Saturday, April 11, 2020

ইসলামী ইতিহাস ও অন্যান্য ইতিহাসের মধ্যে মৌলিক তফাৎ...গৃহবন্দিত্বের দিনলিপি-১

ইসলামী ইতিহাস ও অন্যান্য ইতিহাসের মধ্যে মৌলিক তফাৎ...গৃহবন্দিত্বের দিনলিপি-১

১) ইসলামী ইতিহাস কিছু নীতিমালার আলোকে সংকলিত একটি শাস্ত্র ৷ সাধারণ ইতিহাস তেমন কোনো নীতিমালার ভিত্তিতে সংকলিত নয় ৷

২) ইসলামী ইতিহাসে বর্ণনাগুলো নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে যাচাই করার জন্য বর্ণনাকারীর পরম্পরা তথা সনদ অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ৷ বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতাই যে কোনো বর্ণনা গ্রহন কিংবা প্রত্যাখ্যানের মানদন্ড ৷ কিন্তু সাধারণ ইতিহাসে বর্ণনাকারীর পরম্পরা তথা সনদের দিকে কোন লক্ষ্যই রাখা হয়নি ৷ ফলে সাধারণ ইতিহাসের কোনো বিষয় গ্রহণ করা বা প্রত্যাখ্যান করার কোন নীতিমালা নেই ৷ কিছু মানুষের উপর অন্ধ বিশ্বাস আর কিছু মানুষের উপর অযথা অবিশ্বাস যে কোনো কথা গ্রহণ ও বর্জনের মূল নীতি ৷

৩) ইসলামী ইতিহাসের যে কোনো বর্ণনার সত্যাসত্য যাচাই করার উপায় রয়েছে ৷ রিজাল শাস্ত্রের সহায়তায় যে কোনো ঐতিহাসিক বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা যে কেউ যাচাই করে দেখতে পারে ৷ পক্ষান্তরে সাধারণ ও পশ্চিমাদের লিপিবদ্ধ ইতিহাস যাচাই করার এমন কোন সূত্র নেই ৷

৪) ইসলামী ইতিহাসের বর্ননার নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ডের পাশাপাশি এর যে কোনো বক্তব্য কমনসেন্স তথা সাধারণ জ্ঞানের বিবেচনায় গ্রহণ এবং বর্জন নীতি রয়েছে ৷ যে কথা ফিতরতের বিপরীত, সে কথা ইসলামী ইতিহাসে গ্রহনযোগ্য নয় ৷ অন্য অনেক ইতিহাসে সাধারণ জ্ঞানের আলোকে অগ্রহণযোগ্য অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে ৷

মুসলিম ও অন্যান্য জাতির ইতিহাসের গ্রহণযোগ্যতা আর অগ্রহণযোগ্যতার তারতম্য বুঝবার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, পশ্চিমা ইতিহাসবীদগণ আজও ওল্ডটেস্টামেন্টকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স মনে করে ৷ হিন্দুরা রামায়ণের মত ইতিহাসকে তাদের গর্বের ধন মনে করে, যার মধ্যে সাধারণ জ্ঞানে ধরে না এমন অসংখ্য কাল্পনিক কথা রয়েছে ৷ পক্ষান্তরে মুসলমানদের নিকট ইবনে কুতাইবার লিখিত আল মাআরিফের মত ইতিহাসগ্রন্থ গ্রহণযোগ্য কিতাবের তালিকায় ঠাঁই পায় না ৷ বাগদাদের কাজী ওয়াকেদীর রচিত কিতাবের ওপরও চোখ বন্ধ করে আস্থা রাখা হয় না ৷

সূত্র:
تاريخ امت مسلمة-ج١ ص٤٩
مولانا محمد اسماعيل ريحان

মন্তব্য :
আমার মনে হয় কি, আমাদের জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে "রিজাল শাস্ত্র" ও সনদের কিছু বিষয় যদি কোনো উপায়ে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া যেত৷ আর আমাদের ইতিহাসের পন্ডিতদেরকে রিজাল ও সনদের উপর অন্তত কিছু জ্ঞান দিয়ে দেয়া যেত, তাহলে অনেক মিথ্যাচার, বিকৃত ইতিহাসের বেড়াজাল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তি পেত ৷ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যবীদদের ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ হত ৷ আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত মুসলিম উম্মাহর কল্যাণকামী কিছু মানুষকে কি এই বাস্তবতাটি বোঝানো যায় ? 
জাতীয় শিক্ষাকারিকুলামে এই সংস্কারের দাবি তোলা কি যুক্তিসঙ্গত নয়?

Friday, April 10, 2020

বাড়াবা‌ড়ি ছাড়াছা‌ড়ির কব‌লে শ‌বে বরাত" বই প‌রি‌চি‌তি ও পি‌ডিএফ লিংক

বাড়াবা‌ড়ি ছাড়াছা‌ড়ির কব‌লে শ‌বে বরাত" বই প‌রি‌চি‌তি ও পি‌ডিএফ লিংক



শবে বরাত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। এই রাতে আকাশ থেকে রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয়। রহমতের বারিধারায় প্লাবিত হয় পৃথিবী। সেই রহমতবৃষ্টিতে নিজেদের বিধৌত করে পাপ-পঙ্কিলতা দূরীভূত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হলো ’শবে বরাত’। সেজন্য শবে বরাতের সম্যক জ্ঞান, এই রাতের করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে অবজ্ঞাত হওয়া অতীব জরুরি।

*
শবে বরাত কী, কেন? কীভাবে পালন করব? এসবের সঠিক ইলম না থাকার কারণে আমাদের কাছে কমে যাচ্ছে এর তাৎপর্যতা। আবার ভুলভাল জানার জন্য বেড়ে যাচ্ছে বিদআত-কুসংস্কারপ্রথা। কেউ কেউ এই রাতে আবেগপ্রবণ হয়ে আতশবাজি, আলোকসজ্জায় মেতে ওঠে। কিংবা ইবাদতের আবরণে উদ্ভাবিত করে নানান ধরণের বিদআত-কুসংস্কার। আবার কেউ কেউ বিদআত-কুসংস্কারের ভয়ে ফজিলতবঞ্চিত হয় এই রাতের। অথচ এগুলো বাড়াবাড়ি, এগুলো ছাড়াছাড়ি। তাই শবে বরাতের সম্যক জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এ রাতকে ঘিরে কুসংস্কারগুলো অবগত হওয়াও অতি জরুরি। আর এসব নিয়েই ’বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ির কবলে শবে বরাত’ বইটি। 

বইটিতে শবে বরাতের সম্যক জানা যাবে। অবগত হওয়া যাবে প্রচলিত বিদআত সম্পর্কে। এই রাতের করণীয়-বর্জনীয়গুলো জানা যাবে। বইটি রচিত হয়েছে কোরআন-হাদিসের আলোকে। প্রতিটি মাসআলা দলিলসমৃদ্ধ। প্রতিটি বিদআত নিরসন করা হয়েছে হাদিস-কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে। প্রতিটি আমলও দেখানো হয়েছে কোরআন-হাদিসমতে। তাই বইটি যেমন সুন্দর, যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি গ্রহণযোগ্যও।

বইটির কলেবর ছোট, একদম ছোট। বলা যায় ’বাচ্চাবই’। মূল্যে সুলভ। প্রচ্ছদ নান্দনিক। পৃষ্ঠা তকতকে। পড়তেও সুখপাঠ্য। সবচে’ বড় কথা হলো বইটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তাই শবে বরাতের সম্যক জ্ঞান সন্ধিৎসুদের পড়া উচিত। 

বহুল প‌ঠিত বই‌টি লি‌খে‌ছেন, শেকড়সন্ধানী লেখক, বহু গ্রন্থপ্র‌ণেতা, উপমহা‌দে‌শের অন্যতম দীনি শিক্ষাপ্র‌তিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারীর উচ্চতর দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভা‌গের সম্মা‌নিত উস্তাদ, হযরত মাওলানা সাঈদ অাহমদ (দা.বা.)। 

বই‌টিতে রয়েছে :
>> হাদিসের আলোকে শবে বরাতের পরিচিতি ও প্রামা‌ণিকতা
>> ‎শবে বরাতের হাদিস সম্পর্কে মুহাদ্দিছীন ও মুহাক্কিকীনের আলোচনা।
>> ‎হাদিসসমূহের মান যাচাই
>> চার মাযহাবের ইমাম ও আহলে হাদিস আলেমদের মতামত
>> শ‌বে বরাতের অামল ও করণীয়
>> ‎শ‌বে বরা‌তে বিদআত ও কুসংস্কার
>> ‎হাদিস শাস্ত্রের কিছু মূলনীতি এবং কিতাবটির চমৎকার উপসংহার

⏩ সর্বস্তরের পাঠকের কথা চিন্তা করে এবং এর ব্যাপক উপকারিতার লক্ষে মুহতারাম লেখক বই‌টির পি‌ডিএফ Pdf পাবলিশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা উনাকে জাযায়ে খায়র দান করুন।

বই : বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ির কবলে শবে বরাত Download
লেখক : সাঈদ আহমদ
প্রকাশনী- মাকতাবাতুল কাউছার
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ জুন ২০১৪ইং / ৯ম প্রকাশ ২০২০ ইং
মুদ্রিত মূল্য: ৪০ টাকা
পৃষ্ঠা: ৪৮
‌যোগা‌যোগ : 01645153738

দেশের বর্তমান অবস্থায় মসজিদ এবং মসজিদ ছাড়া অন্যত্র জুমা আদায়ের হুকুম কী?

দেশের বর্তমান অবস্থায় মসজিদ এবং মসজিদ ছাড়া অন্যত্র জুমা আদায়ের হুকুম কী?


প্রশ্ন: দেশের বর্তমান অবস্থায় মসজিদ এবং মসজিদ ছাড়া অন্যত্র জুমা আদায়ের হুকুম কী? 
সমাধান: যে সমস্ত গ্রাম এবং শহরে জুমার শর্ত পাওয়া যায়, সে সমস্ত এলাকায় মসজিদে তো নিয়মিত জুমা  চলে আসছে। তবে, সেখানে বর্তমান অবস্থায় সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ক‘জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে নিয়ে সেখানে জুমা আদায় করা হবে। অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে যে, জুমা আদায়ের জন্য ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিনজন মুক্তাদী আবশ্যক। বর্তমান অবস্থায় যারা মসজিদে জনসমাগমের নিষেধাজ্ঞার কারণে মসজিদে জুমা আদায় করতে সক্ষম নই, তারা নিজেরা কিছু মানুষ মিলে এলাকাতে নিজের বাড়ির উঠানে অথবা বড় কামরাই জুমার নামাজ আদায় করতে পারবে। অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে বড় জমায়েত হওয়ার ক্ষেত্রে যেন প্রশাসন বা সরকার পক্ষ থেকে কোন ধরনের চাপের সৃষ্টি না হয়।আর আশেপাশের লোকদেরকে জানিয়ে দিবে, যেন তারাও জামাতে শুরীক হতে পারে। সুতরাং ইমাম সাহেব মুক্তাদীদেরকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত খুতবা পড়ে সংক্ষিপ্ত কেরাতের সাথে জুমা আদায় করবে।

প্রশ্ন: পাঞ্জেগানা মসজিদে জুমা আদায় করতে পারবে কী?
সমাধান: বর্তমান অবস্থার পূর্বে যেসব পাঞ্জেগানা মসজিদে জুমা হতো না, এমতাবস্থায় সে‘সব মসজিদে জুমা আদায় করতে পারবে।খেয়াল রাখবে, যেন লোকসমাগমের আধিক্যের কারণে প্রসাশনের চাঁপের মুখোমুখি না হতে হয়।

প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতে যারা কোনো  কারণে জুমা আদায় করতে পারেনি, তারা কি জোহরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবে, নাকি আলাদাভাবে?

সমাধান: 
যারা জুম্মা আদায় করতে পারেনি, চাই তা ইমাম-খতিব না থাকার কারণে বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপের কারণে অথবা নিজের অসুস্থতার কারণে বা জুমার শর্ত না পাওয়া যাওয়ার কারণে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন ব্যক্তি মাযূর/অপারগ হিসেবে গণ্য হবে। তারা জুম'আর পরিবর্তে একাকী জোহরের নামাজ আদায় করবে।
এরকমভাবে যে শহর অথবা গ্রামে জুমা আদায়ের কোন ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি, কোন ওজরের কারণে,  তারা জোহরের নামাজ একা একা আদায় করবে। জামাতের সাথে নয়। জামাতের সাথে আদায় করা মাকরুহ।

وصورة المعارضة: لان شعار المسلمين في هذا اليوم صلاة الجمعه وقصد المعارضه لهم يودي الى امر عظيم فكانه في صورتها كراهه التحريم. (رد المحتار: كتاب الصلاة، باب الجمعه، الناشر: مكتبه زكريا ديوبند)
لان المامور به في حق من يسكن المصر في هذا الوقت شيئان: ترك الجماعه وشهود الجمعه واصحاب السجن قدروا على احدهما هو ترك الجمعه فياتون بذلك. (المبسوط للسرخسي:2|36. باب الصلاه الجمعة، دار المعرفه بيروت)
ومن لا تجب عليهم الجمعه من اهل القرى والبوادي لهم ان يصلوا الظهر بجماعه يوم الجمعه باذان واقامة. (الفتاوى الخانيه على هامش الهدايا:1|177. كتاب الصلاة، باب صلاة الجمعة) 
قوله في مصر: اما في الحق اهل السواد فغير مكروه لانه لا جمعة عليهم. (حاشيه الطحطاوي على الدر:1|346. مكتبه الاتحاد ديوبند)

(۱)عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ اتِّبَاعِهِ، عُذْرٌ» ، قَالُوا: وَمَا الْعُذْرُ؟، قَالَ: «خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ، لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّى». (سنن أبي داؤد:ح:551.)
(۲) وإذا انقطع عن الجماعة لعذر من أعذارها المبيحة للتخلف" وكانت نيته حضورها لولا العذر الحاصل "يحصل له ثوابها" لقوله صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى"(مراقي الفلاح:163.كراجي)
(۳)أما اذا كان لمنع عدو يخشى دخوله وهو في الصلاه الظاهر وجوب الغلق. 
(حاشيه الطحطاوي على الدر:1|344. مكتبه الاتحاد ديوبند) 

(۴)امدادالفتاوی میںہے:
اذن عام ہونا بھی منجملہ شرائط صحت جمعہ ہے، جس کے معنی یہ ہیں کہ خود نماز پڑھنے والے کو روکنا وہاں مقصود نہ ہو۔ باقی اگر روک ٹوک کسی اور ضرورت سے ہو تو اذن عام میں مخل نہیں۔ (امداد الفتاوی:۱؎۶۱۴۔ مطبوعہ مکتبہ زکریا دیوبند)
(۵)امداد الاحکام میں ہے:
اگر چھاؤنی یا قلعہ میں جمعہ ادا کیا جائے تو جائز ہےگو چھاؤنی اور قلعے میں دوسرے لوگ نہ آ سکتے ہوں کیونکہ مقصود نماز سے روکنا نہیں ہے بلکہ انتظام مقصود ہے۔ (امدادالاحکام:۱؎۷۵۱۔ مطبوعہ مکتبہ دارالعلوم کراچی)
জুমার নামায সংক্রান্ত জরুর‌ী কিছু মাসআলা

জুমার নামায সংক্রান্ত জরুর‌ী কিছু মাসআলা

* যেসব মসজিদে জুমার নামায অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বর্তমান অবস্থায়ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সংখ্যাক (১০জন) লোকজন মিলে জুমার নামায আদায় করবে।

* পাড়া-মহল্লার যে সকল লোক মসজিদে জুমার নামায আদায়  করতে পারবে না, তারা নিজেদের বাড়ির সামনে বৈঠকখানা কিংবা ঘরের বাহিরের বারান্দায় অন্য লোকদের অংশগ্রহণের অনুমতি সাপেক্ষে জুমার নামায আদায় করতে পারবে। (তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বাধা-নিষেধ না থাকতে হবে) অন্যান্য লোকদের অংশগ্রহণের অনুমতির অর্থ আশ-পাশের মানুষদেরকে অবগত করবে যে, এখানে জুমার জন্য কেউ আসতে চাইলে আসতে পারবে। 

* যে‌হেতু জনস্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ জনের অধিক ব্যক্তির সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়ে‌ছে, তাহলে তারাও কয়েকজন মিলে জুমার নামায আদায় করবে। তবে ইমাম ব্যতীত নুন্যতম তিনজন বালেগ পুরুষ মুকতাদি হতে হবে। তাদেরকে নিয়ে ইমাম সাহেব সংক্ষিপ্ত খুতবা ও সংক্ষিপ্ত কেরাতের মাধ্যমে জুমার নামায আদায় করবে। 

* যে সকলস্থানে কয়েকজন মিলেও জুমার নামাযের ব্যবস্থা করা না যায়, সেখানে তারা একাকি যোহরের নামায আদায় করবে। তাতে তাদেরকে অপারগ মনে করা হবে। জুমা ছেড়ে দেয়ার কারণে গুনাহগার হবে না।
শ‌বে বরা‌তেও যারা হতভাগা  (‌শেষ পর্ব) মাওলানা সাঈদ অাহমদ (দা.বা.)

শ‌বে বরা‌তেও যারা হতভাগা (‌শেষ পর্ব) মাওলানা সাঈদ অাহমদ (দা.বা.)



শবে বরাত সংক্রান্ত যতগুলো বর্ণনা পাওয়া যায়, তা থেকে সুস্পষ্টভাবে একথা নিশ্চয় প্রমাণিত হয় যে, এ রাতে আল্লাহ পাকের রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হয়। ফলে সর্বস্তরের মুসলমান ক্ষমাপ্রাপ্ত হন। কিন্তু কয়েক শ্রেণীর হতভাগা ও কপাল পোড়া এমন রয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা রহমতপূর্ণ রজনীতেও ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না তারা নিজ কৃতকর্ম থেকে খালেস নিয়তে তাওবা করে ফিরে আসবে। এমন লোকের তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো :
১। মুশরিক ২। হিংসুক ৩। অন্যায়ভাবে হত্যাকারী-খুনি ৪। যাদুকর-গণক ৫। বাদ্য বাজনাকারী ৬। ব্যভিচারিনী।
 
>> শবে বরাত ও শাবান মাসের রোজা<<

এখানে দু’টি বিষয়। একটি হচ্ছে শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখা। আরেকটি হল শাবান মাসে রোজা রাখা। দ্বিতীয় বিষয় সম্পর্কে সহীহ হাদীসে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, 
مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ  اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ؛ إِلَّا رَمَضَانَ،
وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ.
"রাসূল সা. রমযানের পর সবচেয়ে বেশি শাবান মাসে রোজা রাখতেন। 
অন্য হাদীসে এর কারণ বর্ণিত হয়েছে।"
যেমন হযরত উসামা রা. বলেন,
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنْ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ؟ قَالَ: ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَب وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ. 
أخرجه أحمد (২১৭৫৩)، والنسائي (২৩৫৭)، وحسنه الضياء في المختارة (১৩১৯) 
"আমি রাসূল সা, থেকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি অন্য কোন মাসে (রমযান ছাড়া) এত বেশি রোজা রাখেন না, যে পরিমাণ রোজা শাবান মাসে রাখেন? তিনি বললেন, এটি (শাবান) রজব ও রমজানের মাঝে এমন একটি মাস, যে মাসে লোকেরা (আমল) থেকে গাফেল থাকে। অথচ এ মাসে বান্দার আমলসমূহ আল্লাহ তাআলার কাছে পেশ করা হয়। আর আমি একথা পছন্দ করি যে, আমি রোযাদার থাকাবস্থায় আমার আমল পেশ করা হোক।"
সুতরাং এ থেকে প্রমাণিত হয়, শাবান মাসে বেশি বেশি রোযা রাখা চাই এবং শাবানের ২৮-৩০ তারিখ ব্যতীত যে কোন দিন রোজা রাখা উত্তম। 

আর প্রথম বিষয় তথা শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখা সম্পর্কে “সুনানে ইবনে মাজাহ”য় বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ عَلِيّ  قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا؛ فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: أَلَا مِنْ مُسْتَغْفِرٍ لِي فَأَغْفِرَ لَهُ،  أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ،  أَلَا مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ، أَلَا كَذَا أَلَا كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ.
"হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুলল্লাহ সা. বলেছেন, পনের শাবানের রাত (শবে বরাত) যখন আসে, তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও। আর দিনের বেলা (পরের দিন) রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বলেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দিব। কে আছ মুসিবতগ্রস্ত? আমি তাকে মুসিবত থেকে মুক্তি দিব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদেরকে ডাকতে থাকেন।"

উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম যুরকানী রাহ. (মৃ. ১১২২ হি.) বলেন
"فقوموا ليلها" أي: أحيوه بالعبادة وانصبوا أقدامكم لله قانتين، "وصوموا نهارها" استحبابا فيهما. (شرح الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية ১০/৫৬১).
অর্থাৎ অর্ধ শাবানের রাতে ভালভাবে ইবাদত করা ও পরের দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব।
(সুনানে ইবনে মাজা হাদীস নং ১৩৮৮)

>> শবে বরাতে বিদআত ও কুসংস্কার<<

১। আতশবাজী ২। মসজিদ-মাজার আলোকসজ্জা ৩। হালুয়া-রুটি ও মিষ্টি-বিরিয়ানী বিতরণ

‌লি‌খে‌ছেন
মাওলানা সাঈদ অাহমদ (দা.বা.)
উস্তাদ, দারুল উলূম হাটহাজারী।

Wednesday, April 8, 2020

চার মাযহা‌বের ইমামগণের দৃষ্টিতে শবে বরাতের আমল | মাওলানা সাঈদ আহমদ (দা.বা.) (পর্ব : পাঁচ)

চার মাযহা‌বের ইমামগণের দৃষ্টিতে শবে বরাতের আমল | মাওলানা সাঈদ আহমদ (দা.বা.) (পর্ব : পাঁচ)



'আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা' নামক ৪৫ খণ্ড বিশিষ্ট সুবিশাল গ্রন্থের একস্থানে রয়েছে :
ذهب جمهور الفقهاء من الحنفية والشافعية والحنابلة إلى ندب إحياء ليلة النصف من شعبان
"শবে বরাতে রাত্রি জাগরণ করা (ইবাদত করা) অধিকাংশ হানাফী, শা‌ফেয়ী ও হাম্বালী ফকীহ ও মুফতী সাহেবের মতে মুস্তাহাব।"
(আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা ২/২৩৫)

>>> হানাফী মাযহাব<<<
* আল্লামা ইবনে নুজাইম মিসরী হানাফী রাহ. (মৃ. ৯৭০ হি.) বলেন :
ومن المندوبات: إحياء ليالي العشر من رمضان, وليلتي العيدين، وليالي عشر ذي الحجة، وليلة النصف من شعبان، كما وردت به الأحاديث وذكرها في الترغيب والترهيب مفصلة
"রমযানের শেষ দশ রাতে, দুই ঈদের রাতে, জিলহজের প্রথম দশ রাতে ও অর্ধ শাবানের রাতে (শবে বরাতে) জাগ্রত থেকে ইবাদত করা মুস্তাহাব।"

(অাল বাহরুক রা‌য়েক, ইব‌নে নুজাইম ২/৯২-৯৩)

* এভাবে ফিকহে হানাফীর ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হাসকাফী (মৃ. ১০৮৮ হি.) 'দুররুল মুখতার' গ্রন্থে, আল্লামা হাসান ইবনে আম্মার আশ-শারাম্বুলালী হানাফী (মৃ. ১০৬৯ হি.) ‘মারাকীল ফালাহ’তে ও শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (মৃ. ১০৫২ হি.) ‘মা ছাবাতা বিস-সুন্নাহ’ কিতাবে এই রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করাকে মুস্তাহাব উল্লেখ করেছেন। 
 
(দুররুল মুখতার মাঅা রদ্দুল মুহতারর ২/৪৬৯)

* নিকট অতীতের প্রখ্যাত মুহাক্কিক আল্লামা আব্দুল হাই লখনভী রাহ. (মৃ. ১৩০৪ হি.) ‘আল-আসারুল মারফু’আহ’ গ্রন্থে লিখেন
لا كلام في استحباب إحياء ليلة البراءة بما شاء من العبادات، وبأداء التطوعات فيها كيف شاء ... وفي الباب أحاديث أخر أخرجها البيهقي وغيره على ما بسطها ابن حجر المكي في "الإيضاح والبيان" دالّةً على أن النبي  أكثر في تلك الليلة من العبادة والدعاء، وزار القبور ودعا للأموات. فيعلم بمجموع الأحاديث القولية والفعلية استحباب إكثار العبادة فيها، فالرجل مخير بين الصلاة وبين غيرها من العبادات، فإن اختار الصلاة فكمية أعداد الركعات وكيفيتها مفوضة إليه، ما لم يأت بما منعه الشارع صراحة أو إشارة. 
অর্থাৎ “শবে বরাতে জাগ্রত থেকে যে কোন নফল ইবাদতে লিপ্ত থাকা    মুস্তাহাব, এতে কোনো মতানৈক্য নেই। অতঃপর এ সম্পর্কে কিছু হাদীস দলীল স্বরূপ পেশ করে বলেন,এসব হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূল এ রাতে অধিক পরিমাণে ইবাদত ও দু’আ করতেন। কাজেই এসমস্ত   (قولية وفعلية) হাদীস থেকে সমষ্টিগতভাবে এ কথা বুঝা যায়, এ রাতে অধিক পরিমাণে ইবাদত করা মুস্তাহাব। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জন্য ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকবে। চাই সে যে পরিমাণ ইচ্ছা নামায আদায় করুক বা অন্য কোনো ইবাদতে মশগুল থাকুক। 

(অাল-অাসারুল মারফুঅা ফিল অাখবা‌রিল মাওযুঅা ৮১-৮২)

     >>>>মালিকী মাযহাব<<< 

* আল্লামা ইবনুল হাজ মালিকী রাহ. (মৃ. ৭৩৭) ‘আল মাদখাল’ এ লিখেন 
فهذه الليلة وإن لم تكن ليلة القدر فلها فضل عظيم وخير جسيم, وكان السلف - رضي الله عنهم - يعظمونها ويشمرون لها قبل إتيانها، فما تأتيهم إلا وهم متأهبون للقائها، والقيام بحرمتها على ما قد علم من احترامهم للشعائر على ما تقدم ذكره، هذا هو التعظيم الشرعي لهذه الليلة.
অর্থাৎ “শবে বরাত যদিও শবে কদরের মত ফযীলতপূর্ণ নয়, তবুও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। সালাফ তথা পূর্ববর্তীগণ রাতটির যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন এবং এর আগমনের পূর্ব থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রাতটির আগমন ঘটলে তাকে বরণ করে যথাযথ মর্যাদা দিতেন।”
(অাল মাদখাল ইবনুল হাজ ১/২৯৯)

      >>>>শাফেয়ী মাযহাব<<<<

* ইমাম শাফিয়ী রাহ. (মৃ. ২০৪ হি.) তাঁর ‘আল উম্ম’ কিতাবে লিখেন- بلغنا أنه كان يقال: إن الدعاء يستجاب في خمس ليال: في ليلة الجمعة، وليلة الأضحى، وليلة الفطر، وأول ليلة من رجب، وليلة النصف من شعبان. 
অর্থ: তিনি বলেন- আমাদের কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, পাঁচ রাতে দু’আ কবুল হয়। জুমার রাতে, ঈদুল আযহার রাতে, ঈদুল ফিতরের রাতে, রজব মাসের প্রথম রাতে এবং অর্ধ শাবানের রাতে তথা শবে বরাতে। 
(আল উম্ম ২/৪৮৫)

* প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফেজ ইবনুস সালাহ রাহ. (মৃ. ৬৪৩ হি.) এক প্রশ্নের উত্তরে তাঁর ফতওয়াতে লিখেন-
وَأما لَيْلَة النّصْف من شعْبَان فلهَا فضيلة وإحياؤها بِالْعبَادَة مُسْتَحبّ، وَلَكِن على الِانْفِرَاد من غير جمَاعَة. 
"অর্ধ শাবানের রাতের ফযীলত রয়েছে। তাই এ রাতে ইবাদত করা মুস্তাহাব। তবে জামা’আত সহকারে নয়। বরং একাকীভাবে করবে।"

* শাফিয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহ ইবনে হাজার হায়তামী রাহ. (মৃত্যু ৯৭৪ হি.) তাঁর “ফাতাওয়া” গ্রন্থে শবে বরাত সম্পর্কীয় একাধিক হাদীস উলে­খ করার পর বলেন- 
والحاصل أن لهذه الليلة فضلا، وأنه يقع فيها مغفرة مخصوصة واستجابة مخصوصة، ومن ثم قال الشافعي - رضي الله عنه -: إن الدعاء يستجاب فيها.
"সারকথা হচ্ছে, এ রাতের ফযীলত স্বীকৃত। এ রাতে বিশেষ মাগফিরাত ও ইসতিজাবাত সুসাব্যস্ত। আর তাই ইমাম শাফিয়ী রাহ. বলেছেন- এ রাতে দু’আ কবুল হয়।"

   
    >>>হাম্বলী মাযহাব<<<

* শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রাহ. বলেন, শবে বরাতে একাকীভাবে নামায আদায় করা উত্তম।  
(মাজমুঅাতুল ফাতাওয়া ২৩/৮০)

* হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. (মৃ. ৭৯৫ হি.) “লাতায়িফুল মা’আরিফ” গ্রন্থে এ বিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তাতে এক স্থানে লিখেন-
فينبغي للمؤمن: أن يتفرغ في تلك الليلة لذكر الله تعالى ودعائه بغفران الذنوب وستر العيوب وتفريج الكروب، وأن يقدم على ذلك التوبة؛ فإن الله تعالى يتوب فيها على من يتوب.
"অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তির এ রাতে আল­াহ তাআলার যিকির ও মাগফেরাতের দু’আ ইত্যাদিতে মশগুল থাকা উচিৎ। এর পূর্বে তাওবা করবে। কেননা আল্লাহ পাক এ রাতে তাওবাকারীর তাওবাকে কবুল করেন।"
(লাতা‌য়িফুল মাঅা‌রিফ, ইব‌নে রজব পৃ. ২৬৫)

* হাম্বলী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ শাইখ মানসুর ইবনে ইউনুস আল-বুহুতী রাহ. (মৃ. ১০৫১ হি.) লিখেন-
(وفي استحباب قيامها) أي ليلة النصف من شعبان (ما في) إحياء (ليلة العيد، هذا معنى كلام ابن رجب) (في) كتابه المسمى (اللطائف) في الوظائف.
"দুই ঈদের রাতের মত এ রাতেও জেগে থেকে ইবাদত করা মুস্তাহাব।"
(কাশশাফুল কিন অা‌নিল ইকনা, শাইখ মানসুর ৩/১১২)

চল‌বে...

‌লি‌খে‌ছেন
মাওলানা সাঈদ অাহমদ (দা.বা.)
উস্তাদ, দারুল উলূম হাটহাজারী।
ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের কাফন দাফনের জন্য প্রস্তুত একদল কওমি আলেম।

ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের কাফন দাফনের জন্য প্রস্তুত একদল কওমি আলেম।


বিশিষ্ট আলেম সমাজসেবক মাওলানা গাজী ইয়াকুব (Gazi Yakub) সাহেবের নেতৃত্বে এই টিম প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মাওলানা গাজী ইয়াকুব সাহেব তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন,

জানাযা ও দাফনের জন্য আমাদেরকে ডাকুন

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা সিটিতে যদি কোন মুসলিম নর-নারী ইন্তেকাল করেন, মেহেরবানী করে আমাদেরকে খবর দিলে আমরাই তার জানাজা এবং দাফনের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ্।

আমাদের নাম্বার 01920781792 (মেহেরবানী করে অহেতুক কেউ কল না দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ)
১৪৪১ হিজরীর দাওরা‌য়ে হাদীস, মেশকাত ও বেফা‌কের অন্যান্য পরীক্ষা অাগামী রমযা‌নের ঈ‌দের পর অনু‌ষ্ঠিত হ‌বে। য‌ার যার অবস্থান থে‌কে পরীক্ষার প্রস্তু‌তি নেয়ার অনু‌রোধ করা হ‌চ্ছে!
 

সূত্র: "দারুল উলুম হাটহাজারী" ফেইসবুক পেইজ
একাকী ইবাদ‌তে শ‌বে বরাত পালন করুন | শাহ্  আহমদ শফী

একাকী ইবাদ‌তে শ‌বে বরাত পালন করুন | শাহ্ আহমদ শফী


আগামীকাল ৯ এপ্রিল বৃহস্প‌তিবার ‌দিবাগত র‌াতে শ‌বে বরাত। হাদীস শরী‌ফে যা 'লাইলাতুন নিস‌ফি মিন শাবান' শ‌ব্দে এসে‌ছে। ম‌হিমা‌ন্বিত রজনী হি‌সে‌বে মুস‌লিম সমা‌জে শ‌বে বরা‌তের গুরুত্ব অ‌নেক। এ রা‌তে মানুষ ইবাদত ব‌ন্দেগী‌তে সময় পার করে এবং ‌দি‌নে রোজা রা‌খে। অাল্লাহ তায়ালার দরবা‌রে ক্ষমা প্রার্থনা ক‌রে, কান্নাকা‌টি ক‌রে শ‌বে বরাত পালন ক‌রে থাকে।

‌কিন্তু ক‌রোনা ভাইরাসের ক্ষ‌তি থে‌কে বাঁচ‌তে বর্তমা‌নে অ‌নেক জেলা উপ‌জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হ‌য়ে‌ছে। এম‌নকি মস‌জি‌দে পাঁচ ওয়াক্ত নামা‌জের জামা‌তে সীমিত উপ‌স্থি‌তির পরামর্শ দি‌য়ে‌ছেন দে‌শের শীর্ষ অা‌লেম সমাজ। তাই এহেন প‌রি‌স্থি‌তি‌তে একাকীভা‌বে শ‌বে বরা‌তের যাবতীয় অামল ঘ‌রে করা উ‌চিত। অার সুন্নাহর তাকাজাও এটাই।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় গণমাধ্য‌মে পাঠা‌নো এক বিবৃ‌তি‌তে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

আল্লামা শফী আরো ব‌লেন, শ‌বে বরা‌তের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ ইবনে হিব্বানের হাদীসে এসে‌ছে, "অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ তায়ালা আপন সৃষ্টির প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন। অতঃপর মুশরিক ও (মুসলিম ভাইয়ের সাথে) শত্রুতা পোষণকারী ছাড়া সমস্ত মাখলুককে ক্ষমা করে দেন।"
তাই এই রা‌তে জে‌গে থে‌কে অ‌ধিক প‌রিমা‌ণে অামল করা উ‌চিত। বি‌শেষ করে বিশ্বব্যাপী ছ‌ড়ি‌য়ে পড়া ক‌রোনা সহ সকল রোগ থে‌কে মুক্ত‌ির জন্য বি‌শেষভা‌বে দোয়া করুন।

আল্লামা শফী আরো ব‌লেন, শ‌বে বরা‌তে একাকী ইবাদত করা রাসূল সা. এর সহীহ হাদীস ও অাছা‌রে সাহাবা ( সাহাবী‌দের অামল ) থে‌কে প্রমা‌ণিত। তাই বেশ‌ি বে‌শি কুরঅান তেলাওয়াত করুন। নি‌জে‌দের কৃত গুনাহ থে‌কে তওবা করুন। মহান অাল্লাহ তায়ালার দরবা‌রে কায়ম‌নোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যিকির করুন। দান-সদকা করুন। কবর জেয়ারত করুন। প‌রিবার প‌রিজন‌কে দী‌নি কা‌জে বে‌শি বে‌শি সম্পৃক্ত করুন।

আল্লামা আহমদ শফী অ‌া‌রো ব‌লেন, শ‌বে বরাতকে কেন্দ্র ক‌রে অামা‌দের দে‌শে বেশ কিছু রসম ও কুসংস্কার চালু হ‌য়ে‌ছে।অ‌নে‌কে হালুয়া রু‌টির ব্যবস্থা ও মস‌জিদ অা‌লোকসজ্জা করে থা‌কেন। নি‌র্দিষ্ট প‌রিমা‌ণ রাকা‌তে জামাত সহকা‌রে নামাজ প‌ড়ে থা‌কেন। এসব বিদঅাত কাজ। তাই বাড়াবা‌ড়ি ও ছাড়াছা‌ড়ি‌তে না গি‌য়ে ‌নিজ নিজ ঘ‌রে একাকী ইবাদ‌তের মাধ্য‌মে শ‌বে বরাত পালন করা উ‌চিত!

বার্তা‌প্রেরক
মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী
প্রচার সম্পাদক : হেফাজ‌তে ইসলাম বাংলা‌দেশ
বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে শাইখ সুদাইসের উপদেশ

বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে শাইখ সুদাইসের উপদেশ


বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন সবার মাঝে এক মহা আতঙ্ক ও আশংকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শুরু থেকেই মুসলমানদের প্রধান দুই মসজিদে সাধারন মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে।

রোববার (৬ এপ্রিল) মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট ও মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ ড. আব্দুর রহমান সুদাইস মদিনার মসজিদে নববীতে এশার নামাজের ইমামতি করেন।

নামাজের পর তিনি বর্তমান বিপর্যস্ত বিশ্বের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাঠকদের জন্য শাইখ সুদাইসের পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হল-

বর্তমান বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সারা বিশ্ব আজ ধেয়ে আসা একটি মহাবিপদে আপতিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক মহা পরীক্ষা।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। (সূরা বাকারা-১৫৫)

দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের হারামাইনের এই পবিত্র ভূমিও আজ এ মুসিবতের অনুপ্রবেশ ও বিস্তার থেকে মুক্ত নয়। এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকাই বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। (সূরা আল ক্বমার- ৪৯)

যে কোনো মুসিবত আল্লাহর নির্দেশে আপতিত হয়। যেগুলো তার মহিমান্বিত বাণীতে সুবিদিত হয়েছে, আল্লাহ্ ইরশাদ করেন, পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (সূরা হাদীদ- ২২)

শুনে রেখ! তারই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরা আরাফ- ৫৪)

তাই, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবার উচিত আল্লাহর প্রতি ঈমানকে দৃঢ় করা এবং তার ওপর ইতিবাচক ধারণা পোষন করা। আল্লাহ আমাদের বরকতদাতা, তিনিই মহান। সঙ্গে এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করা উচিত যে, আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠ রূপে ফিরে যাওয়া ব্যতীত আমাদের আর কোন গন্তব্য নেই।

সমগ্র মুসলিম জাতির কর্তব্য হল এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সুরক্ষার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করা এবং এটিকে প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া। হারমাইনের পবিত্র এই দেশটিও শরীয়তের মূলনীতি বিবেচনায় নানা ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। মনে রাখতে হবে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরক্ষাই উত্তম।

সবমিলিয়ে নিজেদের সুস্থতার প্রতি সচেতন হতে হবে। কেননা আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যেকই যার যার স্থানে দায়িত্বশীল। নিজেদের অধীনস্থদের বিষয়ে আমরা নিজেরা প্রশ্নের সম্মুখীন হবো। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা উচিত। এটিই শরীয়তের দাবি।

কোয়ারেন্টিনের এই উদ্ভাবন শরীয়তের আলোকেই সাব্যস্ত। আল্লাহ বলেন, আর তোমরা তোমাদের নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। (সূরা বাকারা-১৯৫)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সূরা নিসা- ২৯)

আর আমরা কোনো ধরণের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নিজেদের মাঝে আশাবাদের জাগরণ সৃষ্টি করব। ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই এই শঙ্কা কেটে যাবে।

তাই আমাদের জন্য উচিত হল অধিক পরিমাণে দোয়ায় মনযোগী হওয়া। কেননা এটি মুমীনের হাতিয়ার। আল্লাহ বলেন, তোমাদের পালকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তাতে সাড়া দেবো। (সূরা মুমিন-৬০)

আর আমাদের আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করা উচিত। আল্লাহর ইরশাদ, আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গাম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম; যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে। এরপর তাদের কাছে যখন আমার আজাব আসলো, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করলো না? (সূরা আনআ'ম- ৪২-৪৩)

আর এটি সুবিদিত এবং পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়ম যে, মুসিবতে আল্লাহমুখী হলে তা তিনি দূরীভূত করে দেন।

আর আমরা এখন মহিমান্বিত রমজানের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। তাওবা ও ইস্তেগফারের মধ্য দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং আগত মাসকে বরণ করে নেয়া এখন আমাদের প্রধান কাজ।