা মেয়ের মোহর এত বেশী পরিমাণে ধার্য করে, যেন এটি বাজারের একটি পণ্য, যে যত বেশী লাভ আর দরাদরি করে বিক্রি করতে পারে!

এর বিপরিতে এমন কিছু গুণী পরিবার রয়েছে যারা মেয়ের মোহর কম ধার্য করে এমন ছেলে তালাশ করে যে মেয়ের জন্য দ্বীনদারির ক্ষেত্রে সহযোগী হিসাবে থাকবে,
এটাই হল আসল তাকওয়া ও সুন্নাত, রাসূল সঃ বলেন,
إن من يمن المرأة تيسير خطبتها وتيسير صداقها.
সবচেয়ে লক্ষী মেয়ে হল, যার বিবাহের কাজ ঝামেলামুক্ত ও মোহর কম হয়৷
(মুসনাদে আহমদ ২৪৬০৭)
আরেক হাদীসে আছে, 
إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَئُونَةً
সবচেয়ে বরকতময় বিবাহ হল, যে বিবাহের মোহর কম৷
(মুসনাদে আহমাদ ২৪৫২৯)

কিন্তু বর্তমান সমাজে মোহর মহামারির আকৃতি ধারণ করেছে, মেয়ে পক্ষ সাধ্যের বাহিরে মোহর নির্ধারণ করে (যা নিতান্তই লোভ ও নির্ভেজাল নিম্ন মন-মানুষিকতার পরিচয়) আর ছেলে এই মোহর আদায় করতে গিয়ে ঋণ করে এবং বিভিন্ন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে৷

বেশী মোহরের লোভে লম্বা সময় মেয়েরা ঘরে পড়ে থাকতে থাকতে এক সময় দেখা যায় আইবুড়ো মেয়ে দিয়ে ঘর ভরে গেছে৷
এর কুফল পরবর্তীতে এতই ছড়িয়ে পড়ে যে, এই সমস্ত প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা নিজেদের যৌবনের চাহিদা মেটাতে গোপনে চাচাতভাই, ফুফাতভাই, মামাতভাইদের সাথে ফিজিক্যালী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে৷ যা মারাত্মক অপরাধ, গোনাহ৷

বিবাহের ক্ষেত্রে অভিবাবকদের উচিত, ছেলে-মেয়ে উভয়ের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া৷ কোনো দ্বীনী প্রতিবন্ধকতা না থাকলে অভিবাববকের উপর আবশ্যক হল, সন্তানের খুশী মত বিয়ে দিয়ে দেওয়া, পারিবারিকভাবে অন্যত্র বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি না করা৷
এই সম্পর্কে সহীহ বুখারী মুসলিমে অনেক হাদীসও রয়েছে৷

শাইখুল ইসলাম ইবনিয়া তাইমিয়া রহঃ বলেন,
 ليس لأحد الأبوين أن يلزم الولد بنكاح من لا يريد، حتي أنه إذا امتنع فلا يكون عاقا
ছেলে যাকে বিবাহ করতে চাই তাকে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ার বা ছেলে যাকে বিয়ে করতে চায়না তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করা, পিতা-মাতা কারো এই অধিকার নেই, এই ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে যদি পিতা-মাতার কথা অমান্য করে তাহলে হাদীস অনুযায়ী সেই সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য বলে বিবেচিত হবে না৷

ঠিক ঐরকমভাবে মাতা-পিতার জন্য মেয়েকে টাকাওয়ালা বা প্রভাবশালী ছেলের সাথে ধন-সম্পদের লোভে বিয়ের জন্য বাধ্য করা পরিস্কার যুলুম ও হারাম৷

সুতরাং অভিবাবকদের উচিত, বিবাহের ক্ষেত্রে সম্পদের লোভে কোনো অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন না করা৷ বিবাহ একটি আমানত, এই আমানতকে কোনো লোভে পড়ে নষ্ট করা হারাম৷
এমন অনেক অভিবাবক আছে যারা নিজের সতীসাধি চরিত্রবান নামাযী, মুত্তাকী মেয়েকে টাকার লোভে ফাসেক, বেনামাযী, চরিত্রহীন, নেশাখোর, লম্পট, লুচ্ছা ছেলেদের সাথে টাকার লোভে বিয়ে দিয়ে মেয়ের জীবনটাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, অথচ মেয়ের কোনো দোষ নেই, সম্পূর্ণ দোষ অভিবাববকের যা সুস্পষ্ট হারাম৷

আর ছেলে-মেয়েদেরও উচিত বিবাহের ক্ষেত্রে মাতা-পিতা কিছু কল্যাণ মনে করলে তা সাদরে মেনে নেওয়া৷

আমরা মুসলমান হিসাবে আমাদের উচিত, বিবাহের ক্ষেত্রে কেবল দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেওয়া, রাসূল সঃ বলেন,
إذا جاءكم من ترضون دينه وخلقه فأنكحوه إلا تفعلوا تكن فتنة في الأرض وفساد ‏"‏ ‏.‏ قالوا يا رسول الله وإن كان فيه قال ‏"‏ إذا جاءكم من ترضون دينه وخلقه فأنكحوه ‏"‏ ‏.‏ ثلاث مرات ‏.
 তোমরা যে লোকের দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ, তোমাদের নিকট যদি সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সাথে (তোমাদের পাত্রীর) বিয়ে দাও। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু (ক্রটি) তার মাঝে থাকলেও কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের নিকটে যে লোকের দ্বীনদারি ও নৈতিক চরিত্র পছন্দ হয় সে লোক তোমাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) একথা তিনি তিনবার বললেন।
(জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১০৮৫)

বর্তমান সমাজে সবাই বিবাহে দুনিয়াবী যত শর্ত আছে তা খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কিন্তু কেউ দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়না৷
অথচ, বুখারী মুসলিমে আছে রাসূল সঃ বলেন,
تنكح المرأة لأربع لمالها ولحسبها وجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك.
চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৯০,  মুসলিম, হাদিস নং ৩৫২৭)

জেনে রাখুন! যারা দ্বীনদারিকে খাটো করে বাকি গুণাগুণ খুব যাচাই বাচাই করে বিবাহ করবে তারা কখনও দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারবে না৷

বর্তমানে বিবাহ কঠিন হওয়ার দরুন নারী-পুরুষের অবাদ মেলামেশা, গায়ক- গায়িকাদের বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে অশ্লিল গান পরিবেশনা, বিনোদনের নামে নর্তকীদের নগ্ন দেহ প্রদর্শন, এই সব গোনাহের কাজে যুবক যুবতীরা জড়িয়ে পড়ছে, অথচ, সবগুলোই আল্লাহর সাথে মারাত্মক নাফরমানী করার শামিল৷
বিবাহ করে এই সমস্ত বিনোদন, মজা পাওয়া যায় না? অবশ্যই পাওয়া যায়, তাহলে বিবাহ করা ছাড়া কেন যুবসমাজ এই সমস্ত অপরাধের সাথে জড়াচ্ছে? যে গুলো দেশ ও জাতীকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিচ্ছে, এবং যমীনী, আসমানী শাস্তি অবতীর্ণ হচ্ছে ৷
আল্লাহ সবাইকে বিবাহ করার এবং সমস্ত গোনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন, আমীন৷

এরপর শাইখ নিচের এই আয়াতটি পড়ে তার খুৎবাহ শেষ করেন৷
أَفَمَنْ أَسَّسَ بُنْيَٰنَهُۥ عَلَىٰ تَقْوَىٰ مِنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنٍ خَيْرٌ أَم مَّنْ أَسَّسَ بُنْيَٰنَهُ عَلَىٰ شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَٱنْهَارَ بِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ
অর্থঃ আচ্ছা! যে ব্যক্তি তার ভিত্তি গড়েছে আল্লাহ্‌র প্রতি ধর্মনিষ্ঠতা ও সন্তষ্টির উপরে সে ভালো, নাকি যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী, অতঃপর তা তাকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর আল্লাহ জালেমদের পথ দেখান না।
সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ১০৯

আল্লাহ তাআলা শাইখকে জালিমের কারাগার থেকে মুক্তি দান করুন, এবং যুবসমাজকে শাইখের কথা গুলো অনুধাবন করে আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন৷

Monday, September 16, 2019

খুবই মূল্যবান ৩০টি ছোট হাদিস!

খুবই মূল্যবান ৩০টি ছোট হাদিস!

১। রাসূল (সা:)বলেছেন আমার কথা (অন্যদের কাছে)পৌছিয়ে দাও, তা যদি একটি আয়াতও হয়। (সহীহ বুখারীঃ
৩২১৫)

২। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদীহওয়ার জন্য এতটকুই যথেষ্ঠ যে, সে যা শোনে (যাচাই ব্যতীত) তাই বলে বেড়ায়। (সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা,
অনুচ্ছেদ ৩)

৩।রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে। (দেখুন সহীহ বুখারীঃ ১০৭,১০৯,১০৯,১১০,১১১ সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা)

৪।পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট। (তিরমিযী, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৭১০)

৫। পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাতের সওয়াব পাওয়া যায় (সহীহ বুখায়, মুসলিম ও তিরমিযীঃ ২১৩)

৬। ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে সলাত ছেড়ে দেওয়াই হচ্ছে ব্যবধান। (সহীহ মুসলিমঃ ১৫৪,১৫৫, মিশকাত)

৭। ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সলাতের হিসাব নেওয়া হবে। (সহীহ তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনু মাযাহঃ ১৪২৫,১৪২৬)

৮। যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের নামায আদায় করবে সে জান্নাতে যাবে। (সহীহ বুখারীঃ ৫৪৬)

৯। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট প্রিয় ঐ আমল যা নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪১,৬০২০)

১০। যে ব্যক্তি (পুরুষ) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, সে জাহান্নামী। (সহীহ বুখারীঃ৫৩৭১, মিশকাত, হা/৪১২৫)

১১। কালিজিরায় মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা রয়েছে। (বুখারী, হা/৫২৮৬ ও মুসলিম)

১২। নবী করীম (সাঃ) মিষ্টি ওমধু খুব ভালো বাসতেন। (বুখারী, হা:৫২৮০)

১৩। যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষন (অনিহা প্রকাশ) করবে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। (সহীহ
বুখারীঃ ৪৬৯৭)

১৪। যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করবে ও আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার, ফেরেশতা ও সকল মানব
সম্প্রদায়ের লানত । (সহীহ বুখারীঃ ৬৮০৮)

১৫। যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ ঈমান আছে, সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে যাবে না।
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)। সরিসা পরিমান ইমানের পরিচয় হল ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরা। যে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে না অর্থাৎ ৪,৩,২,১ ওয়াক্ত নামাজ পরে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।যেমন থাকবে ইহুদি,নাসারা,হিন্দু, আর ও অন্ন ধমে'র লোকেরা চিরস্থায়ী জাহান্নামে
তেমনি থাকবে বেনামাজি,৪,৩,২,১ ওয়াক্ত নামাজিরা। আল্লাহ ৫ ওয়াক্ত নামাজি কে নামাজি গন্ন করেন। ৪,৩,২,১ ও বেনামাজি কে আল্লাহ নামাজি মনে করেন না।

১৬। যে ঘরে কুকুর ও (প্রাণীর) ছবি থাকে,সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (সহীহ বুখারীঃ ২৯৯৮, ৫৫২৫,
মিশকাত হাঃ৪২৯৮)

১৭। তিন ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের দিকে করুণার দৃষ্টি দিবেন না ও তাদের জন্য কঠিন শাস্তি
(ক) গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ
(খ) খোঁটাদানকারী (গ) মিথ্যা কসমে পণ্য বিক্রয়কারী। (মুসলিম, মিশকাত হা/২৬৭৩)

১৮। "যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ জিহাদ করেনি এমনকি জিহাদের আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেনি, সে মুনাফিকের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল। " (সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৯, নাসায়ীঃ৩০৯৯)

১৯। আত্নীয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করলে রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায়। (সহীহ বুখারীঃ ৫৫৫৯,৫৫৬০)

২০। কেউ সওয়াল থেকে পবিত্র থাকতে চাইলে আল্লাহ্ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়,আল্লাহ্ তাকে অমুখাপেক্ষী রাখেন এবং যে ধৈর্য ধারণ
করতে চায়, আল্লাহ্ তাকে তাই দান করেন। ধৈর্যের চায়ে অধিক ব্যাপক কিছু দান করা হয়নি। (সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৯, সহীহ মুসলিম , সহীহ আবু দাউদ,হা ১৬৪৪)

২১। বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে (সত্তর হাজার) ওসব লোক যারা অশুভ অমঙ্গল চিহ্ন মানে না, যারা মন্ত্রতন্ত্রের ধার ধারে না এবং আগুনে‌পোড়া লোহার দাগ লাগায় না ; বরং সদা সর্বদা তাদের পরোয়ারদেগারের উপর পূর্ণ ভরসা রাখে। (সহীহ বুখারী,
হাদিস ৫৩৪১,৬২৮,৬০৯৯)

২২। যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শহীদি মৃত্যু কামনা করে, আল্লাহ্ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছিয়ে দিবেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিমঃ
৪৭৭৮)

২৩। যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু'আ করে, তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আমীন, এবং
তোমার জন্যও অনুরুপ হবে। (সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদ,হাঃ১৫৩৪)

২৪। কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য অশ্লীল বাকচারী ও কৃপণ হওয়াই যথেষ্ট। (আহমাদ, মিশকাত হা/৪৬৯৩)

২৫। রাসূল বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না। (সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, ত্বাবরানী, আল্লামা আলবানী রহ. এর সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা খণ্ড দুই হাদিস
নং-৯৭২)

২৬। যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উযূকে পূর্ণাঙ্গরুপে সম্পন্ন করে, তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে,তার জন্য জান্নাতের ৮(আট)টি দরজা খুলে যায় । সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে । (সহিহ মুসলিমঃ ৪৬০, তিরমিযীঃ৫৫, ইবনু মাযাহঃ ৪৭০)

২৭। যে ব্যক্তি দিবসে ১ বার ও রাতে ১ বার আন্তরিকতার সাথে সােয়্যদুল ইস্তেগফার পাঠ করে যদি সে দিন বা রাতে মারা যায়, তাহলে ওই ব্যক্তি জান্নাতি । ( সহিহ বুখারী-৫৮৬৭)

২৮। ওযু করার সময় কেউ যদি উত্তমরূপে ওযু করে তাহলে তার শরীরের সব গুণাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তার নখের নিচের গুণাহও বের হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিমঃ ৪৮৪,৪৮৫)

২৯। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরান শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা
দেয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪৬৬১,৪৬৬২)

৩০। কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা ফিরিশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরাআন পড়ার সময় আটকে যায়
এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। (সহীহ বুখারী-৪৯৩৭, মুসলিম আবু দাউদ)

নিজে পড়ুনঃ অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন "ইনশাআল্লাহ্" !

Thursday, September 12, 2019

মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?

মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?

মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?
আপনার স্ত্রী, আপনাকে প্রানের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। মনে করুন, রাত ১০টায় আপনি মারা গেলেন। কবর দিবে বাদ যোহর।

কেউ যদি আপনার স্ত্রীকে এসে বলল, কবর দিতে তো অনেক দেরি হবে, এখন অনেক রাত হয়েছে। আমরা সবাই একটু ঘুমিয়ে আসি। সকালে দেখা হবে

আর লাশ এখন বিছানাতেই থাকুক। আর আপনিও ঘুমিয়ে থাকুন। আর এইটাতো আপনাদেরই বিছানা। আমরা গেলাম। আপনি ঘুমিয়ে যান। আপনার
মোহব্বতের স্ত্রী কি আপনার সাথে আর ঘুমাবে...? না, কখনই না। যত মোহব্বত করুক না কেন ! আপনি এখন লাশ। আপনার চ্যাপ্টার ক্লোজ।

এবার ভেবে দেখুন, সারা জীবন তাদের জন্য কত কিছুই না করেছেন ! কিন্তু আজকে আপনি তাদের কাছে সেই পূর্বের আপনি না। আপনি এখন লাশ।
তাহলে কার জন্য ব্যয় করলেন !

জীবনের মূল্যবান সময় গুলি ! যারা আপনার মৃত্যুর পরে আর কাজে আসবে না। বজ্রপাতের আওয়াজ হলে, ভয়ে চিৎকার দিয়ে আপনার বুকের পাঁজর আঁকড়ে ধরে মিশে যেত। আপনাকে জড়িয়ে ধরার পরে তার ভয় কাটতো। আজ আপনি মারা যাওয়ার পরে আপনার সাথে থাকবে না কেন ? কারণ আপনাকে এখন সে ভয় পায়। কারণ শুধু একটাই, আপনি এখন লাশ।

মানুষ সবচেয়ে অসহায় হবে কখন জানেন কি...?

যেখানে ঘোর অন্ধকার, সেখানে নাই আলো বাতাস, নাই বেরিয়ে যাওয়ার কোন পথ। যেখানে আপনার শরীরের উপর দিয়ে বিষাক্ত বিচ্ছু, বিষাক্ত সাপ বেয়ে যাবে অনবরত। যেখানে আপনার চোখের সামনে দেখবেন বিরাট লম্বা এক সাপ। আপনার নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করছে। কান দিয়ে বের হচ্ছে। আপনার হাতে তখন কোন ক্ষমতা থাকবে না চুল পরিমাণ নড়া-চড়া করার। ধারালো দাঁতওয়ালা বড় বড় পোকা আপনার পেট কামড়ে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে খাচ্ছে। আপনার চোখ কামড়ে ধরে টেনে হিচড়ে একটা চোখ খুলে ফেলেছে। যেখানে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও
কেউ শুনবে না, কেউ বাঁচাতে আসবে না।

সেই জায়গার নাম হল "কবর"। রোদ আর বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছাদ কিংবা টিনের চালা লাগাতে হয়। চোর ডাকাতের ভয়ে দরজা-জানালা বানাতে হয়।

অঙ্গ ঢাকার জন্য কাপড় পরিধান করতে হয়। বাইক চালানোর সময় মাথার সুরক্ষার জন্য হেলমেট পরতে হয়। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে অল্প কিছু সময় বসবাস করার জন্য আমরা যে কত কিছু করি ! দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এই কথা আমরা সবাই জানি। তবু আমরা এই ক্ষণস্থায়ী সুখ-শান্তির জন্য জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করি। তাই আমাদের ঈমান ও আমল জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য ঢাল-তলোয়ার হিসাবে কাজে লাগবে ! তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসুন, যাকে ভালবাসলে আখিরাতে তার বিনিময়ে পাওয়া যাবে জান্নাত। হ্যাঁ, দুনিয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটা হওয়া উচিৎ আখেরাতের জন্য সঞ্চয় হিসাবে।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।